kalerkantho

রবিবার । ৩ জুলাই ২০২২ । ১৯ আষাঢ় ১৪২৯ । ৩ জিলহজ ১৪৪৩

বিসিএস ভাইভা

‘চাকরি হলে কিভাবে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করবেন?’

২১ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘চাকরি হলে কিভাবে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করবেন?’

আবির কায়ছার, শিক্ষা ক্যাডার (প্রাণিবিদ্যা), ৪০তম বিসিএস

প্রাণিবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা করেছি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রথমবারের মতো ৪০তম বিসিএসে অংশ নিয়ে ভাইভা দিয়েছি ২০২২ সালের জানুয়ারিতে। ভাইভা বোর্ডে তিনজন সদস্য ছিলেন, প্রশ্ন করেছেন সাত-আট মিনিটের মতো। আমার ক্যাডার পছন্দক্রমে ছিল বিসিএস প্রশাসন, অডিট, ইকোনমিক, ট্যাক্স ইত্যাদি।

বিজ্ঞাপন

অনুমতি নিয়ে ভাইভা রুমের ভেতরে প্রবেশ করে সালাম দিলাম। চেয়ারম্যান স্যার বসতে বললেন। বসে ধন্যবাদ দিলাম। করোনা প্রকোপের কারণে উনারা তুলনামূলক দূরে বসে ছিলেন। নাম, বাড়ি কোথায় জিজ্ঞেস করার পর চেয়ারম্যান স্যার নিজেই একটা একটা করে পছন্দক্রম বলছিলেন। আমি জি স্যার, জি স্যার বলে সম্মতি জ্ঞাপন করছিলাম। তিনি তিন নম্বরে ‘ট্যাক্স ক্যাডার’ বলায় আমি ইকোনমিক ক্যাডারের কথা বলি।

চেয়ারম্যান : ইকোনমিক কি এখনো আছে?

আমি : জি না স্যার, ২০১৮ সালে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের সঙ্গে একীভূত হয়ে গেছে।

চেয়ারম্যান : কোথাও জব করেন?

আমি : জি না স্যার।

চেয়ারম্যান : এটাই প্রথম বিসিএস ভাইভা?

আমি : জি স্যার।

(চেয়ারম্যান স্যার এক্সটার্নাল স্যারকে প্রশ্ন করতে ইশারা করলেন। )

এক্সটার্নাল-১ : প্রশাসন কেন প্রথম পছন্দ?

আমি : এই ক্যাডারের পদসংখ্যা বেশি, সামাজিক মর্যাদা ও দায়িত্ব তুলনামূলকভাবে বেশি, তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে মেশার সুযোগ আছে (এটা শুনে চেয়ারম্যান স্যার গুড বললেন। প্রথমে গুছিয়ে উঠতে পারছিলাম না। এটা আমার স্বপ্ন বলে কোনো একটা ঘটনা বলতেছিলাম। এক্সটার্নাল স্যার বললেন, এসব গাইডের জিনিস, এসব বলার দরকার নেই)।

এক্সটার্নাল-১ :  প্রশাসনের স্তরগুলো বলুন।

আমি : কেন্দ্রীয় প্রশাসনের স্তরগুলো হচ্ছে সচিবালয়, মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও পরিদপ্তর। মাঠ প্রশাসনের স্তরগুলো হচ্ছে বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন।

চেয়ারম্যান : প্রশাসনিক জটিলতাগুলো বলুন।

আমি : খুব একটা গুছিয়ে বলতে পারিনি (লালফিতার দৌরাত্ম্য, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ঘাটতি ইত্যাদি যোগ করা যেত)।

চেয়ারম্যান : প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি হলে আপনাকে কি কোনো প্রবলেম ফেস করতে হবে? কোন ধরনের চ্যালেঞ্জ কিভাবে মোকাবেলা করবেন বলে আপনি মনে করেন?

আমি : স্যার, মাঠ পর্যায়ে জনগণের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জনগণের সঙ্গে মতের অমিল হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তাদের প্রয়োজনের প্রতি সম্মান জানিয়ে ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত নিতে হবে (নিজের মতো করে বলার চেষ্টা করেছি)।

চেয়ারম্যান : মাঠ পর্যায়ে কিভাবে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করবেন? জনগণ যদি আপনার কথা না শোনে!

আমি : স্যার, সংশ্লিষ্ট বিষয়ের গুরুত্ব জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করতে হবে। প্রয়োজনে মাইকিং করে প্রচারণা চালাতে হবে (চেয়ারম্যান স্যার প্রতিবার উত্তর করার পর আরো কিছু শুনতে চাচ্ছিলেন, আমি ভিন্ন প্রসঙ্গে যাওয়ার জন্য স্যরি বলছিলাম)।

(চেয়ারম্যান স্যার অন্য এক্সটার্নাল স্যারকে ইশারা করলেন। )

এক্সটার্নাল-২ : আপনার দ্বিতীয় পছন্দ অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক-এর ইংরেজি কী?

আমি : Comptroller and Auditor General (স্যার আরেকটু ভালো করে বলতে বললেন)।

এক্সটার্নাল-২ : অডিটর কোন বিভাগের অধীন?

আমি : অর্থ বিভাগ (অর্থ মন্ত্রণালয়)।

(এক্সটার্নাল-২ স্যার আরো একটা কী যেন জিজ্ঞেস করলেন, বুঝতে না পেরে স্যরি বললাম। )

চেয়ারম্যান : কমিউনিটি ক্লিনিক কী?

আমি : মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারভুক্ত ১০টি বিশেষ প্রকল্পের একটি (ভাবলাম বাকিগুলো জিজ্ঞেস করবেন, কিন্তু বোর্ড সেদিকে যায়নি)।

চেয়ারম্যান : কমিউনিটি ক্লিনিক সম্পর্কে আর কী জানেন?

আমি : প্রান্তিক পর্যায়ে (ওয়ার্ড পর্যায়ে) জনগণের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক গৃহীত জনকল্যাণমূলক প্রকল্প (এর বেশি কিছু উল্লেখ করতে পারিনি, শুরুতে ভুল করে এটি উপজেলাতে বলে ফেলেছিলাম, পরে ঠিক করে বলি)।

চেয়ারম্যান : (এক্সটার্নাল স্যারদের দিকে তাকিয়ে) এবার ওকে ছেড়ে দিই। আপনি আসতে পারেন।

আমি : ধন্যবাদ স্যার, আসসালামু আলাইকুম।

 

গ্রন্থনা : এম এম মুজাহিদ উদ্দীন



সাতদিনের সেরা