kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ কার্তিক ১৪২৭। ২৭ অক্টোবর ২০২০। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

নমুনা ভাইভা

‘ভাইভায় তুমি কত নম্বর পাবে?’

প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর দুটোই করেছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। অ্যাপিয়ার্ড সার্টিফিকেট দিয়ে ৩৭তম বিসিএসের আবেদন করেছিলাম। প্রিলি ও রিটেনে উত্তীর্ণ হওয়ার পর ১৬ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখে ভাইভায় অংশ নিয়েছি। এটাই ছিল জীবনের প্রথম কোনো চাকরির ভাইভা। প্রথম ভাইভা হলেও কোনো নার্ভাসনেস কাজ করেনি। আত্মবিশ্বাস ছিল ভালো কিছু হবে। পরে ফল এলো, প্রশাসন ক্যাডার পেলাম।

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



‘ভাইভায় তুমি কত নম্বর পাবে?’

রূপম দাস, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (৩৭তম বিসিএস), বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ময়মনসিংহ

চেয়ারম্যান : তোমার প্রথম পছন্দ ‘প্রশাসন’ (ক্যাডার চয়েজে)। আচ্ছা বলো তো, সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের নাম কী? (যদিও আমার বাড়ি রাজশাহী বিভাগে)

আমি : স্যরি স্যার, জানা নেই (তখন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ছিলেন ড. মোছাম্মৎ নাজমুনারা খানুম)।

চেয়ারম্যান : আচ্ছা বলো তো, বাংলাদেশের প্রথম নারী বিভাগীয় কমিশনারের নাম কী?

আমি : জানা নেই স্যার (সঠিক উত্তর : ড. মোছাম্মৎ নাজমুনারা খানুম)।

চেয়ারম্যান : এবার বলো, বাংলাদেশের আপিল বিভাগের প্রথম নারী প্রধান বিচারপতির নাম কী?

আমি : নাজমুন আরা সুলতানা।

(সঙ্গে সঙ্গে চেয়ারম্যান স্যার বললেন, তোমাকে নারী নিয়েই প্রশ্ন করব আজ)

চেয়ারম্যান : মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নারীদের জন্য কী কী করেছেন?

আমি : নারীদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নারীর কল্যাণে বিভিন্ন ভাতা (যেমন—বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা) চালুকরণ, নারী উদ্যোক্তা তৈরি ইত্যাদি।

চেয়ারম্যান : বলো তো বিরোধী দলের নেত্রীর নাম কী?

আমি : বেগম রওশন এরশাদ।

চেয়ারম্যান : এবার বলো, সংসদ উপনেতার নাম কী?

আমি : সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী।

চেয়ারম্যান : আচ্ছা তোমার গ্রামের নাম হোসেননগর। এই নামকরণের প্রেক্ষাপট কী?

আমি : স্যার, রাজা হুসাইন শাহের নামানুসারে এই নাম দেওয়া হয়। রাজা হুসাইন শাহ তাঁর যাত্রাকালে বা নৌভ্রমণকালে এ জায়গায় বিরতি নিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর নামানুসারে এ নামকরণ হয়।

চেয়ারম্যান : তুমি তো মুক্তিযুদ্ধ দেখনি! পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন। তাঁর নাম বলতে পারবা?

আমি : স্যার, এ কে খন্দকার।

চেয়ারম্যান : আরো একজন...

আমি : কাদের সিদ্দিকী।

চেয়ারম্যান : তাঁকে (কাদের সিদ্দিকী) আর কী কী নামে ডাকা হয়?

আমি : বঙ্গবীর, বাঘা সিদ্দিকী।

এক্সটারনাল : বাংলাদেশ যে অর্থনীতিতে এগিয়ে যাচ্ছে—তুমি কি টের পাচ্ছ?

আমি : জি স্যার।

এক্সটারনাল : কী কী টের পাচ্ছো বলো।

আমি : মাথাপিছু আয় বেড়েছে, জিডিপি বেড়েছে...

চেয়ারম্যান : জিডিপির রেট কত বর্তমানে?

আমি : স্যার ৭.৪।

চেয়ারম্যান : বর্তমান বাজেট কত?

আমি : ৪,০০,২৬৬ কোটি টাকা।

চেয়ারম্যান : প্রথম বাজেটের পরিমাণ কত ছিল?

আমি : ৭৮৬ কোটি টাকা।

চেয়ারম্যান : প্রথম বাজেট কে প্রণয়ন করেন?

আমি : জনাব তাজউদ্দীন আহমদ।

চেয়ারম্যান : তাঁর বাড়ি কোথায়?

আমি : গাজীপুরের কাপাসিয়া।

চেয়ারম্যান : পরিচিতিতে বাবার নামের পাশাপাশি কবে থেকে মায়ের নাম যুক্ত করা হয়?

আমি : স্যার, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৮ সালে রোকেয়া দিবসে প্রথম এ ধরনের প্রস্তাব দেন এবং ২০০৪ সাল থেকে অফিশিয়ালি চালু হয়।

চেয়ারম্যান : ১৬ই ডিসেম্বর কেন বিখ্যাত?

আমি : স্যার, মহান বিজয় দিবস হওয়ার কারণে।

চেয়ারম্যান : ২৭ ডিসেম্বর কেন বিখ্যাত?

আমি : (একটু চিন্তা করে বললাম) স্যার, দুঃখিত; জানা নেই (স্যার মুচকি হেসে বললেন, এই দিন তোমার জন্মদিন। আমিও মুচকি হাসলাম)।

চেয়ারম্যান : বিভিন্ন ধরনের কবিতা বলা শুরু করলেন এবং বললেন—এটা কোন কবিতা, পরের লাইন কী?

(আমার জানা নেই। চুপ করে বসে ছিলাম। স্যার রাগ করা শুরু করলেন।)

চেয়ারম্যান : তুমি কি কবিতা পড়ো না? তুমি থাকো কোথায়?

আমি : স্যার, ওইভাবে পড়ার সুযোগ হয়নি, তবে চাকরি পেয়ে পড়া শুরু করব

(শুনে স্যার আরো বেশি করে রাগ করা শুরু করলেন এবং বললেন—ঠিক আছে, তাহলে তুমি আসো)।

এক্সটারনাল : আচ্ছা বলো তো, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর নাম কী?

আমি : বেনজামিন নেতানিয়াহু।

এক্সটারনাল : তিনি এখন কোথায় আছেন?

আমি : ভারতে (তিনি ওই সময় ভারত সফরে এসেছিলেন)।

এক্সটারনাল : আজকের পত্রিকার শিরোনাম কী নিয়ে?

(আমি একটি পত্রিকার শিরোনাম বললাম, কিন্তু স্যার উত্তর গ্রহণ করলেন না।)

এক্সটার্নাল : আজকের পত্রিকায় তোমার জেলার মিটিং-মিছিলের একটি নিউজ আছে। বলো তো, কী সেটা?

আমি : স্যরি স্যার, এ ধরনের নিউজ আমার চোখে পড়েনি (বাসায় ফিরে পুরো পত্রিকা ভালো করে দেখলাম, চোখে পড়েনি)।

চেয়ারম্যান : ঠিক আছে, তাহলে আসো।

(আমি পেছনে এক ধাপ আসতেই চেয়ারম্যান স্যার বললেন, ‘দাঁড়াও, তুমি যে স্যুট-কোট পরে এসেছ, তা কোথা থেকে বানিয়েছ?’ উত্তরে আমি একটি জনপ্রিয় টেইলার্সের নাম বললাম)।

চেয়ারম্যান : টেইলার্সে গিয়ে যেসব কথোপকথন হয়েছে, সেগুলো ইংরেজিতে বলো।

আমি : On late November I went to the tailors and asked them, ‘What is the costing price?’ They replied, 5000 taka...

চেয়ারম্যান       : আচ্ছা, আমরা যে বসে আছি, আমাদের সম্পর্কে কমেন্ট করো।

আমি : I was highly afraid about BCS viva board. But today my concept has been totally changed for your friendly and amicable behavior. Nervousness can not touch my mind today. I am very happy and pleasant to face such kind of viva board...

চেয়ারম্যান : আচ্ছা বলো তো, ভাইভায় তুমি কত নম্বর পাবে?

আমি : (একটু ভেবে বললাম) ১৩০+

(সব শেষে সালাম দিয়ে বের হয়ে এলাম)।

শ্রুতলিখন : এম এম মুজাহিদ উদ্দীন

মন্তব্য