kalerkantho

রবিবার। ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭। ৯ আগস্ট ২০২০ । ১৮ জিলহজ ১৪৪১

যেভাবে চাকরি পেলাম

অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ থেকেই চাকরির প্রস্তুতি শুরু করি

মো. মেহেদি হাসান, সিনিয়র অফিসার, জনতা ব্যাংক লিমিটেড, মদনগঞ্জ শাখা, নারায়ণগঞ্জ

৪ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ থেকেই চাকরির প্রস্তুতি শুরু করি

২০০৭ সালে ঢাকার শহীদ আবু তালেব উচ্চ বিদ্যালয় (মিরপুর) থেকে এসএসসি এবং ২০০৯ সালে বিসিআইসি কলেজ (মিরপুর) থেকে এইচএসসি পাস করি। তারপর শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিযুদ্ধ প্রস্তুতি। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে বিজ্ঞান বিভাগ থাকলেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাই অর্থনীতি বিভাগে। সেখানেই ভর্তি হই। অনার্স শেষে মাস্টার্সও করি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। বিশ্ববিদ্যালয়জীবন থেকেই টার্গেট ছিল সরকারি চাকরি। সে লক্ষ্যেই নিজেকে তৈরি করেছি।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ থেকেই চাকরির প্রস্তুতি নিতে শুরু করি। একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত সাধারণ জ্ঞান, ইংরেজি ও গণিতের জন্য একটা সময় বরাদ্দ রাখতাম। ২০১৮ সালে প্রিমিয়ার ব্যাংকে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার পদে চাকরি পেয়ে যাই। আবার এক্সিম ব্যাংকেও অফিসার পদে চাকরি পাই। তবে এর আগে ২০১৭ সালেই জনতা ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রিলিমিনারি দিয়েছিলাম। সরকারি ব্যাংকে পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়া তিনটি ধাপে হয়। প্রথম ধাপে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। এ ধাপে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান ও কম্পিউটার—এই পাঁচ বিভাগের ওপর মোট ১০০ নম্বরের প্রশ্ন করা হয়। প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য মূলত অনার্স দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় বর্ষ থেকেই পড়াশোনা করেছি। প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় থেকেই দৈনিক এক ঘণ্টা করে সময় বরাদ্দ রেখেছি।

 

সর্বপ্রথম বিগত ১০ বছরের প্রশ্ন সমাধান করেছি। একটি বিষয় লক্ষ করেছি যে বাংলা, ইংরেজি ও কম্পিউটার বিষয়ের বেশির ভাগ প্রশ্নই রিপিট হয়। গণিতের ক্ষেত্রে শতকরা ৯০ ভাগ প্রশ্নের নিয়ম বিগত বছরের অঙ্কগুলো থেকে কমন পাওয়া যায়। আর সাধারণ জ্ঞানের প্রস্তুতির জন্য পরীক্ষার দুই মাস আগের সাম্প্রতিক বিষয় পড়েছি। নিয়মিত কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স পড়েছি। পত্রিকার আন্তর্জাতিক ও অর্থ বাণিজ্য পাতাগুলো বেশি পড়তাম। জনতা ব্যাংকে নিয়োগ পরীক্ষার প্রিলিমিনারি হয়েছিল ১০০ নম্বরের। বাংলা, অঙ্ক, ইংরেজি, কম্পিউটারের ওপর প্রশ্ন করা হয়েছিল। বেশির ভাগ প্রশ্নই কমন পড়েছে। আত্মবিশ্বাস ছিল, প্রিলিতে উত্তীর্ণ হব। প্রিলির ফলাফল বের হওয়ার পর লিখিত পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি শুরু করি। প্রস্তুতিতে ঘাটতি ছিল না। ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় গণিত অংশ থেকে ৫০-৭০ নম্বরের প্রশ্ন সমাধান করতে হয়। বাকি ১৩০ নম্বর করা হয় বাংলা ও ইংরেজি রচনা, অনুবাদ, আবেদনপত্র এবং সাম্প্রতিক বিষয়ের ওপর বিভিন্ন টিকা। এ ক্ষেত্রে বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান বেশ কাজে দিয়েছে। লিখিত পরীক্ষা ভালো হলো। ফল বেরোলো, ভাইভার জন্য ডাক পেলাম। ভাইভায় ব্যাংকে চাকরির ক্ষেত্রে পঠিত বিষয়ের বাইরেও প্রশ্ন হয়। আর অর্থনীতির ছাত্র হওয়ায় অর্থনৈতিক সমীক্ষা, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, বিভিন্ন অর্থনৈতিক সংগঠন সম্পর্কে ধারণা নিয়ে গিয়েছি। ভাইভার দিন ফরমাল ড্রেস কোডের ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে। ভাইভা বোর্ডে ঢুকে সালাম দেওয়ার পর চেয়ারম্যান স্যার বসতে বললেন। প্রথমে বললেন, ‘তোমার নাম তো মো. মেহেদি হাসান। একটা গজল গাও।’ (উপমহাদেশের গজলসম্রাটের নামও মেহেদি হাসান, তাই তিনি এ কথা বললেন) আমি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা একটি গজল গাইলাম। তারপর কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করলেন। তাঁর জন্ম কত সালে? বিদ্রোহী কবিতা কত সালে প্রকাশিত হয়? ঠিকঠাক উত্তর দিয়েছিলাম। তারপর বললেন, জিডিপির তিনটি খাত হলো—সেবা, শিল্প ও শিক্ষা। কোন খাতের অবদান কত? এরপর বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ নিয়ে প্রশ্ন করলেন। সবগুলোর উত্তরই ঠিকঠাক দিলাম। প্রায় সাত মিনিটের মতো ভাইভা হয়েছিল। তারপর ফলাফল বের হলে জনতা ব্যাংকে এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে চাকরি পেয়ে যাই।

 

নতুনদের বলব, ব্যাংকে আপনার চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা নির্ভর করে গণিত অংশে আপনার দক্ষতার ওপর। গণিতে যত ভালো করবেন আপনার চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা ততই বেড়ে যাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় টিউশনি করুন। এতে চাকরির প্রস্তুতির ভিতটা মজবুত হবে। ভাইভার জন্য অনার্স ও মাস্টার্সের পঠিত বিষয়গুলোর ওপর ধারণা রাখতে হবে। আর একটি কথা, যত বেশিসংখ্যক চাকরির পরীক্ষায় অংশ নেবেন, আপনার প্রস্তুতি ততই সৃদৃঢ় হবে; আত্মবিশ্বাসও বাড়বে।

 

শ্রুতলিখন : জুবায়ের আহম্মেদ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা