kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

সমন্বিত ৯ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি

২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সমন্বিত ৯ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি

ছবি : মোহাম্মদ আসাদ

ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির সদস্যভুক্ত ৯ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অফিসার (জেনারেল) পদে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগের লক্ষ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবে ৮ মার্চ ২০২০ পর্যন্ত। প্রতিযোগিতামূলক এ পরীক্ষায় পাস করতে হলে কৌশলী হতে হবে। জনতা ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার মোহাম্মদ আলমগীর মাহমুদ ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের অফিসার (জেনারেল) জুলিয়া খাতুনের সঙ্গে কথা বলে প্রস্তুতির পরামর্শ লিখেছেন এম এম মুজাহিদ উদ্দীন

পরীক্ষা পদ্ধতি

সমন্বিত ৯ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষা হয় তিন ধাপে। প্রথম ধাপে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হয় ১০০ নম্বরে, এমসিকিউ পদ্ধতিতে। দ্বিতীয় ধাপে ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা আর সব শেষে ভাইভা (২৫ নম্বর)।

প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান, কম্পিউটার জ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তির ওপর মোট ১০০ নম্বরের প্রশ্ন হয়। এ ক্ষেত্রে সাধারণত গণিতে ৩০ নম্বর, ইংরেজিতে ২৫ নম্বর, বাংলায় ২০ নম্বর, সাধারণ জ্ঞানে ১৫ ও কম্পিউটার তথ্য-প্রযুক্তিতে ১০ নম্বরের প্রশ্ন আসে। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য প্রাপ্ত নম্বর থেকে ০.২৫ নম্বর করে কাটা পড়বে।

 

প্রস্তুতি-ছক ফ্যাকাল্টি অনুযায়ী

বর্তমান সময়ের ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা হয়ে থাকে ফ্যাকাল্টিভিত্তিক। যখন জানা যাবে যে পরীক্ষার দায়িত্ব কোন ফ্যাকাল্টি নিয়েছে, তাহলে সে আলোকে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়া যাবে। সাধারণত আইবিএ, বুয়েট, এইউএসটি ইত্যাদির অধীনে পরীক্ষা নেওয়া হয়। বিগত প্রশ্ন দেখে বুঝতে হবে কোন ফ্যাকাল্টির প্রশ্নের ধরন কেমন, কোন ফ্যাকাল্টির পরীক্ষায় কোন কোন টপিকস থেকে বেশি প্রশ্ন আসে।

এ জন্য প্রস্তুতির শুরুতেই ফ্যাকাল্টিভিত্তিক বিগত সালের প্রশ্ন (সমাধানসহ) সংবলিত বই বাজার থেকে সংগ্রহ করতে হবে।

 

কোনো বিষয়ে অবহেলা নয়

ব্যাংকের চাকরির পরীক্ষায় কোনো বিষয়কেই অবহেলা করা যাবে না। তবে গণিত ও ইংরেজিতে বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে। কোনো একটি বিষয়ে খারাপ করা মানে অন্যদের থেকে পিছিয়ে থাকা। পরীক্ষা হওয়ার এখনো মাস কয়েক সময় আছে। এ সময়টায় সব বিষয়ের ওপরই জোরালো প্রস্তুতি নিতে হবে।

 

গণিতভীতি আর নয়

ব্যাংকের চাকরির পরীক্ষায় সফল হওয়ার জন্য গণিতে দক্ষ হওয়া ছাড়া উপায় নেই। সমন্বিত ৯ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হওয়ার সম্ভাব্য সময় আগামী ছয়-সাত মাস পর। তাই চাকরিপ্রার্থীদের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় হাতে আছে। এ জন্য এখন থেকে প্রতিদিন তিন-চার ঘণ্টা নিয়মিত গণিত অনুশীলন করতে হবে।

নিয়মিত গণিত অনুশীলন করতে পারলে আগামী ছয় মাসে গণিতভীতি কেটে যাবে। গণিতে যাঁদের ব্যাসিক দুর্বল, তাঁরা সপ্তম থেকে দশম শ্রেণির গণিত বই থেকে প্রস্তুতি শুরু করতে পারেন।

 

ইংরেজির ভয় করব জয়

ব্যাংকে চাকরি পেতে হলে আপনাকে ইংরেজির ভয়কে জয় করতেই হবে। শুধু ব্যাংক নয়, যেকোনো চাকরির জন্যই ইংরেজি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনার যদি ইংরেজিভীতি থাকে তাহলে আজ থেকেই এ ভীতি কাটানোর জন্য ইংরেজি বইয়ের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলুন।

প্রতিদিন নিয়ম করে ভোরবেলা ভোকাবুলারি পড়ুন। আগামী দিন পড়ার সময় আবার সেই ভোকাবুলারিগুলো রিভিশন দিন।

ভোকাবুলারির প্রস্তুতির জন্য Dr. Mohiuddin-এর An Exclusive book of synonyms and antonyms বইটির সাহায্য নিতে পারেন। এ ছাড়া প্রতিদিন ইংরেজি পত্রিকা পড়ার অভ্যাস করুন। অজানা শব্দগুলো নোট করে পড়ুন। গ্রামারের জন্য Cliffs Toefl I Barron’s Toefl বই দুটি ধীরে ধীরে পড়তে পারেন। বাজারের প্রচলিত গাইড বই থেকে বিগত সালের প্রশ্নগুলো অনুশীলন করুন। আশা করি, ইংরেজির ভয় আপনি জয় করতে পারবেন।

 

বাংলায়ও গুরুত্ব দিতে হবে

প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ‘বাংলা’ থেকে সাধারণত ২০ নম্বরের মতো প্রশ্ন করা হয়। তাই বেশি নম্বর পেতে হলে বাংলা বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।

বাংলা অংশে সাধারণত ব্যাকরণ ও সাহিত্য থেকে প্রশ্ন করা হয়। ব্যাকরণ অংশে প্রস্তুতির জন্য নবম-দশম শ্রেণির বোর্ড ব্যাকরণ বইটা খুব ভালোভাবে পড়তে হবে।

এককথায় মুখস্থ করে ফেলতে হবে। ভাষা, ধ্বনি, বর্ণ, সমাস, কারক ও বিভক্তি, সন্ধিবিচ্ছেদ, বচন, শব্দের প্রকারভেদ, লিঙ্গান্তর, বাক্য, বাগধারা, এককথায় প্রকাশ ইত্যাদির ওপর প্রশ্ন থাকে বেশি। তাই এ বিষয়গুলোয় বেশি মনোযোগ দিতে হবে। তবে কিছু কিছু বিষয় আছে, যেগুলো নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ বইয়ের ওপর নির্ভর করলে চলবে না, বিস্তর প্রস্তুতি নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে ড. সৌমিত্র শেখরের লেখা ‘বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা’ বইটি পড়া যেতে পারে।

আর যেসব টপিক পড়তে হবে তা হলো—সমার্থক শব্দ, বিপরীত শব্দ, বাগধারা, বানান, শব্দের প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ, এককথায় প্রকাশ, প্রবাদ-প্রবচন প্রভৃতি।

ব্যাকরণ ও সাহিত্যের কিছু বিষয় মনে থাকে না।

সাহিত্য থেকে সাধারণত কম প্রশ্ন আসে। সাহিত্য অংশে বিগত সালের বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় আসা প্রশ্নগুলো ভালো

করে পড়তে হবে। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ কবি-সাহিত্যিকদের জীবনী, সাহিত্যকর্ম, তাঁদের বিভিন্ন কবিতা ও উপন্যাস, উক্তি, বিখ্যাত পত্রিকার সম্পাদকদের নাম ও প্রকাশ সাল প্রভৃতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখতে হবে।

 

যত পারেন মডেল টেস্ট দিন

পরীক্ষার আগ পর্যন্ত যত পারেন মডেল টেস্ট দিন। এ ছাড়া এ সময়ের মধ্যে অন্যান্য নিয়োগ পরীক্ষা থাকলে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করুন। যদি ওই পরীক্ষা ভালো হয়, পাস করেন; তাহলে তো ভালোই। আর যদি না-ও পাস করেন, অন্তত প্রস্তুতি পর্বটা সাড়বে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপের মডেল টেস্ট পরীক্ষা নেওয়া হয়, সেখানে অংশগ্রহণ করা যেতে পারে। আর এসবের কোনো সুযোগই যদি না হয়, তাহলে ঘরে বসে সময় বেঁধে নিজেই নিজের মডেল টেস্ট নিন।

নেতিবাচক বিষয় থেকে নিজেকে দূরে রেখে নিজের সব মেধা ও পরিশ্রম সমন্বয় করুন। পরিশ্রম কখনো বৃথা যায় না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা