kalerkantho

রবিবার । ২০ অক্টোবর ২০১৯। ৪ কাতির্ক ১৪২৬। ২০ সফর ১৪৪১                

প্রিলিমিনারি প্রস্তুতি

বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসার হতে চান?

বাংলাদেশ ব্যাংকের জেনারেল অফিসার পদের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা মাসখানেক পরেই। অন্যদিকে ক্যাশ অফিসার পদের সার্কুলারও আসছে শিগগিরই। বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে জেনারেল অফিসার ও ক্যাশ অফিসার পদের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে লিখেছেন এম এম মুজাহিদ উদ্দীন

৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৭ মিনিটে



বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসার হতে চান?

মডেল : হাসান, রিমা ছবি : বি এম সাবাব

পরীক্ষা পদ্ধতি

 

বাংলাদেশ ব্যাংক খুলনা শাখার জেনারেল অফিসার মো. শাহীন বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের জেনারেল অফিসার কিংবা ক্যাশ অফিসার পদের বাছাই পরীক্ষা হয় তিন ধাপে। প্রথম ধাপে ১০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি, প্রশ্ন হয় বহু নির্বাচনী (এমসিকিউ) পদ্ধতিতে। দ্বিতীয় ধাপে ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা। আর সব শেষে ২৫ নম্বরের ভাইভা। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় সাধারণত বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান, কম্পিউটার জ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তির ওপর মোট ১০০ নম্বরের প্রশ্ন থাকে। এ ক্ষেত্রে গণিতে ৩০ নম্বর, ইংরেজিতে ২৫, বাংলায় ২০, সাধারণ জ্ঞানে ১৫ ও তথ্য-প্রযুক্তিতে ১০ নম্বর। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর করে কাটা পড়ে।

 

♦ বাংলা

বাংলায় সাধারণত ব্যাকরণ ও সাহিত্য থেকে প্রশ্ন করা হয়। ব্যাকরণ অংশে প্রস্তুতির জন্য নবম-দশম শ্রেণির বোর্ড ব্যাকরণ বইটা খুব ভালোভাবে পড়তে হবে। ভাষা, ধ্বনি, বর্ণ, সমাস, কারক ও বিভক্তি, সন্ধিবিচ্ছেদ, বচন, শব্দের প্রকারভেদ, লিঙ্গান্তর, বাক্য, বাগধারা, এককথায় প্রকাশ ইত্যাদির ওপর বেশি প্রশ্ন থাকে। তাই এগুলোর ওপর বেশি মনোযোগ দিতে হবে। তবে কিছু কিছু বিষয় আছে, যেগুলোর জন্য শুধু নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ বইয়ের ওপর নির্ভর করলে চলবে না, আরো কয়েকটা বই দেখতে হবে। ড. হায়াৎ মামুদের ভাষা শিক্ষা বইটা পড়া যেতে পারে। সমার্থক শব্দ, বিপরীত শব্দ, বাগধারা, বানান, শব্দের প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ, এককথায় প্রকাশ, প্রবাদ প্রবচন—এসব টপিক পড়তে হবে। ব্যাকরণ ও সাহিত্যের কিছু কিছু টপিক আছে, যেগুলো মনে থাকে না। সেগুলো মনে রাখার কৌশল জানতে ডা. মহিউদ্দীনের লেখা ‘শর্ট টেকনিক’ বইটা পড়ে দেখতে পারেন। সাহিত্য থেকে সাধারণত কম প্রশ্ন আসে। সাহিত্য অংশে প্রস্তুতির জন্য বাজারের ভালো মানের একটা গাইড বই অনুসরণ করা যেতে পারে। সাহিত্য অংশে বিগত সালের বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় আসা প্রশ্নগুলো পড়লেই কমন পাওয়া যায়। কবি-সাহিত্যিকদের জীবনী, সাহিত্যকর্ম, তাঁঁদের বিভিন্ন কবিতা-উপন্যাস, উক্তি; বিখ্যাত সম্পাদকদের নাম ও পত্রিকার প্রকাশ সাল সম্পর্কেও প্রশ্ন করা হতে পারে।

 

♦ ইংরেজি

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক মাসুম ইবনে নুর পরামর্শ দিয়ে বলেন, ব্যাংকে ইংরেজি অংশে মূলত দুই ধরনের প্রশ্ন হয় : ১. Vocabulary Based ২. Grammar Based।

আবার Vocabulary-তে দুই ধরনের প্রশ্ন হয় :

১. General Vocabulary ২. Contextual Vocabulary। সাধারণত কমন টাইপের প্রশ্নই বেশি হয়।

Vocabulary Based টপিকগুলো হলো—Synonyms & Antonyms, One word Substitution, Replacing underlined word. Analogy, Odd man out, Spelling, Sentence Completion Group verb, Appropriate preposition, Idioms & Phrase.

আর Grammar Based টপিক—Error Finding, Sentence Correction, Correct Sentence Choice, Rearrange Sentence Parts, Grammar-based fill in the blanks|

ভোকাবুলারি অংশের জন্য প্রথমে মহিউদ্দীনের লেখা An exclusive book of synonyms and antonyms বই থেকে বিগত সালে আসা সব ব্যাংকের ভোকাবুলারি মুখস্থ করে ফেলতে হবে। দেখবেন হয়তো বা অনেকগুলোই আপনি পারেন। এরপর Objective English Pearson-এর বইটা থেকে Section Three and Section four অনুশীলনীসহ পড়ে নিন। এখানে দেখবেন, অনেকগুলোই আপনার আগে থেকে পড়া আছে। গ্রামার অংশের জন্য Cliff’s toefl বইটা পুরোটা পড়ে ফেলুন। সহজ ভাষায় লেখা। বইটা ভালো করে পড়তে পারলে গ্রামারের প্রস্তুতি অনেকটাই হয়ে যাবে। বাজারের ভালো মানের গাইড বই দেখে গ্রামারের আগের বছরের প্রশ্নগুলো অনুশীলন করুন।

 

♦ গণিত

গণিত অংশে সময় ও কাজ, সময় ও দূরত্ব (নৌকা, ট্রেন), লাভ-ক্ষতি, বয়স, নল ও চৌবাচ্চা, অনুপাত-সমানুপাত, শতকরা, সুদকষা, পরিমাপ ও একক, গড়, অংশীদারি ও ভাজ্য, মিশ্র ও দ্রবণ, বিন্যাস-সমাবেশ প্রভৃতি। বীজগণিতের রাশিমালা, সূচক, সমীকরণ, লগারিদম, সেট, সিরিজ থেকে প্রশ্ন বেশি আসে।

জ্যামিতির ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ, বহুভুজ, স্থানাঙ্ক, দূরত্বের পাশাপাশি পরিমিত ও ত্রিকোণমিতি থেকেও প্রশ্ন আসে। ব্যাংকের গণিতের প্রস্তুতির জন্য আগারওয়ালের বইটা দারুণ কাজে দেবে। যেসব টপিক থেকে প্রশ্ন বেশি আসে, শুধু সেসব টপিক থেকেই গণিত অনুশীলন করতে হবে। এ ছাড়া গণিতসংক্রান্ত বিভিন্ন ওয়েবসাইট দেখেও প্রস্তুতি নেওয়া যেতে পারে। আর যাদের গণিতের বেসিক বেশি ভালো না, তাদের সপ্তম, অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণির বোর্ডের গণিত বই প্রথমে অনুশীলন করে গণিতের বেসিক ঝালাই করে নিতে হবে।

 

♦ সাধারণ জ্ঞান

সাধারণ জ্ঞানে দুই ধরনের প্রশ্ন হয়—এক ধরনের প্রশ্ন হয় সাম্প্রতিক সময়ের বিষয়গুলো থেকে, আরেক ধরনের প্রশ্ন হয় স্থায়ী বিষয়গুলো নিয়ে। সাধারণ জ্ঞানের জায়গা বিশাল, তাই নির্দিষ্ট টপিক বলাটা কষ্টকর। তার পরও বিগত বছরের প্রশ্নগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি বিষয় থেকে বেশি বেশি প্রশ্ন আসে। সাম্প্রতিকের ক্ষেত্রে সমসাময়িক রাজনীতি, নারীনীতি, সমাজনীতি, পরিবেশনীতি, নির্বাচন, খেলাধুলা, পুরস্কার প্রভৃতি। এ ছাড়া বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমীক্ষাবিষয়ক তথ্য, বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিবিষয়ক তথ্য, জিডিপি, মাথাপিছু আয়, মুদ্রা, জাতীয় ব্যাংকের নাম, জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংকসহ এদের সব অঙ্গসংগঠন, বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও ব্যাবসায়িক চুক্তি, বাংলাদেশের ইতিহাস (১৯৪৭-১৯৭১) জানা থাকতে হবে। সাধারণ জ্ঞানে ভালো প্রস্তুতির জন্য দৈনিক পত্রিকার বাণিজ্য, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক, উপসম্পাদকীয় ও খেলাধুলা বিভাগের খবর ও নিবন্ধ নিয়মিত পড়তে হবে। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্তগুলো খাতায় নোট করে রাখা যেতে পারে। বিবিসি ও সিএনএনের খবর শুনতে পারলে ভালো কাজে দেবে। কালের কণ্ঠ পত্রিকার কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স পাতায় প্রতি মাসের শেষ সপ্তাহে সাম্প্রতিক সময়ের আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশ বিষয়াবলির ওপর একটি মডেল টেস্ট (উত্তরসহ) দেওয়া হয়; এটিও বেশ কাজে দেবে। এ ছাড়া বাজারে প্রচলিত সাধারণ জ্ঞানের ভালো মানের একটি গাইড বই পড়া যেতে পারে।

 

♦ কম্পিউটার জ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তি

কম্পিউটার ও তথ্য-প্রযুক্তি অংশে প্রস্তুতির জন্য মাধ্যমিকের কম্পিউটার বইটি পড়া যেতে পারে। উচ্চ মাধ্যমিকের তথ্য-প্রযুক্তি পড়তে পারলে আরো ভালো হয়। আর গাইড বইয়ের ক্ষেত্রে ইজি কম্পিউটার বা বাজারের ভালো মানের গাইড বই পড়া যেতে পারে। কম্পিউটারের ইতিহাস, কম্পিউটারের প্রকারভেদ, ক্রমবিবর্তন, সংগঠন, সিস্টেম ইউনিট, আউটপুট ইউনিট, মেমোরি, স্টোরেড ডিভাইস, কম্পিউটার বাস, কম্পিউটার সফটওয়্যার, অপারেটিং সিস্টেম, ডাটাবেইস, ডিজিটাল লজিক, সেলুলার ফোন, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ক্লাউড কম্পিউটিং, ইন্টারনেট, ই-মেইল, ই-কমার্স, সামাজিক যোগাযোগ, ইউটিলিটি প্রগ্রাম, এমএস ওয়ার্ড, এমএস এক্সেল ইত্যাদি টপিক থেকে প্রশ্ন আসে। আগের বছরগুলোতে ব্যাংকসহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় আসা প্রশ্নগুলো বেশি বেশি চর্চা করতে হবে।

 

সুযোগ-সুবিধা ও পদোন্নতি

বাংলাদেশ ব্যাংক খুলনা শাখার ক্যাশ অফিসার আজিম চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসার পদে যোগ দিলে প্রাথমিক পর্যায়ে ১৬০০০ টাকা বেসিক স্কেলে বেতন ধরা হয়। কারো সব একাডেমিক ফলে প্রথম শ্রেণি থাকলে শুরুতেই ৪টি ইনক্রিমেন্ট পেয়ে ২০৪৪০ টাকা বেসিক স্কেলে বেতন পাবেন। এর সঙ্গে রয়েছে—বাড়িভাড়া ভাতা, শিক্ষাভাতা, ইন্টারনেট ভাতা, মোবাইল ফোন ভাতা, বিলম্বভাতা, দুপুরের খাবার প্রভৃতি ভাতা। এগুলোসহ ৪২ থেকে ৪৫ হাজার টাকার মতো মাসিক বেতন আসে। তা ছাড়া ব্যাংকের খরচে দেশের বাইরে ৪ মাসের জন্য ট্রেনিং করার সুযোগ রয়েছে। ট্রেনিং করলে ট্রেনিং ভাতা বাবদ লাখখানেক টাকা তাঁর অ্যাকাউন্টে জমা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার (জেনারেল/ক্যাশ) থেকে দুই বছর পর পদোন্নতি পেয়ে ব্যাংকের সহকারী পরিচালক হওয়া যায়। সহকারী পরিচালক হওয়ার পর কেউ দেশের বাইরে স্নাতকোত্তর করার জন্য স্কলারশিপ পেলে তাঁকে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা ভাতা দেওয়া হয়। ব্যাংকের জেনারেল অফিসার অথবা ক্যাশ অফিসার থেকে পদোন্নতি পেয়ে সর্বোচ্চ জেনারেল ম্যানেজার হওয়া যায়। JAIBB এবং DAIBB-এ দুটি কোর্স করে ক্যাশ অফিসার থেকে জেনারেল অফিসার হওয়া যাবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা