kalerkantho

শনিবার । ১৩ আগস্ট ২০২২ । ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৪ মহররম ১৪৪৪  

সংবাদ বিশ্লেষণ

শার্লি এবদোতে জঙ্গি হামলা

   

২১ জানুয়ারি, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শার্লি এবদোতে জঙ্গি হামলা

৭ জানুয়ারি ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে 'শার্লি এবদো' নামের একটি ব্যঙ্গ সাময়িকীর কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ১২ জনকে গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। নিহতদের মধ্যে ছিলেন পত্রিকাটির প্রধান সম্পাদক, আটজন কার্টুনিস্ট, দুজন পুলিশ সদস্য ও অপর দুই ব্যক্তি। আহত হন আরও ১০ জন। এটি এক দশকের মধ্যে ফ্রান্সের ভয়াবহ হামলাগুলোর মধ্যে ছিল অন্যতম।

বিজ্ঞাপন

এ হামলার জন্য শেরিফ (৩২) ও সাইদ কাউয়াচি (৩৪) নামের দুই ভাইকে দায়ী করে ফরাসি গোয়েন্দারা। ৯ জানুয়ারি প্যারিসের উত্তরাঞ্চলের একটি গুদামঘরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত হন এ দুই ভাই।

যে কারণে এই হামলা : ২০১১ সালে মহানবী (সা.)-কে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করে শার্লি এবদো। সেবারও এই কার্যালয়ে বোমা হামলা চালানো হয়েছিল। ব্যঙ্গচিত্রটি প্রকাশের পর মুসলিম বিশ্বে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হলে ২০টিরও বেশি দেশে বন্ধ করে দেওয়া হয় ফরাসি দূতাবাস ও স্কুল। বর্ণ-বিদ্বেষবিরোধী আইনে আদালতে তাদের বিরুদ্ধে ওই সময় মামলা হলেও ২০১২ সালে ফের একই ধরনের বিতর্কিত কার্টুন ছাপে তারা। তবে সাম্প্রতিক সময়ের কার্টুনটি ছিল ইরাক ও সিরিয়ায় সক্রিয় সুন্নিপন্থী জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) নেতা আবুবকর আল বাগদাদির। কিছুদিন আগে শার্লি এবদো এক টুইট বার্তায় এটা প্রচারও করে। এ ঘটনার পরই পত্রিকাটিতে সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলাটি ঘটেছে।

আল-কায়েদার দায় স্বীকার : এ ঘটনার দায় স্বীকার করে অনলাইনে একটি ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছে আল-কায়েদা ইয়েমেন শাখা। ওই ভিডিও বার্তায় নাসের আল আনাসি নামের এক নেতা বলেন, মহান আল্লাহর বার্তাবাহক মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অবমাননাকর ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করার প্রতিশোধ হিসেবে আমরা এ হামলার দায়িত্ব স্বীকার করছি। হামলাটি পরিচালনা করতে আল-কায়েদার শীর্ষ নেতা আয়মান আল-জাওয়াহিরির নির্দেশ ছিল।

ফ্র্যান্সে ১০ লাখ লোকের সংহতি সমাবেশ : এ ঘটনার পর ১১ জানুয়ারি ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে এক সংহতি পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। প্যারিসের 'প্লেস দ্য লা রিপাবলিক'-এ আয়োজিত ওই সমাবেশে ফ্রান্সসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশ এবং বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা নানা ধর্ম ও বর্ণের ১০ লাখেরও বেশি সাধারণ মানুষ এবং ৪০টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান যোগ দেন। নানা প্ল্যাকার্ড ও প্রতীক হাতে এই সমাবেশে একাধিক মুসলিম দেশের সরকারপ্রধানও যোগ দেন। আগত বিশ্ব নেতারা একে অন্যের হাত ধরে সমাবেশের সূচনা করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন, জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মারকেল, ইতালির প্রধানমন্ত্রী মাত্তেও রেনজি, জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন, তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী আহমেদ দাভুতোগলু, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস, মালির প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম বুকাকার কেইটা, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল এরিক হোল্ডার প্রমুখ। এর আগে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে একই কাতারে দেখা যায়নি বহু বছর।

১৬টি ভাষায় ৩০ লাখ কপি : ভয়াবহ হামলার পর শার্লি এবদোর নতুন সংখ্যাটি ব্যাপক মার্কেট পায়। নতুন এ সংখ্যাটি কিনতে ফ্রান্সে বিভিন্ন পত্রিকা স্ট্যান্ডের সামনে লম্বা লাইন পড়ে। জঙ্গি হামলার পর পত্রিকাটির এ নতুন সংখ্যা ১৬টি ভাষায় ৩০ লাখ কপি ছাপানো হয়েছিল। সাধারণ সময়ে এর কাটতি ছিল ৬০ হাজার কপি।

আবারও মহানবীর ব্যঙ্গচিত্র : ১৪ জানুয়ারি সংখ্যায় শার্লি এবদো মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র (কার্টুন) ছেপেছে। শার্লি এবদোতে হামলার ঘটনায় এবং পুনরায় মহানবীর ব্যঙ্গচিত্র ছাপায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বেশ কিছু মানুষ হতাহত হয়েছেন। ইতিমধ্যে ফ্রান্সের এক হাজারেরও বেশি ওয়েবসাইটে সাইবার হামলা হয়েছে। পোপ ফ্রান্সিসও শার্লি এবদোতে হামলা ও পুনরায় ব্যাঙ্গচিত্র ছাপানোয় নিন্দা জানিয়েছেন।

 

 



সাতদিনের সেরা