kalerkantho

শুক্রবার । ৭ অক্টোবর ২০২২ । ২২ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

বোমাং রাজা অং শৈ প্রু চৌধুরী আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান   

৯ আগস্ট, ২০১২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বোমাং রাজা অং শৈ প্রু চৌধুরী আর নেই

বান্দরবান পার্বত্য জেলার বোমাং সার্কেল প্রধান, বোমাং রাজা অং শৈ প্রু চৌধুরী আর নেই। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় নিজ বাড়িতে বার্ধক্যজনিত কারণে তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন তাঁর ছেলে সাচিং প্রু জেরি। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৮ বছর। তিনি স্ত্রী আবাইন প্রু, ছয় ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন। অং শৈ প্রু চৌধুরীর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। রাজবাড়িতে খোলা হয়েছে শোকবই। প্রয়াত রাজার শেষকৃত্যানুষ্ঠানের দিন-তারিখ বিষয়ে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পেঁৗছাতে পারেনি তাঁর পরিবার। সাচিং প্রু জেরি জানিয়েছেন, রাজপরিবারের সদস্যরা এবং সার্কেল হেডম্যান ও কারবারিরা বৈঠক করে তাঁর বাবার শেষকৃত্যের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন। তবে সাচি প্রু এ-ও বলেছেন, বর্তমানে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বর্ষাবাস চলছে। ধর্মীয় আচার শেষে অক্টোবর মাসের কোনো এক সময় রাজকীয় রীতি অনুযায়ী রাজার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হতে পারে। অং শৈ প্রুর মৃত্যুর খবরে গতকাল নিথর হয়ে যায় পুরো বান্দরবান শহর। খবর পেয়ে রাজবাড়িতে ছুটে আসেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান বীর বাহাদুর এমপি, সেনাবাহিনীর বান্দরবান রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামস উল হুদা, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা, জেলা প্রশাসক কে এম তারিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার কামরুল আহসান, পৌর মেয়র জাবেদ রেজাসহ সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে আসেন নানা বয়সী পাহাড়ি-বাঙালি হাজারও সাধারণ মানুষ। ১৯১৫ সালের ১ আগস্ট জন্ম নেন অং শৈ প্রু। চতুর্দশ বোমাং রাজা মং শৈ প্রু চৌধুরীর মৃত্যুর পর ১৯৯৮ সালের ১৯ নভেম্বর পঞ্চদশ রাজা হিসেবে অং শৈ প্রু চৌধুরী সিংহাসনে অভিষিক্ত হন। এক যুগেরও বেশি সময় দায়িত্ব পালনকালে তিনি এ অঞ্চলে রাজার সঙ্গে প্রজার এবং সমপ্রদায়ে-সমপ্রদায়ে মেলবন্ধন গড়ে তোলেন। ১৯৭০ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে সংখ্যালঘু, সমাজকল্যাণ ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। এ সময় তিনি এ অঞ্চলে সমবায় আন্দোলন গড়ে তোলেন। পরে ১৯৭৯ থেকে '৮২ সাল মেয়াদে জিয়াউর রহমান সরকারের খাদ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। দেশে রাজ প্রথার বিলুপ্তি ঘটলেও পার্বত্য চট্টগ্রামে মোগল আমল থেকে রাজপ্রথা অব্যাহত রয়েছে। ব্রিটিশ আমলে পার্বত্য চট্টগ্রামকে তিন সার্কেলে বিভক্ত করে প্রতি সার্কেলে একজন রাজা বা সার্কেল চিফ নিয়োগ দেওয়া হয়। দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ভাগে বান্দরবান এবং রাঙামাটি জেলার ১৪টি মৌজা নিয়ে বোমাং সার্কেল, কর্ণফুলী নদীর ওপার থেকে চেঙ্গি নদীর এপার পর্যন্ত মধ্য ভাগ নিয়ে চাকমা সার্কেল এবং উত্তর ভাগকে নিয়ে মং সার্কেল গঠন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর শোক : বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানায়, বোমাং রাজা অং শৈ প্রু চৌধুরীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'রাজা অং শৈ প্রু চৌধুরী বান্দরবান পার্বত্য জেলার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নে বিরাট অবদান রেখেছেন। তাঁর মৃত্যুতে পার্বত্যবাসী একজন নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্বকে হারাল।' প্রধানমন্ত্রী শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

বিজ্ঞাপন



সাতদিনের সেরা