kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ অক্টোবর ২০২২ । ২১ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

দুশ্চিন্তায় ত্বকের ক্ষতি

শুধু অযত্ন বা দূষণ নয়, দুশ্চিন্তারও প্রভাব পড়ে ত্বকে। তাই সুন্দর ত্বকের জন্য হাসিখুশি, চাপমুক্ত থাকা জরুরি। ঢাকা মেডিকেল কলেজের অনারারি মেডিকেল অফিসার ডা. মো. রায়হান উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলেলিখেছেন ফাতেমা ইয়াসমীন

৮ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দুশ্চিন্তায় ত্বকের ক্ষতি

হাসিখুশি, চাপমুক্ত জীবন সববয়সী ত্বকের জন্যই জরুরি।মডেল : জয়া আহসান; ছবি : ইনস্টাগ্রাম

কথায় আছে হাসলে মানুষকে সতেজ দেখায়। আর যে কেউ দুশ্চিন্তায় থাকলে তার চেহারায় ফুটে ওঠে তা। মানুষের চিন্তার সঙ্গে শরীরের যোগ রয়েছে। এ জন্যই মনের ভাব মুখে ফুটে উঠতে দেখা যায়।

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘ সময় মানসিক চাপে থাকলে তা স্বাস্থ্য ও ত্বক উভয়ের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। তাই ত্বক ভালো রাখতে মানসিকভাবে প্রফুল্ল থাকার বিকল্প নেই।

গবেষণায় দেখা গেছে, মানসিক দুশ্চিন্তা, হতাশা এসব কারণে মানুষের ত্বকে নানা রকম সমস্যা দেখা দেয়। মানসিক সমস্যার কারণে ত্বকে ব্রণ ওঠা, চর্মরোগ, চামড়া কুঁচকে যাওয়া, শুষ্কতা ও অতিরিক্ত তৈলাক্ত ভাব, দ্রুত বুড়িয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা তৈরি হয়।

 

ব্রণ ওঠা

মানসিক চাপে শরীর ট্রেস হরমোন নিঃসরণ করে, যা প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ত্বকে তেলের উত্পাদন বাড়ায়। এর ফলে ত্বকে ব্রণের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। কিশোর-কিশোরীদের ব্রণ ওঠার বিষয়টি মূলত হরমোনজনিত। তবে যেসব প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ মানসিক চাপে ভোগেন, তাঁদেরও ব্রণ হওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।

 

চর্মরোগের আশঙ্কা

মানসিক চাপের কারণে কর্টিসোল হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। ফলে রোগ শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এতে সহজেই ত্বকে চুলকানি, র্যাশসহ নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।

 

চোখের চারপাশের কালো দাগ

মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্ত মানুষ কিছু অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসে দিন যাপন করে। যেমন—সময়মতো না ঘুমানো, শরীর আর্দ্র রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান না করা, স্বাস্থ্যকর খাবার না খাওয়া, ত্বকের যত্ন না নেওয়া। অনেক সময় হতাশা, কাজের চাপ ও পারিবারিক নানা অশান্তির কারণে এসব সমস্যা বেশি তৈরি হয়। চাপের কারণে ঘুম হয় না। ফলে রাত জাগার কারণে চোখের চারপাশের ত্বক কালো হয়ে যায়।

 

চামড়া ঝুলে পড়া ও বলিরেখা

কথায় আছে, মন আর শরীর একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। তাই মানসিক যেকোনো অবসাদে শরীরে মানে ত্বকে প্রভাব পড়ে। মানসিক চাপ বেশি হলে ত্বক মলিন ও নিষ্প্রাণ হয়ে যায়। হতাশার কারণে ত্বকের ডিএনএ সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ত্বক নমনীয়তা হারায়, বলিরেখা পড়ে।

 

ত্বক ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া

দীর্ঘদিন মানসিক চাপে থাকলে ত্বকের উজ্জ্বলতা কমে যেতে পারে। আপনি দুশ্চিন্তায় থাকলে আর আপনার ত্বক ফ্যাকাসে হয়ে গেলে বুঝবেন মানসিক অবস্থাই আপনাকে বেশি কাবু করে ফেলেছে। মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তায় ভুগলে মানুষ নিজের যত্ন করতে ভুলে যায়। প্রতিদিনের প্রসাধনী ব্যবহারে অনিয়ম চলে আসে। এতে ত্বকের উজ্জ্বলতা কমে যায়, ফ্যাকাসে হয়ে পড়ে।

 

ত্বক ফেটে যায়

মানসিক চাপে কর্টিসোলের উত্পাদন বৃদ্ধি পায়। এটা হায়ালুরোনিক এসিডের সিন্থেসিস কমিয়ে ফেলে, যার ফলে ত্বক আর্দ্রতা হারায়। ত্বকে নেতিবাচক পরিবর্তন ঘটে। যেমন—ত্বক ফেটে যাওয়া, র্যাশ ওঠা ইত্যাদি।

 

ত্বক বুড়িয়ে যায়

দীর্ঘদিন মানসিক চাপে থাকলে তার প্রভাব মানুষের মুখমণ্ডলে প্রকাশ পায়। দ্রুত ত্বক বুড়িয়ে যায়, অর্থাত্ বয়সের চেয়ে মানুষকে বয়স্ক লাগে। মানসিক চাপে কর্টিসোল বৃদ্ধি পায়। অতিরিক্ত কর্টিসোল কোলাজেনকে ভেঙে ফেলে ও হায়ালুরোনিক এসিডের সিন্থেসিস কমায়। কোলাজেন ও হায়ালুরোনিক এসিড কমে যায় বলে ত্বকে বয়সের ছাপ পড়ে।

 

চুল পড়া বেড়ে যায়

যদি আপনার উল্লেখযোগ্য হারে চুল পড়ে, তাহলে বুঝতে হবে সম্ভবত মানসিক চাপে ভুগছেন। যারা দীর্ঘ সময় মানসিক চাপে ভোগেন তাঁরা কয়েক মাস পর লক্ষ করতে পারেন যে চুল পাতলা হয়ে যাচ্ছে তথা বেশিসংখ্যক চুল পড়ে যাচ্ছে। মানসিক চাপে এমন কিছু হরমোন নিঃসরণ করে, যা চুলকে অকালে রেস্টিং ফেজে পাঠিয়ে দেয়। এ কারণে মানসিক চাপপূর্ণ ঘটনার দুই থেকে তিন মাস পর অস্বাভাবিক হারে চুল পড়তে থাকে।

 

শরীর ও মন ভালো রাখতে

মানসিকভাবে উত্ফুল্ল থাকার চেষ্টা করুন। নিয়মিত বই পড়া, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, পরিবারকে সময় দেওয়া, কোথাও ঘুরতে গেলে মনে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। কখনো মানসিক চাপের মুখোমুখি হলে তা দ্রুত সামলে নিন।

 



সাতদিনের সেরা