kalerkantho

শনিবার । ১৫ মাঘ ১৪২৮। ২৯ জানুয়ারি ২০২২। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

হলুদে আর মরিচে

খাবার সুস্বাদু ও সুগন্ধযুক্ত করতে হলুদ-মরিচের জুড়ি নেই। আছে আলাদা পুষ্টিগুণ। পুষ্টিবিদ আখতারুন নাহার আলোর সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন মোনালিসা মেহরিন

১ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হলুদে আর মরিচে

হলুদ

প্রতিদিনের খাবার রান্নায় কোনো না কোনোভাবে হলুদ থাকেই। নানাভাবে রান্নায় ব্যবহার করা হয় হলুদ। কেউ বেটে ব্যবহার করে, তো কারো গুঁড়া হলুদেই আস্থা। হলুদ খাবারে সুন্দর রং এনে দেয়।

বিজ্ঞাপন

যোগ করে আলাদা সুবাস। এর আছে নানা গুণ। হলুদ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। আমাদের শরীরে নানা কারণে যেসব ফ্রি র্যাডিক্যাল তৈরি হয়, সেগুলো বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। এসব অনাহূত ফ্রি র্যাডিক্যাল নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে হলুদ বেশ কার্যকর। হলুদ নিউরোপ্রটেক্টিভ হিসেবে কাজ করে।

ছোটখাটো ক্ষত সারিয়ে তুলতেও হলুদের জুড়ি মেলা ভার। কোথাও কেটে গেলে সেই জায়গায় হলুদ লাগিয়ে দিলে উপশম পাওয়া যায়।

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যান্সারসহ ডায়াবেটিস প্রতিরোধেও কাজ করে হলুদ। আয়ুর্বেদিক চিকিত্সায় হলুদকে হার্টের টনিক বলা হয়। এটি রক্ত পাতলা রাখতে সাহায্য করে। লিভারের কর্মক্ষমতা বাড়ায়। হার্ট শক্তিশালী করে।

লাল মরিচ

বাঙালির রসনাবিলাসে অন্যতম উপাদান মরিচ। খাবারে ঝাল যোগ করে মরিচ। এনে দেয় স্বাদ ও সুগন্ধ। মরিচ নানাভাবে রান্নায় ব্যবহার করা হয়। আস্ত কাঁচা মরিচ, পাকা লাল মরিচ, এমনকি মরিচ বেটে ও কেটেও যোগ করা হয় রান্নায়। এখন তো গুঁড়া মরিচের কারণে রান্না হয়ে গেছে আরো সহজ।

মরিচ খাবারে ঝাল যোগ করে তা-ই নয়, এর আরো নানা উপকারও রয়েছে। মরিচে রয়েছে ক্যাপসাইসিন নামের একটি বায়ো-অ্যাকটিভ কম্পাউন্ড। এটি লিভারে ও রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে।

ক্যাপসাইসিনের প্রধান কাজ শরীরের চর্বি বার্ন করা। এটি মোটা হয়ে যাওয়ার প্রবণতা রুখে দেয়। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের দীর্ঘায়ুর পেছনেও এই ক্যাপসাইসিনের ভূমিকা রয়েছে। রক্ত ও রক্তনালিতে চর্বিজনিত প্লাক তৈরি হতে বাধা দেয় ক্যাপসাইসিন। লিভার ভালো রাখতেও সাহায্য করে মরিচের উপাদান। মরিচের এই উপাদান ক্ষুধা ভাব কমাতে সাহায্য করে। এতে শরীর সতেজ ও চনমনে অনুভূত হয়। লাল মরিচ উচ্চ রক্তচাপ কমাতেও ভূমিকা রাখে। মরিচের অন্যতম উপাদান আঁশ, যা রক্ত সঞ্চালনে সহায়তা করে। আমাদের হজমশক্তি বৃদ্ধি করে। মরিচের ভিটামিন ‘ই’ হাঁটুর ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। লাল মরিচে রয়েছে ভিটামিন ‘এ’। এটি দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে।

যারা হরহামেশা ঠাণ্ডা ও সর্দি-কাশিতে ভোগে, তাদের জন্যও উপকারী লাল মরিচ। এটি নাকের বন্ধ ভাব দূর করতে সাহায্য করে। ত্বকের সোরিয়াসিস প্রতিরোধে কাজ করে লাল মরিচ। দাঁত ও মুখের সুরক্ষায়ও উপকার এনে দেয় লাল মরিচ। মাড়ির রোগ প্রতিরোধ, মুখের দুর্গন্ধ দূর ও রক্তপাত প্রতিরোধে কাজ করে লাল মরিচে থাকা নানা উপকারী উপাদান।



সাতদিনের সেরা