kalerkantho

বুধবার । ১৩ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৮ জুলাই ২০২১। ১৭ জিলহজ ১৪৪২

ঘোর লাগানো ঘেরের পোশাক

মেয়েদের পোশাকে জমকালো ভাব আনতে ঘেরের নকশায় বৈচিত্র্য আনছেন ডিজাইনাররা। গাউন, আনারকলি, লেহেঙ্গা, কুর্তি, সারারা থেকে শুরু করে হালে বিভিন্ন কাটছাঁটের ঘের যুক্ত হচ্ছে কামিজেও। ডিজাইনারদের সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন আতিফ আতাউর

২১ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঘোর লাগানো ঘেরের পোশাক

মডেল : তৃণ পোশাক : বিশ্বরঙ সাজ : শোভন মেকওভার ছবি : কাকলী প্রধান

পাশ্চাত্য পোশাক গাউনে ঘের থাকবে—এটাই রীতি। পশ্চিমা পোশাকটি এখন বাংলাদেশেও জনপ্রিয়। বিয়ে থেকে শুরু করে পার্টিতে অংশ নিতে অনেকেই গাউন পরে হাজির হন। ফেঁপে থাকা ঘের দেওয়া গাউন যেমন ফ্যাশনেবল, তেমনি আভিজাত্য প্রকাশেরও মাধ্যম। গাউনের এই ঘেরের ধারা উপমহাদেশে মোগল আমল থেকে শুরু করে হালেও বেশ চলছে। একমসময় রানি, রাজকন্যা থেকে শুরু করে রাজমহলের নৃত্যশিল্পীদের পরনের পোশাকেও দেখা যেতো জমকালো ঘের। নবাবি আমলেও ঘেরের পোশাক ছিল জনপ্রিয় ধারা।

বিশ্বরঙ

ঘের এক সময় স্থান করে নেয় ছোট মেয়েদের পোশাকে। ছোট মেয়েদের পোশাক ফ্রক মানেই বর্ণিল ঘেরের বৈচিত্র্য। কালের বিবর্তনে ফ্যাশন ডিজাইনারদের ফিউশন ভাবনায় ঘের যুক্ত হয়েছে আনারকলি, লেহেঙ্গা, কুর্তি, সারারা থেকে হালের অন্যান্য পোশাকেও। রঙ বাংলাদেশের স্বত্বাধিকারী সৌমিক দাস জানালেন, ‘ফ্যাশন মানেই নিত্যনতুন ফিউশনের খেলা। এখানে ডিজাইনাররা সব সময়ই পোশাকে নতুনত্ব আনার খেলায় মেতে থাকেন। এক পোশাক থেকে কী করে আরেকটি পোশাকে ফিউশন ঘটানো যায় তার চেষ্টা চলে সব সময়। সেই প্রচেষ্টার ফসলই হচ্ছে ঘের দেওয়া লেহেঙ্গা, আনারকলি ও কামিজ। ফ্যাশনে নতুন কিছু যোগ করতে কামিজসহ অন্যান্য পোশাকেও বর্ণিল ঘেরের কাজ করেছি আমরা। অনেক তরুণীই এমন কামিজ পছন্দ করেছেন। ফ্যাশনের চলতি ধারায়ও বেশ জনপ্রিয় হয়েছে রংবেরঙের ঘেরের পোশাক।’

আনজারা

বিশ্বরঙের স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার বিপ্লব সাহা জানালেন, ‘ঘের দেওয়া পোশাকগুলো সাধারণত একটু জমকালোই হয়। কারণ এগুলো পরাই হয় বিয়ে, জন্মদিন, পার্টিসহ বিশেষ বিশেষ অনুষ্ঠানে। গাউন তো বিয়ে ও পার্টিতে তরুণীদের পছন্দের শীর্ষে। এ জন্য ঘেরের কাজে তাঁরা আলাদা মনোযোগ দেন। তরুণীদের পোশাকে ঘেরের কাজটা নিচের অংশে থাকলেও ওপরের অংশের কাজও কম নয়। সব মিলিয়ে ঘের দেওয়া পোশাকটি দেখতেও অভিজাত দেখায়। এ জন্যই এখন পোশাকের ফিউশনে ঘেরের কাজে এত রকম বৈচিত্র্যের দেখা পাওয়া যাচ্ছে।’

আনজারা

বর্ণিল ও বৈচিত্র্যময় কাজের ঘের দেওয়া গাউন, আনারকলি, লেহেঙ্গা বানিয়ে তরুণীদের কাছে এরই মধ্যে পরিচিতি পেয়েছে ফ্যাশন হাউস আনজারা। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার নওরীন ইরা বলেন, ‘পোশাকের ঘেরে বৈচিত্র্য ও অভিজাত ভাব আনতে কারচুপি, পাথর, চুমকি, জরিসহ নানা ম্যাটেরিয়ালের কাজ করা হয়। অনেক সময় হাতের কাজের সাহায্যেও ফুল, পাখি, লতাপাতা ও প্রকৃতির নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়। আবার ছোট ছোট কুচির কাজের মাধ্যমেও নতুনত্ব যোগ করা হয় পোশাকের ঘেরে।’

রঙ বাংলাদেশ

ঘেরের কাজের পোশাকে তরুণীদের চাহিদা দেখে নানা কাটছাঁটও যোগ হচ্ছে এখন। এক ঘেরের পোশাক থেকে এখন একাধিক ঘেরের ডিজাইনও করছে ফ্যাশন হাউসগুলো। ফ্রকের মতো ফোলানো কামিজের সামনের অংশে যোগ হচ্ছে বাড়তি কাপড়ের ঘের। নতুন নকশা আঁকা বাড়তি এই ঘেরে যোগ হচ্ছে আলাদা বৈচিত্র্য।

কোথায় পাবেন কেমন দাম

বিশ্বরঙ, রঙ বাংলাদেশ, আনজারা, আড়ং, অঞ্জন’স, কে ক্রাফট থেকে শুরু করে ছোট-বড় প্রায় সব হাউসেই মিলবে ঘের দেওয়া পোশাকের সম্ভার।

একটু জমকালো ও ভারী কাজের ঘের দেওয়া গাউন, লেহেঙ্গা ও আনারকলির মতো পোশাকগুলোর দাম একটু বেশি। এগুলো পাওয়া যাবে তিন হাজার থেকে শুরু করে ৩০ হাজার টাকায়। একটু কম দামে ঘের দেওয়া পোশাকের মধ্যে কামিজ এগিয়ে। এগুলো পাওয়া যাবে ৮৫০ থেকে ১৫৫০ টাকার মধ্যে।