kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

করোনাকালের ফার্স্ট এইড ব্যাগ

কিছুতেই কমছে না করোনার প্রকোপ। তার ওপর খুলে গেছে নানা প্রতিষ্ঠান। এখন করোনার সঙ্গে যুদ্ধ করেই বাঁচতে হবে আমাদের। এই যুদ্ধে ব্যাগে রাখুন জরুরি কিছু জিনিসপত্র। পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. নুসরাত সুলতানা। লিখেছেন আতিফ আতাউর

৬ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনাকালের ফার্স্ট এইড ব্যাগ

শুরুতে ঘরবন্দি আর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে সরকার সবাইকে কঠোর নির্দেশনা দিলেও এখন জীবিকার তাগিদে শিথিল করা হয়েছে লকডাউন। বাইরে চলাচল আগের চেয়ে বেড়েছে বহুগুণ। অফিস কিংবা বাইরে গেলে কাঁধে কিংবা হাতে ব্যাগ থাকে। এই ব্যাগই এখন হতে পারে আমার-আপনার ফার্স্ট এইড বক্স।

 

কাপড়ের ব্যাগ বেছে নিন

কাপড়ের ব্যাগে খুব বেশিক্ষণ করোনাভাইরাস বেঁচে থাকতে পারে না। এ জন্য চলতি পথে বা অফিসে ব্যবহারের জন্য বেছে নিন কাপড়ের ব্যাগ।

 

স্যানিটাইজার

করোনা থেকে বাঁচতে বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়া জরুরি। বাইরে তো আর যখন তখন যেখানে সেখানে হাত ধোয়ার সুযোগ পাবেন না। এ জন্য ব্যাগে এক বোতল হেক্সিসল অথবা হ্যান্ডরাব রাখুন। চলতি পথে প্রয়োজনীয়তা বুঝে সামান্য হেক্সিসল বা হ্যান্ডরাব নিয়ে হাত পরিষ্কার করুন। হাত জীবাণুমুক্ত করতে হেক্সিসল বা হ্যান্ডরাব দারুণ কার্যকর। খেয়াল রাখুন স্যানিটাইজারে যেন কমপক্ষে ৭০ শতাংশ অ্যালকোহল থাকে। এর কম হলে তা জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করে না। নিজের কাছে হেক্সিসল, হ্যান্ডরাব বা অ্যালকোহলিক প্যাডের মতো জিনিসপত্র থাকলে অফিসে লিফটের বাটন, ডোর নব, সুইচ, অফিস ডেস্ক, মোবাইল, মানিব্যাগ, চশমা ইত্যাদি সহজেই পরিষ্কার করে নিতে পারবেন।

 

টিস্যু পেপার

এই সময় হাঁচি-কাশি থেকে খুব সচেতনভাবে দূরে থাকতে হবে। বাসে বা চলতি পথে কেউ হাঁচি-কাশি দিলে সঙ্গে সঙ্গে টিস্যু দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলুন। নিজে হাঁচি বা কাশি দেওয়ার সময়ও মুখ ঢাকুন। এ জন্য আপনার ব্যাগে প্রয়োজনমতো টিস্যু রাখুন। করোনার এই সময়ে কাজে দেবে।

 

ছোট খাম

ব্যবহৃত টিস্যু চলতি পথে যত্রতত্র ফেলা যাবে না। বাইরের পরিবেশও পরিষ্কার রাখা আমাদের নাগরিক দায়িত্ব। আবার ব্যাগের ভেতরও অন্য সব জিনিসপত্রের সঙ্গে ব্যবহৃত টিস্যু রাখা যাবে না। তবে উপায়? সঙ্গে ছোট ছোট খাম রাখতে পারেন। ব্যবহৃত টিস্যু খামে ভরে ব্যাগের একপাশে রেখে দিন। অফিসে বা বাসায় পৌঁছে মুখবন্ধ ডাস্টবিনে ফেলে দিন। অনুরূপভাবে ব্যবহৃত সার্জিক্যাল মাস্কও এসব খামে ভরে রাখতে পারেন।

 

মাস্ক এবং অতিরিক্ত মাস্ক

মাস্ক তো পরবেনই। ব্যাগে কয়েকটি অতিরিক্ত মাস্কও রাখুন। ব্যবহার করা মাস্কে কোনো সমস্যা দেখা দিলে অতিরিক্ত মাস্কটি কাজে লাগবে। প্রয়োজনে ডাবল মাস্কও পরতে পারেন। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে এটা আরো ভালো কাজে দেবে। মনে রাখবেন, এন-৯৫ মাস্ক চিকিৎসকদের জন্য। অন্যদের জন্য সার্জিক্যাল মাস্কই যথেষ্ট।

 

গগলস

নাক-মুখ দিয়ে করোনা আক্রান্তের হার বেশি হলেও গবেষণায় দেখা গেছে, চোখের মাধ্যমেও যে কেউ করোনায় আক্রান্ত হতে পারেন। এ জন্য আপনার সঙ্গে গগলস রাখুন। এতে চলার পথে সহজেই চোখ ঢেকে রাখা যাবে। সংক্রমিত হওয়ার ভয় কমবে।

ঘড়ি, ব্রেসলেট, অলংকার বা গয়না ব্যাগে রাখুন।

নারীদের তো অলংকার পরতেই হয়। কিন্তু করোনার এই সময়ে গয়না কম পরাই ভালো। বিশেষ করে বাইরে চলাচলের সময় গয়না, ঘড়ি, ব্রেসলেট ব্যবহারে সাবধানতা অবলম্বন করুন। কেননা গয়নায় পাঁচ দিন পর্যন্ত করোনাভাইরাস বেঁচে থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এগুলো চলার পথে ব্যাগে রাখুন। এরপর গন্তব্যে পৌঁছে সানিটাইজ করে চাইলে ব্যবহার করতে পারেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা