kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৭ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪১

যত্ন-আত্তি

রান্নাঘরের বাসনের যত্ন

রান্নাঘরের বাসনের যত্ন কিভাবে নেবেন পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গার্হস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের অধ্যাপক শামসুন নাহার। শুনেছেন এ এস এম সাদ

২৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রান্নাঘরের বাসনের যত্ন

পরিষ্কারের জন্য

তেলে ভাজার জন্য লোহার কড়াই ব্যবহার করেন অনেকে। কম আঁচে রান্না করলে তামা বা পিতলের কোটিং দেওয়া বাসনও ব্যবহার করে থাকেন। লোহার কড়াই পরিষ্কার করার জন্য নারকেলের ছোবড়া বা সিনথেটিক স্ক্র্যাবার ব্যবহার করতে পারেন। তামা বা পিতলের কোটিং দেওয়া বাসন পরিষ্কারের জন্য পাতলা কাপড় ব্যবহার করতে পারেন।

বাসন লেগে গেলে

স্টিলের বাসন, বিশেষ করে গ্লাস বা বাটি অনেক সময় একটির সঙ্গে অন্যটি আটকে যায়। সে ক্ষেত্রে ভেতরের বাটি বা গ্লাসে ঠাণ্ডা পানি ঢালুন এবং বাইরের গ্লাস বা বাটিতে গরম পানি। কয়েক মিনিট পর সহজেই আলাদা করতে পারবেন।

 

ঠাণ্ডা পানি সব সময় নয়

রান্না করার পরই গরম বাসনে পানি ঢালবেন না। কারণ অতিরিক্ত গরম বাসন ঠাণ্ডা পানির সংস্পর্শে এলে বাসনের ধাতু বা কাচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বেশিদিন সে বাসন ব্যবহারযোগ্য থাকে না। এ ছাড়া কাচের গ্লাস ও জগ থেকে ঠাণ্ডা শরবত ঢালার পরে এতে বরফ ফেলে রাখবেন না। গ্লাসে ফাটল ধরতে পারে।

 

পানি ও ভিনেগার ব্যবহার

ভারী তলের কোটিং দেওয়া বাসন পরিষ্কার করার জন্য ভিনেগারের সঙ্গে সামান্য লবণ মিশিয়ে নিন। অ্যালুমিনিয়াম পাত্রে ওয়াশিং সোডা ব্যবহার করবেন না। অ্যালুমিনিয়াম পাত্রে রান্নার কারণে কুকিং সোডা ব্যবহার করলে কালো হয়ে যেতে পারে। ওই পাত্রে সমপরিমাণ পানি ও ভিনেগার দিয়ে ফোটালে দাগ উঠে যাবে। লেবুর রস ও সমপরিমাণ পানিও ব্যবহার করতে পারেন।

স্পঞ্জ ব্যবহার করুন

ননস্টিক বাসন পরিষ্কার করার সময় স্টিল উল ব্যবহার করবেন না। নরম স্পঞ্জ দিয়ে পরিষ্কার করতে পারেন। তেল-মসলার গ্রেভি রয়েছে এ রকম লোহার পাত্রে সোডা ও পানির মিশ্রণ দিয়ে ভালো করে ফোটান, তারপর সিনথেটিক স্ক্র্যাবার দিয়ে পরিষ্কার করুন। ময়দা চেলে নেওয়ার পর যে ভুসি পড়ে থাকে, তা স্টেইনলেস স্টিলের তেল চিটচিটে বাসন পরিষ্কার করার জন্য দারুণ কাজে লাগে।

 

কেটলি পরিষ্কার

কেটলির ভেতর চায়ের কড়া দাগ দূর করার জন্য কেটলির ভেতরে পানি ও এক কাপ ছাই দিয়ে ভালো করে ফোটান। তারপর পানি ফেলে দিন। দেখবেন  কেটলির মধ্যে জমে থাকা সব ময়লা বের হয়ে আসবে।

 

অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র পুড়ে গেলে

অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র ভেতরের দিক দিয়ে পুড়ে গেলে পাত্রের মধ্যে সামান্য পানি ও পেঁয়াজ দিয়ে ভালো করে ফোটান, তারপর ধীরে ধীরে পোড়া অংশ ওপরে ভেসে উঠবে ও প্যানের নিচের অংশ পরিষ্কার থাকবে।

 

কেবিনেটের ব্যবস্থা করুন

প্রতিটি ছোটখাটো বাসন নির্দিষ্ট কেবিনেটে রাখার ব্যবস্থা করুন। প্রতিদিন ব্যবহারের যেসব বাসন, যেমন—দুপুর বা রাতের খাবারের সেট, গ্লাস ও কাপ, চায়ের কাপ-পিরিচ, ছুরি, চামচ—এগুলো খাবার ঘরের সাইডবোর্ডে রাখার ব্যবস্থা করুন। তাহলে রান্নাঘরে অন্য জিনিস স্টোরেজের জায়গা বের হবে। বাসনপত্র ধোয়ার পর ভালো করে মুছে তারপর তুলে রাখুন। বাসন মোছার জন্য পেপার টাওয়েল ব্যবহার করুন।

বাসনপত্র এবং কাটলারিজ

রান্না করার সামগ্রী এবং খাবার ঢাকার সামগ্রী পরিষ্কার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কাচের তৈরি এবং বিভিন্ন ভঙ্গুর সামগ্রী বিশেষ যত্নে একটি একটি করে পরিষ্কার করতে হবে। বাসনপত্র পানি এবং সাবান দিয়ে ধুতে হবে। লক্ষ রাখতে হবে, বাসনে ময়লা এবং বাসি খাবার যেন না লেগে থাকে। মাঝে মাঝে তরকারি কাটার ছুরি, কাঁচি শান (ধারালো করা) দেওয়া প্রয়োজন হয়।

 

পরিষ্কার করার বিশেষ পরামর্শ

♦          স্টিলের তৈরি কোনো উপকরণ ব্রাশ অথবা অন্য কোনো পরিষ্কারক সামগ্রী দিয়ে পরিষ্কার করা যাবে না।

♦          দরজার হাতল, ড্রয়ারের হাতল এমন সব জায়গা যত্নের সঙ্গে পরিষ্কার করতে হবে।

♦          কেবিনেটের বিভিন্ন অংশ আলাদা করে নিতে হবে যেন এর আশপাশের অংশ খুব সহজে পরিষ্কার করা যায়। কেবিনেট নির্দিষ্ট সময় পর পর মুছতে হবে।

♦          ধোয়ার সময় পরিষ্কারক সামগ্রী বেশি মাত্রায় ব্যবহার করা যাবে না।

♦          রান্নাঘরের তাকে শুকনা কীটনাশক রাখতে হবে। খাবারের সঙ্গে কীটনাশক মিশে যাওয়ার ব্যাপারে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।

 

অন্যান্য পরামর্শ

♦          যদি সম্ভব হয় গ্যাস স্টোভের সামনের দেয়ালে জানালার মতো চারকোনা খোপ কেটে নিতে পারেন।

♦          খোপের তলার অংশটি তাকের মতো ব্যবহার করে রান্নার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম রাখতে পারেন। রান্নার সময় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম হাতের কাছেই পাবেন।

♦          সিংকের নিচের ফাঁকা জায়গায় শেলফ বানিয়ে নিন। সেখানে বাসন ধোয়ার সাবান, স্ক্র্যাবার, বাসন মোছার ন্যাপকিনস গুছিয়ে রাখুন।

♦          রান্নাঘরে একটি ঢাকনা দেওয়া ময়লা ফেলার বালতি রাখুন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা