kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৭ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪১

কাজের মানুষ

হঠাৎ সাফল্যের হঠাৎ বিপর্যয়

২৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



হঠাৎ সাফল্যের হঠাৎ বিপর্যয়

‘সাফল্য আবার সামলানোর কী আছে!’ শিরোনাম পড়ে নির্ঘাত এমনটাই ভাবছেন মনে মনে। শুনতে খুব সাধারণ মনে হলেও বিষয়টা বেশ গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে যারা সহজে, অল্প পরিশ্রমে বা অসময়ে সাফল্য পেয়ে গেছেন তাদের জন্য সেটা সহজভাবে গ্রহণ করা অনেক সময় কঠিনই হয়ে পড়ে। ফলে প্রায়ই ‘দ্রুত সাফল্য’ ডেকে আনে ‘দ্রুত বিপর্যয়’। সে বিপর্যয় সামলাতে মেনে চলতে পারেন এই দশ পরামর্শ।

এক.

নিজেকে সংযত রাখুন। সফলতা আত্মবিশ্বাস বাড়াবেই। কিন্তু এই আত্মবিশ্বাসের মধ্যেও থাকতে হবে পরিমিতিবোধ। অনেক তরুণ কর্মকর্তা অল্প বয়সেই সাফল্যের মুখ দেখে নিজেকে আর সংযত রাখতে পারেন না। নিজেদের মধ্যে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী মনোভাব চলে আসে। এই মনোভাব আপনার জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। সুতরাং সংযত আত্মবিশ্বাসে পথ চলুন। অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসে নয়।

 

দুই.

সাফল্যের কারণে আপনার আচার-ব্যবহার যেন উগ্র না হয়ে যায় সেদিকে খেয়াল রাখুন। আচরণ থেকে যেন কোনোভাবেই বিনয় দূর না হয়। অনেকে সফলতার মুখ দেখে আচরণের ঔদ্ধত্য চাপা দিতে ব্যর্থ হন। বিনয়ের বদলে তাদের আচরণে দেখা দেয় ক্ষমতার রুক্ষতা। সহকর্মীরাও তার দহন থেকে রক্ষা পান না। অল্প সময়েই এ ধরনের সফল কর্মকর্তারা মুখ থুবড়ে পড়েন।

 

তিন.

অহংকার পতনের মূল—এই আপ্তবাক্য আমরা সবাই জানি। কেবল জানলেই হবে না, কথাটা কাজকর্মে মানতেও হবে। সফলতা যেন আমাদের অহংকারী বানিয়ে না তোলে সে ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। নম্রতা বজায় রাখতে হবে যেন সবার কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতা অটুট থাকে। মনে রাখতে হবে, নিজেকে স্থূলভাবে জাহির করার মধ্যে কোনো গর্ব নেই।

 

চার.

সাফল্যের মুখে অনেকেই নতুন কিছু শেখার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। ভাবতে শুরু করেন তাদের সব শেখা হয়ে গেছে। আসলে তো শেখার কোনো শেষ নেই। পৃথিবীর সেরা জ্ঞানীরা নিজেদের সেরা অজ্ঞই ভাবেন। অবিরাম জানার পিপাসাই তাদের দিন দিন শ্রেষ্ঠতর জ্ঞানীর আসনে বসিয়েছে। সরলতাই তাদের শ্রেষ্ঠ অলংকার।

 

পাঁচ.

আপনি সফল। তার মানে এটা ভাবার কারণ নেই যে অন্যরা ব্যর্থ। হয়তো অন্যরাও সফল। তবে ভিন্ন কোনো ক্ষেত্রে, ভিন্ন মানদণ্ডে। সেভাবেই সবাইকে মূল্যায়ন করুন। এতে আপনিও সবার কাছ থেকে আপনার সাফল্যের উপযুক্ত মূল্যায়ন পাবেন। কথাবার্তায়-বক্তব্যে অন্যদের সম্মান জানান। কখনোই কাউকে ছোট করবেন না। খেয়াল রাখুন কেউ যেন আহত না হন।

 

ছয়.

আত্মপ্রচারে নামবেন না। শুনতে বেখাপ্পা লাগে। আপনার প্রশংসা অন্যরা করবে। এবং সেটা অনেক বেশি গ্রহণযোগ্যও হবে। নিজের প্রশংসামূলক তথ্য শেয়ার করতে হলে তা অত্যন্ত বিনীতভাবে করুন। নিজের কথা বারবার বলবেন না।

 

সাত.

এখন আপনি সফল, তাই বলে আগামী দিনের চ্যালেঞ্জগুলোকে ছোট করে দেখবেন না। একজন ব্যর্থ মানুষও যেমন প্রতিনিয়ত চেষ্টা করলে একদিন সফল হয়ে যান, ঠিক তেমনি একজন সফল মানুষও প্রতিনিয়ত সাধনা না করলে একদিন ব্যর্থ হয়ে যেতে পারেন। তাই সাফল্যের সুখে দীর্ঘদিন অবগাহন না করে সামনের বাধাগুলো অতিক্রমের জন্য নিজেকে আরো যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলার কাজে মন দিন। ব্যর্থতাও যেমন শেষ কথা নয়, সফলতাও তেমনি।

আট.

সাফল্যের সময় আপনার শুভাকাঙ্ক্ষীদের কথা ভাবুন। সফল হওয়ার পর আপনার কাছে তাদের প্রত্যাশা এখন আগের চেয়েও বেশি। তাই আপনার দায়িত্বও এখন অনেক বেশি। কারণ পরবর্তী ধাপের জন্য নিজেকে তৈরি করতে হবে। আজকের মাপকাঠিতে যাকে সাফল্য বলা হচ্ছে, আগামীকালের মাপকাঠিতে সেটা ততটা গুরুত্ব নাও পেতে পারে। সময় সবকিছুই বদলে দেয়। পুরনো সবকিছুই সময়ের বিবর্তনে হারিয়ে যায়। কিন্তু আপনাকে হারিয়ে গেলে চলবে না।

 

নয়.

কথায় বলে, সুদিন এলে মানুষ দুর্দিন ভুলে যায়। দুর্দিনের বন্ধুদের ভুলে যায়। সফলদের পতনের এটাও অন্যতম কারণ। যারা অতীত ভুলে যান, নিজেদের শিকড়কে ভুলে যান, তাদের ভবিষ্যত্ অনুসন্ধানের শক্তিতে টান পড়াটাই স্বাভাবিক। মনে রাখবেন, ব্যর্থতাই সাফল্যের সবচেয়ে বড় শক্তি। একসময়ের দুঃসহ দিনগুলোই আগামী সুদিনের সঞ্চয়। সুতরাং দুর্দিনের বন্ধুদের ভোলা যাবে না।

 

দশ.

সফল ব্যক্তিদের চারপাশে আস্তে আস্তে চাটুকাররা ভিড় করতে থাকে। একজন, দুজন করে বাড়তে থাকে। একসময় অসংখ্য চাটুকারে পরিবৃত হতে হয়। এরা আপনার চারপাশে আত্মতৃপ্তির, গর্বের, অহমিকার দেয়াল তৈরির চেষ্টা করবে। তৈরি করবে বিভাজন। আপনার চোখের ওপর তৈরি করবে এক অলীক আবরণ। তাই এদের থেকে সাবধান থাকতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন চাটুকার আর প্রকৃত শুভাকাঙ্ক্ষীর চেহারা গুলিয়ে না ফেলেন। বহু সফল ব্যক্তিই এটা করতে পারেননি। উল্টো চাটুকারদের স্থান দিতে গিয়ে দীর্ঘদিনের দুর্দিনের বন্ধুদের তাড়িয়ে দিয়েছেন। যখন ভুল বুঝতে পেরেছেন তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। আর ভুল শোধরানোর উপায় নেই। খেয়াল রাখবেন এমনটা যেন অন্তত আপনার সঙ্গে না হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা