kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

আপনার শিশু

যা খাবে, যা খাবে ইা

শিশুর খাবার দিতে হবে জেনে-বুঝে। এমন অনেক খাবার আছে, যেগুলো শিশুর জন্য ক্ষতির কারণ। জানিয়েছেন বারডেম হাসপাতালের সাবেক বিভাগীয় প্রধান ও পুষ্টিবিদ আখতারুন নাহার আলো। লিখেছেন আতিফ আতাউর

১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



যা খাবে, যা খাবে ইা

শিশুকে কী খাওয়াবেন আর কী খাওয়াবেন না এটা নির্ভর করে মূলত বয়সের ওপর। শিশুর বয়স দুই বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর তাকে পরিবারের অন্য সদস্যের মতোই স্বাভাবিক খাবার খাওয়ানো যায়। আলাদা করে আর তার জন্য ভিন্ন খাবারের দরকার হয় না। পুষ্টিকর, সুষম ও স্বাস্থ্যসম্মত যেকোনো খাবার দুই বছর বয়সী শিশুকে খাওয়ানো যাবে। তবে তা পরিমিত পরিমাণে খাওয়াতে হবে। শিশু স্বাভাবিক খাবার খেতে শিখেছে এই আনন্দে তাকে বেশি করে খাওয়াবেন না। এটা উচিত নয়। শিশু যতক্ষণ খেতে চায়, ততক্ষণই খেতে দিন। তবে দুই বছর বয়সের আগ পর্যন্ত শিশুকে খাবার খাওয়াতে হবে জেনে-বুঝে। দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের বড়দের মতো সব খাওয়ানো যাবে না।

 

বয়স যখন শূন্য থেকে ছয় মাস

জন্মের পর থেকে ছয় মাস পর্যন্ত শুধু মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। এর বাইরে অন্য কোনো খাবারই খাওয়ানো যাবে না। অনেক মা মনে করেন, শিশুর বোধ হয় তৃষ্ণা পায়। এ জন্য তাঁরা বুকের দুধের পাশাপাশি শিশুকে কয়েক ফোঁটা করে পানি পান করান। এটাও করা যাবে না। জেনে রাখতে হবে, ছয় মাস বয়স পর্যন্ত মায়ের বুকের দুধই শিশুর জন্য যথেষ্ট। এর বাইরে অন্য কোনো খাবার কিংবা পানি পান করানোর প্রয়োজন নেই।

 

বয়স যখন ছয় মাস থেকে দুই বছর

শিশুর বয়স ছয় মাস পেরিয়ে যাওয়ার পর তাকে ধীরে ধীরে অন্য সব খাবারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিন। এর মানে এই নয় যে শিশু সব কিছু খাওয়ার জন্য তৈরি হয়ে গেছে। অনেক মা-বাবাই খুশির আতিশয্যে বাজার থেকে বিভিন্ন ধরনের কন্টেইনার্ড, টিনড, ক্যানড খাবার শিশুকে খাওয়াতে শুরু করেন। এটা করা যাবে না। এজাতীয় খাবার খাওয়ানো থেকে শিশুকে বিরত রাখতে হবে। এসব খাবার খেতে বায়না করলে এর ক্ষতিকর দিকটি শিশুকে বুঝিয়ে বলুন। এর চেয়ে বাসায় তাজা ফলমূল থেকে জুস বানিয়ে খাওয়াতে পারেন। বাইরের দোকানের মিষ্টি, দই, লাড্ডু এই বয়সী শিশুদের খাওয়াবেন না। শিশু মিষ্টি খেতে চাইলে বাসায় অল্প চিনি দিয়ে পায়েস রান্না করে খাওয়াতে পারেন।

সব ধরনের প্যাকেটজাত দুধ, শিশুতোষ খাবার, কোল্ড ড্রিংকস, এনার্জি ড্রিংকস ইত্যাদি খাওয়ানো থেকে বিরত থাকুন। শিশুকে রেস্টুরেন্টের বিভিন্ন রকম বাহারি খাবার খাওয়াবেন না। দোকান বা রেস্টুরেন্টের জুস, চিপস, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, পাস্তা, বার্গার যত কম খাওয়ানো যায়, এই বয়সী শিশুদের জন্য তত ভালো। এর পরিবর্তে বাসায় ঘরোয়া পরিবেশে তৈরি করা স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেতে দিন।

 

একসঙ্গে সব রকম খাবার নয়

শিশু স্বাভাবিক খাবার খাওয়ার উপযুক্ত হলেই তাকে সব ধরনের খাবার একসঙ্গে খাওয়াবেন না। ধীরে ধীরে নতুন নতুন খাবারের সঙ্গে তাকে পরিচয় করিয়ে দিন। প্রথমেই তাকে শক্ত খাবার খাওয়াবেন না। শুরুতে লালশাক, রঙিন ফলমূলে অভ্যস্ত করুন। আম, কলা, আঙুরের মতো নরম ফল দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে আপেল, পেয়ারা, ডালিমের মতো ফল খাওয়ানোর অভ্যাস করুন। ভাতজাতীয় খাবারের ক্ষেত্রে পাতলা খিচুড়ি দিয়ে শুরু করুন। খিচড়ির মধ্যে সয়াবিন তেল, ঘিজাতীয় খাবার অল্প করে যোগ করুন। তবে শিশুর খাবারে অতিরিক্ত তেল ব্যবহার করবেন না। চিংড়ি মাছ, মুরগির মাংস, গরুর কলিজা, রঙিন সবজি প্রভৃতি যোগ করে নুডুলস রেঁধে খাওয়াতে পারেন। নুডুলসের স্বাদ বাড়াতে অনেক মা টেস্টিং সল্ট ব্যবহার করেন। শিশুর খাবারে এটা যোগ করা যাবে না। আবার একই খাবার শিশুকে সব সময় খাওয়াবেন না। শিশুর খাবারে বৈচিত্র্য নিয়ে আসুন। দু-তিন দিন পর পর শিশুর খাবার বদলে দিন। এক দিন খিচুড়ি, এক দিন ভাত, এক দিন নুডুলস—এভাবে বদলে দিন।

 

হিয়ামিত খাবার নয়

শিশুকে ফ্রিজে রাখা খাবার না খাওয়ানোই ভালো। চেষ্টা করুন প্রতিবার শিশুর জন্য খাবার রান্না করার। কম করে রান্না করুন, যাতে শিশু একবারেই সবটুকু খাবার খেয়ে শেষ করতে পারে। শিশুকে ফ্রিজে রাখা খাবারের পরিবর্তে টাটকা ও গরম খাবার খেতে দিন।

 

বেশি বেশি চকোলেট নয়

দুই বছরের কম বয়সী শিশুকে চকোলেট খেতে দেওয়া উচিত নয়। চকোলেটে একবার অভ্যস্ত হয়ে গেলে শিশুকে ফেরানো কঠিন। এ জন্য যত কম চকোলেট খাওয়ানো যায় তত ভালো। প্রতিবার চকোলেট খাওয়ানোর পর মুখ ভালো করে পরিষ্কার করে দিতে হবে। নইলে দাঁতে জীবাণু সংক্রমণের আশঙ্কা তৈরি হয়। দাঁতে পোকা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা