kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আপনার শিশু

বাঁধি খেলাঘর

অ্যাপার্টমেন্টের ছোট ফ্ল্যাটেই তৈরি করতে পারেন শিশুর খেলাঘর। শিশুর খেলাঘর তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ ইন্টেরিয়র ডিজাইন ডেভেলপমেন্ট (বিআইডিপি)-এর ডিজাইনার নাসরিন চৌধুরী। শুনেছেন এ এস এম সাদ

২১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাঁধি খেলাঘর

র‍্যাক

শিশুর খেলনা গুছিয়ে না রাখলে ঘর এলোমেলো লাগে। ঘরে একটি খেলনা রাখার র‍্যাক তৈরি করে ফেলুন। ঘর অনুযায়ী র‍্যাক কেমন নকশার হবে তা আগে ঠিক করুন। বাজার থেকে কাঠ কিংবা পারটেক্সের সেট কিনে আনতে পারেন। এগুলো স্ক্রু পদ্ধতির বলে নিজেই র‍্যাক তৈরি করতে পারবেন। পছন্দ অনুযায়ী ডাবল ও সিঙ্গেল র‍্যাক তৈরি করুন। ছোট র‍্যাক হলে তিনটি, মাঝারিতে পাঁচটি আর একটু বড় চাইলে ৯টি ঘরের র‍্যাক করতে পারবেন। ঘরের মেঝে কিংবা দেয়ালে লাগিয়ে দিতে পারেন। শিশুর খেলার গাড়ি, পুতুল ও অন্যান্য খেলার সরঞ্জাম সাজিয়ে রেখে দিন। ঘর অনেক সুন্দর আর গোছালো মনে হবে।

 

তাঁবু     

পাহাড়ের বুকে তাঁবু গেড়ে থাকার যে মজা তা শুধু বড়রাই পাবে এমনটা হবে না। বাড়ির ছোট সদস্যকে অ্যাডভেঞ্চারের ছোঁয়া দিতে বাজারে এখন পাওয়া যাচ্ছে ছোটদের জন্য তৈরি তাঁবু। শিশুরা সব কিছুতেই নতুনত্ব খোঁজে। আর তাই তাঁবুও এখন হয়ে উঠেছে শিশুদের খেলার অনুষঙ্গ। শিশুদের জন্য কিডস টেন্ট বা তাঁবুগুলো সাধারণত দুই রকম হয়ে থাকে। সিলিং থেকে ঝুলিয়ে দেওয়া মেঝে পর্যন্ত তাঁবুগুলো সাধারণত মশারির নেটের তৈরি হয়। আর সিনথেটিক কাপড়ে তৈরি করা হয় মেঝেতে রাখার তাঁবুগুলো। শিশুদের জন্য তৈরি এই তাঁবুগুলোর সুবিধা হলো, বাড়ির যেকোনো স্থানেই পাতা যায়। শিশুর আলাদা ঘর না থাকলেও লিভিং রুম বা ঘরের ব্যালকনিতেও পাততে পারেন তাঁবু। ঘরে কোনো বিছানা থাকলে সেটির ওপরও চাইলে বিছিয়ে দিতে পারেন। আবার খেলা শেষে ভাঁজ করে রাখা যাবে অনায়াসেই। তাঁবুর মধ্যে বিভিন্ন রকমের কার্টুনের নকশা আঁকা আছে। আবার কিছু তাঁবু আছে ত্রিভুজাকৃতির। যেগুলো একটু ধাক্কাতেই দুলবে এপাশ-ওপাশ। ছাদে নেট দেওয়া একটু উঁচু নকশার তাঁবুগুলোয় পাওয়া যাবে মহাকাশের আমেজ। তাঁবুর মধ্যে ফোম দিয়ে শিশুর বসার ব্যবস্থাও করতে পারেন।

 

আলমারি 

শিশুর খেলাঘরে একটা কাঠের আলমারি না হলেই নয়। কারণ শিশুর খেলনা সব সময় বাইরে রাখা সম্ভব নয়। অসাবধানতার কারণে কাচের খেলনাগুলো ভেঙে যেতে পারে। র্যাক না চাইলে শিশুর খেলাঘরে কাঠের আলমারিতে সাজিয়ে রাখতে পারেন খেলনা।

 

বুক হোল্ডার

বুক হোল্ডারে শিশুর বইগুলো রাখতে পারেন। বিশেষ করে শিশুরা কমিকস কিংবা কার্টুনের বই পছন্দ করে। কাঠের বুক হোল্ডার দেয়ালের সঙ্গে লাগিয়ে নিন।

 

দেয়াল

বাড়ির দেয়াল শিশুদের বেশ প্রিয়। হাতে একটি কলম, পেনসিল পেলেই শুরু হয়ে যায় দেয়ালে আঁকাআঁকি। দেয়ালে সেট করে দিন হোয়াইট বা ব্ল্যাক বোর্ড। সঙ্গে দিন সাইনপেন বা রঙিন চক। মনমতো আঁকাআঁকি করবে আর দেয়ালও নষ্ট হবে না।

 

ম্যাট ও বালিশ

খেলাঘরটি আরামদায়ক হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ঘরে একটি ম্যাট বিছিয়ে দিন। অনেক সময় শিশু খেলতে খেলতে এখানেই ঘুমিয়ে যেতে পারে। তাই আরামদায়ক বিছানা ও বালিশ প্রয়োজন। কয়েকটি ফোমের বালিশ বা কুশনও রাখতে পারেন।     

 

দোলনা চেয়ার

শিশুর ঘুম না এলে দোলনায় শিশুকে দোল খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিতে পারেন। ঘরে জায়গা থাকলে একটি আরামদায়ক দোলনার ব্যবস্থা রাখতে পারেন। 

 

ছাদ

শুধু খেলা নয়, সঙ্গে চাই শারীরিক ব্যায়ামও। ব্যস্ত মা-বাবা শিশুদের নিয়ে সহজে কোথাও যেতে পারেন না। ব্যায়ামের জন্য সাঁতার ভালো হলেও বাসায় সুইমিং পুল অধিকাংশের পক্ষেই সম্ভব না। শিশুদের ভয় কাটাতে তাদের পানির সঙ্গে বন্ধুত্ব হওয়া জরুরি। বাড়ির ছাদ ব্যবহার করে শিশুর জন্য তৈরি করতে পারেন অস্থায়ী পুল। প্রয়োজন ওয়াটার বাকেট। এ ছাড়া বাজারে পাওয়া যায় বড় বাথটাব। এগুলোর জন্য বাড়ির ছাদ ব্যবহার করতে পারেন। পানি দিয়ে সেখানে শিশুকে খেলতে দিতে পারেন। এতে শিশুর ভীতি কাটবে, পানিতে নিজের ভারসাম্য রাখা শিখবে। ছাদে ম্যাট বিছিয়ে বা তাঁবু দিয়েও খেলতে দিতে পারেন। শিশুর উচ্চতা অনুযায়ী সাইকেলও দিতে পারেন চালাতে। ছাদে যেকোনো খেলার সময় সঙ্গে একজন থাকতে হবে। এ ছাড়া ব্যাডমিন্টন কোর্টও করে দিতে পারেন ছাদে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা