kalerkantho

রূপচর্চা

ঘামাচির আদ্যোপান্ত

গরমে কমবেশি সবাইকেই ঘামাচি সমস্যায় ভুগতে হয়। কিছুদিনের মধ্যে আপনা-আপনি ঘামাচি সেরে গেলেও ত্বকে এর রেশ রয়ে যায় অনেক দিন। হাতের কাছে থাকা উপাদান দিয়ে সহজেই ঘামাচি নিরাময় ও পরবর্তী সমস্যার সমাধান হতে পারে। বিস্তারিত পরামর্শ দিয়েছেন বিন্দিয়া বিউটি স্যালনের রূপবিশেষজ্ঞ শারমিন কচি। লিখেছেন সুবর্ণা বিশ্বাস

২৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঘামাচির আদ্যোপান্ত

ঘামাচি হলে

ত্বকের মৃত কোষ ও ব্যাকটেরিয়া ঘামগ্রন্থির মুখ বন্ধ করে দিলে ঘাম বের হতে পারে না। ফলে লাল ফুসকুড়ি বা দানাদার হয়ে যায় স্কিন। শুরু হয় চুলকানি ও ত্বকের অস্বস্তি। একেই বলে ঘামাচি। ঘামাচির জন্য অনেকেই বাজারের বিভিন্ন ধরনের পাউডার ব্যবহার করেন। এতে সাময়িক আরাম হলেও লাভের চেয়ে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। সঠিকভাবে পরিষ্কার না করলে পাউডার ত্বকের ঘামগ্রন্থিগুলোর মুখ বন্ধ করে দেয়। তাতে ঘামাচি আরো বেড়ে যেতে পারে। ঘামাচির সমাধান হিসেবে বেছে ঘরোয়া ভেষজ উপাদান বেছে নেয়া নিরাপদ। পাউডারের বদলে ঘামাচি আক্রান্ত স্থানে বরফ ঘষুন। চুলকানির পাশাপাশি ঘামাচিও দ্রুত কমে যাবে। ঠাণ্ডা পানিও ভালো আরাম দেয় ঘামাচিতে। গোসলে ঠাণ্ডা পানি ব্যবহার করুন। পানির সঙ্গে কর্পূর মিশিয়ে নিলে আরাম হবে। এ ছাড়া ঘামাচির জায়গায় নিমপাতার পেস্ট লাগালেও দ্রুত ফল পাবেন। নিয়মিত নিমপাতার পানিতে গোসল করলে পরবর্তীতে ঘামাচি হওয়ার আশঙ্কাও কমে যাবে। বেশি চুলকানি হলে মুলতানি মাটির পেস্ট ব্যবহার করতে পারেন। মুলতানি মাটির সঙ্গে গোলাপজল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে আক্রান্ত স্থানে লাগান, শুকিয়ে গেলে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

ঘামাচির পরে

ঘামাচির পরে সাধারণত ত্বক কুঁচকে যায় এবং র‌্যাশের দাগ রয়ে যায় অনেক দিন। এই সমস্যা সমাধানে নিয়মিত যত্ন নিতে হবে। ঘামাচি পরবর্তী ত্বককে সব সময় আর্দ্র রাখতে হবে। গরমেও নিয়মিত দিনে দুবার ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে। ঘামাচি আক্রান্ত ত্বকে অয়েল বেইসড ময়েশ্চারাইজার এড়িয়ে চলুন। বেছে নিন ওয়াটার বা জেল বেইসড ময়েশ্চারাইজার। সব ধরনের ত্বকের জন্য ময়েশ্চারাইজার হিসেবে অ্যালোভেরা জেল কার্যকর। দিনে দুবার ভেজা ত্বকে অ্যালোভেরা জেলের প্রলেপ লাগান। নিয়মিত ময়েশ্চারাইজারের পাশাপাশি সপ্তাহে দুই দিন স্ক্রাব করা জরুরি। স্ক্রাবিং ঘামাচি আক্রান্ত ত্বকের মৃতকোষ ঝরিয়ে ত্বককে কোমল করে তোলে। এতে ত্বকের কুঁচকানো ভাব দূর হয়ে ত্বক হয়ে উঠবে স্বাভাবিক মসৃণ। তবে মনে রাখতে হবে, স্ক্রাবিং করার পর কমপক্ষে আট ঘণ্টা সূর্যের আলোতে যাওয়া যাবে না। তাই স্ক্রাবিংয়ের জন্য সন্ধ্যার পর সুবিধাজনক সময় বেছে নিন।

 

খাবারদাবার

ত্বক ভেতর থেকে আর্দ্র রাখতে স্বাস্থ্যকর খাবারের বিকল্প নেই। তাই গরমের দিনে খাবারের দিকে বিশেষ নজর দিলে ঘামাচি বা ত্বকের অন্যান্য সমস্যা থেকে সহজেই মুক্তি মিলবে। প্রথমেই নিয়ম করে পানি পান করতে হবে। দিনে ১০ থেকে ১২ গ্লাস পানি ও পানীয় গ্রহণ করুন। লেবু বা টক ফলের রস ঘামাচির জন্য বেশ কার্যকর। ঘামাচি থেকে মুক্তি পেতে শসা, লাউ, পেঁপের মতো পানির পরিমাণ বেশি থাকে এমন সবজি ও ফল রাখুন খাদ্যতালিকায়।

 

বিশেষ সতর্কতা

ঘামাচি হলে কোনোভাবেই নখ দিয়ে চুলকাবেন না। এতে ত্বকে স্থায়ী দাগ হয়ে যেতে পারে। নিয়মিত ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করুন। ত্বক ভালোভাবে সাবান দিয়ে পরিষ্কার করুন। ঢিলেঢালা সুতি পোশাক পরুন। অতিরিক্ত গরম পরিবেশ এড়িয়ে চলুন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্টেরয়েড মলম বা ক্যালামাইন লোশন ব্যবহার করতে পারেন।

মন্তব্য