kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ চৈত্র ১৪২৬। ৩১ মার্চ ২০২০। ৫ শাবান ১৪৪১

আপনার শিশু

শিশু শিখবে নিজে নিজেই

১৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



 শিশু শিখবে নিজে নিজেই

ছবি : কাকলী প্রধান

ধরুন, আপনার শিশুটি মাত্র চিত-কাত হতে শুরু করেছে। আপনার মনে সদা ভয়, কখন বিছানা থেকে পড়ে যায়, মাথাটাই বুঝি ফাটিয়ে ফেলল। তাই আপনি তাকে সব ব্যথা থেকে আড়াল করার জন্য সারা শরীরে বালিশ বেঁধে দিলেন। যাক, এবার আর ব্যথা পাওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই। কিন্তু ব্যথা পাওয়া থেকে বাঁচাতে গিয়ে বাচ্চাটাকে যে আর নড়াচড়াই করতে দিলেন না, সে খেয়াল কি আছে?

ওপরের গল্পটি খুব আজগুবি লাগলেও কিছু মা-বাবার অতি যত্ন মাঝেমধ্যে এমন আজগুবি গল্পকেও হার মানিয়ে যান। অনেক মা-বাবাই বাচ্চাকে সামান্য কষ্ট সইতে, কাজ করতে, কিংবা চিন্তা করতে দিতে ভয় পান, অস্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কখনো কখনো এর মাত্রা এত বেশি হয়, যা শিশুর দৈনন্দিন জীবনে অস্বস্তি নিয়ে আসে। তার স্বাভাবিক মানসিক পরিপক্বতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ইংরেজিতে এমন মা-বাবার একটি নামও দেওয়া হয়েছে, ‘হেলিকপ্টার প্যারেন্টিং’। এমন নামকরণের কারণ, হেলিকপ্টারের মতোই তাঁরা নাকি মাথার ওপর ঘুরতে থাকেন।

আপনি নিশ্চয়ই একজন হেলিকপ্টার প্যারেন্ট নন। আপনি একজন বুদ্ধিমান, আধুনিক, উদারমনা মা কিংবা বাবা। যিনি সন্তানের উন্নতির জন্য সচেষ্ট। একজন ওভারপ্রটেক্টেড বাচ্চা বড় হওয়ার সময় বেশ কিছু সমস্যার সম্মুখীন হয়, যার কয়েকটির জের সারা জীবনই থেকে যায়।

♦    সিদ্ধান্ত নিতে না-পারা, অন্যের ওপর সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া।

♦    দায়িত্ব নিতে অক্ষমতা।

♦    অন্যের ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া।

♦    নিজের পরিজন/বন্ধুমহল তৈরি করার অক্ষমতা।

♦    একাকিত্বে ভোগা।

♦    বয়সের তুলনায় কম মানসিক পরিপক্বতা।

♦    কারো সঙ্গে মিশতে না পারা, সামাজিকতা রক্ষা করতে না পারা।

♦    বুলিয়িংয়ের সহজ শিকার হওয়া।

♦    ইমোশনাল পরিপক্বতা না থাকা, নিজের ও অন্যের ইমোশন না বোঝা।

♦    তুলনামূলক বেশি অসুস্থ থাকা, ওষুধের ওপর নির্ভরশীলতা।

♦    আধিপত্যবোধ, অন্যের সুবিধা ও সমস্যার প্রতি মনোযোগী না-হওয়া।

♦    নিয়মানুবর্তিতার অভাব।

 

     শিশুকে ওভারপ্রটেক্ট না করে তাকে বাস্তবজীবনের সম্মুখীন করুন আস্তে আস্তে। এর সবচেয়ে সহজ কিন্তু সবচেয়ে বড় ধাপ হলো, তাকে ঠেকে শিখতে দেওয়া, নিজের ছোট ছোট সিদ্ধান্ত নিজেকে নিতে দেওয়া।

 

শিশুকে মানসিকভাবে স্বাবলম্বী করার

জন্য যা যা করতে পারেন—

♦    ছোট ছোট সিদ্ধান্ত নিতে দেওয়া যেমন—কোন খেলনাটা নিতে চায়, কোন জুতাটা পরতে চায় ইত্যাদি।

♦    চাইলেই কোনো কিছু না দেওয়া, যদি সেটা সাধ্যের বাইরে হয় বা ওই মুহূর্তে দেওয়া সম্ভব না হয়, ধৈর্য ধরে বুঝিয়ে বলা।

♦    নিজের ছোট ছোট কাজ নিজেকে করতে দেওয়া।

♦    ছোট ছোট দায়িত্ব দেওয়া, সফল হলে উত্সাহ দেওয়া।

♦    ওভার এপ্রিসিয়েশন না দেখানো।

♦    কোনো সমস্যাকে আড়াল না করে শিশুর উপযোগী করে বোঝানো।

♦    তাদের বিফলতার সঙ্গে পরিচয় করানো।

♦    পারফেক্ট হওয়ার জন্য প্রেসার না দেওয়া।

♦    শিশুকে যথেষ্ট মানসিক স্পেস দেওয়া।

♦    নিজের জগত্ তৈরি হতে দেওয়া (অবশ্যই কার সঙ্গে মিশছে, খেয়াল রাখতে হবে)

♦    বাচ্চার হয়ে সব সিদ্ধান্ত না দেওয়া।

♦    কোনো সমস্যার তাত্ক্ষণিক সমাধান করে না দিয়ে আগে ভাবতে দেওয়া।

♦    দুঃখ, শোক, পরাজয়—এসব অনুভূতির সঙ্গেও পরিচয় হতে দেওয়া, এসব থেকে আড়াল করে না রাখা।

♦    দায়িত্ববোধ শিক্ষা দেওয়া।

♦    ভুল করলে সেটা আড়াল না করে সঠিক কাজটি শেখানো, কোথায় ভুল হয়েছে, সেটি ধরিয়ে দেওয়া (অবশ্যই ইতিবাচকভাবে বোঝাবেন, নেতিবাচক বা বকাবকি করে নয়)।

♦    সব সময় শিশুকে একজন পরিপূর্ণ মানুষের সমান গুরুত্ব দিয়ে আচরণ করুন, যাতে তার কাছ থেকেও একই ব্যবহার পাওয়া যায়। আপনার আজকের স্বাবলম্বী সন্তান আপনার পরিবারের ও সমাজের আগামী দিনের নির্ভরতা হয়ে উঠবে। সে কথা মাথায় রেখে তাকে সঠিকভাবে গড়ে তুলুন, আজ থেকেই।

লেখক : স্মিতা দাস

বিভাগীয় প্রধান

সাইক ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা