kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ চৈত্র ১৪২৬। ৩১ মার্চ ২০২০। ৫ শাবান ১৪৪১

চুলে উকুন হলে

অনেকেই মনে করেন অপরিচ্ছন্নতার কারণেই চুলে উকুন হয়, এটি ঠিক নয়। নানা কারণে মাথায় উকুন হতে পারে। রূপবিশেষজ্ঞ শারমিন কচির পরামর্শ শুনে লিখেছেন সুবর্ণা বিশ্বাস

১৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চুলে উকুন হলে

চুলের একটি বিরক্তিকর সমস্যার নাম উকুন। উকুন পরিষ্কার, অপরিষ্কার, লম্বা, ছোট—যেকোনো চুলেই হতে পারে। নারী-পুরুষ উভয়েই এ সমস্যায় পড়েন। বড়দের পাশাপাশি বাচ্চাদের চুলেও উকুন দেখা যায়। উকুন খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায়। মাথায় উকুন আসার ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে ডিম পাড়ে। একটি উকুন ৩০০টি পর্যন্ত ডিম পাড়ে। একসঙ্গে অনেক ডিম থেকে উকুন জন্ম নেওয়ার কারণে খুব দ্রুত চুলে উকুন ছড়িয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে যতই উকুননাশক প্রসাধনী ব্যবহার করেন, উকুন বারবার ফিরে আসবে। আর এই প্রসাধনীতে নানা ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য থাকার কারণে চুলেরও ক্ষতি হতে পারে। তবে এই বিরক্তিকর সমস্যার সমাধান ঘরোয়াভাবে করতে পারেন। এসেনশিয়াল অয়েল, যেমন টি-ট্রি  অয়েল, ল্যাভেন্ডার অয়েল ও মৌরির তেল উকুন দূর করতে বেশ উপকারী। ভেজিটেবল অয়েলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে মাথার ত্বকে ও চুলে লাগান। এবার একটি তোয়ালে দিয়ে চুল ঢেকে রাখুন। এক ঘণ্টা পর ভালোভাবে শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে ফেলুন। মাথার তালু ও চুলে মেয়নিজ বা মাখন অথবা পেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে চুল ঢেকে সারা রাত রেখে দিন, সকালে বেবি অয়েল দিয়ে চুল ম্যাসেজ করে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। এতে উকুনের ডিম সহজেই দূর হবে। নিম একটি প্রাকৃতিক প্রতিষেধক, যেটি উকুন দূর করতে কার্যকর। এটি মাথার চুলকানির সমস্যাও দূর করে এবং মাথার ত্বক ময়েশ্চারাইজ করে। নিমের পেস্ট করে সেটি চুল আর মাথার তালুতে লাগান, এটি সপ্তাহে দুবার করুন। নিমের তেল ব্যবহারেও চুল থেকে উকুন দূর করা সম্ভব। ভালো করে মাথার তালুতে ম্যাসাজ করে এক ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। লেবুর রসও উকুন দূর করতে বহুল ব্যবহূত একটি উপাদান। লেবুর রস মাথায় ভালো করে লাগান। তিন মিনিট অপেক্ষা করে প্রথমে ভিনেগার দিয়ে, পড়ে কুসুম গরম পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এটি সপ্তাহে একবার করুন, উকুন আপনার মাথা থেকে দূরে থাকবে। অবাক হলেও সত্য, লবণ উকুন দূর করতে বেশ কার্যকর। সিকি কাপ লবণ ও সিকি কাপ ভিনেগার ভালো করে মিশিয়ে নিন। এবার এটি চুলে স্প্রে করে ফেলুন। তারপর শাওয়ার ক্যাপ বা টাওয়াল দিয়ে চুল পেঁচিয়ে রাখুন দুই ঘণ্টা। শ্যাম্পু করে ফেলুন। ভালো ফল পেতে এটি সপ্তাহে তিনবার করুন। পেঁয়াজের রসে সালফার আছে, যা উকুন তাড়াতে দারুণ কাজ করে। তা ছাড়া চুলে কন্ডিশনার দিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন, চুল পিচ্ছিল হলে নিট কম্ব দিয়ে আঁচড়ে নিলে উকুন চুলের সঙ্গে লেগে থাকতে পারবে না, ঝরে পড়বে। আর চুল বারবার শ্যাম্পু করলে উকুন দূর করা যায় না; বরং এতে তাদের লাভ হয়, বারবার শ্যাম্পু করার ফলে মাথার ত্বকের তেল ধুয়ে চলে যায়, ফলে উকুনের রক্ত নিতে সুবিধা হয় এবং চুলও শুষ্ক নির্জীব হয়ে পড়ে।

উকুন নির্মূলে বাজারের উকুননাশক প্রসাধনী চুলে ব্যবহার না করাই ভালো—এটা চুলের জন্য এবং স্কাল্পের জন্য ক্ষতিকর। সব সময় পরিষ্কার বালিশের কাভার ব্যবহার করুন ও কেশ সজ্জার সামগ্রী সাবান মেশানো গরম পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করুন। ভেজা চুল অনেকক্ষণ বেঁধে রাখবেন না। অন্যের তোয়ালে বা ক্যাপ ব্যবহার করবেন না, এমনকি অন্যের চিরুনিও না, এতে আপনার মাথায় উকুনের বংশবিস্তার হতে পারে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা