kalerkantho

মঙ্গলবার। ২০ আগস্ট ২০১৯। ৫ ভাদ্র ১৪২৬। ১৮ জিলহজ ১৪৪০

আপনার শিশু

রোজা রাখার বায়না

ছোট্ট শিশুরাও অনেক সময় রমজানে রোজা রাখতে বায়না করে। শিশুরা রোজা রাখতে চাইলে করণীয় কী জানিয়েছেন বারডেম হাসপাতালের সাবেক প্রধান পুষ্টিবিদ আখতারুন নাহার আলো। লিখেছেন আতিফ আতাউর

৬ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রোজা রাখার বায়না

অনেক সময় অল্প বয়সী শিশুরাও রোজা রাখার আবদার করে। অন্যদিকে তীব্র গরমে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে শিশুর কোনো ক্ষতি হবে কি না এ নিয়েও অভিভাবকদের মধ্যে দুশ্চিন্তা কাজ করে। শিশুর বয়স সাত থেকে আট হলে রোজা পালনে শারীরিক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। সে ক্ষেত্রে শিশু রোজা রাখার দৃঢ় ইচ্ছা ব্যক্ত করলে তাকে সেই সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। তবে প্রথম দিকে শিশুকে সারা দিন রোজা রাখতে উত্সাহ না দেওয়াই ভালো। সাহরিতে খাইয়ে দুপুর পর্যন্ত শিশু রোজা রাখতে পারে। এরপর চাইলে ধীরে ধীরে সারা দিন রোজা রাখতে অভ্যস্ত হয়ে উঠবে।

শিশু রোজা রাখবে বলে অভিভাবকরা অনেক সময় জোর করে সাহরিতে বেশি খাবার খাওয়াতে চান। এটা করা যাবে না। অন্য সময় শিশু যেটুকু খাবার খেতে অভ্যস্ত, সেই পরিমাণ খাবারই তাকে দেওয়া উচিত। অতিরিক্ত খাবার জোর করে খাওয়ালে হিতেবিপরীত হতে পারে। আবার প্রয়োজনের তুলনায় কম খাবার খেলেও শিশু অসুস্থ হয়ে যেতে পারে। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে শরীরে জমানো গ্লাইকোজেন কমতে থাকে, শরীরে গ্লুকোজ সরবরাহ কমে যায়, এতে শিশুর প্রাত্যহিক কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

সাহরিতে শিশুকে ভাত, ডাল, সবজি, মাংসজাতীয় খাবার দিন। এসময় মাছ পরিহার করাই ভালো। অনেক সময় শিশুরাও মাছ খেতে আপত্তি করে। সেক্ষেত্রে শিশুকে ডিম অথবা মুরগির মাংস খেতে দিন। খাওয়ার পর একটি মৌসুমি দেশি ফল খাওয়া ভালো। সবশেষে এক গ্লাস দুধ পান করাতে পারলে সারা দিনের পুষ্টি নিয়ে আর ভাবতে হবে না। অথবা দুধ-কলা মিশিয়েও শিশুকে সেহরিতে খেতে দেওয়া যেতে পারে। দুধ শিশুর শরীরে ক্যালসিয়ামের জোগান দেয়। এছাড়াও দুধের আরেকটি উপকারিতা আছে। এটি অনেকক্ষণ পাকস্থলীতে থাকে।

অন্য সময়ের চেয়ে রোজায় শিশুর একটু বাড়তি খেয়াল রাখতে হবে। রোজা রেখে রোদ-গরমে বাইরে বেশিক্ষণ খেলাধুলা না করাই ভালো। বেশিক্ষণ খেলতে চাইলে তাকে বোঝাতে হবে—তুমি রোজা আছ। এ সময় তোমাকে কম খেলাধুলা করতে হবে। পাশাপাশি রোদে যাতে ঘোরাঘুরি না করতে পারে সে বিষয়েও খেয়াল রাখতে হবে। দীর্ঘ সময় রোদে থাকলে শিশুর শরীরে দ্রুত পানিশূন্যতা তৈরি হবে। মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, চোখে ঝাপসা দেখতে পারে।

বড়দের চেয়ে শিশুদের দেহে সহজেই পানির ঘাটতি দেখা দেয়। তাই ইফতার ও সাহরির মাঝে সাত থেকে দশ গ্লাস পানি পান করতে উত্সাহ দিন। সারা দিন রোজা শেষে ইফতারিতে পানি, শরবত ও পানীয় জাতীয় খাবার দিন। যদি বেশি ক্লান্তবোধ করে তবে শিশুকে ডাবের পানি পান করতে দিন। ইফতারে ভাজাপোড়া জাতীয় খাবার শিশুদের না দেওয়াই ভালো। সবজির পাতলা খিচুড়ি, দই চিড়া, সবজি, চিংড়ি অথবা মুরগির মাংস দিয়ে রান্না করা নুডুলস খেতে দিন। ইফতারে একবারে অনেক খাবার না দিয়ে অল্প সময় পর পর শিশুকে খাওয়ান।

রোজা রাখলে শিশুর যেন পর্যাপ্ত ঘুম হয়, সে দিকে লক্ষ রাখা উচিত। রাতে চটজলদি শিশুকে বিছানায় শুইয়ে দিন। দিনে দুপুরের পর কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নিলেও শরীর ক্লান্ত কম হবে। সবচেয়ে ভালো হয় শিশু রোজা রাখার বায়না ধরলে তাকে একজন শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যাওয়া। তিনি যদি মনে করেন শিশুর ইচ্ছাশক্তি ও শারীরিক শক্তির মধ্যে সমন্বয় রয়েছে, তবেই শিশু নিরাপদে রোজা রাখতে পারবে। রোজা রেখে শিশুর কোনো শারীরিক সমস্যা হলে অবশ্যই চিকিত্সকের পরামর্শ নিন।

মন্তব্য