kalerkantho

শুক্রবার । ৭ অক্টোবর ২০২২ । ২২ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

আপনার শিশু

শিশু ও ট্রাফিক আইন

মেরীনা চৌধুরী   

১৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিশু ও ট্রাফিক আইন

প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনার যে চিত্র পাওয়া যায় তার বেশির ভাগই ঘটে ট্রাফিক আইন মেনে না চলার কারণে। অথচ আইন মেনে চলা প্রজাতন্ত্রের প্রতিটি নাগরিকের অবশ্য কর্তব্য। শিশুকাল থেকেই যদি ট্রাফিক আইন মেনে চলার মানসিকতা শিশুদের মনে গড়ে তোলা যায়, তাহলে তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে।

শিশু বোধবুদ্ধি অর্জন করার পর তাদের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে যদি একটা পরিষ্কার ধারণা দেওয়া হয়, তাহলে সড়কে চলাচলের সময় তারা নিজেরা তা যেমন মেনে চলবে অন্যদেরও আইন মানতে বাধ্য করবে।

বিজ্ঞাপন

ট্রাফিক আইনের কয়েকটি ধাপ : ট্রাফিক সিগন্যাল—সড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে থাকে সিগন্যাল। সবুজ, লাল, হলুদ—এই তিন বঙের মাধ্যমে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা হয়। সবুুজ আলো চলার, লাল থেমে থাকার, হলুদ প্রস্তুতির সংকেত, কিন্তু এই সংকেত অমান্য করার প্রবণতা সব ধরনের যানবাহন ও পথচারীদের মধ্যে লক্ষ করা যায়। বিশেষ করে প্রাইভেট গাড়ি (ভিআইপি), নানা পরিবহন লেগুনা ও টেম্পোর পাশাপাশি রিকশাও তা মেনে চলার প্রয়োজন বোধ করে না।

দ্বিতীয়ত, ট্রাফিক পুলিশ—তারা সড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোড়ে দাঁড়িয়ে যানবাহন ও পথচারী নিয়ন্ত্রণ করে। পাশাপাশি গাড়ির ফিটনেস, বৈধ কাগজপত্র, চালকের লাইসেন্স ও অভিজ্ঞতার সনদপত্র, বয়স, এসবও তদারক করার দায়িত্ব তাদের।

তৃতীয়ত, আছে জেব্রা ক্রসিং ও ওভারব্রিজ, যা পথচারীদের নিরাপদে রাস্তা পারাপারের জন্য, কিন্তু বেশির ভাগ পথচারীকে এসব ব্যবহার না করে ব্যস্ত সড়কের যত্রতত্র থেকে রাস্তা পার হতে দেখা যায়। এসব ছাড়াও ওয়ান ওয়ে রাস্তারও একই হাল। তাড়াতাড়ি গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য ওয়ান ওয়ে হোক, রিকশা ফ্রি জোন অথবা রং সাইড দিয়ে চলাচল করতেও দ্বিধাবোধ করে না।

দেখা যায় অনেক অভিভাবক সকালে স্কুলে সময়মতো পৌঁছানোর জন্য বাচ্চার হাত ধরে কোনো দিকে দৃকপাত না করে রাস্তা পার হন। এতে দুর্ঘটনা ঘটে। শিশুরাও ভুল দেখে, ভুল শেখে। অভিভাবকদেরই তাই সচেতন হতে হবে আগে। ছোট থেকে একটি শিশুকে যদি ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেওয়া হয়, তাহলে সড়কে চলাচলের সময় নিজের ভাই, বাবা বা ড্রাইভারকে ট্রাফিক আইন অনুসরণ করতে বাধ্য করবে। গণপরিবহন অর্থাৎ বাস, টেম্পো, লেগুনা, রিকশা এসব চলাচলের সময় কোনো ত্রুটি চোখে পড়লে নেমে ট্রাফিক পুলিশকে তার কর্তব্য পালনে সচেতন করবে।

পাড়ায় পাড়ায় ছোট গ্রুপ তৈরি করে সড়ক চলাচলের নিয়ম-কানুন প্রচার করবে। লিফলেট বিতরণ করাও জরুরি। ছোটদের এই কর্মকাণ্ড বড়দেরও অনুপ্রাণিত করবে। ফলে ধীরে ধীরে সবার ট্রাফিক আইন অনুসরণ করার মানসিকতা তৈরি হবে বিদেশের মতো এ দেশেও।



সাতদিনের সেরা