kalerkantho

রবিবার । ২১ আষাঢ় ১৪২৭। ৫ জুলাই ২০২০। ১৩ জিলকদ  ১৪৪১

নবম-দশম শ্রেণি
জীববিজ্ঞান

বাস্তুতন্ত্রের উপাদান

ত্রয়োদশ অধ্যায়ে বাস্তুতন্ত্রের উপাদানগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এ নিয়ে সহজে উপস্থাপন করছেন জুবায়ের আহম্মেদ

গ্রন্থনা : জুবায়ের আহম্মেদ   

৭ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাস্তুতন্ত্রের উপাদান

ট্রফিকের নানা স্তর

বাস্তুতন্ত্রের উপাদানগুলোর মধ্যে জীব উপাদান সবচেয়ে বৈচিত্র্যময়। উৎপাদক, খাদক ও বিয়োজক—এই তিন প্রকার উপাদান নিয়ে জীব উপাদান গঠিত।

সবুজ উদ্ভিদ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শর্করা তৈরি করে আর উপজাত হিসেবে অক্সিজেন নির্গত করে। অর্থাৎ উৎপাদক হলো সবুজ উদ্ভিদগুলো। এরা নিজেরাই নিজের খাবার তৈরি করতে পারে বলে অন্য জীবের ওপর এদের নির্ভর করতে হয় না। তাই এদের স্বভোজী উদ্ভিদ বলা হয়।

প্রাণীরা খাদ্যের জন্য কোনো না কোনোভাবে উদ্ভিদের ওপর নির্ভরশীল। যারা সরাসরি উদ্ভিদ থেকে খাদ্য গ্রহণ করে, তারা তৃণভোজী। এদের প্রথম শ্রেণির খাদকও বলা হয়। যেমন—গরু, ছাগল, হরিণ ইত্যাদি। এ ছাড়া দ্বিতীয় স্তরের খাদক, তৃতীয় স্তরের খাদক এবং সর্বোচ্চ খাদকও রয়েছে। তবে কখনো কখনো কিছু প্রাণী একাই বিভিন্ন স্তরের খাদকের ভূমিকা পালন করে। যেমন— মানুষ একই সঙ্গে মাংসাশী ও তৃণভোজী। অন্যদিকে যারা উদ্ভিদ ও প্রাণীর বর্জ্য এবং মৃতদেহ থেকে খাদ্য গ্রহণ করে এবং এসব বর্জ্যকে বিয়োজিত করে মাটি বা পানির সঙ্গে মিশিয়ে ফেলে, তাদের বিয়োজক বলা হয়। যেমন—ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া, আণুবীক্ষণিক জীব।

এবার আসা যাক বাস্তুতন্ত্রের ভৌত উপাদান নিয়ে। পরিবেশে বিদ্যমান তাপমাত্রা, সূর্যালোকের পরিমাণ, বায়ুচাপ, বায়ুপ্রবাহ, জলীয় বাষ্পের পরিমাণ, জলবায়ু—এসব হলো বাস্তুতন্ত্রের ভৌত উপাদান। বাস্তুতন্ত্রের সব জড় উপাদান আবার দুই ভাগে বিভক্ত—জৈব ও অজৈব। মাটি, পানি, বায়ুতে থাকা কিছু গ্যাসীয় পদার্থ কোনো জীবদেহ থেকে আসেনি। বরং জীবের সৃষ্টির আগেই পরিবেশে বিদ্যমান ছিল। তাই এদের বাস্তুতন্ত্রের অজৈব উপাদান বলা হয়; যেমন— ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, লোহা ইত্যাদি। কিন্তু উদ্ভিদ ও প্রাণীর বর্জ্য বা মৃতদেহ থেকে যেসব উপাদান বাস্তুতন্ত্রে যোগ হয়েছে, তারা বাস্তুতন্ত্রের জৈব উপাদান। এদের আরেক নাম হিউমাস।

 

জ্ঞানমূলক প্রশ্নোত্তর

১। বিয়োজক কী?

উত্তর : পরজীবী যেসব অণুজীব মৃতদেহ থেকে খাদ্য গ্রহণ করে এবং মৃতদেহকে বিয়োজিত করে সরল জৈব যৌগে পরিণত করে তাদের বিয়োজক বলা হয়।

২। ফাইটোপ্লাংকটন কী?

উত্তর : পানিতে ভাসমান উদ্ভিদকণাই ফাইটোপ্লাংকটন।

৩। ট্রফিক লেভেল কী?

উত্তর : নানা ধরনের খাদ্যশিকলের স্তর।

৪। জীববৈচিত্র্য কী?

উত্তর : পৃথিবীতে বিরাজমান জীবসমূহের ভিন্নতা ও প্রাচুর্যই হলো জীববৈচিত্র্য।

৫। অভিযোজন কী?

উত্তর : নির্দিষ্ট পরিবেশে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার কৌশল অর্জন করাই হলো অভিযোজন।

 

জ্ঞানমূলক নিজে উত্তর দাও

১। অ্যান্টিবায়োসিস কী?

২। উৎপাদক কী?

৩। মিউচুয়ালিজম কী?

৪। খাদ্যশৃঙ্খল কী?

৫। বাস্তুতন্ত্র কী?

৬। হিউমাস কী?

অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তর

১। খাদ্যজাল বলতে কী বোঝো, ব্যাখ্যা করো।

উত্তর :  বাস্তুতন্ত্রে একাধিক খাদ্যশৃঙ্খল একসঙ্গে যুক্ত হয়ে খাদ্যজাল গঠন করে। বাস্তুতন্ত্রে একাধিক খাদ্যশিকল দেখা যায়, তবে এরা স্বাধীনভাবে অবস্থান করে না। একটি শিকল আরেকটির সঙ্গে কোনো না কোনো শক্তিস্তরে সম্পর্কযুক্ত থাকে।

২। প্লাংকটন বলতে কী বোঝো? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : প্লাংকটন হলো পানিতে ভাসমান ক্ষুদ্র জীবকণা। প্লাংকটন প্রধানত দুই প্রকার—জুয়োপ্লাংকটন ও ফাইটোপ্লাংকটন। ক্ষুদ্র প্রাণিকণাকে বলে জুয়োপ্লাংকটন আর উদ্ভিদকণা হলো ফাইটোপ্লাংকটন।

৩। হরিণকে পরভোজী বলা হয় কেন?

উত্তর : আমরা জানি, যেসব জীব নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না, খাদ্যের জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উদ্ভিদের ওপর নির্ভরশীল, তাদের পরভোজী জীব বলা হয়। হরিণ নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না। খাদ্যের জন্য হরিণ ঘাস ও লতাপাতা তথা উদ্ভিদের ওপর নির্ভরশীল। তাই হরিণ পরভোজী।

 

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

১। পরজীবী খাদ্যশৃঙ্খল বলতে কী বোঝায়?

২। বাস্তুতন্ত্রে বিয়োজকের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।

৩। শক্তি পিরামিড বলতে কী বোঝায়?

৪। প্রজাতিগত বৈচিত্র্য কী?

৫। খাদক বলতে কী বোঝায়?

 

প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতামূলক প্রশ্নের জন্য টিপস

১। স্থলজ ও জলজ খাদ্যজাল নিয়ে বিস্তারিত শিখতে হবে।

২। একটি পুকুরের বাস্তুতন্ত্র চিত্রসহ শিখে নিতে হবে।

৩। বাস্তুতন্ত্রে পুষ্টিপ্রবাহ ও শক্তি প্রবাহের ছকটা মাথায় গেঁথে নাও।

৪। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বিভিন্ন জীবনের মধ্যে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার গুরুত্ব আলোচনা আসতে পারে।

৫। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বিয়োজকের ভূমিকা আলোচনা করো—এমন প্রশ্ন আসতে পারে।

৬। বাস্তুতন্ত্রের জীব ও জড় উপাদানসমূহের নাম মাথায় গেঁথে ফেলতে হবে।

 

মন্তব্য