kalerkantho

বুধবার । ২৪ আষাঢ় ১৪২৭। ৮ জুলাই ২০২০। ১৬ জিলকদ  ১৪৪১

সপ্তম শ্রেণি

বিজ্ঞান । সৌরজগৎ ও পৃথিবী

২৩ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৭ মিনিটে



বিজ্ঞান । সৌরজগৎ ও পৃথিবী

পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরছে, নাকি সূর্য পৃথিবীর চারদিকে ঘুরছে? ভাবো দেখি! কোনটা বড়? সূর্যটা কিন্তু বিশাল। আবার দিন আর রাত হয় কেন, সেটাও ভাবো। কী পেলে? ঠিক ধরেছ! সূর্যের চারদিকে শুধু পৃথিবী নয়, সব গ্রহই ঘুরছে। আর সূর্যকে ঘিরেই আমাদের এই সৌরজগৎ।

 

সৌরজগৎ

সৌরজগতের মূল ক্যাপ্টেন হলো সূর্য। তাকে ঘিরেই নানা গ্রহ, গ্রহাণু, উপগ্রহ ও ধূমকেতু ঘুরছে। এর মধ্যে তিন নম্বর গ্রহটা হলো আমাদের পৃথিবী, যেখানে তুমি বসে বসে এখন লেখাটি পড়ছ।

তুমি হয়তো ভাবছ, পৃথিবীটা মস্ত বড়। এত এত জায়গা। কিন্তু পৃথিবীর চেয়েও অনেক অনেক বড় গ্রহ হলো বৃহস্পতি। বৃহস্পতি এত বড় যে এর মধ্যে ১,৩২১টা পৃথিবী রাখা যাবে! তবে সবার চেয়ে বড় হলো সূর্য। সূর্য অবশ্য গ্রহ নয়, এটা হলো নক্ষত্র। আকাশে যেমন তারা দেখতে পাও, সূর্যও তেমন একটা তারা। সূর্যটা কত বড়? বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন, পুরো সূর্যটাকে ঢেকে দিতে পৃথিবীর মতো ১৩ লাখ গ্রহ লাগবে!

 

কিছু তথ্য

♦  সৌরজগতে রয়েছে আটটি গ্রহ। সূর্য থেকে দূরত্বের ক্রমানুসারে এগুলো হলো—বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস, নেপচুন।

♦  সূর্য একটি নক্ষত্র। একটি বড় গরম গ্যাসের বলের মতো। এতে হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস থাকে। এই গ্যাসগুলোর সংঘর্ষে তাপ ও আলো তৈরি হয়, যা আমাদের পৃথিবীতে আলো ও তাপ দেয়।

সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহ বুধ। এর কোনো বায়ুমণ্ডল নেই। সবচেয়ে দূরের গ্রহ নেপচুন।

♦  সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ বৃহস্পতি এবং সবচেয়ে ছোট হলো বুধ।

♦  একমাত্র পৃথিবীতেই প্রাণীর বাস করার উপযোগী পরিবেশ আছে। আর কোথাও এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

♦  পৃথিবী নিজের পথে অর্থাৎ নিজের কক্ষপথে নিজে ঘুরতে পারে। আবার একই সঙ্গে সূর্যের চারদিকেও ঘোরে। পৃথিবীর নিজের কক্ষে একবার ঘুরতে লাগে প্রায় ২৪ ঘণ্টা। আর একেই আমরা বলি এক দিন। আবার সূর্যকে পুরো একবার ঘুরতে সময় লাগে ৩৬৫ দিন। একে আমরা এক বছর বলি।

♦  আমরা যে শক্তিটার কারণে পৃথিবীর ওপর বাস করতে পারি, হাঁটতে পারি এবং আমরা ছিটকে পড়ে যাই না তা হলো মাধ্যাকর্ষণ শক্তি। আর এ শক্তির জন্যই পৃথিবীসহ অন্যান্য গ্রহ সূর্যের চারদিকে ঘুরতে পারছে।

♦  সৌরজগতে কিছু ছোটখাটো বাসিন্দা আছে, যারা আবার গ্রহকে ঘিরেও ঘোরে। যেমন— আমাদের পরিচিত চাঁদ মামা। ওটা পৃথিবীকে ঘিরে ঘুরছে। চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ। অপ্রাকৃতিক উপগ্রহ আবার কোনটা? আমরা যেসব স্যাটেলাইট পাঠাই আকাশে, সেগুলোই কৃত্রিম উপগ্রহ।

♦  চাঁদের গায়ে সূর্যের আলো পড়ে বলেই আমরা চাঁদকে দেখতে পাই।

♦  পৃথিবীকে একবার ঘুরে আসতে চাঁদের সময় লাগে ২৭ দিন ৮ ঘণ্টা।

♦  সূর্য থেকে পৃথিবী প্রায় ১৫ কোটি ১৪ লাখ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সূর্যের আলো পৃথিবীতে আসতে সময় লাগে ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড।

♦  পৃথিবী নিজের জায়গায় নিজে ঘুরতে থাকে। এ কারণে পৃথিবীর যে পাশে এখন আলো, সে পাশে পরে আবার অন্ধকার হয়। এ কারণেই রাত ও দিন হয়।

♦  পৃথিবীর মূল উপকরণ মাটি, পাথর— এসব। বৃহস্পতি গ্রহে শক্ত কিছু নেই। পুরোটাই গ্যাস। শুক্র গ্রহ বেজায় গরম। এর তাপমাত্রা ৪৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সবচেয়ে শীতল হলো ইউরেনাস। এই গ্রহের তাপমাত্রা প্রায় মাইনাস ২২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

মঙ্গল দেখতে লাল বলে একে লাল গ্রহও বলা হয়। এ গ্রহের পাথরগুলোকে লাল দেখায়। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের গ্রহ।

শনি দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ গ্রহ। এর চারদিকে রয়েছে পাথরের বরফ ও ধুলার বেল্ট। এ গ্রহটিও গ্যাসের তৈরি।

♦  আমাদের পৃথিবীর মাত্র একটা উপগ্রহ চাঁদ। কিন্তু বৃহস্পতির আছে ৭৯টি উপগ্রহ। শনির আছে ৮২টি।

 

গ্রহের ইংরেজি নাম

বুধ = মারকারি, শুক্র = ভেনাস, পৃথিবী = আর্থ, মঙ্গল = মার্স, বৃহস্পতি = জুপিটার, শনি = স্যাটার্ন। ইউরেনাস ও নেপচুনের বাংলা নাম নেই।

 

এককথায় উত্তর

সৌরজগতে কয়টি গ্রহ আছে?

উত্তর : আটটি।

সূর্যে কী কী গ্যাস থাকে?

উত্তর : হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন।

গ্রহ কার কাছ থেকে আলো ও তাপ নেয়?

উত্তর : সূর্য থেকে।

শুকতারা বা সন্ধ্যাতারা কোন গ্রহ?

উত্তর : শুক্র গ্রহ।

কত দিন পর পর অমাবস্যা ও পূর্ণিমা হয়?

উত্তর : ২৯ বা ৩০ দিন পর পর।

কত বছর পর পর হ্যালির ধূমকেতু দেখা যায়?

উত্তর : ৭৫ বছর পর পর।

পৃথিবীর কয় ভাগ পানি ও কয় ভাগ স্থল?

উত্তর : তিন ভাগ পানি ও এক ভাগ স্থল।

পৃথিবী ঘুরতে থাকলেও আমরা ছিটকে পড়ে যাই না কেন?

উত্তর : অভিকর্ষ বলের কারণে।

পৃথিবী নিজ অবস্থানে ঘোরার গতিকে কী বলে?

উত্তর : আহ্নিক গতি।

সবচেয়ে লম্বা দিন ও ছোট রাত কত তারিখে?

উত্তর : ২১ জুন।

 

সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

নুহা ও নিনাদ দুই ভাই-বোন রাতে ছাদে উঠল। ছাদে উঠে তারা দেখল, গোল থালার মতো সুন্দর চাঁদ আকাশে। নুহা বলল, ভাইয়া এখন থেকে প্রতিদিন আমরা চাঁদ দেখতে ছাদে আসব। নিনাদ, দুই সপ্তাহ পর এই চাঁদ আর দেখা যাবে না। নুহা চিৎকার করে উঠল, ভাইয়া! দেখো কী সুন্দর একটা আগুনের গোলা! অনেকগুলো আগুনের গোলা!

 

ক) হ্যালির ধুমকেতু আবার কবে দেখা যাবে মনে করা হয়?

উত্তর : ২০৬২ সালে।

 

খ) কখন আমরা আকাশে উল্কা দেখতে পাই?

উত্তর : সূর্যের চারপাশে ঘুরছে অনেক ছোটখাটো বস্তু ও গ্রহাণু। এগুলোর মধ্যে ছোট আকারের বস্তুগুলোকে বলে উল্কা। এরা পাথর, গ্যাস, বরফ ও ধূলিকণা দিয়ে তৈরি হতে পারে। তাপের সংস্পর্শে এরা গ্যাসে পরিণত হয়। এরা যখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে তখন পুড়ে যায়। পুড়ে যাওয়ার সময় ছাই হয়ে এরা আকাশে ছড়িয়ে পড়ে। তখন পৃথিবী থেকে দেখতে আগুনের গোলার মতো মনে হয়। এভাবে অনেক উল্কা যখন একসঙ্গে পড়তে থাকে তখন তাকে উল্কা বৃষ্টি বলে।

 

গ) কৃত্রিম ও প্রাকৃতিক উপগ্রহ কাকে বলে?

উত্তর : সৌরজগতে সূর্যকে ঘিরে ঘুরছে আটটি গ্রহ। আবার এই গ্রহগুলোকে ঘিরে ঘুরছে কতগুলো ছোট উপগ্রহ। এগুলো আকারে গ্রহ থেকে বেশ ছোট। এরা নিজেরা তাপ ও আলো তৈরি করতে পারে না। যেমন—চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ। চাঁদকে আমরা আলোকিত দেখি, যখন এর গায়ে সুর্যের আলো পড়ে। চাঁদের ওপর পড়া সূর্যের আলো প্রতিফলিত হয়ে পৃথিবীতে পড়লে আমরা তাকে জ্যোছনা বলি। অন্য আরো গ্রহেরও উপগ্রহ আছে। এরাই প্রাকৃতিক উপগ্রহ।

আবার মানুষের বানানো কৃত্রিম উপগ্রহও পৃথিবীর চারদিকে ঘুরছে। এই মুহূর্তে পৃথিবীর কক্ষপথে মানুষের বানানো প্রায় ২৫০০ উপগ্রহ ঘুরছে। এগুলোর সাহায্যে বেতার ও টেলিযোগাযোগ, ইন্টারনেট যোগাযোগ, আবহাওয়ার তথ্য ইত্যাদি সংগ্রহ করা হয়।

 

পূর্ণিমা ও অমাবস্যা কিভাবে হয়? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : পুরো পৃথিবীকে ঘুরতে চাঁদের সময় লাগে ২৭ দিন ৮ ঘণ্টা। আকাশে যখন থালার মতো পূর্ণ চাঁদ থাকে তখন তাকে পূর্ণিমা বলে। এর ঠিক পরপরই চাঁদটি আবার ছোট হতে থাকে। ছোট হতে হতে একদম দেখাই যায় না। ওই অবস্থাকে বলে অমাবস্যা। অমাবস্যার পরের রাতে সরু একফালি চাঁদ ওঠে পশ্চিম আকাশে। প্রতি রাতে এটি বড় হতে থাকে। দুই সপ্তাহ পর আবার থালার মতো গোল চাঁদ ওঠে। এভাবে ২৯ বা ৩০ দিন পর পর অমাবস্যা ও পূর্ণিমা হয়।  

    গ্রন্থনা : নূসরাত জাহান নিশা

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা