kalerkantho

সোমবার  । ১৬ চৈত্র ১৪২৬। ৩০ মার্চ ২০২০। ৪ শাবান ১৪৪১

অষ্টম শ্রেণি ► বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

২১ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৭ মিনিটে



অষ্টম শ্রেণি ► বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

পানামনগরের স্থাপত্য ইউরোপীয় ও মোগল স্থাপত্যরীতি অনুসরণ করে নির্মিত। ছবি : মোহাম্মদ আসাদ

সৃজনশীল প্রশ্ন

প্রথম-চতুর্থ অধ্যায়

প্রশ্ন-১। জমিদার কাউসার আহম্মেদের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী সন্তানদের ওপর দায়িত্ব বণ্টন করে দেন। তিনি তাঁর নিজ পুত্র জসিমের ওপর রাজস্ব আদায় ও প্রতিরক্ষার দায়িত্ব; অন্যদিকে সত্পুত্র শোভনের ওপর শাসন ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব ন্যস্ত করেন।

ক) স্বাধীন সুলতানি শাসন কত বছর ছিল?

খ) ‘ভাগ কর এবং শাসন কর নীতি’—ব্যাখ্যা করো।

গ) উদ্দীপকের ঘটনাটি কোন ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

ঘ) ‘উক্ত ঐতিহাসিক ঘটনার ফল ছিল সুদূরপ্রসারী’—বক্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

 

প্রশ্ন-২। অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ একটি অনুষ্ঠানে ইউরোপীয়দের আগমনের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখেছিল। ১৬৪৮ সালে ইউরোপের যুদ্ধরত বিভিন্ন দেশের মধ্যে একটি শান্তিচুক্তি হয়। এটি সম্পাদিত হওয়ার পর শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলে ইউরোপীয় বিভিন্ন জাতি নতুন উদ্যোগে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ে। এদের বেশির ভাগের লক্ষ্য ছিল ভারতবর্ষ। এভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে ইউরোপের বণিকরা দেখল বাংলায় স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করেই সবচেয়ে বেশি ফায়দা উসুল করা সম্ভব।

ক) ফরাসিরা কত সালে বাংলায় প্রবেশ করে?

খ) ভারতবর্ষে ইংরেজদের বাণিজ্য বিস্তারের কারণ কী ছিল?

গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত চুক্তিটি কেন হয়েছিল? ব্যাখ্যা করো।

ঘ) ‘উদ্দীপকে বর্ণিত পরিস্থিতির ফলে বাংলায় ঔপনিবেশিক শক্তির বিজয় ঘটে।’ মতামত দাও।

 

প্রশ্ন-৩। দৃশ্যপট-১ : ৭ই মার্চ বাংলার ঘরে ঘরে উৎসবের সাড়া পড়ে যায়। আকাশে-বাতাসে ধ্বনিত হতে থাকে একটি ধ্বনি ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

দৃশ্যপট-২ : দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্যে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল একটি সরকার গঠিত হয়। এই সরকার শপথগ্রহণ করে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল।

ক) মুক্তিযুদ্ধে নৌপথে পরিচালিত অভিযানটি নাম কী?

খ) ৭ই মার্চের ভাষণকে বাঙালির মুক্তির সনদ বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

গ) দৃশ্যপট-১-এর বিষয়টি বাংলাদেশ স্বাধীনতা আন্দোলনে কিরূপ প্রভাব ফেলেছিল। ব্যাখ্যা করো।

ঘ) দৃশ্যপট-২-এর সরকারের গৃহীত সব কার্যক্রম ছিল সময়োপযোগী—বিশ্লেষণ করো।

 

প্রশ্ন-৪। মুক্তিযুদ্ধের মাঝামাঝি সময়ে বারাসাত গ্রামের ফাহিম, রাকিবসহ আরো কয়েকজন যুবক প্রশিক্ষণ নিয়ে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। অন্যদিকে একই গ্রামের যুবক পলক মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রত্যন্ত অঞ্চলের পথ চিনিয়ে চিনিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীকে সাহায্য করে।

ক) মুক্তিবাহিনী সরকারি পর্যায়ে কত ভাগে বিভক্ত ছিল?

খ) যৌথ বাহিনী বলতে কী বোঝায়?

গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত ফাহিম ও রাকিবের মতো যুবকরা মুক্তিযুদ্ধের সময় কোন বাহিনীর অধীনে যুদ্ধ করেছিল? বর্ণনা দাও।

ঘ) ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় পলকের মতো লোকেরা মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতা ও দেশবাসীর স্বার্থের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল’—উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।

 

প্রশ্ন-৫। নোমান সাহেব একজন সংস্কৃতিমনা ব্যক্তি। তিনি ‘বাঙালির সৃজনশীলতা ও অবদান’ শীর্ষক একটি বই পড়ছিলেন। লেখক বইটি তিনটি ভাগে ভাগ করেছেন। প্রথম ভাগে বাঙালির বাসস্থান, পরিধেয় বস্ত্র, স্থাপত্যশিল্প ব্যাখ্যা করেছেন। দ্বিতীয় ভাগে মানুষের কল্পনার বিকাশ প্রকাশ পেয়েছে। এখানে মানুষের কল্পকাহিনি, সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস কেমন তার লিখিত রূপ প্রকাশ করা হয়েছে। তৃতীয় ভাগে উর্বর বাংলার মানুষ কিভাবে তাদের কণ্ঠস্বরে বাংলার প্রকৃতি ও নদী-নালার কথা ফুটিয়ে তুলত তার বর্ণনা করা হয়েছে।

ক) সংস্কৃতি কী?

খ) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়ন সাংস্কৃতিক পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করে—ব্যাখ্যা করো।

গ) উদ্দীপকে বইটির দ্বিতীয় ভাগে বাংলার কোন শিল্পের চিত্র ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত বইতে প্রথম ও তৃতীয় ভাগের মধ্যে কোন ভাগটি বাঙালির সৃজনশীলতায় বেশি সমৃদ্ধ? তোমার মতামত দাও।

 

প্রশ্ন-৬। বেশ কয়েক মাস আগে জাহানারা উচ্চতর ডিগ্রি নিতে যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছে। সেখানে সে প্রতিদিন নিত্যনতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে। তাদের সংস্কৃতি, রীতি-নীতি সে দেখছে, শিখছে। সেখানকার মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, আচার-আচরণ ও মূল্যবোধের সঙ্গে সে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছে।

ক) ধর্মমঙ্গল কাব্যের রচয়িতা কে?

খ) সাংস্কৃতিক ব্যাপ্তি ঘটে কেন?

গ) উদ্দীপকে সাংস্কৃতিক পরিবর্তনশীলতার কোন কারণটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ) তুমি কি মনে করো যে, সাংস্কৃতিক পরিবর্তনশীলতার জন্য শুধু উক্ত কারণটিই সক্রিয়? যৌক্তিক মতামত দাও।

 

প্রশ্ন-৭। মেছবাহ সাহেব একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা। সুযোগ পেলেই তিনি আশিক ও মেয়ে প্রণীনকে দেশের বিভিন্ন স্থানে আবিষ্কৃত প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন দেখাতে নিয়ে যান। ওরা সেসব স্থানে গিয়ে প্রাচীনকালে দালানকোঠা, ভাস্কর্য, অলংকার, মুদ্রা দেখতে পায়। এ ছাড়া তিনি অবসর সময়ে দেশের গৌরবময় ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করেন। কারণ তিনি চান তাঁর সন্তানরা নিজ দেশের প্রাচীন অবস্থা ও ইতিহাস সম্পর্কে জানুক।

ক) লোকশিল্প জাদুঘর কোথায় অবস্থিত?

খ) ধর্মীয় স্থাপত্য বলতে কী বোঝায়?

গ) আশিক ও প্রণীনের দেখা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো কোন ধরনের সম্পদ? ব্যাখ্যা করো।

ঘ) ‘আশিক ও প্রণীনকে দেশ সম্পর্কে জানতে হলে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি’—উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

 

দ্বৈত শাসনব্যবস্থা

দ্বৈত শাসনব্যবস্থা ছিল একটি অদ্ভুত শাসনব্যবস্থা এবং বাংলার মানুষের জন্য অভিশাপস্বরূপ। ১৭৬৫ সালে ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভ দিল্লি সম্রাটের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলা, বিহার ও ওড়িশার দেওয়ানি লাভ করেন। বাংলার নবাবকে বৃত্তিভোগীতে পরিণত করেন। দ্বৈত শাসন চালু হওয়ার পর ক্লাইভ নবাবের ওপর শাসন ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব ন্যস্ত করেন; অন্যদিকে কম্পানি রাজস্ব আদায় ও প্রতিরক্ষার দায়িত্ব পায়। পরে রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব পেয়ে ইংরেজরা প্রজাদের ওপর অতিরিক্ত করারোপ করে এবং তা আদায়ে চাপ সৃষ্টি করে। করের বোঝা, ধারাবাহিক তিন বছরের অনাবৃষ্টি প্রভৃতি মিলিয়ে ব্যাপক দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

 

স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র যেভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্বুদ্ধ করে

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে জাতীয় সংগীত, সংবাদ বুলেটিন, দেশাত্মবোধক সংগীত, চরমপত্র পাঠ অনুষ্ঠান প্রচার প্রভৃতির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্বুদ্ধ করে। পাকিস্তানি হানাদারদের ভয়াল থাবা থেকে দেশমাতৃকাকে রক্ষার জন্য বাংলার দামাল ছেলে, যুবা, বৃদ্ধ একযোগে যুদ্ধ শুরু করে; হানাদারদের বিরুদ্ধে নিজের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ছেড়ে দিনের পর দিন বনজঙ্গলে লুকিয়ে থেকে যুদ্ধ করে তারা। আর এই অনুষ্ঠান প্রচারের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা এবং বাঙালি জনতা স্বাধীনতাযুদ্ধের চেতনায় উদ্দীপ্ত হয়ে উঠত। তারা নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করে হানাদারদের বিরুদ্ধে নতুন উদ্যমে যুদ্ধ করার সাহস পেত।

 

৯ মাসে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সফল সমাপ্তির কারণ

১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় আর শেষ হয় ১৬ই ডিসেম্বর। মাত্র ৯ মাসে এই অসম যুদ্ধের সফল সমাপ্তি বিস্ময়কর; কিন্তু প্রায় অসম্ভব ব্যাপারটি সম্ভব হয়েছে মূলত ৪টি কারণে। প্রথমত, আমাদের মুক্তিবাহিনীর বীরত্ব ছিল সাহসিকতাপূর্ণ। দ্বিতিয়ত, সমগ্র দেশবাসীর ছিল দৃঢ় ঐক্য। তৃতীয়ত, ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সক্রিয় সহায়তা। চতুর্থত, বিশ্বজনমত ছিল মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে এবং পাকিস্তানি হানাদারদের বিপক্ষে।

 

সাংস্কৃতিক আদর্শ

সাংস্কৃতিক আদর্শ বলতে কোনো দেশ বা সমাজের মানুষের সংস্কৃতির ধরনকে বোঝায়। প্রতিটি দেশ বা সমাজের রয়েছে নিজস্ব সাংস্কৃতিক আদর্শ। এগুলো হলো আচার-আচরণ, খাদ্য, পোশাক, বিশ্বাস, ধর্মবিশ্বাস, লোককাহিনি, সংগীত, লোককলা ইত্যাদি। কোনো দেশ বা সমাজের সাংস্কৃতিক আদর্শের মাঝে ওই দেশ বা সমাজের মানুষের জীবন প্রণালী ও বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠে। এই আদর্শের কারণে বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতির মধ্যে পার্থক্য দেখা যায়।

 

উত্তরা গণভবন

উত্তরা গণভবন বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রত্ননিদর্শন। এটি নাটোরের দিঘাপাতিয়ার জমিদারদের তৈরি প্রাসাদ। প্রাসাদটির চমৎকার স্থাপত্যকর্ম সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। দিঘাপাতিয়ার জমিদারদের প্রাসাদ হলেও এটি এখন উত্তরা গণভবন নামে পরিচিত।

 

পানামনগরের স্থাপত্যনিদর্শন

পানামনগরের স্থাপত্য ইউরোপীয় ও মোগল স্থাপত্যরীতি অনুসরণ করে নির্মিত। পানামনগরের ইমারতগুলো পথের দুই পাশে অত্যন্ত সুন্দরভাবে সাজানো। চওড়া পথের উত্তর পাশে ৩১টি এবং দক্ষিণ পাশে ২১টি ইমারত রয়েছে। এগুলো তৈরি করেছিলেন স্থানীয় জমিদার ও ব্যবসায়ীরা। এগুলোর মধ্যে সর্দারবাড়ি, আনন্দমোহন পোদ্দারের বাড়ি, হাসিময় সেনের বাড়ি উল্লেখযোগ্য।

গ্রন্থনা : এম এম মুজাহিদ উদ্দীন

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা