kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ চৈত্র ১৪২৬। ৩১ মার্চ ২০২০। ৫ শাবান ১৪৪১

একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

বেনজিনের কথা শুনি

► বেনজিন একটি অ্যারোমেটিক যৌগ।
► বেনজিনের সঙ্গে তিন অণু ক্লোরিনের সংযোজনে বেনজিন হেক্সাক্লোরাইড বা গ্যামাক্সিন পাউডার তৈরি হয়, যা জীবাণুনাশক।
► বেনজিনের সঙ্গে ইথিলিনের বিক্রিয়ায় ইথাইল বেনজিন উৎপন্ন হয়।
► বেনজিনের কাঠামোতে একটি H পরমাণু -CH3 দ্বারা প্রতিস্থাপিত হলে টলুইন তৈরি হয়।

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বেনজিনের কথা শুনি

মডেল : জেসিকা ছবি : মোহাম্মদ আসাদ

উচ্চ মাধ্যমিকের রসায়ন দ্বিতীয় পত্রের জৈব রসায়ন অধ্যায়ে বলা হয়েছে বেনজিনের কথা। সেই বেনজিনের কাল্পনিক সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাহবুব আলম রিয়াজ

নবম-দশম শ্রেণির জন্য পদার্থবিজ্ঞান, গণিত এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির জন্য ইংরেজি, ইতিহাস ও আরো অনেক কিছু

সেদিন এক মেলায় যাচ্ছিলাম। উদ্দেশ্য ছোট বোনের জন্য খেলনা কিনব। পথে দেখা বেনজিন সাহেবের সঙ্গে। ছয় পা দুলিয়ে—

কেমন আছেন?

ভালো আর থাকি কিভাবে, আমার এক বিজ্ঞানী বন্ধুর জ্বর, মাথা ব্যথা। রোগ নিবারণের ব্যবস্থা করতে হবে।

 

ওষুধ পাবেন কোথায়?

আমি অনেক কিছুই হতে পারি। ওষুধ হয়ে রোগও সারাতে পারি।

 

যতটুকু জানি, আপনি অ্যারোমেটিক যৌগ। বিষয়টা কেমন?

হুম। ফলমূল ও বিভিন্ন উদ্ভিদের কাণ্ড থেকে যেসব সুগন্ধি পাও, সেগুলো অ্যারোমেটিক যৌগ। একে অ্যারিন বলেও ডাকা হয়।

 

আপনার নাম বেনজিন কেন?

আমার একটি ষড়ভুজ বলয় আছে। তাই নাম আমার বেনজিন। যদি দুটি বলয় বা চক্র থাকত, তবে নাম হতো ন্যাফথালিন, তিনটি বলয় থাকলে অ্যানথ্রাসিন।

 

ল্যাবে আপনাকে কিভাবে প্রস্তুত করা যায়?

অনেক উপায়েই আমাকে প্রস্তুত করা যায়। অ্যাসিটিলিন গ্যাসকে ৪৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপে উত্তপ্ত লৌহ নলের মধ্যে চালনা করলে আমাকে পাওয়া যাবে।

 

পরিবারে আর কে আছে?

নাম বলে শেষ করা যাবে না। আমার বলয়ে একটি হাইড্রোজেন পরমাণু যখন কোনো মূলক দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়, তখন তা নতুন যৌগে পরিণত হয় এবং তাদের ভিন্ন নামে ডাকা হয়।

যেমন—আমার বলয়ে একটি H পরমাণু -CH3 দ্বারা প্রতিস্থাপিত হলে টলুইন, -OH দ্বারা প্রতিস্থাপিত হলে ফেনল, -NH2 দ্বারা প্রতিস্থাপিত হলে অ্যানিলিন, -COOH দ্বারা প্রতিস্থাপিত হলে তাকে বেনজয়িক এসিড বলে।

 

এ সদস্যরা কী প্রকৃতির?

কিছু আছে যারা এসিডীয়। নীল লিটমাসকে লাল করে। ক্ষারের সঙ্গে বিক্রিয়া করে লবণ উৎপন্ন করে। যেমন—ফেনল, বেনজোয়িক এসিড ইত্যাদি। আর কিছু এসিডীয় ধর্মের বিপরীত তথা ক্ষারীয় প্রকৃতির যেমন—অ্যানিলিন।

 

এদের মধ্যে কে বেশি সক্রিয়?

কিছু সদস্য আছে, যারা আমার চেয়েও বেশি সক্রিয়। এর মধ্যে আছে টলুইন, ক্লোরো বেনজিন, ফেনল, অ্যানিলিন। আবার নাইট্রো বেনজিন, বেনজালডিহাইড, বেনজোয়িক এসিড আমার চেয়ে কম সক্রিয়।

 

এরা কী কাজে লাগে?

কেউ নিজে ওষুধ হয়ে রোগ সারানোর কাজ করে। তা ছাড়া আমি গ্যামাক্সিন হয়ে জীবাণুনাশকের কাজও করি। ফেনল বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্যারাসিটামল হিসেবে প্রস্তুত হয়। আর তা ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে। এতে ফেনলকে লঘু সালফিউরিক এসিড ও সোডিয়াম নাইট্রেট মিশ্রণ দ্বারা নাইট্রেশন করলে অর্থো-নাইট্রো ও প্যারা-নাইট্রো ফেনল উৎপন্ন হয়। প্যারা-নাইট্রো ফেনলকে সোডিয়াম বোরোহাইড্রাইড দ্বারা নাইট্রোমূলককে বিজারিত করে ৪-অ্যামিনো-ফেনল এবং পরে এটিকে অ্যাসিটিক অ্যানহাইড্রাইডসহ অ্যাসিটাইলেশন করে প্যারাসিটামল প্রস্তুত করা হয়।

উজ্জ্বল সূর্যালোক বা অতি বেগুনি রশ্মির উপস্থিতিতে আমার সঙ্গে তিন অণু ক্লোরিনের সংযোজনে বেনজিন হেক্সাক্লোরাইড বা গ্যামাক্সিন পাউডার উৎপন্ন হয়। ওটা জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে। তোমরা যে বিভিন্ন ধরনের জীবাণুনাশক তরল ব্যবহার করো, তা মূলত ফেনলকে কয়েক ধাপ প্রক্রিয়াকরণের পর পাওয়া যায়। পরে এতে অ্যালকোহল, পাইন তেল, সাবান পানি, সুগন্ধি যোগ করা। এজাতীয় তরলের রাসায়নিক নাম ক্লোরোজাইলিনল।

 

কারো ক্ষতি করেন?

কারো ক্ষতি করার ইচ্ছা আমার নেই। তবে আমার পরিবারের সদস্য টলুইন একটু রগচটা টাইপের। তাকে টিএনটি বানিয়ে বিস্ফোরক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এটা অবশ্য মানুষের উপকারের জন্যই আবিষ্কার করা হয়েছিল।

 

টিএনটি বানায় কী করে?

TNT-এর পূর্ণরূপ হলো ট্রাই-নাইট্রো-টলুইন। প্রথম ধাপে নাইট্রিক এসিড ও সালফিউরিক এসিডের মিশ্রণে টলুইন যোগ করে উপযুক্ত তাপমাত্রায় দ্বিতীয় ধাপে তাতে ধূমায়িত নাইট্রিক এসিড ও ওলিয়াম মিশ্রণ দ্বারা স্টিম বার্থে রেখে নাইট্রেশন করে ২, ৪, ৬-ট্রাইনাইট্রো টলুইন বা TNT উৎপন্ন হয়। এটা হাতবোমা, জাহাজ ধ্বংসকারক টর্পেডো তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

 

ঠিক আছে। আজ মেলায় যাই। ছোট বোনের খেলনা কিনতে হবে।

ওটা বানাতেও আমাকে প্রয়োজন। শুষ্ক অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইডের প্রভাবকের উপস্থিতিতে আমার সঙ্গে ইথিলিনের বিক্রিয়ায় ইথাইল বেনজিন উৎপন্ন হয়। একে নির্ধারিত তাপমাত্রায় ফেরিক অক্সাইডের প্রভাবকের ওপর চালনা করে স্ট্যারিন উৎপন্ন হয়। আর স্ট্যারিন থেকে উচ্চ চাপ সংযোজন পলিমারকরণ প্রক্রিয়ায় পলিস্টারিন তৈরি হয়। এই পলিস্টারিন দিয়েই কিন্তু বেশির ভাগ খেলনার কাঠামো তৈরি হয়।

ট্রাই-নাইট্রো-টলুইন ওরফে টিএনটির রাসায়নিক বন্ধন

 

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা