kalerkantho

বুধবার  । ১৮ চৈত্র ১৪২৬। ১ এপ্রিল ২০২০। ৬ শাবান ১৪৪১

রসায়নে যা খেয়াল রাখবে

রসায়নের নিশ্চয়ই সব গুছিয়ে এনেছ। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রভাষক মো. নজরুল ইসলাম

২৫ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পরীক্ষায় প্রত্যেক অধ্যায় থেকে সমানুপাতিক হারে বহু নির্বাচনী প্রশ্ন থাকবে। বহু নির্বাচনী প্রশ্ন থাকে ২৫টি আর রসায়নে অধ্যায় রয়েছে ১২টি। প্রতিটি অধ্যায় থেকে দুটি করে বহু নির্বাচনী প্রশ্ন থাকবে, আর একটি অধ্যায় থেকে তিনটি বহু নির্বাচনী প্রশ্ন থাকবে। তাই বহু নির্বাচনীর জন্য প্রতিটি অধ্যায়কেই সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রথমে প্রতিটি অধ্যায় একবার রিডিং পড়ে মোটামুটি নলেজ নিতে হবে। এখানে ৪০% এমসিকিউ বা বহু নির্বাচনী প্রশ্ন জ্ঞানমূলক, ৩০% অনুধাবনমূলক, ২০% প্রয়োগমূলক এবং ১০% উচ্চতর দক্ষতাবিষয়ক থাকে। কাজেই জ্ঞানমূলক এমসিকিউ যেগুলো আয়ত্তে আছে তার সাপেক্ষে আংশিক প্রয়োগ এবং উচ্চতর দক্ষতার এমসিকিউ অনুশীলন করতে হবে। থিওরির জন্য প্রথম দুটি অধ্যায় সহজ। এ ছাড়া তৃতীয়, চতুর্থ অধ্যায়ও মোটামুটি তোমাদের নলেজে রয়েছে। পঞ্চম থেকে দ্বাদশ পর্যন্ত অধ্যায়ের প্রশ্নগুলো, যেগুলো আগে পড়েছ সেগুলো চর্চা করতে হবে। যেহেতু সময় শেষের দিকে, ১১তম অধ্যায়ের বিক্রিয়াগুলো দু-এক দিন ভালোভাবে অনুশীলন করে পরীক্ষার আগের সময়টায় পুরোটা রিভিশন দিতে হবে। আর যেহেতু পুরো দুই বছর একই সিলেবাস পড়েছ, এই বিষয়গুলো একটু ঝালিয়ে নেবে। অন্যান্য অধ্যায়ের বিক্রিয়াগুলোও ভালোভাবে দেখে নেবে। পরীক্ষার সময় সৃজনশীল অংশে যে আটটি প্রশ্ন থাকবে, তা প্রশ্ন পাওয়ার পর একবার পড়ে নেবে। এ ক্ষেত্রে যদি ৫ মিনিট সময়ও যায় তাতেও ক্ষতি নেই। আটটি প্রশ্ন যদি পারো তাহলে যে প্রশ্নগুলোতে নম্বর বেশি উঠতে পারে, সেগুলো উত্তর করতে পারো। আর যদি এমন হয়—আটটি প্রশ্ন কমন পড়েনি, তবে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। যে পাঁচটি কমন পড়েছে সেটিই লিখবে। যে প্রশ্নটার উত্তর সবচেয়ে ভালো পারবে, মনে হয় সেটাই আগে লেখা উচিত। এতে খাতা দেখার সময় পরীক্ষক তোমার সম্পর্কে ভালো ধারণা পাবেন। কারণ, প্রথম প্রশ্নের উত্তরটা ভালো লিখলে ওই শিক্ষার্থীর ওপর পরীক্ষকের একটা নজর যাবে। এটা খেয়াল রাখতে হবে—কোনো প্রশ্নে যদি গাণিতিক সমস্যা থাকে এবং সেটা যদি শতভাগ শিওর হও যে উত্তর পারবে, তাহলে এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। আবার বিক্রিয়া থাকলে সেটাও উত্তর করা বুদ্ধিমানের কাজ। এমসিকিউতে প্রথমে ২৫টি এমসিকিউ দেখে যেগুলো পারা যায়, সেগুলোর উত্তর প্রথমে করে ফেলবে। এরপর অনুধাবন বা বহুপদী সমাপ্তিসূচক প্রশ্নগুলোর উত্তর করো। আর গাণিতিক সমস্যার এমসিকিউ শেষে দেওয়াটা ভালো হবে। এমসিকিউ অংশ ২৫ মিনিট। এমসিকিউতে জ্ঞানমূলক যে ১৪টি থাকবে, তা থেকে ৫-৭ মিনিটের মধ্যে পারাগুলো উত্তর করে ফেলতে হবে। অনেক সময়, গাণিতিক সমস্যার এমসিকিউ প্রথমে উত্তর করতে গিয়ে যদি না মিলে তাহলে স্টুডেন্ট বসে থাকে। ফলে সময় নষ্ট হয়ে যায়। অন্য পারা প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে না সময়ের জন্য। পরীক্ষা খারাপ হয়ে যায়। আর বহু নির্বাচনী বা এমসিকিউ যেহেতু প্রথমে হয়, তাই পরবর্তী সময়ে সৃজনশীল অংশের সময় প্রশ্ন পারলেও উত্তর ঠিকমতো লিখতে পারে না। টেনশন থেকে যায়। পরের অংশটা ভালো হয় না। তাই এ দিকে লক্ষ রাখতে হবে।

           

            শ্রুতলিখন : জুবায়ের আহম্মেদ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা