kalerkantho

বরিশালের অর্ধেক উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেই প্যাথলজিস্ট

বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার বেশির ভাগ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডেঙ্গু আক্রান্তদের প্যাথলজি পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই। ফলে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে ডেঙ্গু রোগের পরীক্ষা করাতে হচ্ছে রোগীদের

বরিশাল অফিস   

২ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তিন দিন জ্বরাক্রান্ত থাকার পর মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেন পাতারহাট এলাকার সোহেল মুন্সীর স্ত্রী তহমিনা বেগম। চিকিৎসকরা তাঁকে দেখার পর ডেঙ্গু আক্রান্ত কি না, তা নিশ্চিত হতে কয়েকটি পরীক্ষা দেন। কিন্তু টেকনিশিয়ান না থাকার কারণে ওই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্যাথলজি বিভাগ বন্ধ থাকায় তহমিনা পরীক্ষাগুলো বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ছুটে যান। কিন্তু সেখানেও পরীক্ষা করার ব্যবস্থা নেই। এমনটি জানার পরে চিকিৎসকরা তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে রেফার করেন। একই সমস্যায় পড়েন হিজলা উপজেলার নয়ন শেখ। ওই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টেকনিশিয়ান না থাকায় প্যাথলজি টেস্ট বন্ধ রয়েছে। তাই তাঁকেও প্রায় ২০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বরিশালে আসতে হয়েছে চিকিৎসার জন্য।

শুধু এরা দুজনই নয়, বরিশাল বিভাগের বেশ কিছু রোগী শত কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বরিশালে ছুটে আসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য। এর কারণ বিভাগের ছয় জেলার  বেশির ভাগ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডেঙ্গু আক্রান্তদের প্যাথলজি পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের ছয় জেলার ৪০টি উপজেলায় ৩৪টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে। আর ছয়টি সদর উপজেলায় ছয়টি সদর হাসপাতাল রয়েছে। এর সবগুলোতেই আউটডোর ও ইনডোর চিকিৎসাসেবা রয়েছে। প্যাথলজি টেস্ট করার সুবিধা রয়েছে ছয় সদর হাসপাতালসহ ৩৪টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। তবে ৩৪টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রায় ২০টিতে প্যাথলজি  টেকনিশিয়ান না থাকার কারণে প্যাথলজি সেবা পায় না রোগীরা। ওই সব উপজেলাগুলোতে বিভিন্ন বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বিভিন্ন প্যাথলজি টেস্টগুলো করিয়ে থাকে রোগীরা। তবে এবার ডেঙ্গু রোগের জন্য যে পরীক্ষা করাতে হয়, তা নিয়ে মহাবিপাকে ওই সব উপজেলার বাসিন্দারা। কারণ ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতেও ডেঙ্গু রোগ নির্ণয় করার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও উপকরণ নেই। তাই দুর্গম ওই উপজেলাগুলো থেকে শত শত কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বরিশালে আসতে হয় ডেঙ্গু রোগ নির্ণয় করার জন্য।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে প্যাথলজি টেকনিশিয়ান না থাকার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘আমরা প্রত্যেক উপজেলা পরিদর্শন করছি। সব উপজেলায় ডেঙ্গু রোগ নির্ণয়ের যে টেস্টগুলো করানো প্রয়োজন তার যন্ত্রপাতি পাঠানো হচ্ছে। এরই মধ্যে জেলা সিভিল সার্জনদের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সরবরাহকৃত ডেঙ্গু রোগ নির্ণয়ে এনএসওয়ান কিট পাঠানো শুরু হয়েছে। অনেক উপজেলায়ই পৌঁছে গেছে সেগুলো। যেসব উপজেলায় প্যাথলজি টেকনিশিয়ান নেই সেখানে নার্সদের মাধ্যমে এ টেস্টগুলো করানোর জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

তবে বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ডেঙ্গু রোগ নির্ণয়ের জন্য এনএসওয়ান কিট সরবরাহ করা হয়েছে। তবে তা পর্যাপ্ত নয়। আমরা মাত্র ১২০ জনকে পরীক্ষা করতে পারব। সব জেলায়ই এরকম দেওয়া হয়েছে। তবে চাহিদা অনেক বেশি।’

মন্তব্য