উধাও হয়ে গেছে ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথ। রেল নেই, পাতও নেই। নেই রেললাইনের কোনো চিহ্ন। রেলপথ পরিণত হয়েছে সড়কপথে। ফেনী-বিলোনিয়া ২৮ কিলোমিটার রেলপথের এমন চিত্র এখন। জানা গেছে, লোকসানের অজুহাতে ১৯৯৭ সালে বন্ধ করে দেওয়া হয় ফেনী-বিলোনিয়া রেল যোগাযোগ। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় রেললাইনের লোহার পাত, স্লিপার চুরিসহ দখল হয়ে গেছে রেলওয়ের শত শত একর জমি। এসব নিয়ে লাকসাম জিআরপি থানায় ১০/১২টি মামলা হলেও কার্যত কোনো লাভ হয়নি। রেলওয়ে সূত্র জানায়, ১৯২৯ সালে ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথ চালু হয়। ২৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ওই পথে বন্দুয়া, দৌলতপুর, আনন্দপুর, পীরবকস মুন্সীরহাট, নতুন মুন্সীর হাট, ফুলগাজী, চিথলিয়া, পরশুরাম ও বিলোনিয়ায় আটটি স্টেশন স্থাপন করা হয়। সড়ক যোগাযোগ না থাকায় একসময় এই রেলপথ ছিল পরশুরাম, ফুলগাজীসহ ফেনীর উত্তরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত ও ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অর্থনৈতিক উন্নয়নের একমাত্র মাধ্যম। ১৯৭১ সালের পর রেল যোগাযোগের পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগের উন্নতি হওয়ায় কদর কমে যায় রেলপথের। ব্যাপক লোকসানের কারণে ১৯৯৭ সালের ১৭ আগস্ট কর্র্তৃপক্ষ ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথ বন্ধ করে দেয়। বর্তমান সরকারের সময়ে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কয়েকবার ফেনী-বিলোনিয়া রেল চালুর ঘোষণা দিলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। সরেজমিনে জানা গেছে, ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথের বেশির ভাগ এখন অবৈধ দখলে। বন্দুয়া, দৌলতপুর, আনন্দপুর, পীরবকস মুন্সীর হাট, নতুন মুন্সীর হাট, ফুলগাজী, চিথলিয়া, পরশুরাম ও বিলোনিয়া নামের স্টেশনগুলোর অস্তিত্বও নেই। রেললাইনের লোহার পাত, স্লিপার মাইলের পর মাইল তুলে নিয়ে গেছে দুবৃর্ত্তরা। মুন্সীর হাট, মোহাম্মদপুর, গাইনবাড়ি, বন্দুয়াসহ বহু জায়গায় রেললাইনের কোনো চিহ্ন নেই। রেললাইন এখন পরিণত হয়েছে সড়কপথে। দখল হয়ে গেছে রেলওয়ের শত শত কোটি টাকার ভূমি। প্রভাবশালীরা রেলের জায়গায় তৈরি করেছে দালান। ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল আলিম কালের কণ্ঠকে বলেন, 'রেলপথটি সংরক্ষণ করে জরুরিভিত্তিতে মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।' পরশুরাম উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন মজুমদার জানান, ফেনী-বিলোনিয়া রেললাইনের সম্পদের যথাযথ সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণে সরকারের উদ্যোগ নেওয়া দরকার। এই রেলপথ চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দর ও বিলোনিয়া স্থলবন্দরে পণ্য পরিবহন অনেক সহজ হবে। ফেনী রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার মাহবুবুর রহমান জানান, পরিত্যক্ত অবস্থায় প্রতিনিয়ত চুরি হচ্ছে রেললাইনের সম্পত্তি। এভাবে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকলে অচিরেই ওই রেলপথের সব সম্পদ লুটপাট হয়ে যাবে।