উপজেলা বিএনপি দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এক গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি নেতা সরওয়ার আলমগীর। অপর গ্রুপে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছালাউদ্দিন। বর্তমান কমিটিতে সভাপতি দুজন এবং সম্পাদকও দুজন! সরওয়ার গ্রুপে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নুরুল হুদা চৌধুরী আর সম্পাদক শাহজাদা সৈয়দ ওমর ফারুক। ছালাউদ্দিন গ্রুপে তিনি নিজেই সভাপতি আর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হাবিবুল্লাহ বেলাল উদ্দিন। জানা গেছে, দলের গত কাউন্সিলে সভাপতি নির্বাচিত হন ছালাউদ্দিন আর সম্পাদক শাহজাদা সৈয়দ ওমর ফারুক। ফারুকের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে সম্পাদকের পদ থেকে এক বছর আগে অব্যাহতি দেন ছালাউদ্দিন। সম্প্রতি একই অভিযোগ এনে ছালাউদ্দিনকেও সভাপতির পদ থেকে বাদ দিয়ে নুরুল হুদা চৌধুরীকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করেন বিরোধীরা। উত্তর জেলা বিএনপির অর্থ বিষয়ক সম্পাদক সরোয়ার আলমগীর বলেন, 'ইতিমধ্যে দলের কোন্দল নিরসনে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সুযোগসন্ধানী এবং সরকার বিরোধী আন্দোলনে নিষ্ক্রিয়দের ব্যাপারে কঠিন সিদ্ধান্ত আসতে পারে।' তিনি বলেন, 'এখন অনেকটা হ য ব র ল অবস্থায় চলছে ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপির কার্যক্রম।' উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহজাদা সৈয়দ ওমর ফারুক বলেন, 'নিজের ইচ্ছায় সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে আমাকে অব্যাহতি দিয়েছেন ছালাউদ্দিন। এ জন্য তিনি দলের হাই কমান্ডসহ তৃণমূল নেতা-কর্মীদের কাছে সমালোচনার পাত্র হয়েছেন। তাই সমপ্রতি তাকে উপজেলা নির্বাহী কমিটির এক সভায় বহিষ্কার করা হয়। প্রবীণ নেতা নুরুল হুদা চৌধুরীকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।' তবে সভাপতি ছালাউদ্দিন বলেন, 'এখনো দলের সভাপতি পদে বহাল আছি আমি। সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুককে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে উপজেলা কমিটির সিদ্ধান্তক্রমে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য জেলা কমিটির কাছে চিঠি পাঠানো হয়। এ ব্যাপারে জেলা কমিটি এখনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। ফারুকের কারণেই দলের দুরবস্থা। এছাড়া দলে ব্যাপক অশান্তি সৃষ্টি করছে উত্তর জেলার এক নেতা।' বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ফয়সাল মাহমুদ ফয়েজী বলেন, 'সাকা পরিবারকেন্দ্রিক রাজনীতির ফলাফল হল গ্রুপিং। আমরা সিনিয়র নেতারা ঐক্যবদ্ধ আছি। শিগগিরই গ্রুপিং নিরসন হবে। অশুভ হাত থেকে মুক্ত করে বিএনপিকে সুসংগঠিত করা হবে।' উল্লেখ্য, ফয়সাল মাহমুদ ফয়েজী ও সরওয়ার আলমগীরের বাড়ি ফটিকছড়িতে।