• ই-পেপার

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ২৩৫

সন্তানকে নিয়ে ইইউ বৈঠকে সুইডিশ মন্ত্রী, গড়লেন নজির

অনলাইন ডেস্ক
সন্তানকে নিয়ে ইইউ বৈঠকে সুইডিশ মন্ত্রী, গড়লেন নজির
ছবি: রয়টার্স

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিভিন্ন দেশের মন্ত্রীরা বৃহস্পতিবার লুক্সেমবার্গে জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক নীতি নিয়ে দীর্ঘ বৈঠকে বসেন। তবে ওই বৈঠকে সবার নজর কেড়ে নেয় এক অপ্রত্যাশিত অতিথি। সে ছিল মাত্র তিন মাসের একটি শিশু।

সুইডেনের জলবায়ুমন্ত্রী রোমিনা পোরমোখতারি তাঁর তিন মাসের ছেলে আদামকে সঙ্গে নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কাউন্সিলের বৈঠকে অংশ নেন। ইইউ কাউন্সিলের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মন্ত্রীদের এমন বৈঠকে কোনো শিশুর অংশ নেওয়ার ঘটনা এই প্রথম।

রোমিনা জানান, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে বৈঠকে গিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি দেখাতে চেয়েছেন, ভালো মাতৃত্ব ও পিতৃত্বকালীন ছুটির ব্যবস্থা থাকলে নারীদের কাজ ও পরিবারের মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে হয় না। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কাজ এবং পরিবার- দুটিই একসঙ্গে সামলানো সম্ভব। তবে এর জন্য এমন একজন জীবনসঙ্গী দরকার, যিনি দায়িত্ব ভাগ করে নিতে আগ্রহী এবং আধুনিক মানসিকতার। ২০২২ সালে মাত্র ৩০ বছর বয়সে সুইডেনের জলবায়ুমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন রোমিনা পোরমোখতারি। তখন তিনি দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সী সরকারি মন্ত্রী ছিলেন। সম্প্রতি তিনি মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষ করে আবার কাজে ফিরেছেন। এদিকে তাঁর স্বামী এখনো ছুটিতে আছেন। আগামী সেপ্টেম্বরে সুইডেনের নির্বাচন পর্যন্ত তিনি সন্তান দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করবেন। বৈঠকের সময় আদামের দেখাশোনার জন্য তিনিও রোমিনার সঙ্গে লুক্সেমবার্গে যান।

বিশ্বের সবচেয়ে উদার মাতৃত্ব ও পিতৃত্বকালীন ছুটির ব্যবস্থার অন্যতম একটি রয়েছে সুইডেনে। দেশটিতে বাবা-মা মিলিয়ে প্রায় ১৬ মাসের বেতনসহ ছুটি পান। এর মধ্যে ৯০ দিন শুধু বাবার জন্য এবং আরো ৯০ দিন শুধু মায়ের জন্য নির্ধারিত। এই ছুটি একজন অন্যজনকে দিতে পারেন না। নির্ধারিত সময় ব্যবহার না করলে সেই ছুটি বাতিল হয়ে যায়। এই বিশেষ ছুটিকে অনেকেই 'বাবাদের মাস' নামে ডাকেন। বাবাদের সন্তান লালন-পালনে আরো বেশি অংশগ্রহণে উৎসাহিত করতেই এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। তবে সুইডেনের এই ছুটির ব্যবস্থা এখন রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে। কারণ, এই সুবিধার খরচ বহন করা হয় দেশের উচ্চ করব্যবস্থা থেকে।

রোমিনা বলেন, তাঁর দলের সমর্থন এবং দেশের পারিবারিক ছুটির নীতির কারণে স্বামী সন্তান দেখাশোনা করায় তেমন কোনো সমস্যা তৈরি হয়নি। তিনি মনে করেন, পরিবারবান্ধব নীতি মানেই শুধু দীর্ঘ ছুটি দেওয়া নয়। সরকারগুলোর উচিত বাবা-মায়ের মধ্যে ছুটি আরো নমনীয়ভাবে ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা এবং কম খরচে শিশুর দেখাশোনার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, এ ধরনের নীতি শুধু পরিবারকে সহায়তা করে না, কর্মক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এতে বাবা-মায়ের ওপর চাপ কমে এবং অতিরিক্ত কাজের কারণে মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ার ঝুঁকিও হ্রাস পায়। 

পোল্যান্ডের উপ-জলবায়ুমন্ত্রী ক্রিশতোফ বোলেস্তাও বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখেছেন। তিনি বলেন, বৈঠকে একটি শিশু থাকার কারণে কোনো সমস্যা হয়নি। বরং এটি জীবনের স্বাভাবিক একটি অংশ।
 

বাকিংহাম প্রাসাদে থাকবেন না রাজা চার্লস, প্রকাশ করলেন করের তথ্য

অনলাইন ডেস্ক
বাকিংহাম প্রাসাদে থাকবেন না রাজা চার্লস, প্রকাশ করলেন করের তথ্য
ছবি: রয়টার্স

সংস্কারকাজ শেষ হলেও ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস আগামী বছর বাকিংহাম প্রাসাদে স্থায়ীভাবে বসবাস করবেন না। বৃহস্পতিবার রাজপরিবারের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

তারা জানান, রাজা চার্লস এবং রানি ক্যামিলা আগের মতোই লন্ডনের ক্ল্যারেন্স হাউসে থাকবেন। বহু বছর ধরেই এটি রাজা চার্লসের ব্যক্তিগত বাসভবন। তবে রাজা সেখানে থাকলেও বাকিংহাম প্রাসাদই রাজতন্ত্রের প্রধান প্রশাসনিক ও আনুষ্ঠানিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে। রাজার কোষাধ্যক্ষ এবং প্রিভি পার্সের রক্ষক জেমস চালমার্স বলেন, বাকিংহাম প্রাসাদ থেকেই সরকারি ও রাজকীয় সব গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান পরিচালিত হবে। বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা এবং রাষ্ট্রীয় ভোজও আগের মতো সেখানেই অনুষ্ঠিত হবে। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বাকিংহাম প্রাসাদ ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের প্রধান কার্যালয়। ভবিষ্যতেও এর সেই মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকবে। এটি দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর একটি।

১৮৩৭ সালে রানি ভিক্টোরিয়া সিংহাসনে বসার পর থেকে প্রায় ২০০ বছর ধরে বাকিংহাম প্রাসাদ ব্রিটিশ রাজা বা রানির লন্ডনের প্রধান বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ৭৭৫ কক্ষের এই বিশাল প্রাসাদ শুধু রাজপরিবারের বাসস্থান নয়। এখানে রাজপরিবারের প্রশাসনিক কার্যালয়ও রয়েছে। পাশাপাশি বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের সম্মানে জাঁকজমকপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ভোজ এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানও এখানেই আয়োজন করা হয়। বর্তমানে প্রাসাদটিতে বড় ধরনের সংস্কারকাজ চলছে। ২০১৭ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্প আগামী বছর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। পুরো সংস্কারকাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৬ কোটি ৯০ লাখ পাউন্ড। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ কয়েক হাজার কোটি টাকা। এই প্রকল্পের আওতায় পুরোনো বৈদ্যুতিক সংযোগ, পাইপলাইন এবং গরম করার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বদলে ফেলা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ভবনটিকে আরো নিরাপদ ও আধুনিক করা হচ্ছে।

প্রতি বছর প্রায় সাত লাখ মানুষ বাকিংহাম প্রাসাদ দেখতে আসেন। রাজপরিবারের এক কর্মকর্তা জানান, ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের জন্য প্রাসাদে প্রবেশের সুযোগ আরো বাড়ানো হবে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

বৃহস্পতিবার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ রাজপরিবার। ২০২২ সালে রাজা হওয়ার পর এই প্রথমবার সরকারের কাছে দেওয়া নিজের ব্যক্তিগত করের তথ্য প্রকাশ করেছেন রাজা তৃতীয় চার্লস। কর্মকর্তারা জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তিনি ১ কোটি ২৯ লাখ পাউন্ড কর দিয়েছেন। এই পরিমাণ কর দেওয়ার কারণে তিনি ব্রিটেনের সবচেয়ে বেশি কর প্রদানকারী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় স্থান পেয়েছেন। ব্রিটিশ আইনে রাজাকে আয়কর, মূলধনী মুনাফা কর বা উত্তরাধিকার কর দিতে বাধ্য করা যায় না। তবে রাজা চার্লস তার মা রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের পথ অনুসরণ করে ১৯৯৩ সাল থেকে স্বেচ্ছায় এসব কর দিয়ে আসছেন। যদিও এতদিন তারা কখনো করের নির্দিষ্ট পরিমাণ প্রকাশ করেননি।

ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্যদের সরকারি দায়িত্ব পালন, কর্মচারীদের বেতন, রাজপ্রাসাদ পরিচালনা এবং বিদেশ সফরের জন্য সরকার থেকে অর্থ দেওয়া হয়। এই অর্থকে বলা হয় ‘সার্বভৌম অনুদান’। এর বাইরে রাজা চার্লসের ব্যক্তিগত আয়েরও বড় উৎস রয়েছে। ১৩৯৯ সাল থেকে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ব্রিটিশ রাজারা ‘ডাচি অব ল্যাঙ্কাস্টার’ নামে বিশাল একটি সম্পত্তি থেকে ব্যক্তিগত আয় পান। রাজা চার্লসও সেখান থেকে প্রতিবছর কোটি কোটি পাউন্ড আয় করেন। এ ছাড়া তার অন্যান্য বিনিয়োগ থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আয় হয়। এদিকে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী প্রিন্স উইলিয়াম ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৭৭ লাখ ৬০ হাজার পাউন্ড কর দিয়েছেন।

সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে ঘিরে চলমান নতুন বিতর্কের মধ্যেই রাজপরিবারের এই ঘোষণাগুলো এলো। বর্তমানে অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর নামে পরিচিত সাবেক এই রাজপুত্রের সঙ্গে দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সম্পর্ক নিয়ে কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। এসব ঘটনার কারণে ব্রিটিশ রাজপরিবারের ভাবমূর্তি নতুন করে চাপে পড়েছে।

জাহাজে হামলার পর হরমুজে জাতিসংঘের উদ্ধার অভিযান স্থগিত

অনলাইন ডেস্ক
জাহাজে হামলার পর হরমুজে জাতিসংঘের উদ্ধার অভিযান স্থগিত
ছবি: রয়টার্স

হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা ১১ হাজারের বেশি নাবিককে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করেছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)। একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলার ঘটনার পর সংস্থাটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আইএমওর মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ বলেন, ইতোমধ্যে কয়েকটি জাহাজ থেকে নাবিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে পুরো উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আগে সংস্থাটি নিশ্চিত হতে চায় যে, সমুদ্রে চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা আগের মতোই রয়েছে। বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানায়, ওমানের দাহিত বন্দরের দক্ষিণ-পূর্বে প্রায় ৭ দশমিক ৫ নটিক্যাল মাইল দূরে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্রসদৃশ বস্তু আঘাত করে। এতে জাহাজের কেউ হতাহত হননি। সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ড জানায়, হামলার শিকার জাহাজটির নাম 'এভার লাভলি'। সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী জাহাজটি হামলার পরও যাত্রা বন্ধ না করে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে। মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের ধারণা, জাহাজটিতে ইরান গুলি চালিয়েছে। তবে এ বিষয়ে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দায় স্বীকার করেনি।

এদিকে হরমুজ প্রণালি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত নৌপথের বাইরে চলা জাহাজের নিরাপত্তার দায় তারা নেবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সংস্থাটি জানায়, অনুমোদিত পথ ছেড়ে চলাচল করলে যেকোনো ক্ষতি বা দুর্ঘটনার দায় জাহাজের মালিক, পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এবং ক্যাপ্টেনকেই বহন করতে হবে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের কারণে পারস্য উপসাগর এলাকায় শত শত বাণিজ্যিক জাহাজ এবং হাজার হাজার নাবিক আটকে পড়েছেন।

মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি আবার চালু হওয়ার পর আইএমও বড় পরিসরে আটকে পড়া নাবিকদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করে। তখন সংস্থার মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ বলেন, এই অভিযানে ইরান, ওমান, যুক্তরাষ্ট্র, উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশ এবং সামুদ্রিক খাতের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো একসঙ্গে কাজ করছে। তবে বৃহস্পতিবার নতুন এক বিবৃতিতে তিনি জানান, হামলার শিকার হওয়া জাহাজটি আইএমওর নির্ধারিত উদ্ধার ব্যবস্থার আওতায় চলাচল করছিল না। তিনি বলেন, নাবিকদের নিরাপত্তাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই পরিস্থিতি পুরোপুরি পরিষ্কার না হওয়া এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার পরিকল্পনা স্থগিত রাখা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয় অব্যাহত থাকবে। জাহাজের গতিপথ পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট 'মেরিন ট্রাফিক' জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে এভার লাভলি হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ দিকের পথ দিয়ে প্রবেশ করে। পরে স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে প্রণালির পূর্ব দিক দিয়ে নিরাপদে বেরিয়ে যায়। ভ্যানগার্ড জানায়, হামলার পরও জাহাজটির কোনো ধরনের কারিগরি বা নিরাপত্তা সহায়তার প্রয়োজন হয়নি।

এর আগে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দফা একটি সমঝোতায় পৌঁছায়। ওই চুক্তি অনুযায়ী, উভয় দেশ সংঘাত কমানোর বিষয়ে সম্মত হয়। পাশাপাশি ইরান ৬০ দিনের জন্য কোনো অর্থ না নিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে বলেও উল্লেখ করা হয়। তবে ইরান জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে টোল নয়, বরং সামুদ্রিক সেবা ফি নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, হরমুজ প্রণালি একটি আন্তর্জাতিক জলপথ। তাই এখানে কোনো দেশ এককভাবে টোল বা অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতে পারে না। বর্তমানে ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে বাহরাইন সফরে রয়েছেন মার্কো রুবিও।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা শুরু করার পর তেহরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। বিশ্বে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। একই সঙ্গে সারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের সরবরাহও ব্যাহত হয়। পরে ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে সই করলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। ওই সমঝোতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং যুদ্ধ-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ৬০ দিনের আলোচনার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমতে শুরু করে।

বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম সাময়িকভাবে প্রতি ব্যারেল ৭২ দশমিক ৪৮ ডলারের নিচে নেমে আসে। এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর আগের দামের কাছাকাছি। তবে দিনের শেষদিকে দাম আবার বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৭৩ দশমিক ২৩ ডলারে ওঠে।
 

দোষী হলে সিয়ার ফাঁসি চান তার বাবা-মাও

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
দোষী হলে সিয়ার ফাঁসি চান তার বাবা-মাও
সিয়া গয়ালের মা। ছবি : সংগৃহীত

ভারতের পুনেতে ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত দুইজনের পরিবার বিপরীতমুখী অবস্থান নিয়েছে। অভিযুক্ত চেতন চৌধুরীর পরিবার তাকে নির্দোষ দাবি করলেও সিয়া গোয়েলের পরিবারের অবস্থান ভিন্ন। সিয়া গোয়েলের বাবা-মা বলেছেন, যদি তাদের সন্তান দোষী হন, তাহলে তার যেন ফাঁসি হয়।

গত ১৮ জুন পুনের লোহাগড় দূর্গে ৪০০ ফুট ওপর থেকে পরে মারা যান ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল। প্রথমে দুর্ঘটনা ভাবা হলেও পরে পরিবারের সন্দেহ আর পুলিশের তদন্তে জানা যায়, কেতন আগরওয়ালের বাগদত্তা সিয়া গোয়েল এবং তার প্রেমিক চেতন চৌধুরী মিলে পরিকল্পিতভাবে কেতন আগরওয়ালকে হত্যা করে। দুই সন্দেহভাজন সিয়া এবং চেতন এখন ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ডে আছেন। রিমান্ডে থাকা চেতনের সাখে দেখা করে এসে তার বাবা ও চাচা দাবি করেন, চেতন নির্দোষ। সিয়া নিজেকে বাঁচানোর জন্য চেতনকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।

তবে সিয়া গোয়েলের বাবা-মার অবস্থান ভিন্ন। সিয়ার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ পুরো পরিবারটিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। গত ১৮ জুন পুনের ঐতিহাসিক লোহাগড় দূর্গে সিয়া ও চেতন মিলে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যা করে সিয়ার হবু বর কেতন আরগওয়ালকে।

প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনা বলা হলেও পরে জানা যায় এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। ঘটনার ৫ দিন পর ২৩ জুন সিয়া ও তার  প্রেমিক  চেতন চৌধুরীকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। একমাত্র কন্যার বিয়ের আয়োজনে ব্যস্ত গোয়েল পরিবারের ওপর হঠাৎ যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। মেয়ের গ্রেপ্তারের খবর সইতে পারেননি তার বাবা প্রভীন গোয়েল। সেদিনই হার্ট অ্যাটাক করে হাসপাতালে ভর্তি হন প্রভীন। তাকে দেখাশোনা করতে তার স্ত্রী ও ছেলেও সার্বক্ষণিক হাসপাতালে অবস্থান করছেন। পরিবারের একজন থানায় পুলিশ রিমান্ডে, বাকি তিন জন হাসপাতালে থাকায় মার্কেট ইয়ার্প এলাকায় তাদের পারিবারিক আবাস ‘লীলা কুঞ্জ’ এখন শূন্য। বাসায় এখন তালা।

হাসপাতাল থেকে সিয়ার বাবা প্রভীণ গোয়েল বলেন, ‘এ ঘটনায় যেই দোষী হোক, এমনকি সে আমার কন্যা হলেও তার ফাঁসি হোক।’ 

সিয়ার মা পুজা গোয়েলের চাওয়াও অভিন্ন, ‘এ ঘটনায় যে দোষী হয়, তার যেন সর্বোচ্চ সাজা হয়। একজন মা হিসেবে আমি এই দাবি জানাচ্ছি।’

তবে নিহত কেতন আগরওয়ালের পরিবার এ ঘটনায় গোয়েল পরিবারের দায় আছে বলে মনে করেন। তাদের দাবি, সিয়া যে চেতনের সাথে প্রেম করছেন; এটা তার মা, ভাই ও খালা আগে থেকেই জানতেন। কেতনের পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক উচ্চ অবস্থানের কথা ভেবে তারা সবকিছু গোপন করে মেয়ের বিয়েটা সম্পন্ন করতে চেয়েছিলেন। তাদের ধারণা ছিল, বিয়ে হলে সব ঠিক হয়ে যাবে। তবে সিয়া যে গোপনে হবু বর কেতনকে হত্যার ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা করছেন, এটা হয়তো কেউ ভাবতে পারেননি।