• ই-পেপার

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই আবারও লেবাননে ইসরায়েলের হামলা, নিহত ৫১

গাজার শাসনভার ছেড়ে দিল হামাস

অনলাইন ডেস্ক
গাজার শাসনভার ছেড়ে দিল হামাস
সংগৃহীত ছবি

গাজায় নিজেদের প্রশাসনিক কমিটি বিলুপ্ত করার ঘোষণা দিয়েছে হামাস। এর মাধ্যমে সেখানে একটি টেকনোক্র্যাট কমিটির বেসামরিক শাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে হামাসের একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। খবর ইউরোনিউজ

২০০৭ সালে প্রতিদ্বন্দ্বী ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী ফাতাহর কাছ থেকে সশস্ত্র লড়াইয়ের মাধ্যমে গাজার নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর থেকে দীর্ঘ দুই দশক ধরে উপত্যকায় নিজেদের শাসন বজায় রেখেছিল হামাস। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০০৬ সালের আইনসভা নির্বাচনে জয়লাভ করেছিল তারা।

গত বছরের অক্টোবরে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই হামাস বারবার বলে এসেছে, তারা গাজার শাসনভার ছেড়ে দিতে প্রস্তুত। তবে সংগঠনটি নিরস্ত্রীকরণের পক্ষে নেই।

হামাসের সরকারি মিডিয়া অফিসের প্রধান ইসমাইল আল-তাওয়াবতা একটি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাকে বলেছেন, ‘সরকারের জরুরি কমিটির প্রধান মোহাম্মদ আল-ফাররা আনুষ্ঠানিকভাবে তার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অফ গাজার (এনসিএজি) কাছে প্রশাসনিক ও সরকারি ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সহজ করতে এই কমিটি বিলুপ্ত করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।’

২০২৫ সালের অক্টোবরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় এনসিএজি গঠন করে বোর্ড অব পিস। হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেছেন, ‘হামাস একটি নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে যার ফলে তারা আর গাজা উপত্যকার দায়িত্বে থাকবে না। দখলদার বাহিনীর আগ্রাসন ও ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সব অজুহাত বন্ধ করতেই এই সিদ্ধান্ত।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা আশা করছি ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অফ গাজা দ্রুত সেখানে প্রবেশ করবে। এই কমিটির সাফল্য নিশ্চিত করতে হামাস সব ধরনের সরকারি দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’

হামাসের প্রশাসনিক কমিটি বিলুপ্তির ফলে ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট আলি শাথের নেতৃত্বাধীন এনসিএজি’র জন্য গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব নেয়ার পথ উন্মুক্ত হলো। তবে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে এই কমিটির প্রবেশে ইসরায়েলের আপত্তির কারণে গত কয়েক মাস ধরে এনসিএজি গাজার বাইরে অবস্থান করছে বলে জানা গেছে।

যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপের অগ্রগতি ও পারস্পরিক মতপার্থক্য কমিয়ে আনতে কায়রোতে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে হামাস এবং অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলো বেশ কয়েক দফা আলোচনা করেছে। চুক্তির প্রথম ধাপে হামাসের হাতে থাকা সর্বশেষ ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ে ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তবে দ্বিতীয় ধাপে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি গত কয়েক মাস ধরে স্থবির হয়ে আছে। এই ধাপে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা থেকে পর্যায়ক্রমে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কথা ছিল। ‘বোর্ড অফ পিস’-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপের অগ্রগতির এই স্থবিরতার জন্য হামাসই দায়ী। এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) হামাস এবং ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদের ওপর নিষেধাজ্ঞার পরিধি আরও বাড়িয়ে হামাসের পলিটব্যুরো সদস্যদেরও এর আওতাভুক্ত করেছে।

তবে বাস্তব চিত্র হচ্ছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসরায়েলি বাহিনী গাজা উপত্যকায় তাদের উপস্থিতি আরও বাড়িয়েছে। বর্তমানে তারা উপত্যকার প্রায় ৭০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। আর যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে এখনও গাজায় হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে তারা। সবশেষ সোমবার (৬ জুলাই) ইসরায়েলের নির্বিচার বিমান হামলায় অন্তত ৬ জন নিহত ও ২০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়া-ফিজির নিরাপত্তা চুক্তির পরই প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

অনলাইন ডেস্ক
অস্ট্রেলিয়া-ফিজির নিরাপত্তা চুক্তির পরই প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা
ছবি : রয়টার্স

চীন একটি ডামি ওয়ারহেড বহনকারী দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রশান্ত মহাসাগরে পরীক্ষামূলকভাবে উৎক্ষেপণ করেছে। অস্ট্রেলিয়া ও ফিজি নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই পরীক্ষা চালানো হয়।

বেইজিং একে চীনের বার্ষিক সামরিক কর্মসূচির ‘নিয়মিত অংশ’ বলে বর্ণনা করেছে। তবে এই পদক্ষেপে জাপান, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

অস্ট্রেলিয়া অভিযোগ করেছে, চীনের এ ধরনের কর্মকাণ্ড অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য নেতিবাচক। তবে দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা মনে করেন না যে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা অস্ট্রেলিয়া-ফিজি নিরাপত্তা চুক্তির সরাসরি প্রতিক্রিয়া।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করতে কাজ করছে অস্ট্রেলিয়া। এর লক্ষ্য হলো অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও সামরিক উপস্থিতির ভারসাম্য রক্ষা করা। অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস জানান, ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কয়েক ঘণ্টা আগে চীন তাদের পরিকল্পনার কথা ক্যানবেরাকে জানিয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতা, শান্তি ও নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করতে পারে, এমন যেকোনো পদক্ষেপ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।’ চীনা কর্মকর্তারা নিউজিল্যান্ড, জাপান, পাপুয়া নিউগিনিসহ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিভিন্ন দেশকে সমুদ্রভিত্তিক সামরিক মহড়ার পরিকল্পনার বিষয়েও অবহিত করেছেন।

নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ও উদ্বেগজনক ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। জাপান জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের প্রায় ৯০ মিনিট আগে তারা এ বিষয়ে অবহিত হওয়ার পর চীনকে এই পদক্ষেপ পুনর্বিবেচনার জন্য জোরালোভাবে অনুরোধ করেছিল।

চীন বলেছে, দুই বছর পর পরিচালিত এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা তাদের নিয়মিত সামরিক প্রশিক্ষণের অংশ এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা লক্ষ্যবস্তুকে উদ্দেশ্য করে করা হয়নি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, ‘উৎক্ষেপণ কার্যক্রম নিরাপদ, নিয়ন্ত্রিত এবং পেশাদারভাবে পরিচালিত হয়েছে। আমরা আশা করি, কিছু দেশ বিষয়টিকে অতিরঞ্জিতভাবে ব্যাখ্যা করবে না।’

ফিজির রাজধানী সুভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং বলেন, চীনের দ্রুত সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা অঞ্চলটির স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

অস্ট্রেলিয়া ও ফিজি এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ওশান অব পিস অ্যালায়েন্স’ নামে একটি নতুন নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর করে। এটি ফিজির প্রথম আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা জোট এবং অস্ট্রেলিয়ার চতুর্থ এমন চুক্তি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র, নিউজিল্যান্ড ও পাপুয়া নিউগিনির সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার একই ধরনের চুক্তি রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ জানান, এই চুক্তির আওতায় আগামী ১০ বছরে ফিজিতে আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলা, স্বাস্থ্যসেবা এবং অবকাঠামো উন্নয়নে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করবে অস্ট্রেলিয়া।

চুক্তি স্বাক্ষরের সময় আলবানিজ বলেন, এটি অন্য কোনো দেশের সঙ্গে ক্যানবেরার নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলোর একটি। ফিজির প্রধানমন্ত্রী সিটিভেনি রাবুকা এই চুক্তিকে দুই দেশের সম্পর্কের একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

শ্রীলঙ্কায় কারাগারে দাঙ্গায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৫

অনলাইন ডেস্ক
শ্রীলঙ্কায় কারাগারে দাঙ্গায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৫
ছবি : রয়টার্স

শ্রীলঙ্কার একটি কারাগারে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী বন্দি গোষ্ঠীর মধ্যে দাঙ্গায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৫ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আরো অন্তত ১০০ জন আহত হয়েছে। দেশটির রাজধানী কলম্বো থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরের উপকূলীয় শহর নেগোম্বোর একটি কারাগারে রোববার সাজাপ্রাপ্ত ও আটক বন্দিদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

সংঘর্ষের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, কারাগারের বিভিন্ন অংশ এখনো তল্লাশি ও পরিষ্কার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিহত ও আহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। দুই পুলিশ কর্মকর্তা এবং একটি হাসপাতাল সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, সোমবার বন্দিদের দুই দলের মধ্যে সংঘর্ষে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে।

সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার ওয়ারুনা গামাগে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে সহায়তা করার জন্য সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডেরানা টিভির প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, আহত বন্দিদের বহনকারী একটি পুলিশ বাস কারাগার ত্যাগ করছে। এ সময় কারাগারের প্রধান ফটকের বাইরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিল। আহতদের কয়েকজনকে বাসের মেঝেতে শুয়ে থাকতে দেখা যায়।

খামেনির দাফন অনুষ্ঠান উপলক্ষে তেহরানের আকাশসীমা বন্ধ

অনলাইন ডেস্ক
খামেনির দাফন অনুষ্ঠান উপলক্ষে তেহরানের আকাশসীমা বন্ধ
ছবি : রয়টার্স।

সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির শেষকৃত্য অনুষ্ঠান চলায় সোমবার তেহরানের আকাশসীমা পুরোপুরি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরান।

ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজধানীর মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিয়মিত ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে।

মেহরাবাদ বিমানবন্দরে মঙ্গলবার থেকে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আরো কিছু সময় বন্ধ থাকবে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৯ জুলাই খামেনির চূড়ান্ত দাফন অনুষ্ঠান উপলক্ষে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদের আকাশসীমাও বন্ধ রাখা হবে। এদিন শহরের শহীদ হাশেমিনেজাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব ফ্লাইট স্থগিত থাকবে। তবে ৭ ও ৮ জুলাই দেশের অন্যান্য অঞ্চলে বিমান চলাচল স্বাভাবিক থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই আবারও লেবাননে ইসরায়েলের হামলা, নিহত ৫১ | কালের কণ্ঠ