যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে হালাল বারবিকিউ রেস্তোরাঁ শুরু করতে বছরে ৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার (প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা) বেতনের চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন এক প্রযুক্তিবিদ। তার নাম সালাহউদ্দিন আবদুল-কাফি। তার বয়স ৩৫ বছর। তিনি প্রায় ১৪ বছর ধরে বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানিতে কাজ করেছেন। এর মধ্যে আছে গুগল, মাইক্রোসফট, ইউটিউব এবং ক্রুজের মতো প্রতিষ্ঠান।
আবদুল-কাফি বলেন, দীর্ঘদিন কাজ করার পর তিনি প্রযুক্তি খাত নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েন। তার মতে, এই খাতে মানুষের জীবন উন্নত করার চেয়ে শুধু অর্থ উপার্জনের দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছিল। এই কারণে তিনি উচ্চ বেতনের চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। চাকরি ছাড়ার পর তিনি নিজের বেতন ৫০ শতাংশের বেশি কমিয়ে একটি ধর্মীয় অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন।
এরপর তিনি সান ফ্রান্সিসকো ছেড়ে দেন। সেই সময় তিনি দিনের চাকরির পাশাপাশি বন্ধুদের জন্য রাতের খাবার রান্না ও বারবিকিউ আয়োজন করতেন। তার রান্না দেখে বন্ধুরা খুবই প্রশংসা করেন। আবদুল-কাফি বলেন, সেখান থেকেই নতুন ভাবনা আসে। তিনি ভাবতে শুরু করেন, টেক্সাসে বারবিকিউ নিয়ে এমন কিছু করা যায় কি না, যা আগে কেউ করেনি। বিজনেস ইনসাইডারকে তিনি বলেন, সেই ভাবনা থেকেই 'কাফি বারবিকিউ' শুরু করার পরিকল্পনা তৈরি হয়। রেস্তোরাঁটি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে চালু হয়। শুরুর দিকে তারা তিন দিনের খাবার প্রস্তুত করেছিলেন। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে প্রথম দিনেই সব খাবার বিক্রি হয়ে যায়। এরপর সেই রাতেই আবার রান্না শুরু করতে হয়।
অল্প সময়ের মধ্যেই রেস্তোরাঁটি টেক্সাসসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গায় জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। আবদুল-কাফি জানান, তার রেস্তোরাঁর আয় দ্রুত বাড়ছে। গত বছর তাদের আয় ছিল প্রায় ২৩ লাখ ডলার (প্রায় ২৮ কোটি ২১ লাখ টাকা)। এ বছর তা বেড়ে প্রায় ৪০ লাখ ডলারে (প্রায় ৪৯ কোটি ৭ লাখ টাকা) পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ব্যবসা ভালো চললেও তিনি এখনো নিজের জন্য রেস্তোরাঁ থেকে এক ডলারও নেননি। তিনি নিজের সঞ্চয়ের টাকা থেকেই জীবন চালাচ্ছেন।
রেস্তোরাঁটি দ্রুত সফল হলেও খরচও অনেক বেশি। আবদুল-কাফি জানান, প্রতি মাসে ব্যবসা চালাতে প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার ডলার খরচ হয়। এর মধ্যে খাবারের জন্য প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার লাগে। কর্মীদের বেতন দিতে খরচ হয় প্রায় ৫০ হাজার ডলার। ভাড়া দিতে হয় প্রায় ১৫ হাজার ডলার। এছাড়া বিজ্ঞাপন, বিপণন এবং অন্যান্য খাতে আরো বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়।
তিনি বলেন, শুরুতে প্রায় ১০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করা হলেও সেই টাকা এখনো পুরোপুরি ফিরে আসেনি। তাই ভবিষ্যৎ নিয়ে আবদুল-কাফি আশাবাদী হলেও সতর্ক থাকেন।




