পুনের ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালের হত্যার জন্য পরস্পরকে দুষছেন সিয়া গোয়েল ও তার প্রেমিক চেতন চৌধুরী। ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ডে থাকা সিয়া ও চেতনকে মুখোমুখি জেরা করলে দুজনই অপরের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেন।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে চেতন চৌধুরী দাবি করেন, কেতন আগরওয়ালকে সিয়া-ই ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিল। তবে সিয়ার দাবি, কেতনকে হত্যার মূল পরিকল্পনা ছিল চেতন চৌধুরীর। এমনকি ১৪ জুন ধাক্কা দিলেও ঝোপঝাড় ধরে কেতন বেঁচে যাওয়ার পর সিয়ার সামনে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন চেতন।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে চেতন চৌধুরী দাবি করেন, কেতনকে হত্যার পরিকল্পনা তার ছিল না। তিনি শুধু সিয়াকে নিয়ে পালিয়ে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরিবারের সিদ্ধান্তকে অসম্মান করতে চাননি সিয়া। পরিবারের সামাজিক মর্যাদার কথা ভেবে প্রেমিক চেতনের সাথে পালাতে রাজি হননি তিনি। কেতনকে হত্যার আগে নানা বিকল্প নিয়ে ভেবেছিলেন সিয়া ও চেতন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দুজন মিলে তাদের প্রেমের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ানো কেতন আগরওয়ালকে সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
কেতন আগরওয়াল হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নিরাজ কুমার নামে চেতন চৌধুরীর দোকানের এক কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুনে পুলিশ। নিরাজ ৩ বছর ধরে চেতনের দোকানে কাজ করতেন। ১৮ জুন কেতন আগরওয়ালকে হত্যার দিনে চেতন নিরাজের ফোন ব্যবহার করেছিলেন।
পুলিশের ধারণা, এর আগেও চেতন নিরাজের ফোনে তার প্রেমিকা সিয়ার সাথে যোগাযোগ করেছেন।
গত ফেব্রুয়ারিতে পুনের ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালের সাথে সিয়া গোয়ালের বাগদান হয়। আগামী নভেম্বরে জমকালো বিয়ের আয়োজন চলছিল। গত ১৮ জুন সিয়া আর তার প্রেমিক চেতন মিলে পরিকল্পিতভাবে লোহাগড় দূর্গ থেকে ফেলে কেতন আগরওয়ালকে হত্যা করেন। ঘটনার ৫ দিন পর পুলিশ সিয়া ও চেতনকে গ্রেপ্তার করে। দুজন এখন ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ডে আছেন।




