• ই-পেপার

মার্কিন কৌশলকে উপহাস, তেলের দাম ইতিহাসের রেকর্ড বৃদ্ধি পাবে জানালেন ইরানের স্পিকার

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ বেড়েছে ৪১ গুণ

অনলাইন ডেস্ক
সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ বেড়েছে ৪১ গুণ
সংগৃহীত ছবি

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকায়। যার মধ্যে ২০২৫ সালে জমা হয়েছে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা বেশি। 

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সাল নাগাদ ব্যক্তি ও ব্যাংক কর্তৃক সুইস ব্যাংকে রাখা বাংলাদেশি অর্থের পরিমাণ ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮৩৪.২ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ (প্রায় ১২ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা)-তে পৌঁছেছে, যা এযাবৎকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। 

একইসঙ্গে, এই পরিসংখ্যানটি গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং ২০২৪ সালে রেকর্ডকৃত ৫৯০ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ থেকে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। 

এর আগে ২০২১ সালে রেকর্ড ৮৭১.১ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ-তে পৌঁছে। যেটি ছিল দেশের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ। 

৮০ বছরের পুরনো ধারায় আটকা জাপানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা

অনলাইন ডেস্ক
৮০ বছরের পুরনো ধারায় আটকা জাপানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা
সংগৃহীত ছবি

পূর্ব এশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অত্যন্ত উন্নত ও প্রযুক্তিনির্ভর দ্বীপ রাষ্ট্র জাপান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গত ৮০ বছরে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে। এ অবস্থায় আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশটি নজর এখন প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদারে।

কিন্তু এ ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিয়েছে আট দশক আগের দেশটির সংবিধানের একটি ধারা নিয়ে। যেখানে রাষ্ট্রীয় অধিকার থেকে যুদ্ধ বা এর সক্ষমতাকে পুরোপুরি আলাদা করা হয়েছে। এ নিয়ে সংবিধান সংশোধনের বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি বলেছেন, ‘আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং নতুন কোনো যুদ্ধ প্রতিরোধে দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।’ 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে অনুসরণ করা সংবিধানের শান্তিবাদী নীতির কিছু দিক পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। কোইজুমি বলেন, ‘বহুস্তরীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এই অঞ্চলে নতুন কোনো যুদ্ধ প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারই অংশ হিসেবে রয়েছে—প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জোটকে আরও শক্তিশালী করা এবং সমমনা দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণ করা।

অস্ত্র রপ্তানিতে ঐতিহাসিক পরিবর্তন

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিরক্ষা নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে জাপান। কয়েক দশক ধরে কার্যকর থাকা অস্ত্র রপ্তানি সংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল করার ফলে এখন দেশটি প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ ১৭টি অংশীদার দেশের কাছে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রাণঘাতী অস্ত্র বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারছে।

কোইজুমি জানান, অস্ট্রেলিয়া ইতোমধ্যে জাপানি যুদ্ধজাহাজ বেছে নিয়েছে। এছাড়া ফিলিপাইনের সঙ্গে ব্যবহৃত ডেস্ট্রয়ার (দীর্ঘ সহনশীল যুদ্ধজাহাজ) সরবরাহ নিয়ে আলোচনা চলছে। শুধু তাই নয়, ইন্দোনেশিয়া ও নিউজিল্যান্ডও জাপানি যুদ্ধজাহাজে আগ্রহ দেখিয়েছে।

তার ভাষায়, ‘ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও সম্পদ বিনিময়ের এমন চিত্র আমরা আগে কখনো দেখিনি।’

টোকিওর কৌশলগত বড় চ্যালেঞ্জ চীন 

জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সাম্প্রতিক শ্বেতপত্রে চীনের সামরিক তৎপরতাকে দেশের জন্য সবচেয়ে বড় ‘কৌশলগত চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বিশেষ করে তাইওয়ানকে ঘিরে উত্তেজনা এবং পূর্ব চীন সাগরের সেনকাকু (চীনের ভাষায় ‘দিয়াওইউ’) দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে বিরোধ টোকিওর উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

সেনকাকু দ্বীপ

তবে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও জাপান বেইজিংয়ের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যেতে চায় বলেও জানান কোইজুমি। তিনি বলেন, ‘জাপান সবসময় আলোচনার জন্য উন্মুক্ত। আমরা সেই বার্তা অব্যাহতভাবে দিয়ে যাব।’

সংবিধান সংশোধনের অপেক্ষা

প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সরকার জাপানের সংবিধানের বহুল আলোচিত নবম অনুচ্ছেদ সংশোধনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী এই অনুচ্ছেদে যুদ্ধকে রাষ্ট্রীয় অধিকার হিসেবে ত্যাগ করার কথা বলা হয়েছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে জাপান একবারও তার সংবিধান সংশোধন করেনি উল্লেখ করে কোইজুমি বলেন, ‘গত ৮০ বছরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলেছে। শান্তি বজায় রাখতে হলে আমাদেরও সেই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে।’

সংশোধন বিতর্ক

প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বে জাপানের সংবিধান সংশোধন বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে এই উদ্যোগ জাপানের রাজনীতিতে নতুন নয়। 

এর আগে ১৯৫০-এর দশকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নোবুসুকে কিশি জাপানের জন্য আরও ‘স্বাভাবিক’ সামরিক অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০০০-এর দশকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী জুনিচিরো কোইজুমিও সংবিধান সংশোধনের সমর্থন করেন এবং বিশেষ করে শান্তিবাদী অনুচ্ছেদ ৯ পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে, যিনি নোবুসুকে কিশির নাতি, ক্ষমতায় থাকাকালে সংবিধানের তথাকথিত শান্তিবাদী ধারা সংশোধনের অন্যতম প্রধান প্রবক্তা হয়ে ওঠেন। 

তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, তাকাইচির আমলে এই প্রচেষ্টা আরও দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে, যার ফলে দেশজুড়ে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভগুলোর কিছু দেখা গেছে।

এসডিএফের স্বীকৃতি ও জটিলতা

সাক্ষাৎকারে ৪৫ বছর বয়সী কোইজুমি বলেন, জাপানের সেলফ-ডিফেন্স ফোর্সেসের (এসডিএফ) সাংবিধানিক অবস্থান স্পষ্ট করা প্রয়োজন। আইনগত ও রাজনৈতিকভাবে জাপান এসডিএফকে সামরিক বাহিনী হিসেবে অভিহিত না করলেও বাস্তবে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ সামরিক শক্তি হিসেবে কাজ করে।

কোইজুমি বলেন, ‘এসডিএফ যেন গর্ব ও মর্যাদার সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারে, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বর্তমান কঠিন নিরাপত্তা পরিবেশে জাপানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাও শক্তিশালী থাকতে হবে।’

তবে সমালোচকদের মতে, এসডিএফকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া বা এর ভূমিকা সম্প্রসারণ করা হলে সংবিধানের শান্তিবাদী চেতনা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। আবার কেউ মনে করেন, সরকারের নিরাপত্তা লক্ষ্য অর্জনের জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন নেই।

ইনস্টিটিউট অব জিওইকোনমিকসের জ্যেষ্ঠ গবেষক এবং সামরিক কৌশল বিশ্লেষক হিরোহিতো ওগি বিবিসিকে বলেন, ‘চীনের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক অভিযান পরিচালনার জন্য নবম অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রয়োজন নেই। তাই এটি সামরিক প্রয়োজনের চেয়ে বেশি রাজনৈতিক এজেন্ডা।’

এদিকে কোইজুমি বলেন, ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) সংবিধান সংশোধনের পক্ষে থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জাপানের জনগণের হাতেই রয়েছে। 

দ্বিগুণ প্রতিরক্ষা ব্যয়

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন মিত্র দেশগুলোকে নিজেদের প্রতিরক্ষায় আরও বেশি ব্যয় করার আহ্বান জানানোর পর জাপানও সামরিক ব্যয় বাড়িয়েছে।

২

প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির সরকার প্রতিরক্ষা বাজেট জিডিপির ২ শতাংশে উন্নীত করেছে, যা যুদ্ধ-পরবর্তী দীর্ঘদিনের মানদণ্ডের দ্বিগুণ।

এই অর্থ নতুন ক্ষেপণাস্ত্র, স্থল ও পানির নিচে পরিচালিত ড্রোন এবং অন্যান্য আধুনিক সামরিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করা হবে।

নিজেদের নির্ভরশীলতা

জাপানে বর্তমানে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র-জাপান নিরাপত্তা জোট এখনও দেশটির প্রতিরক্ষার মূল ভিত্তি।

তবে কোইজুমি মনে করেন, জাপানকে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের ভূমিকাও শক্তিশালী করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘জাপান এই অঞ্চলের নিরাপত্তায় নিজস্ব ও স্বতন্ত্র অবদান রাখতে পারে। এটি আমাদের দেশ, আর আমাদেরই এটি রক্ষা করতে হবে।’

চুক্তি মানতে ব্যর্থ হলে ফের হামলার হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

অনলাইন ডেস্ক
চুক্তি মানতে ব্যর্থ হলে ফের হামলার হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের
রয়টার্স ছবি

ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া চুক্তির শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ওয়াশিংটন আবারও সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে কঠোর অবরোধ পুনর্বহাল করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা বলছে, ব্রাসেলসে ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

হেগসেথ বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, আলোচনার সময়সীমার মধ্যে ইরান যদি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে আমরা প্রয়োজন হলে আবারও ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত থাকব।’

তিনি আরো বলেন, ‘ইরান যদি চুক্তি মেনে না চলে, তাহলে আমরা পুনরায় কঠোর ও কার্যকর অবরোধ আরোপ করতে পুরোপুরি সক্ষম।’

মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই নতুন চুক্তির মূল লক্ষ্য। তবে চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নে তেহরানের ভূমিকার ওপর নিবিড় নজর রাখা হবে।

অস্ত্র রপ্তানিতে ভারতের রকেট গতি, ১২ বছরে বেড়েছে ৫৫ গুণ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
অস্ত্র রপ্তানিতে ভারতের রকেট গতি, ১২ বছরে বেড়েছে ৫৫ গুণ
সংগৃহীত ছবি

এক সময়ে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানিতে ভারত ছিল শীর্ষে। এখনো তাদের অবস্থান ওপরের দিকেই। তবে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের বৈশ্বিক বাজারের খেলাটা ঘুরিয়ে দিতে চাইছে ভারত। চমক জাগানো সব তথ্য নিশ্চিত করছে, ভারত ঠিক পথেই এগোচ্ছে।

প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে ভারতের অবস্থান এখন ১৯তম। ভারত এখন বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশে উচ্চপ্রযুক্তির প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি করছে। বড় অস্ত্র আমদানিকারক দেশ থেকে উদীয়মান রপ্তানিকারক দেশে বদলে যাওয়ার গল্পটা আসলেই চমকপ্রদ। আর এই সাফল্য এসেছে পাবলিক-প্রাইভেট যৌথ উদ্যোগে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানি আয় ছিল ৩৮ হাজার ৪২৪ কোটি রুপি, যা তাদের জন্য রেকর্ড। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ছিল ২৩ হাজার ৬২২ কোটি রুপি। তার মানে প্রতিরক্ষা রপ্তানি খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬২ দশমিক ৬৬ শতাংশ। গত পাঁচ বছরে রপ্তানি আয় তিন গুণ বেড়েছে। এক দশক আগে, মানে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানি ছিল মাত্র ৬৮৬ কোটি রুপি। ১২ বছরে এটা ৫৫ গুণ বেড়েছে, শতাংশের হিসেবে ৫ হাজার ৫০০ ভাগ! মানতেই হবে একযুগে প্রতিরক্ষা রপ্তানি খাতে যুগবদল হয়েছে। প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় ভারতের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাত এখন প্রতিরক্ষা। 

প্রতিরক্ষা রপ্তানির রকেট গতির পেছনে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতও জ্বালানি জুগিয়েছে। রেকর্ড রপ্তানিতে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোর অবদান ২১ হাজার ৭১ কোটি রুপি, আর বেসরকারি খাতের অবদান ১৭ হাজার ৩৫৩ কোটি রুপি। রপ্তানিতে রেকর্ডের পাশাপাশি রেকর্ড হয়েছে উৎপাদনেও। গত অর্থবছরে ভারতে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন ১.৭৮ লাখ কোটি রুপি ছাড়িয়েছে। ভারত সরকার ২০২৯ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা রপ্তানি ৫০ হাজার কোটি রুপিতে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। প্রবৃদ্ধির যে ধারা, তাতে এ লক্ষ্যমাত্রা খুব অর্জনযোগ্য।

একসময় ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের নিয়ন্ত্রণ ছিল হাতেগোনা কয়েকটি বড় কম্পানির নিয়ন্ত্রণে। এখন স্টার্টআপ, এমএসএমই, বেসরকারি উৎপাদক, প্রযুক্তি সরবরাহকারী এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো সক্ষমতা বাড়াতে বড় ভূমিকা পালন করছে। ভারতের অন্তত ১৪৫টি প্রতিষ্ঠান এখন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি করে।

আগে ভারত কেবল বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট বা ছোটখাটো যন্ত্রাংশ রপ্তানি করত। এখন সে তালিকায় যুক্ত হয়েছে হাইটেক ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, আকাশ মিসাইল সিস্টেম, অ্যাডভান্সড লাইট হেলিকপ্টার, প্রতিরক্ষা ইলেকট্রনিক্স, সফটওয়্যার, কামান, রকেট লঞ্চার, নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ও ভেসেল, সামরিক নজরদারি ব্যবস্থা, রাডার, সেন্সরসহ উচ্চপ্রযুক্তির বহুমুখী সামগ্রী। 

রপ্তানিতে রেকর্ড হলেও ভারতের সামগ্রিক রপ্তানিতে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের অবদান এখনো সামান্যই। কিন্তু সংখ্যার চেয়ে এখানে কৌশলগত গুরুত্বটা অনেক বেশি। এই সাফল্য আসলে ভারতের প্রতিরক্ষা পণ্যের প্রতি ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক আস্থা এবং বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে ভারতের যুক্ত হওয়ার বিষয়টিকে আরো দৃঢ় করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি কেবল উৎপাদন পরিমাণের মধ্যে সীমিত রাখলে সামনের চ্যালেঞ্জ জেতা যাবে না। এখন মনোযোগ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি থেকে সরিয়ে সক্ষমতার গভীরতার দিকে নিয়ে যেতে হবে। ভারতের সবচেয়ে বড় সুযোগ এখন নিজস্ব নকশা, ইঞ্জিনিয়ারিং উৎকর্ষ, উন্নত উপকরণ এবং পরবর্তী প্রজন্মের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিকে শক্তিশালী করার মধ্যেই নিহিত।

প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন ও রপ্তানির রেকর্ড রাতারাতি হয়নি, আকাশ থেকেও পড়েনি। সরকারের ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ নীতির আওতায় নিবিড় মনোযোগ, পণ্য বৈচিত্র্য, সক্ষমতা বাড়ানোর আন্তরিক চেষ্টার হাত ধরেই এসেছে এই সাফল্য।

মার্কিন কৌশলকে উপহাস, তেলের দাম ইতিহাসের রেকর্ড বৃদ্ধি পাবে জানালেন ইরানের স্পিকার | কালের কণ্ঠ