• ই-পেপার

তেহরানে সরকারপন্থী সমাবেশস্থলের কাছে ব্যাপক বিস্ফোরণ

চীনের হয়ে যুক্তরাজ্যে গুপ্তচরবৃত্তি, ২ জনের কারাদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক
চীনের হয়ে যুক্তরাজ্যে গুপ্তচরবৃত্তি, ২ জনের কারাদণ্ড
রয়টার্স ছবি

যুক্তরাজ্যে বসবাসরত গণতন্ত্রপন্থী হংকং কর্মীদের ওপর নজরদারি চালানোর অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ব্রিটিশ আদালত। তাদের একজন ব্রিটিশ সীমান্ত বাহিনীর কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, বৃহস্পতিবার লন্ডনের ওল্ড বেইলি আদালত ৬৬ বছর বয়সী চুং বিউ ওরপে বিল ইউয়েনকে ৮ বছরের এবং ৪১ বছর বয়সী চি লেউং ওয়াই ওরপে পিটার ওয়াইকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন। তারা দুই জনেই ব্রিটিশ ও চীনা নাগরিকত্বধারী।

গত মাসে তারা বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাকে সহায়তা করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। আদালতের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের মে পর্যন্ত তারা যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত প্রভাবশালী গণতন্ত্রপন্থী হংকং ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর নজরদারি চালিয়েছিলেন।

ব্রিটিশ গণমাধ্যমের মতে, যুক্তরাজ্যে চীনের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়া প্রথম ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন ইউয়েন ও ওয়াই।

ওয়াইয়ের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ ছিল যে তিনি সীমান্ত বাহিনীর কর্মকর্তা হিসেবে নিজের দায়িত্বের অপব্যবহার করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডাটাবেসে প্রবেশ করেন এবং নজরদারির লক্ষ্যবস্তু ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করেন।

রায় ঘোষণার সময় বিচারক ববি চিমা-গ্রাব বলেন, ‘বর্তমানে যুক্তরাজ্য বিদেশি রাষ্ট্রীয় শক্তির অবিরাম, অভিযোজনক্ষম এবং প্রায়ই গোপন হস্তক্ষেপের মুখোমুখি। ফলে আধুনিক গোয়েন্দা কর্মকাণ্ড শুধু সামরিক বা সরকারি গোপন তথ্য চুরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের লক্ষ্যবস্তু করার মাধ্যমেও পরিচালিত হতে পারে।’

লন্ডন কাউন্টার টেররিজম পুলিশের প্রধান কমান্ডার হেলেন ফ্লানাগান বলেন, অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ড ছিল সত্যিই ‘শীতল আতঙ্ক’ সৃষ্টি করার মতো।

তার ভাষায়, ‘তারা যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত গণতন্ত্রপন্থী কর্মীদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করছিল। এসব ব্যক্তি কেবল হংকং ও চীনা সরকারের নীতির বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করছিলেন।’

লন্ডনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস মামলাটিকে ‘আইনের অপব্যবহার’ করে পরিচালিত একটি রাজনৈতিক পদক্ষেপ বলে আখ্যা দিয়েছে। জবাবে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ বলছে, বিদেশি প্রভাব ও গুপ্তচরবৃত্তির বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় তারা কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে।

ইইউ পররাষ্ট্রনীতি প্রধানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করল ইসরায়েল

অনলাইন ডেস্ক
ইইউ পররাষ্ট্রনীতি প্রধানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করল ইসরায়েল
সংগৃহীত ছবি

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাসের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার। তার অভিযোগ, কালাস ইসরায়েলকে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক বর্ণবাদী (অ্যাপার্টহাইড) শাসনের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে যে মেক্সিকো সফরের সময় গিদিওন সার ইসরায়েলকে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী শাসনের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গিদিওন সার বলেন, ‘বিশ্বের একমাত্র ইহুদি রাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র গণতান্ত্রিক দেশ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে করা এই অপবাদ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তার (কাজা কালাস) সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ রাখা ছাড়া আমার আর কোনো বিকল্প নেই।’

প্রসঙ্গত, কাজা কালাসের মে মাসে মেক্সিকো সফরকে ঘিরে প্রকাশিত বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিবেদনের পর এই বিতর্কের সূত্রপাত  হয়। এসব প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তিনি ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরায়েলের আচরণের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অ্যাপার্টহাইড ব্যবস্থার তুলনা করেছিলেন।

সার বলেন, কয়েকজন ইউরোপীয় কর্মকর্তা প্রকাশ্যে ওই মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তবে কালাস এখন পর্যন্ত এসব প্রতিবেদনের সত্যতা অস্বীকার বা ব্যাখ্যা করেননি।

তিনি বলেন, ‘আমি যা বলেছি, সেটাই করছি। তিনি এই অপবাদ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আমি তার সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করছি।’

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ বেড়েছে ৪১ গুণ

অনলাইন ডেস্ক
সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ বেড়েছে ৪১ গুণ
সংগৃহীত ছবি

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকায়। যার মধ্যে ২০২৫ সালে জমা হয়েছে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা বেশি। 

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সাল নাগাদ ব্যক্তি ও ব্যাংক কর্তৃক সুইস ব্যাংকে রাখা বাংলাদেশি অর্থের পরিমাণ ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮৩৪.২ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ (প্রায় ১২ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা)-তে পৌঁছেছে, যা এযাবৎকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। 

একইসঙ্গে, এই পরিসংখ্যানটি গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং ২০২৪ সালে রেকর্ডকৃত ৫৯০ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ থেকে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। 

এর আগে ২০২১ সালে রেকর্ড ৮৭১.১ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ-তে পৌঁছে। যেটি ছিল দেশের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ। 

৮০ বছরের পুরনো ধারায় আটকা জাপানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা

অনলাইন ডেস্ক
৮০ বছরের পুরনো ধারায় আটকা জাপানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা
সংগৃহীত ছবি

পূর্ব এশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অত্যন্ত উন্নত ও প্রযুক্তিনির্ভর দ্বীপ রাষ্ট্র জাপান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গত ৮০ বছরে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে। এ অবস্থায় আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশটি নজর এখন প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদারে।

কিন্তু এ ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিয়েছে আট দশক আগের দেশটির সংবিধানের একটি ধারা নিয়ে। যেখানে রাষ্ট্রীয় অধিকার থেকে যুদ্ধ বা এর সক্ষমতাকে পুরোপুরি আলাদা করা হয়েছে। এ নিয়ে সংবিধান সংশোধনের বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি বলেছেন, ‘আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং নতুন কোনো যুদ্ধ প্রতিরোধে দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।’ 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে অনুসরণ করা সংবিধানের শান্তিবাদী নীতির কিছু দিক পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। কোইজুমি বলেন, ‘বহুস্তরীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এই অঞ্চলে নতুন কোনো যুদ্ধ প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারই অংশ হিসেবে রয়েছে—প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জোটকে আরও শক্তিশালী করা এবং সমমনা দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণ করা।

অস্ত্র রপ্তানিতে ঐতিহাসিক পরিবর্তন

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিরক্ষা নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে জাপান। কয়েক দশক ধরে কার্যকর থাকা অস্ত্র রপ্তানি সংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল করার ফলে এখন দেশটি প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ ১৭টি অংশীদার দেশের কাছে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রাণঘাতী অস্ত্র বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারছে।

কোইজুমি জানান, অস্ট্রেলিয়া ইতোমধ্যে জাপানি যুদ্ধজাহাজ বেছে নিয়েছে। এছাড়া ফিলিপাইনের সঙ্গে ব্যবহৃত ডেস্ট্রয়ার (দীর্ঘ সহনশীল যুদ্ধজাহাজ) সরবরাহ নিয়ে আলোচনা চলছে। শুধু তাই নয়, ইন্দোনেশিয়া ও নিউজিল্যান্ডও জাপানি যুদ্ধজাহাজে আগ্রহ দেখিয়েছে।

তার ভাষায়, ‘ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও সম্পদ বিনিময়ের এমন চিত্র আমরা আগে কখনো দেখিনি।’

টোকিওর কৌশলগত বড় চ্যালেঞ্জ চীন 

জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সাম্প্রতিক শ্বেতপত্রে চীনের সামরিক তৎপরতাকে দেশের জন্য সবচেয়ে বড় ‘কৌশলগত চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বিশেষ করে তাইওয়ানকে ঘিরে উত্তেজনা এবং পূর্ব চীন সাগরের সেনকাকু (চীনের ভাষায় ‘দিয়াওইউ’) দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে বিরোধ টোকিওর উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

সেনকাকু দ্বীপ

তবে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও জাপান বেইজিংয়ের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যেতে চায় বলেও জানান কোইজুমি। তিনি বলেন, ‘জাপান সবসময় আলোচনার জন্য উন্মুক্ত। আমরা সেই বার্তা অব্যাহতভাবে দিয়ে যাব।’

সংবিধান সংশোধনের অপেক্ষা

প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সরকার জাপানের সংবিধানের বহুল আলোচিত নবম অনুচ্ছেদ সংশোধনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী এই অনুচ্ছেদে যুদ্ধকে রাষ্ট্রীয় অধিকার হিসেবে ত্যাগ করার কথা বলা হয়েছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে জাপান একবারও তার সংবিধান সংশোধন করেনি উল্লেখ করে কোইজুমি বলেন, ‘গত ৮০ বছরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলেছে। শান্তি বজায় রাখতে হলে আমাদেরও সেই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে।’

সংশোধন বিতর্ক

প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বে জাপানের সংবিধান সংশোধন বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে এই উদ্যোগ জাপানের রাজনীতিতে নতুন নয়। 

এর আগে ১৯৫০-এর দশকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নোবুসুকে কিশি জাপানের জন্য আরও ‘স্বাভাবিক’ সামরিক অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০০০-এর দশকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী জুনিচিরো কোইজুমিও সংবিধান সংশোধনের সমর্থন করেন এবং বিশেষ করে শান্তিবাদী অনুচ্ছেদ ৯ পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে, যিনি নোবুসুকে কিশির নাতি, ক্ষমতায় থাকাকালে সংবিধানের তথাকথিত শান্তিবাদী ধারা সংশোধনের অন্যতম প্রধান প্রবক্তা হয়ে ওঠেন। 

তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, তাকাইচির আমলে এই প্রচেষ্টা আরও দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে, যার ফলে দেশজুড়ে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভগুলোর কিছু দেখা গেছে।

এসডিএফের স্বীকৃতি ও জটিলতা

সাক্ষাৎকারে ৪৫ বছর বয়সী কোইজুমি বলেন, জাপানের সেলফ-ডিফেন্স ফোর্সেসের (এসডিএফ) সাংবিধানিক অবস্থান স্পষ্ট করা প্রয়োজন। আইনগত ও রাজনৈতিকভাবে জাপান এসডিএফকে সামরিক বাহিনী হিসেবে অভিহিত না করলেও বাস্তবে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ সামরিক শক্তি হিসেবে কাজ করে।

কোইজুমি বলেন, ‘এসডিএফ যেন গর্ব ও মর্যাদার সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারে, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বর্তমান কঠিন নিরাপত্তা পরিবেশে জাপানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাও শক্তিশালী থাকতে হবে।’

তবে সমালোচকদের মতে, এসডিএফকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া বা এর ভূমিকা সম্প্রসারণ করা হলে সংবিধানের শান্তিবাদী চেতনা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। আবার কেউ মনে করেন, সরকারের নিরাপত্তা লক্ষ্য অর্জনের জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন নেই।

ইনস্টিটিউট অব জিওইকোনমিকসের জ্যেষ্ঠ গবেষক এবং সামরিক কৌশল বিশ্লেষক হিরোহিতো ওগি বিবিসিকে বলেন, ‘চীনের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক অভিযান পরিচালনার জন্য নবম অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রয়োজন নেই। তাই এটি সামরিক প্রয়োজনের চেয়ে বেশি রাজনৈতিক এজেন্ডা।’

এদিকে কোইজুমি বলেন, ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) সংবিধান সংশোধনের পক্ষে থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জাপানের জনগণের হাতেই রয়েছে। 

দ্বিগুণ প্রতিরক্ষা ব্যয়

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন মিত্র দেশগুলোকে নিজেদের প্রতিরক্ষায় আরও বেশি ব্যয় করার আহ্বান জানানোর পর জাপানও সামরিক ব্যয় বাড়িয়েছে।

২

প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির সরকার প্রতিরক্ষা বাজেট জিডিপির ২ শতাংশে উন্নীত করেছে, যা যুদ্ধ-পরবর্তী দীর্ঘদিনের মানদণ্ডের দ্বিগুণ।

এই অর্থ নতুন ক্ষেপণাস্ত্র, স্থল ও পানির নিচে পরিচালিত ড্রোন এবং অন্যান্য আধুনিক সামরিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করা হবে।

নিজেদের নির্ভরশীলতা

জাপানে বর্তমানে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র-জাপান নিরাপত্তা জোট এখনও দেশটির প্রতিরক্ষার মূল ভিত্তি।

তবে কোইজুমি মনে করেন, জাপানকে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের ভূমিকাও শক্তিশালী করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘জাপান এই অঞ্চলের নিরাপত্তায় নিজস্ব ও স্বতন্ত্র অবদান রাখতে পারে। এটি আমাদের দেশ, আর আমাদেরই এটি রক্ষা করতে হবে।’

তেহরানে সরকারপন্থী সমাবেশস্থলের কাছে ব্যাপক বিস্ফোরণ | কালের কণ্ঠ