• ই-পেপার

ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর ‘প্রমাণ পায়নি’ রাশিয়া

বিমানের বিপজ্জনক টার্বুলেন্স ১৫ সেকেন্ড আগেই শনাক্ত করবে নতুন এআই প্রযুক্তি

অনলাইন ডেস্ক
বিমানের বিপজ্জনক টার্বুলেন্স ১৫ সেকেন্ড আগেই শনাক্ত করবে নতুন এআই প্রযুক্তি
সংগৃহীত ছবি

চলন্ত বিমানে সবচেয়ে বিপজ্জনক ধরনের টার্বুলেন্স বা বায়ুপ্রবাহের অস্বাভাবিক পরিবর্তন আগেই শনাক্ত করার জন্য নতুন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি তৈরি করেছেন গবেষকরা। নতুন এই প্রযুক্তি পাইলটদের সম্ভাব্য ঝুঁকির অন্তত ১৫ সেকেন্ড আগে সতর্কবার্তা দিতে সক্ষম হবে বলে দাবি করা হয়েছে।

চীনের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শিয়াওওয়েই ইউয়ে এই নতুন নিরাপত্তা পূর্বাভাস মডেল তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন। গবেষকদের মতে, প্রযুক্তিটিতে জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং উড্ডয়ন গতিবিদ্যার বিভিন্ন নীতি একসঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে।

গবেষণার ফলাফল গত ৯ জুন আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী ‘পিএনএএস নেক্সাস’-এ প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষক দল মূলত ‘উইন্ড শিয়ার’ নামে পরিচিত অত্যন্ত বিপজ্জনক এক ধরনের টার্বুলেন্স নিয়ে কাজ করেছে। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, অল্প দূরত্বের মধ্যে বাতাসের গতি বা দিক হঠাৎ ও অনিয়মিতভাবে পরিবর্তিত হলে উইন্ড শিয়ার তৈরি হয়।

এই পরিস্থিতিতে বিমান হঠাৎ ভারসাম্য হারাতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে বিমান নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন হয়ে পড়ে। চরম পরিস্থিতিতে এটি দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২২ সালে বিশ্বজুড়ে ঘটে যাওয়া বিমান দুর্ঘটনার প্রায় ১৮ শতাংশের পেছনে উইন্ড শিয়ার ভূমিকা রেখেছিল। ফলে বিমান চলাচলের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটি দীর্ঘদিন ধরেই বড় উদ্বেগের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই ঝুঁকি কমাতে অধ্যাপক শিয়াওওয়েই ইউয়ের নেতৃত্বাধীন গবেষক দল যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার ফ্লাইট তথ্য ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে।

আরো পড়ুন
দাঁতের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে দাঁত সোজা করা কি বৈধ

দাঁতের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে দাঁত সোজা করা কি বৈধ

 

গবেষকদের দাবি, নতুন এই এআই প্রযুক্তি উইন্ড শিয়ার তৈরি হওয়ার অন্তত ১৫ সেকেন্ড আগে সম্ভাব্য ঝুঁকির পূর্বাভাস দিতে পারে। ফলে পাইলটরা জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য মূল্যবান কিছু সময় হাতে পাবেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উড্ডয়নের সময় কয়েক সেকেন্ডও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাই ১৫ সেকেন্ড আগাম সতর্কতা পেলে পাইলটরা প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে এবং বিমানকে নিরাপদ রাখতে আরো ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পারবেন।

গবেষণায় আরো বলা হয়েছে, বাস্তব আবহাওয়ার তথ্যের সঙ্গে তুলনা করে দেখা গেছে, এই প্রযুক্তির ভুলের হার ৫ শতাংশেরও কম। ফলে এর নির্ভুলতা বেশ আশাব্যঞ্জক বলে মনে করছেন গবেষকরা।

গবেষক দলের ভাষায়, উড্ডয়ন গতিবিদ্যার বৈজ্ঞানিক নীতির সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সমন্বয় করে প্রশিক্ষণ দিলে ভবিষ্যতে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা আরো উন্নত করা সম্ভব হবে।

ফিলিপাইনের ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬

অনলাইন ডেস্ক
ফিলিপাইনের ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬
ছবি : রয়টার্স

ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬ জনে দাঁড়িয়েছে। আজ ১০ জুন দক্ষিণ ফিলিপাইনে উদ্ধারকারীরা একটি ধসে পড়া সুপারমার্কেটের ধ্বংসস্তূপ থেকে একটি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। গত ৮ জুন ফিলিপাইনের মিন্দানাও উপকূলের কাছে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে।

জাতীয় দুর্যোগ সংস্থা আজ (১০ জুন) মৃতের সংখ্যা বাড়িয়ে ৪৫ করেছে। অন্যদিকে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে চার থেকে বেড়ে ১৭ হয়েছে। তবে বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তর নিশ্চিত করেছে, এই মৃতের সংখ্যার মধ্যে দেলুভিওর নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল না। 

ভূমিকম্পে ভবন ধসে পড়ে, ভূমিধস হয়। এ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপটির একটি বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সুনামির সতর্কতা জারি করা হয়।৩৯ বছর বয়সী জোয়ি ডেলুভিও জেনারেল সান্তোস সিটির একটি সুপারমার্কেটের দুইজন কর্মচারীর মধ্যে একজন ছিলেন। সেখানে ক্রমাগত আফটারশকের হুমকি সত্ত্বেও উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছিল।

স্থানীয় উদ্ধারকারী মিশেল চুয়া এএফপিকে জানান, ‘উদ্ধার অভিযানের শুরুতে প্রাণ শনাক্তকারী যন্ত্র একটি ‘দুর্বল স্পন্দন’ সনাক্ত করেছিল, কিন্তু যখন তারা মৃতদেহটির কাছে পৌঁছায়... তখন প্রাণের কোনো চিহ্ন ছিল না।’

চুয়া আরো জানান, ডেলুভিওর মৃতদেহ দুটি বিমের মাঝে চাপা পড়া অবস্থায় পাওয়া গেছে।

বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা রাফায়েলিতো আলেহান্দ্রো একটি রেডিও সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘নিহতরা অধিকাংশই দাভাও অক্সিডেন্টাল প্রদেশের বাসিন্দা ছিলেন এবং তাদের বেশিরভাগই ভূমিধস বা ভবন ধসে নিহত হয়েছেন।’

‘সাউদার্ন লাইটস’-এর দুর্লভ দৃশ্য ধারণ করলেন স্পেসএক্সের নভোচারী

অনলাইন ডেস্ক
‘সাউদার্ন লাইটস’-এর দুর্লভ দৃশ্য ধারণ করলেন স্পেসএক্সের নভোচারী
ছবি: রয়টার্স

পৃথিবী থেকে অনেক ওপরে মহাকাশে অবস্থানরত একটি মহাকাশযান থেকে দক্ষিণ মেরুর আলো বা ‘সাউদার্ন লাইটস’-এর দৃষ্টিনন্দন একটি টাইম-ল্যাপস ভিডিও ধারণ করেছেন নাসার নভোচারী জেসিকা মেইর। পরে তিনি ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে তা দ্রুত ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

বর্তমানে জেসিকা মেইর স্পেসএক্সের ড্রাগন ক্যাপসুলে একটি মহাকাশ মিশনে কাজ করছেন। সপ্তাহান্তে মহাকাশযানটি পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরতে থাকা অবস্থায় তিনি এই বিরল ও অসাধারণ আলোর দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেন।

ভিডিও প্রকাশের পর জেসিকা মেইর জানান, প্রকৃতির এই অসাধারণ আলোর খেলা তাকে মুগ্ধ করেছে। তার মতে, এর আগে তিনি অনেকবার 'অরোরা' বা মেরু অঞ্চলের আলো দেখেছেন, কিন্তু এবারের অভিজ্ঞতা ছিল একেবারেই ভিন্ন।

তিনি বলেন, সবুজ রঙের উজ্জ্বল আলোর রেখাগুলো যেন আকাশজুড়ে নাচছিল। সেগুলো বাঁক নিতে নিতে মহাকাশযানের ঠিক নিচ দিয়ে চলে যাচ্ছিল। এমন দৃশ্য দেখে তিনি বিস্মিত ও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

দক্ষিণ মেরুর এই আলোকচ্ছটাকে ‘অরোরা অস্ট্রালিস’ নামেও পরিচিত। সম্প্রতি সূর্য থেকে ছুটে আসা শক্তিশালী সৌরঝড়ের প্রভাবে পৃথিবীর আকাশে এই আলোর সৃষ্টি হয়।

বিজ্ঞানীরা জানান, সূর্য নিয়মিতভাবে মহাকাশে বিপুল পরিমাণ চার্জযুক্ত কণা ছুড়ে দেয়। এসব কণা পৃথিবীর দিকে এলে গ্রহটির চৌম্বক ক্ষেত্র সেগুলোকে উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর দিকে পরিচালিত করে।

পরে কণাগুলো পৃথিবীর উপরের বায়ুমণ্ডলে থাকা বিভিন্ন গ্যাসের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। এর ফলে গ্যাসগুলো জ্বলে ওঠে এবং আকাশজুড়ে সবুজ, লাল বা বেগুনি রঙের চলমান আলোর পর্দার মতো এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য তৈরি হয়।

উত্তর ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার অনেক অঞ্চলে নর্দার্ন লাইটস বা উত্তর মেরুর আলো প্রায়ই দেখা যায়। তবে দক্ষিণ মেরুর আলো দেখা তুলনামূলকভাবে অনেক কঠিন।

কারণ, অরোরা অস্ট্রালিস সাধারণত অ্যান্টার্কটিকা এবং দক্ষিণ গোলার্ধের বিশাল সমুদ্র অঞ্চলের আকাশে দেখা যায়। এসব এলাকায় মানুষের বসবাস খুবই সীমিত। ফলে পৃথিবীর মাটি থেকে এই দৃশ্য দেখার সুযোগ খুব কম মানুষেরই হয়।

অন্যদিকে মহাকাশে থাকা নভোচারীরা পৃথিবীর চারপাশে ঘুরতে ঘুরতে এ ধরনের বিরল প্রাকৃতিক ঘটনা অনায়াসেই দেখতে পারেন। ভিডিও ধারণের সময় স্পেসএক্স ড্রাগন ক্যাপসুলটি প্রতি ঘণ্টায় হাজার হাজার মাইল বেগে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছিল।

জেসিকা মেইরের প্রকাশিত ভিডিওটি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটির মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের এক অনন্য সৌন্দর্য নতুনভাবে দেখার সুযোগ পেয়েছেন।

দক্ষিণ আফ্রিকায় এলোপাতাড়ি গুলি, নিহত ১২

অনলাইন ডেস্ক
দক্ষিণ আফ্রিকায় এলোপাতাড়ি গুলি, নিহত ১২

দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ জানিয়েছে, দেশটির বৃহত্তম শহর জোহানেসবার্গের একটি এলাকায় গণগুলিবর্ষণে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো ৯ জন আহত হয়েছেন। 

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার গভীর রাতে জোহানেসবার্গের ক্লিভল্যান্ড এলাকার একটি বস্তিতে এই হামলা চালানো হয়। হামলাকারীদের ধরতে পুলিশ তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।

এক বিবৃতিতে পুলিশ জানায়, একটি সাদা টয়োটা কোয়ান্টাম গাড়িতে করে ১০ জনের বেশি সন্দেহভাজন ব্যক্তি একটি পেট্রল স্টেশনের কাছে আসে। এরপর তারা বস্তির দুটি প্রবেশপথ দিয়ে ভেতরে ঢুকে বিভিন্ন স্থানে বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। হামলার পর সন্দেহভাজনরা একই গাড়িতে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

পুলিশ আরো জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ১১টা ১০ মিনিটের দিকে চলমান গোলাগুলির খবর পেয়ে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। আহতদের চিকিৎসার জন্য জরুরি চিকিৎসাসেবাও পাঠানো হয়।

বিশ্বে হত্যাকাণ্ডের উচ্চহারের দেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা অন্যতম। দেশটিতে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৬০ জন মানুষ নিহত হন। বিশেষ করে বস্তি এলাকাগুলোতে গোলাগুলির ঘটনা প্রায়ই ঘটে। যা অনেক ক্ষেত্রে, গ্যাং সহিংসতা বা ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে ঘটে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলেই আটজন পুরুষ ও তিনজন নারী নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো একজন পুরুষ মারা যান। এ ছাড়া গুলিবিদ্ধ অন্তত ৯ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলার উদ্দেশ্য এখনো অজানা এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। এর আগে গত বছর জোহানেসবার্গের একটি ট্যাভার্নে গণগুলিবর্ষণে ৯ জন নিহত হয়েছিল।

দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রায় ৩০ লাখ বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। পাশাপাশি অন্তত সমসংখ্যক অবৈধ অস্ত্রও থাকতে পারে বলে দক্ষিণ আফ্রিকার গানওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের গিডিয়ন জউবার্টের বরাত দিয়ে পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে।

 

 

ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর ‘প্রমাণ পায়নি’ রাশিয়া | কালের কণ্ঠ