• ই-পেপার

আফগান শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন শুরু করেছে পাকিস্তান

ফিলিপাইনের স্কুলে গুলিবর্ষণ, নিহত ৩ শিক্ষার্থী

অনলাইন ডেস্ক
ফিলিপাইনের স্কুলে গুলিবর্ষণ, নিহত ৩ শিক্ষার্থী
সংগৃহীত ছবি

ফিলিপাইনের মধ্যাঞ্চলে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বন্দুক হামলায় তিনজন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরো সাতজন। সোমবার (২২ জুন) সকালে লেইতে প্রদেশের তাকলোবান শহরের একটি স্কুলে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল নয়টার দিকে সান হোসে ন্যাশনাল হাইস্কুলের ভেতরে দুই কিশোর শিক্ষার্থী হঠাৎ গুলিবর্ষণ শুরু করলে স্কুলজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্তদের বয়স ১৪ ও ১৫ বছর বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। হামলার পরপরই ঘটনাস্থল থেকে দুই কিশোরকে আটক করা হয়। বর্তমানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। যেহেতু তারা অপ্রাপ্তবয়স্ক, তাই অভিভাবকদের উপস্থিতিতেই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, গুলির শব্দ শোনার পর শিক্ষার্থীরা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে শ্রেণিকক্ষের ভেতরে ছুটে যায়। ভিডিওতে আতঙ্কিত শিক্ষার্থীদের কান্না ও চিৎকারও শোনা যায়। পুলিশ কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ইভালিন দিয়াজ বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, সহপাঠীদের বুলিং বা নির্যাতনের শিকার হওয়ার জেরে অভিযুক্তরা হামলার পথ বেছে নিতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। তিনি আরো জানান, হামলায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং কীভাবে সেগুলো স্কুল প্রাঙ্গণে আনা হয়েছে- তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অস্ত্রগুলো জব্দের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

ফিলিপাইনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাজনৈতিক সংঘাত ও লক্ষ্যভিত্তিক সশস্ত্র সহিংসতার ঘটনা প্রায়ই ঘটলেও  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন হামলার ঘটনা খুব বিরল। 

২১ হাজার কর্মী ছাঁটাই করল প্রযুক্তি জায়ান্ট 'ওরাকল'

অনলাইন ডেস্ক
২১ হাজার কর্মী ছাঁটাই করল প্রযুক্তি জায়ান্ট 'ওরাকল'
সংগৃহীত ছবি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং ব্যবসার কাঠামো নতুনভাবে সাজানোর অংশ হিসেবে গত এক বছরে বিশ্বজুড়ে প্রায় ২১ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান 'ওরাকল'। কম্পানিটির সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত ওরাকলের পূর্ণকালীন কর্মীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার। এক বছর আগে একই সময়ে কর্মীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার। অর্থাৎ এক বছরে কর্মী সংখ্যা প্রায় ১৩ শতাংশ কমেছে। ওরাকল জানিয়েছে, তাদের বিভিন্ন কার্যক্রমে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর কারণে কর্মী সংখ্যা কমানো হয়েছে। কম্পানিটি সতর্ক করে বলেছে, ভবিষ্যতেও এআই ব্যবহারের ফলে আরো কিছু পদ বিলুপ্ত হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে কর্মী সংখ্যা কমেছে। ভবিষ্যতেও এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ওরাকলের এই সিদ্ধান্ত প্রযুক্তি খাতে চলমান বড় পরিবর্তনের অংশ। বর্তমানে বিশ্বের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এআইভিত্তিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে। বিশেষ করে ডেটা সেন্টার নির্মাণ, উন্নত কম্পিউটিং ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন এআই সেবা চালুর জন্য শত শত বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হচ্ছে। এই বিনিয়োগের চাপ সামলাতে অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মী সংখ্যা কমানোর পথে হাঁটছে। সাম্প্রতিক সময়ে অ্যামাজন এবং ফেসবুকের মালিক মেটাও হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে। কর্মসংস্থান পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে প্রযুক্তি খাতে ১ লাখেরও বেশি কর্মী চাকরি হারিয়েছেন।

ওরাকল জানিয়েছে, কর্মী ছাঁটাই ও পুনর্গঠন কার্যক্রম পরিচালনা করতে গত এক বছরে তাদের প্রায় ১৮০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। এই অর্থ কর্মীদের ক্ষতিপূরণ, চাকরি ছাড়ার সুবিধা এবং পুনর্গঠন-সংক্রান্ত অন্যান্য খাতে খরচ করা হয়েছে। এর আগের অর্থবছরে একই খাতে কম্পানিটির ব্যয় ছিল ৩৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে এই ব্যয় কয়েক গুণ বেড়েছে।

কম্পানিটি স্বীকার করেছে, পুনর্গঠনের এই প্রক্রিয়ায় কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। ওরাকল বলেছে, কর্মী সংখ্যা কমানোর ফলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে দক্ষ জনবলের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এতে উৎপাদনশীলতা কমে যেতে পারে এবং ব্যবসার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পুনর্গঠনের এই উদ্যোগ কিছু ক্ষেত্রে কার্যক্রমে বিঘ্ন তৈরি করতে পারে।

বর্তমানে এআই খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ডেটা সেন্টার নির্মাণ ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রতিযোগিতায় রয়েছে ওরাকল। ওপেনএআই, মেটাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য এআই অবকাঠামো সরবরাহে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে কাজ করছে কম্পানিটি। আগেই জানা গেছে, চলতি বছরে অবকাঠামো খাতে অন্তত পাঁচ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে ওরাকল। বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি ও ওরাকলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসন বর্তমানে কম্পানিটির প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি এআই খাতে বিনিয়োগ দ্রুত বাড়াচ্ছে। 

এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর কারণে শুধু ওরাকল নয়, আরো অনেক বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কর্মী সংখ্যা কমাচ্ছে। গুগল, অ্যামাজন ও মেটা চলতি বছরে সম্মিলিতভাবে প্রায় ৬৫ হাজার কোটি ডলার এআই খাতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। অ্যামাজন জানিয়েছে, আগামী এক বছরে তারা শুধু এআই খাতেই ২ হাজার কোটি ডলার ব্যয় করবে। একই সঙ্গে কয়েক ধাপে প্রায় ৩০ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনাও রয়েছে কম্পানিটির।

এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানের কাজের ধরন বদলে যাচ্ছে। ফলে কিছু চাকরির চাহিদা কমে যাচ্ছে, আবার নতুন ধরনের দক্ষতার প্রয়োজন বাড়ছে। ফলে আগামী কয়েক বছরে প্রযুক্তি খাতে কর্মসংস্থানের ধরনে আরো বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।


 

বখাটের হেনস্তা, বিয়ের আগের দিন বাবা-মাসহ হবু কনের আত্মহত্যা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
বখাটের হেনস্তা, বিয়ের আগের দিন বাবা-মাসহ হবু কনের আত্মহত্যা
প্রতীকী ছবি

একদিন বাদেই মেয়ের বিয়ে। নানা আনন্দ আয়োজনে যখন উৎসবমুখর থাকার কথা, তখনই বাড়িটি ঢেকে গেছে শোকের চাদরে। রাতারাতি বিয়ে বাড়ি বদলে গেছে মরা বাড়িতে। বখাটের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে হবু কনে, তার বাবা-মাসহ পরিবারের তিন সদস্যই বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

সোমবার ভোররাতে ভারতের কর্ণাটকের মহীশুর জেলায় ঘটেছে মর্মান্তিক এ ঘটনা। মেয়েটির বিয়ে হওয়ার কথা ছিল আগামীকাল মানে বুধবার। খবর পেয়ে বাসা থেকে ২১ বছর বয়সী রক্ষিতা, তার পিতা শিবান্না (৫০) এবং মা নাগারথনা (৪৫) এর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারটির বাস ছিল নরসীপুরা তালুকের হালেকেম্পায়ানাহুন্ডি গ্রামে।

একই গ্রামের বাসিন্দা বখাটে উল্লাস গৌড়া রক্ষিতাকে বিয়ে করতে চেয়েছিল। কিন্তু পরিবার তাতে রাজি হয়নি। অন্যত্র বিয়ে ঠিক হওয়ার পর থেকে উল্লাস গ্রামে আজেবাজে কথা ছড়াতে থাকে। দাবি করে তার সঙ্গে রক্ষিতার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রমাণ হিসেবে ছবি ও মেসেজ আছে বলেও দাবি করেন তিনি। বখাটে উল্লাসের এই কর্মকাণ্ডে চরম মানসিক চাপ তৈরি করে একমাত্র সন্তানের বিয়ে আয়োজনে ব্যস্ত থাকা পরিবারটির ওপর। রবিবার রাতে তারা উল্লাসকে ডেকে মোবাইল থেকে ছবি ডিলিট করার অনুরোধ জানান। উল্লাস তাদের সামনে ছবি ডিলিটও করেন। কিন্তু বখাটে উল্লাস কথা রাখেনি। গোপনে মোবাইলে কিছু ছবি রেখে দিয়েছিলেন। রক্ষিতাদের বাড়ি থেকেই বেরিয়েই উল্লাস এডিট করা কিছু ছবি আর মেসেজ পাঠিয়ে দেন হবু বরের কাছে। উদ্বিগ্ন বরের পরিবারের সদস্যরা রাতেই ছুটে আসেন রক্ষিতাদের বাসায়। তারা উল্লাসের পাঠানো ছবি, মেসেজ নিয়ে তাদের জেরা করেন এবং উল্লাসের সঙ্গে রক্ষিতার সম্পর্ক নিয়ে জানতে চান।
 
উল্লাসের ধারাবাহিক হেনস্থা, বরের পরিবারের জেরা, মেয়ের ভবিষ্যত নিয়ে অনিশ্চয়তা, সামাজিক অপমান ও মর্যাদাহানীর শঙ্কা— সব মিলে প্রবল এই মানসিক চাপ আর নিতে পারেনি পরিবারটি। রাত পোহানোর আগেই বিষ খেয়ে সব দুশ্চিন্তার অবসান ঘটান পরিবারের তিন সদস্য। পুলিশ তিনজনের মরদেহের সঙ্গে একটি সুইসাউড নেটা পেয়েছে, যাতে তাদের মৃত্যুর জন্য উল্লাস গৌড়াকে দায়ী করা হয়েছে। পুলিশ উল্লাসকে গ্রেপ্তার করেছে। পুরো পরিবার এক সঙ্গে আত্মহত্যা করায় শূন্য হয়ে গেছে বাড়িটি। মর্মান্তিক এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। 
 

নেতানিয়াহুর ‘মিথ্যাচার’, লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর বাস্তবতা কী?

অনলাইন ডেস্ক
নেতানিয়াহুর ‘মিথ্যাচার’, লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর বাস্তবতা কী?
রয়টার্স ছবি

লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট। তার দাবি, বাস্তবে সেখানে ইসরায়েলি সেনাদের ওপর নতুন ধরনের অপারেশনাল সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বেনেট বলেন, তিনি সম্প্রতি দক্ষিণ লেবাননে দায়িত্ব পালন করা ইসরায়েলি সেনা ও কমান্ডারদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী তিনি জানান, হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা অবকাঠামো মেরামত, অস্ত্র সংগ্রহ এবং পুনরায় কার্যক্রম শুরু করলেও ইসরায়েলি সেনাদের তাদের ওপর গুলি চালানোর অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।

ইসরায়েলি বিমান বাহিনীও লেবাননে প্রায় পুরোপুরি অভিযান বন্ধ করে দিয়েছে বলেও দাবি করেন বেনেট।

তিনি বলেন, ‘নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ যখন বলেছিলেন যে লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে, তখন তারা সত্য বলেননি। বাস্তবতা হলো, লেবাননে আমাদের সেনাদের হাত বাঁধা।’

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে এই চুক্তি ইসরায়েলের ভেতরে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ ইসরায়েলি নাগরিক লেবাননে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। এ অবস্থায় বেনেটের মন্তব্য দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উস্কে দিয়েছে।

আফগান শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন শুরু করেছে পাকিস্তান | কালের কণ্ঠ