• ই-পেপার

ওমিক্রনের যে ৪ উপসর্গ ডেল্টা থেকে আলাদা

যুক্তরাজ্য সফরে হ্যারি-মেগান পেলেন রাজকীয় বাসভবনে থাকার প্রস্তাব

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাজ্য সফরে হ্যারি-মেগান পেলেন রাজকীয় বাসভবনে থাকার প্রস্তাব
ছবি: রয়টার্স

প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান মার্কেল আগামী মাসে সন্তানদের নিয়ে যুক্তরাজ্য সফরে যেতে পারেন। এই সফরের সময় তাদের থাকার জন্য রাজপরিবারের একটি বাসভবন ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

হ্যারি ও মেগানের (সাসেক্সের ডিউক ও ডাচেস)সঙ্গে থাকবেন তাদের দুই সন্তান। ছেলে আর্চির বয়স সাত বছর এবং মেয়ে লিলিবেটের বয়স পাঁচ বছর। চার বছর পর এই প্রথম পুরো পরিবার একসঙ্গে যুক্তরাজ্য সফরে যাচ্ছে। বিবিসি নিউজ জানিয়েছে, রাজপরিবারের একটি এস্টেটে পরিবারটির থাকার ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত হ্যারি ও মেগান সেই প্রস্তাব গ্রহণ করবেন কি না, তা জানাননি। পরিবারটির জন্য কোন রাজকীয় বাসভবন নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটিও প্রকাশ করা হয়নি। ফলে তারা কোথায় থাকবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এর আগে যুক্তরাজ্য সফরের সময় নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রিন্স হ্যারি বাকিংহাম প্যালেসে থাকার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তার মতে, বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত ভবনগুলোর একটি হওয়ায় সেখানে থাকা নিরাপত্তার দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

আগামী মাসে যুক্তরাজ্যে কয়েকটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রিন্স হ্যারির। এসব অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে ইনভিক্টাস গেমসকে ঘিরে। আহত ও অসুস্থ সামরিক সদস্যদের জন্য আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পরবর্তী আসর আগামী বছরের জুলাইয়ে ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত হবে। সেই আয়োজন শুরুর এক বছর বাকি থাকা উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগ দেবেন তিনি।

রাজপরিবার থেকে দূরে সরে যাওয়ার পরও হ্যারি ও তার পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে আগ্রহের কথা আগেই জানিয়েছিলেন। গত বছর বিবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি চান এবং তিনি একটি 'পুনর্মিলন' দেখতে চান। রাজা তৃতীয় চার্লস শেষবার সরাসরি তার নাতি-নাতনি আর্চি ও লিলিবেটকে দেখেছিলেন ২০২২ সালে। সে সময় যুক্তরাজ্যে প্রয়াত রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের প্লাটিনাম জুবিলি উদযাপন চলছিল। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাজ্য সফরের সময় প্রিন্স হ্যারি তার বাবা রাজা চার্লসের সঙ্গে ক্লারেন্স হাউসে সাক্ষাৎ করেন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির পর সেটিই ছিল বাবা-ছেলের প্রথম সরাসরি বৈঠক।

তবে আসন্ন সফরে রাজা চার্লস তার ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতি-নাতনিদের সঙ্গে দেখা করবেন কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বাকিংহাম প্যালেস। তাদের ভাষ্য, এটি পরিবারের ব্যক্তিগত বিষয়। এদিকে সফরের সময় কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে, সেটিও এখনো চূড়ান্ত হয়নি। জানা গেছে, বাকিংহাম প্যালেস থেকে আলাদা কোনো নিরাপত্তা সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়নি। অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রয়োজন হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেবে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ফলে হ্যারি ও তার পরিবারের সফরকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কী হবে, তা এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

ডোমিনিকান রিপাবলিকে বিলাসবহুল রিসোর্টে আগুন, ইতালীয় পর্যটকের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
ডোমিনিকান রিপাবলিকে বিলাসবহুল রিসোর্টে আগুন, ইতালীয় পর্যটকের মৃত্যু
ছবি : রয়টার্স

ডোমিনিকান রিপাবলিকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি বিলাসবহুল সমুদ্রতীরবর্তী রিসোর্ট প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। এটি ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত একটি রাষ্ট্র। শুক্রবার (১৯ জুন) ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় প্রায় এক হাজার ৭০০ পর্যটককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আগুনে একজন ইতালীয় পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া কয়েকজন পর্যটক আহত হয়েছেন এবং তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। 

ক্ষতিগ্রস্ত রিসোর্টটি হলো ভিভা ডোমিনিকাস বিচ বাই উইন্ডহাম, যা দেশটির দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলীয় পর্যটনকেন্দ্র বায়াহিবেতে অবস্থিত। এটি দেশি-বিদেশি, বিশেষ করে মার্কিন পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় একটি গন্তব্য। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের কারণে প্রায় এক হাজার ৬৯০ জন পর্যটককে রিসোর্ট থেকে অন্য হোটেল ও নিকটবর্তী আবাসনকেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুন লাগার কারণ এখনও তদন্ত করা হচ্ছে।

দেশটির জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রবল বাতাস এবং রিসোর্টের ছাদের একটি অংশ খড় দিয়ে তৈরি হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।তবে ভিভা উইন্ডহামের পাশের রিসোর্ট ডোমিনিকাস প্যালেস আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। সেখানে স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

দক্ষিণ আফ্রিকায় এইচআইভি কর্মসূচিতে অর্থ সহায়তা বন্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক
দক্ষিণ আফ্রিকায় এইচআইভি কর্মসূচিতে অর্থ সহায়তা বন্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র
সংগৃহীত ছবি

দক্ষিণ আফ্রিকায় এইচআইভি ও এইডস প্রতিরোধে চলমান বিভিন্ন কর্মসূচিতে আর অর্থ সহায়তা দেবে না যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সরকার এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। এর ফলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এইচআইভি আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর দেশটির স্বাস্থ্য খাত নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় ৮০ লাখের বেশি মানুষ এইচআইভি নিয়ে বসবাস করছেন। বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় এই সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বহু বছর ধরে এই রোগ মোকাবিলায় দেশটিকে বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ইঙ্গিত দিয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে চলমান রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিরোধের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শ্বেতাঙ্গ সংখ্যালঘু আফ্রিকানার সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দক্ষিণ আফ্রিকা ব্যর্থ হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র যে অভিযোগ করে আসছে, তার সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের সম্পর্ক রয়েছে। 

তবে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার বারবার এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির দাবি, আফ্রিকানারদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বৈষম্য বা নিপীড়ন চলছে না। দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তাদের আগে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে তারা দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে স্বাস্থ্য কর্মসূচি পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। ২০২৫ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার এইচআইভি প্রতিরোধ কর্মসূচিতে বছরে প্রায় ৪০ কোটি ডলার সহায়তা দিত যুক্তরাষ্ট্র। এই অর্থ দেওয়া হতো ‘প্রেসিডেন্টস ইমার্জেন্সি প্ল্যান ফর এইডস রিলিফ’ বা পিইপিএফএআর কর্মসূচির মাধ্যমে। এই কর্মসূচি বহু বছর ধরে আফ্রিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এইচআইভি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর দুই দেশের সম্পর্ক আরো খারাপ হতে শুরু করে। ক্ষমতা গ্রহণের পর ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে অভিযোগ করেন, দক্ষিণ আফ্রিকার কিছু সরকারি নীতি সমান সুযোগের পরিবেশ নষ্ট করছে। তিনি আরো দাবি করেন, দেশটির নীতিমালা বর্ণগত কারণে কিছু জমির মালিকের বিরুদ্ধে বৈরী পরিস্থিতি তৈরি করছে। দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের মতে, বর্ণবাদী শাসনের সময় তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতে কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নীতি প্রয়োজন। ট্রাম্পের ওই নির্বাহী আদেশে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার করা মামলার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক নিয়েও সমালোচনা করা হয়। হোয়াইট হাউস বলেছে, দক্ষিণ আফ্রিকার এসব কর্মকাণ্ডকে তারা ‘অন্যায় ও অনৈতিক’ মনে করে। এ কারণেই দেশটিকে আর সহায়তা দেওয়া হবে না। ট্রাম্প আরো দাবি করেছেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গদের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যা’ চলছে। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও গবেষকও এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছেন। এই দাবির ভিত্তিতে ট্রাম্প প্রশাসন আফ্রিকানারদের জন্য একটি বিশেষ শরণার্থী কর্মসূচি চালু করেছে। 

আফ্রিকানাররা মূলত পশ্চিম ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠী, যারা ১৭শ শতকে দক্ষিণ আফ্রিকায় বসতি স্থাপন করেছিল। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া শরণার্থীদের মধ্যে তারাই অন্যতম প্রধান গোষ্ঠী। দক্ষিণ আফ্রিকার এইচআইভি কর্মসূচির মোট ব্যয়ের প্রায় ২০ শতাংশ আসত পিইপিএফএআরের অর্থ থেকে। গত বছরের অক্টোবরে একটি ‘সেতুবন্ধন পরিকল্পনার’ মাধ্যমে এই অর্থায়ন সাময়িকভাবে চালু রাখা হয়েছিল। তবে এখন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর নিশ্চিত করেছে, এই অর্থায়ন ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা হবে এবং শেষ পর্যন্ত বন্ধ করা হবে। পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকা যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত উদ্বেগগুলো দূর করতে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। তাই অর্থ সহায়তা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় দক্ষিণ আফ্রিকা নিজেদের সক্ষমতার ওপর আরো বেশি নির্ভরশীল হোক এবং মার্কিন অর্থের ওপর নির্ভরতা কমাক। তার মতে, দক্ষিণ আফ্রিকা একটি মধ্যম আয়ের দেশ এবং নিজেদের স্বাস্থ্য কর্মসূচি পরিচালনা করার মতো সক্ষমতা তাদের রয়েছে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এইচআইভি আক্রান্তদের জীবন রক্ষাকারী অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ওষুধের অর্থায়ন সরাসরি এই সহায়তার ওপর নির্ভরশীল নয়। এসব ওষুধের বেশির ভাগ অর্থই দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার নিজে বহন করে। 

এদিকে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিভিন্ন উদ্যোগও সফল হয়নি। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার বৈঠক। সেই বৈঠকে ট্রাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে রামাফোসার মুখোমুখি হন। এ ছাড়া গত নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনেও অংশ নেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বের বৃহৎ অর্থনীতির দেশগুলোর এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আয়োজক ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দুই দেশের সম্পর্কে বাড়তে থাকা দূরত্বেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। আর এর প্রভাব শুধু কূটনীতিতেই নয়, স্বাস্থ্য খাতেও পড়তে পারে।
 

দাস বাণিজ্যের জন্য আনুষ্ঠানিক ক্ষমা ও ক্ষতিপূরণ চায় আফ্রিকা-ক্যারিবীয় দেশ

অনলাইন ডেস্ক
দাস বাণিজ্যের জন্য আনুষ্ঠানিক ক্ষমা ও ক্ষতিপূরণ চায় আফ্রিকা-ক্যারিবীয় দেশ
ছবি : রয়টার্স

আফ্রিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশগুলো আটলান্টিক মহাসাগর পেরিয়ে পরিচালিত ঐতিহাসিক দাস বাণিজ্য থেকে লাভবান দেশগুলোর কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। ঘানায় অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের শেষে এই দাবি জানানো হয়। 

সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল দাসপ্রথা ও দাস বাণিজ্যের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য ক্ষতিপূরণভিত্তিক ন্যায়বিচারের দাবি আরো জোরালো করা। এর আগে গত মার্চ মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব গৃহীত হয়। ওই প্রস্তাবে আটলান্টিক দাস বাণিজ্যকে ‘মানবতার বিরুদ্ধে সবচেয়ে ভয়াবহ অপরাধ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। পাশাপাশি সদস্য দেশগুলোকে একটি আন্তর্জাতিক ক্ষতিপূরণ তহবিলে অর্থ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। ইতিহাসবিদদের তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চদশ থেকে উনিশ শতকের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ থেকে ১ কোটি ৫০ লাখ আফ্রিকান নারী, পুরুষ ও শিশুকে জোর করে ধরে নিয়ে আমেরিকায় পাঠানো হয়েছিল। সেখানে তাদের দাস হিসেবে কাজ করতে বাধ্য করা হয়। এই দাস শ্রমের ওপর ভিত্তি করেই বহু দেশ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিপুল সম্পদ অর্জন করে। 

ঘানার রাজধানী আক্রায় অনুষ্ঠিত ‘নেক্সট স্টেপস’ সম্মেলনে ১৯ দফার একটি ক্ষতিপূরণ পরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়েছে। পরিকল্পনায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য ব্যাপক ঋণ মওকুফের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এ ছাড়া দাস বাণিজ্যের সময় লুট হয়ে যাওয়া সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক সম্পদ ফেরত দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। পরিকল্পনায় একটি বৈশ্বিক ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠনের কথাও বলা হয়েছে। তবে এই তহবিলে কত অর্থ থাকবে বা কোন দেশ কত অর্থ দেবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি। 

সম্মেলনে অংশ নেওয়া নেতারা বলেন, দাসপ্রথার প্রভাব সবার ওপর সমান ছিল না। বিশেষ করে আফ্রিকান নারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছেন। তাই ক্ষতিপূরণ পরিকল্পনায় তাদের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সম্মেলনের নেতারা দাস বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত দেশগুলোর প্রতি ‘পূর্ণ, আনুষ্ঠানিক এবং নিঃশর্ত ক্ষমা’ চাওয়ার আহ্বান জানান।

ঘানার প্রেসিডেন্ট জন দ্রামানি মাহামা সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, ‘ইতিহাস আমাদের অপরাধবোধ বহন করতে বলে না, কিন্তু দায়িত্ব নিতে বলে।’

সম্মেলনে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ। তিনি বলেন, দাস বানানো মানুষদের মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। তাদের পণ্যের মতো কেনাবেচা করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, দাসপ্রথার ক্ষতিপূরণকে শুধু অর্থ প্রদানের বিষয় হিসেবে দেখা উচিত নয়। তার মতে, একটি চেক লিখে দিয়েই এই ইতিহাসের দায় শেষ হয়ে যায় না।

মার্চ মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এ বিষয়ে ভোট হয়। সেখানে ১২৩টি দেশ এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও আর্জেন্টিনা আটলান্টিক দাস বাণিজ্যকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিপক্ষে ভোট দেয়। এ ছাড়া যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশসহ মোট ৫২টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। তবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কোনো প্রস্তাব আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়। ফলে এই প্রস্তাবের ভিত্তিতে কোনো দেশকে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করা যাবে না।

যুক্তরাজ্য দীর্ঘদিন ধরেই দাসপ্রথার জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। দেশটির অবস্থান হলো, অতীতে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের জন্য বর্তমান প্রজন্ম বা বর্তমান প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা যায় না। এ বিষয়ে জাতিসংঘে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত জেমস কারিউকি বলেন, কোনো একটি ঐতিহাসিক নৃশংসতাকে অন্যটির চেয়ে বেশি বা কম গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা উচিত নয়। একই ধরনের অবস্থান নেয় যুক্তরাষ্ট্রও। জাতিসংঘে দেশটির রাষ্ট্রদূত বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে যে ঘটনাগুলো সংঘটিত হওয়ার সময় বেআইনি হিসেবে বিবেচিত ছিল না, সেসব ঘটনার জন্য বর্তমানে ক্ষতিপূরণ দাবি করার কোনো আইনগত ভিত্তি রয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র মনে করে না। তিনি আরো বলেন, জাতিসংঘের প্রস্তাবে ‘ক্ষতিপূরণভিত্তিক ন্যায়বিচার’ কারা পাবে, সেটিও স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়নি।

এখন পর্যন্ত বিশ্বের কোনো দেশই দাস বানানো আফ্রিকানদের বংশধর বা ক্ষতিগ্রস্ত আফ্রিকান, ক্যারিবীয় ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষতিপূরণ দেয়নি। তবে ইতিহাস বলছে, উনিশ শতকে অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছিল দাস মালিকদের। যাদের দাস হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল, তারা কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যও রয়েছে। দাসপ্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পর ১৮৩০-এর দশকে দেশটি দাস মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেয়। বর্তমান মূল্যে সেই অর্থের পরিমাণ ২ হাজার ১০০ কোটি ডলারের বেশি, যা প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি পাউন্ডের সমান।

ওমিক্রনের যে ৪ উপসর্গ ডেল্টা থেকে আলাদা | কালের কণ্ঠ