ভারতের পুনেতে ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত দুইজনের পরিবার বিপরীতমুখী অবস্থান নিয়েছে। অভিযুক্ত চেতন চৌধুরীর পরিবার তাকে নির্দোষ দাবি করলেও সিয়া গোয়েলের পরিবারের অবস্থান ভিন্ন। সিয়া গোয়েলের বাবা-মা বলেছেন, যদি তাদের সন্তান দোষী হন, তাহলে তার যেন ফাঁসি হয়।
গত ১৮ জুন পুনের লোহাগড় দূর্গে ৪০০ ফুট ওপর থেকে পরে মারা যান ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল। প্রথমে দুর্ঘটনা ভাবা হলেও পরে পরিবারের সন্দেহ আর পুলিশের তদন্তে জানা যায়, কেতন আগরওয়ালের বাগদত্তা সিয়া গোয়েল এবং তার প্রেমিক চেতন চৌধুরী মিলে পরিকল্পিতভাবে কেতন আগরওয়ালকে হত্যা করে। দুই সন্দেহভাজন সিয়া এবং চেতন এখন ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ডে আছেন। রিমান্ডে থাকা চেতনের সাখে দেখা করে এসে তার বাবা ও চাচা দাবি করেন, চেতন নির্দোষ। সিয়া নিজেকে বাঁচানোর জন্য চেতনকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।
তবে সিয়া গোয়েলের বাবা-মার অবস্থান ভিন্ন। সিয়ার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ পুরো পরিবারটিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। গত ১৮ জুন পুনের ঐতিহাসিক লোহাগড় দূর্গে সিয়া ও চেতন মিলে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যা করে সিয়ার হবু বর কেতন আরগওয়ালকে।
প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনা বলা হলেও পরে জানা যায় এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। ঘটনার ৫ দিন পর ২৩ জুন সিয়া ও তার প্রেমিক চেতন চৌধুরীকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। একমাত্র কন্যার বিয়ের আয়োজনে ব্যস্ত গোয়েল পরিবারের ওপর হঠাৎ যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। মেয়ের গ্রেপ্তারের খবর সইতে পারেননি তার বাবা প্রভীন গোয়েল। সেদিনই হার্ট অ্যাটাক করে হাসপাতালে ভর্তি হন প্রভীন। তাকে দেখাশোনা করতে তার স্ত্রী ও ছেলেও সার্বক্ষণিক হাসপাতালে অবস্থান করছেন। পরিবারের একজন থানায় পুলিশ রিমান্ডে, বাকি তিন জন হাসপাতালে থাকায় মার্কেট ইয়ার্প এলাকায় তাদের পারিবারিক আবাস ‘লীলা কুঞ্জ’ এখন শূন্য। বাসায় এখন তালা।
হাসপাতাল থেকে সিয়ার বাবা প্রভীণ গোয়েল বলেন, ‘এ ঘটনায় যেই দোষী হোক, এমনকি সে আমার কন্যা হলেও তার ফাঁসি হোক।’
সিয়ার মা পুজা গোয়েলের চাওয়াও অভিন্ন, ‘এ ঘটনায় যে দোষী হয়, তার যেন সর্বোচ্চ সাজা হয়। একজন মা হিসেবে আমি এই দাবি জানাচ্ছি।’
তবে নিহত কেতন আগরওয়ালের পরিবার এ ঘটনায় গোয়েল পরিবারের দায় আছে বলে মনে করেন। তাদের দাবি, সিয়া যে চেতনের সাথে প্রেম করছেন; এটা তার মা, ভাই ও খালা আগে থেকেই জানতেন। কেতনের পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক উচ্চ অবস্থানের কথা ভেবে তারা সবকিছু গোপন করে মেয়ের বিয়েটা সম্পন্ন করতে চেয়েছিলেন। তাদের ধারণা ছিল, বিয়ে হলে সব ঠিক হয়ে যাবে। তবে সিয়া যে গোপনে হবু বর কেতনকে হত্যার ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা করছেন, এটা হয়তো কেউ ভাবতে পারেননি।





