• ই-পেপার

হোয়াটসঅ্যাপ ডাউন, ব্যবহারকারীদের ভোগান্তি

দক্ষিণ আফ্রিকায় এইচআইভি কর্মসূচিতে অর্থ সহায়তা বন্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক
দক্ষিণ আফ্রিকায় এইচআইভি কর্মসূচিতে অর্থ সহায়তা বন্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র
সংগৃহীত ছবি

দক্ষিণ আফ্রিকায় এইচআইভি ও এইডস প্রতিরোধে চলমান বিভিন্ন কর্মসূচিতে আর অর্থ সহায়তা দেবে না যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সরকার এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। এর ফলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এইচআইভি আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর দেশটির স্বাস্থ্য খাত নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় ৮০ লাখের বেশি মানুষ এইচআইভি নিয়ে বসবাস করছেন। বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় এই সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বহু বছর ধরে এই রোগ মোকাবিলায় দেশটিকে বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ইঙ্গিত দিয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে চলমান রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিরোধের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শ্বেতাঙ্গ সংখ্যালঘু আফ্রিকানার সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দক্ষিণ আফ্রিকা ব্যর্থ হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র যে অভিযোগ করে আসছে, তার সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের সম্পর্ক রয়েছে। 

তবে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার বারবার এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির দাবি, আফ্রিকানারদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বৈষম্য বা নিপীড়ন চলছে না। দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তাদের আগে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে তারা দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে স্বাস্থ্য কর্মসূচি পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। ২০২৫ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার এইচআইভি প্রতিরোধ কর্মসূচিতে বছরে প্রায় ৪০ কোটি ডলার সহায়তা দিত যুক্তরাষ্ট্র। এই অর্থ দেওয়া হতো ‘প্রেসিডেন্টস ইমার্জেন্সি প্ল্যান ফর এইডস রিলিফ’ বা পিইপিএফএআর কর্মসূচির মাধ্যমে। এই কর্মসূচি বহু বছর ধরে আফ্রিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এইচআইভি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর দুই দেশের সম্পর্ক আরো খারাপ হতে শুরু করে। ক্ষমতা গ্রহণের পর ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে অভিযোগ করেন, দক্ষিণ আফ্রিকার কিছু সরকারি নীতি সমান সুযোগের পরিবেশ নষ্ট করছে। তিনি আরো দাবি করেন, দেশটির নীতিমালা বর্ণগত কারণে কিছু জমির মালিকের বিরুদ্ধে বৈরী পরিস্থিতি তৈরি করছে। দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের মতে, বর্ণবাদী শাসনের সময় তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতে কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নীতি প্রয়োজন। ট্রাম্পের ওই নির্বাহী আদেশে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার করা মামলার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক নিয়েও সমালোচনা করা হয়। হোয়াইট হাউস বলেছে, দক্ষিণ আফ্রিকার এসব কর্মকাণ্ডকে তারা ‘অন্যায় ও অনৈতিক’ মনে করে। এ কারণেই দেশটিকে আর সহায়তা দেওয়া হবে না। ট্রাম্প আরো দাবি করেছেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গদের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যা’ চলছে। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও গবেষকও এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছেন। এই দাবির ভিত্তিতে ট্রাম্প প্রশাসন আফ্রিকানারদের জন্য একটি বিশেষ শরণার্থী কর্মসূচি চালু করেছে। 

আফ্রিকানাররা মূলত পশ্চিম ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠী, যারা ১৭শ শতকে দক্ষিণ আফ্রিকায় বসতি স্থাপন করেছিল। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া শরণার্থীদের মধ্যে তারাই অন্যতম প্রধান গোষ্ঠী। দক্ষিণ আফ্রিকার এইচআইভি কর্মসূচির মোট ব্যয়ের প্রায় ২০ শতাংশ আসত পিইপিএফএআরের অর্থ থেকে। গত বছরের অক্টোবরে একটি ‘সেতুবন্ধন পরিকল্পনার’ মাধ্যমে এই অর্থায়ন সাময়িকভাবে চালু রাখা হয়েছিল। তবে এখন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর নিশ্চিত করেছে, এই অর্থায়ন ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা হবে এবং শেষ পর্যন্ত বন্ধ করা হবে। পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকা যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত উদ্বেগগুলো দূর করতে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। তাই অর্থ সহায়তা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় দক্ষিণ আফ্রিকা নিজেদের সক্ষমতার ওপর আরো বেশি নির্ভরশীল হোক এবং মার্কিন অর্থের ওপর নির্ভরতা কমাক। তার মতে, দক্ষিণ আফ্রিকা একটি মধ্যম আয়ের দেশ এবং নিজেদের স্বাস্থ্য কর্মসূচি পরিচালনা করার মতো সক্ষমতা তাদের রয়েছে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এইচআইভি আক্রান্তদের জীবন রক্ষাকারী অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ওষুধের অর্থায়ন সরাসরি এই সহায়তার ওপর নির্ভরশীল নয়। এসব ওষুধের বেশির ভাগ অর্থই দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার নিজে বহন করে। 

এদিকে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিভিন্ন উদ্যোগও সফল হয়নি। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার বৈঠক। সেই বৈঠকে ট্রাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে রামাফোসার মুখোমুখি হন। এ ছাড়া গত নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনেও অংশ নেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বের বৃহৎ অর্থনীতির দেশগুলোর এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আয়োজক ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দুই দেশের সম্পর্কে বাড়তে থাকা দূরত্বেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। আর এর প্রভাব শুধু কূটনীতিতেই নয়, স্বাস্থ্য খাতেও পড়তে পারে।
 

দাস বাণিজ্যের জন্য আনুষ্ঠানিক ক্ষমা ও ক্ষতিপূরণ চায় আফ্রিকা-ক্যারিবীয় দেশ

অনলাইন ডেস্ক
দাস বাণিজ্যের জন্য আনুষ্ঠানিক ক্ষমা ও ক্ষতিপূরণ চায় আফ্রিকা-ক্যারিবীয় দেশ
ছবি : রয়টার্স

আফ্রিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশগুলো আটলান্টিক মহাসাগর পেরিয়ে পরিচালিত ঐতিহাসিক দাস বাণিজ্য থেকে লাভবান দেশগুলোর কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। ঘানায় অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের শেষে এই দাবি জানানো হয়। 

সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল দাসপ্রথা ও দাস বাণিজ্যের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য ক্ষতিপূরণভিত্তিক ন্যায়বিচারের দাবি আরো জোরালো করা। এর আগে গত মার্চ মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব গৃহীত হয়। ওই প্রস্তাবে আটলান্টিক দাস বাণিজ্যকে ‘মানবতার বিরুদ্ধে সবচেয়ে ভয়াবহ অপরাধ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। পাশাপাশি সদস্য দেশগুলোকে একটি আন্তর্জাতিক ক্ষতিপূরণ তহবিলে অর্থ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। ইতিহাসবিদদের তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চদশ থেকে উনিশ শতকের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ থেকে ১ কোটি ৫০ লাখ আফ্রিকান নারী, পুরুষ ও শিশুকে জোর করে ধরে নিয়ে আমেরিকায় পাঠানো হয়েছিল। সেখানে তাদের দাস হিসেবে কাজ করতে বাধ্য করা হয়। এই দাস শ্রমের ওপর ভিত্তি করেই বহু দেশ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিপুল সম্পদ অর্জন করে। 

ঘানার রাজধানী আক্রায় অনুষ্ঠিত ‘নেক্সট স্টেপস’ সম্মেলনে ১৯ দফার একটি ক্ষতিপূরণ পরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়েছে। পরিকল্পনায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য ব্যাপক ঋণ মওকুফের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এ ছাড়া দাস বাণিজ্যের সময় লুট হয়ে যাওয়া সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক সম্পদ ফেরত দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। পরিকল্পনায় একটি বৈশ্বিক ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠনের কথাও বলা হয়েছে। তবে এই তহবিলে কত অর্থ থাকবে বা কোন দেশ কত অর্থ দেবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি। 

সম্মেলনে অংশ নেওয়া নেতারা বলেন, দাসপ্রথার প্রভাব সবার ওপর সমান ছিল না। বিশেষ করে আফ্রিকান নারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছেন। তাই ক্ষতিপূরণ পরিকল্পনায় তাদের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সম্মেলনের নেতারা দাস বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত দেশগুলোর প্রতি ‘পূর্ণ, আনুষ্ঠানিক এবং নিঃশর্ত ক্ষমা’ চাওয়ার আহ্বান জানান।

ঘানার প্রেসিডেন্ট জন দ্রামানি মাহামা সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, ‘ইতিহাস আমাদের অপরাধবোধ বহন করতে বলে না, কিন্তু দায়িত্ব নিতে বলে।’

সম্মেলনে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ। তিনি বলেন, দাস বানানো মানুষদের মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। তাদের পণ্যের মতো কেনাবেচা করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, দাসপ্রথার ক্ষতিপূরণকে শুধু অর্থ প্রদানের বিষয় হিসেবে দেখা উচিত নয়। তার মতে, একটি চেক লিখে দিয়েই এই ইতিহাসের দায় শেষ হয়ে যায় না।

মার্চ মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এ বিষয়ে ভোট হয়। সেখানে ১২৩টি দেশ এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও আর্জেন্টিনা আটলান্টিক দাস বাণিজ্যকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিপক্ষে ভোট দেয়। এ ছাড়া যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশসহ মোট ৫২টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। তবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কোনো প্রস্তাব আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়। ফলে এই প্রস্তাবের ভিত্তিতে কোনো দেশকে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করা যাবে না।

যুক্তরাজ্য দীর্ঘদিন ধরেই দাসপ্রথার জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। দেশটির অবস্থান হলো, অতীতে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের জন্য বর্তমান প্রজন্ম বা বর্তমান প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা যায় না। এ বিষয়ে জাতিসংঘে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত জেমস কারিউকি বলেন, কোনো একটি ঐতিহাসিক নৃশংসতাকে অন্যটির চেয়ে বেশি বা কম গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা উচিত নয়। একই ধরনের অবস্থান নেয় যুক্তরাষ্ট্রও। জাতিসংঘে দেশটির রাষ্ট্রদূত বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে যে ঘটনাগুলো সংঘটিত হওয়ার সময় বেআইনি হিসেবে বিবেচিত ছিল না, সেসব ঘটনার জন্য বর্তমানে ক্ষতিপূরণ দাবি করার কোনো আইনগত ভিত্তি রয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র মনে করে না। তিনি আরো বলেন, জাতিসংঘের প্রস্তাবে ‘ক্ষতিপূরণভিত্তিক ন্যায়বিচার’ কারা পাবে, সেটিও স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়নি।

এখন পর্যন্ত বিশ্বের কোনো দেশই দাস বানানো আফ্রিকানদের বংশধর বা ক্ষতিগ্রস্ত আফ্রিকান, ক্যারিবীয় ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষতিপূরণ দেয়নি। তবে ইতিহাস বলছে, উনিশ শতকে অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছিল দাস মালিকদের। যাদের দাস হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল, তারা কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যও রয়েছে। দাসপ্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পর ১৮৩০-এর দশকে দেশটি দাস মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেয়। বর্তমান মূল্যে সেই অর্থের পরিমাণ ২ হাজার ১০০ কোটি ডলারের বেশি, যা প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি পাউন্ডের সমান।

ইংল্যান্ডে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে চালক নিহত, আহত ৯০

অনলাইন ডেস্ক
ইংল্যান্ডে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে চালক নিহত, আহত ৯০
সংগৃহীত ছবি

ইংল্যান্ডের বেডফোর্ড এলাকায় দুইটি যাত্রীবাহী ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৯০ জন যাত্রী। শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশ নিশ্চিত করেছে। যুক্তরাজ্যের রেল, সামুদ্রিক ও পরিবহন শ্রমিকদের জাতীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় মৃত ব্যক্তিটি একটি ট্রেনের চালক ছিলেন।

ইস্ট অফ ইংল্যান্ড অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস জানিয়েছে, আহত ৯০ জনের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং ২২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই উদ্ধারকাজের জন্য সেখানে ২০টিরও বেশি অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়। ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশের ডেপুটি চিফ কনস্টেবল স্টুয়ার্ট কান্ডি জানান, পরিস্থিতি বিবেচনা করে এটিকে একটি ‘বড় ধরনের দুর্ঘটনা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং জরুরি উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের পরিবহন সচিব হেইডি আলেকজান্ডার জানিয়েছেন, এই সংঘর্ষে ইস্ট মিডল্যান্ডস রেলওয়ে-র দুইটি যাত্রীবাহী ট্রেনের মধ্যে হয়েছে। রেলওয়ের একজন মুখপাত্রের তথ্য অনুযায়ী, করবি থেকে লন্ডনগামী একটি ট্রেনের সঙ্গে নটিংহাম থেকে লন্ডনগামী আরেকটি ট্রেনের এই সংঘর্ষ ঘটে। ঠিক কী কারণে দুটি ট্রেন একই লাইনে চলে এলো বা সংঘর্ষ ঘটল, তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও রেল কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।

এই দুর্ঘটনার রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা আপাতত লন্ডনের ভেতরে বা বাইরে কোনো ট্রেন চালাতে পারছে না। দিনের বাকি সময়ের জন্য এই রুটের সব শিডিউল বাতিল করা হয়েছে এবং যাত্রীদের বিকল্প পথ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আলোচনার জন্য সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন ট্রাম্পের দূত ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
আলোচনার জন্য সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন ট্রাম্পের দূত ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরপরই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি স্থায়ী আঞ্চলিক চুক্তির প্রক্রিয়া জোরদার হয়েছে। আলোচনার লক্ষ্যে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি উভয়ই সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। শুক্রবার (১৯ জুন) সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এই তথ্য জানিয়েছে।

চলতি সপ্তাহে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত বিরোধ মেটাতে ৬০ দিনের সময়সীমা রেখে ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল। কিন্তু লেবাননে হঠাৎ উত্তেজনা বাড়ায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সুইজারল্যান্ড যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করেন। তবে শুক্রবার বিকেলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ সুইজারল্যান্ডে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে যোগ দিতে গেছেন। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাকচি শনিবার (২০ জুন) সেখানে পৌঁছাবেন বলে কথা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতায় এবং ইরানের সহায়তায় লেবানন সময় শুক্রবার বিকেল ৪টায় এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ও হিজবুল্লাহর সূত্রগুলো বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে যুদ্ধবিরতি শুরুর আগের কয়েক ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় ৪৭ জন নিহত হন এবং ৪ ইসরায়েলি সেনা মারা যান। যুদ্ধবিরতির প্রথম এক ঘণ্টায় কিছু বিচ্ছিন্ন হামলা হলেও পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। এই যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত।

এই সম্ভাব্য ব্যাপক চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও তাদের মিত্রদের লেবাননসহ সব ফ্রন্টে স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে। তবে এই আলোচনায় অংশ না নেওয়া ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা এই চুক্তির পক্ষ নয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ইরানের ওপর থেকে মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে। ইরানের অবরুদ্ধ থাকা হাজার কোটি ডলারের সম্পদ অবমুক্ত করা হবে। ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন তহবিল ও আর্থিক প্রণোদনা থাকবে। বিনিময়ে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখবে।

সামনে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন থাকায় ওয়াশিংটনে এই চুক্তি নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প কিছু সমালোচনার মুখে পড়েছেন। বিরোধীদের দাবি, যুদ্ধ থামাতে ইরানকে অতিরিক্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছে। তবে সব সমালোচনা উড়িয়ে দিয়ে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, যুদ্ধ ইরানকে দুর্বল করে দিয়েছে। আমরা মরিয়া হয়ে আলোচনায় বসিনি, ইরান হয়েছে। ওরা শেষ! আমরা ৬০ দিন ধরে পর্যবেক্ষণ করব। (শর্ত পূরণ না করলে) ওরা কোনো টাকা পাবে না, এক পয়সাও না!

লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক করতে আগামী ২৩ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে পরবর্তী দফার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। লেবানন সরকার জানিয়েছে, একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতিই হবে এই আলোচনার মূল ভিত্তি।

হোয়াটসঅ্যাপ ডাউন, ব্যবহারকারীদের ভোগান্তি | কালের কণ্ঠ