• ই-পেপার

মাথাচাড়া দিচ্ছে ভুটান! ভারতের কৃষকদের পানি দেওয়া বন্ধ করল থিম্পু

দিল্লিতে শিশু কেনাবেচার হাট!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
দিল্লিতে শিশু কেনাবেচার হাট!
ছবি : এনডিটিভি

পৃথিবীতে অনেক রকম বাজার আছে। কিন্তু শিশু কেনাবেচার হাটের কথা কল্পনা করতে পারেন! দিল্লিতে এমনই এক অন্ধকার বাজারের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। ধাপে ধাপে অনুসন্ধান করতে গিয়ে পুলিশ জেনেছে, দিল্লির একটি হাসপাতালকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে জমজমাট এই বাজার। দরিদ্র পরিবারের কাছ থেকে অল্প টাকায় তাদের নবজাতক সন্তান কিনে বা চুরি করে এনে চড়া দামে বিক্রি করা হতো নিঃসন্তান কোনো দম্পতির কাছে। পুলিশ এই চক্রের বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে। 

ব্যাপারটা এমন, রাজস্থানে জন্ম নেওয়া কোনো একটি শিশুকে কিনে বা চুরি করে এনে দিল্লির এক হাসপাতালে এক ডাক্তারের মধ্যস্থতায় বিক্রি করে দেওয়া হলো হরিয়ানার কোনো দম্পতির কাছে। সেই শিশু বড় হয়ে কখনো জানতেই পারবে না, তার আসল মা-বাবা কে। এই বাজারে ছেলেশিশুর দাম বেশি, ৬ থেকে ৮ লাখ রুপি। কন্যাশিশুর দাম একটু কম পড়বে, ৩ থেকে ৪ লাখ রুপিতে আপনি পেয়ে যাবেন ৩ থেকে ৪ দিন বয়সী কোনো কন্যাশিশু।

দিল্লির ব্যস্ত এলাকা পাহাড়গঞ্জের এক বাসিন্দা প্রথমে পুলিশকে তার সন্দেহের কথা জানান। তিনি পুলিশকে জানান, এলাকায় নিয়মিত বিরতিতে একটি নারীকে দেখা যেত, যার কোলে প্রতিবারই একটি নতুন নবজাতক থাকত, যা সন্দেহজনক। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। এলাকার সিসিটিভির ফুটেজ চেক করার পাশাপাশি নিজস্ব সোর্সকেও কাজে লাগানো হয়। পুলিশ নিশ্চিত হয়, জ্যোতি ওরফে কমলেশ নামের এই নারী শিশু পাচারের সঙ্গে জড়িত। এর পরই তাকে হাতেনাতে ধরতে ফাঁদ পাতে দিল্লি পুলিশ।

পুলিশের একজন নারী সদস্য শিশু কেনার গ্রাহক সেজে কমলেশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা দেখা করেন এবং শিশু বিক্রির চুক্তি হয়। অগ্রিম হিসেবে ২০ হাজার রুপি দিতেও রাজি হন ছদ্মবেশী নারী পুলিশ। ৫ জুন ছদ্মবেশী পুলিশের কাছে একটি নবজাতক হস্তান্তর করার সময় কমলেশকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।

তারপর বেরিয়ে আসে এক চাঞ্চল্যকর আন্তঃরাজ্যীয় শিশু পাচার চক্রের গল্প, যা বলিউড সিনেমাকেও হার মানায়। যার পরতে পরতে লুকিয়ে আছে দারিদ্র্য, লোভ, আর নির্মমতার নানামাত্রিক উপাখ্যান। দরিদ্র পিতা-মাতা থেকে দিল্লির দালাল, সেখান থেকে হাসপাতাল, সেখান থেকে নিঃসন্তান কোনো দম্পতির ঘর- জন্মের সাথে সাথে কিছু অপরাধী মিলে নির্ধারণ করে একটি শিশুর ভাগ্য!

কমলেশকে টানা জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ তার দুই সহযোগী—শালু ও ললিতের সন্ধান পায়। পরে প্রতিভা ও বিপিন নামে আরো দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যারা মূলত শিশু সংগ্রহ এবং বিক্রির চুক্তি করার দায়িত্বে ছিল। প্রতিভা ও বিপিন যখন বাজারে শিশু সরবরাহকারী মূল ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন, তখন তাদের ধরা হয়। তাদের কাছ থেকে পুলিশ প্রায় ৩ লাখ রুপিও উদ্ধার করে। দুই সপ্তাহের টানা জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ এক মাসের কম বয়সী এমন ৫টি নবজাতককে উদ্ধার করে।

এর পরই পুলিশ আরো নিবিড় অনুসন্ধানে নামে। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ একটি হাসপাতালের সন্ধান পায়। পশ্চিম দিল্লির রোহিণীর বেগমপুরের হীরা মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল, নামে হাসপাতাল হলেও এটি আসলে কোনো চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র নয়, এটিই মূলত শিশু বেচাকেনার বাজার। এই হাসপাতার মালিক ডাক্তার বিবেকীই হলেন এই চক্রের মূল হোতা। পাচারকারীরা নবজাতকদের সংগ্রহ করে এই হাসপাতালে নিয়ে আসত। বিক্রি হওয়ার আগ পর্যন্ত শিশুগুলোকে এই হাসপাতালেই রাখা হতো। ডাক্তার বিবেকী শিশুদের ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করতে সাহায্য করতেন। শিশুদের জন্ম সনদ, জন্ম নেয়ার কাগজপত্র, হাসপাতালের বিল এমনভাবে তৈরি করা হতো, যাতে মনে হয় শিশুটি এই হাসপাতালেই জন্ম নিয়েছে। 

পুলিশের তদন্তে দেখা গেছে, একটি কন্যাসন্তান প্রায় এক লাখ রুপিতে কেনা হতো এবং ৩ থেকে ৪ লাখ রুপিতে বিক্রি হতো। আর ছেলেশিশু কেনা হতো প্রায় দুই লাখ রুপিতে, বিক্রি হতো ৬ থেকে ৮ লাখ রুপিতে। পৃথিবীর আর কোনো বাজারে এমন লাভজনক ব্যবসা নেই!

দিল্লি সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের ডিসিপি রোহিত রাজবীর সিং পুরো চক্রের গল্প সাংবাদিকদের কাছে বর্নণা করেন। তিনি জানান, শিশু কেনাবেচার সমস্ত চুক্তি ডাক্তার বিবেকীর হাসপাতালেই হতো। তিনি পাচারকারী এবং শিশু কিনতে চাওয়া দম্পতিদের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতেন।

হেফাজতে থাকা আসামিদের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ গুজরাটের সবরকান্থা থেকে সাবাভাই গামার ওরফে কালিয়াকে গ্রেপ্তার করে। মূলত উদয়পুরের বাসিন্দা গামার রাজস্থানের পালি এবং সবরকান্থার দরিদ্র দম্পতিদের কাছ থেকে শিশু কিনত। 

উদ্ধার হওয়া শিশুদের প্রকৃত মা-বাবার সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ। তারা স্বেচ্ছায় সন্তান বিক্রি করেছে, নাকি তাদের বাধ্য করা হয়েছে, অথবা শিশুগুলোকে চুরি করা হয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ডিসিপি রাজবীর সিং বলেন, মা-বাবা যদি স্বেচ্ছায় পাচারকারীদের কাছে শিশু বিক্রি করে থাকে, তবে তাদেরও এই মামলায় আসামি করা হবে। যারা এ চক্রের কাছ থেকে শিশু কিনেছেন, তাদেরও আসামি করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

তদন্তে জানা গেছে, গামার এবং তার দল গত এক বছরে অন্তত ৩০টি নবজাতককে বিক্রি করেছে। পুলিশ হরিয়ানার পানিপথ থেকে সানি অরোরা এবং রিতু অরোরা নামের এক দম্পতিকে শনাক্ত ও আটক করেছে, যারা এ চক্রের কাছ থেকে শিশু কিনেছেন। এ ছাড়া মধ্য প্রদেশের গোয়ালিয়র থেকে এই চক্রের কাছ থেকে শিশু কেনা অন্য এক দম্পতিকেও আটক করা হয়েছে।

ডিসিপি রোহিত রাজবীর সিং জানান, এ চক্রের লোভের জালে পড়ে প্রতারিত হয়েছেন এক দম্পতি। তারা একটি পুত্রসন্তান কিনতে চেয়েছিলেন। কিন্তু চক্রটির কাছে তখন একটি কনাশিশুও ছিল, যাকে দ্রুত বিক্রি করে দেয়া দরকার। চক্রটি ছেলেশিশু কিনতে আগ্রহী দম্পতিকে জানায়, তাদের কাছে ছেলেশিশুর জমজ একটি কন্যাশিশুও রয়েছে। সে দম্পতি ৯ লাখ রুপির প্যাকেজে ‘যমজ’ সন্তান কেনেন। বাস্তবে তারা যমজ ছিল না। তাদের সংগ্রহ করা হয়েছিল দুই এলাকা থেকে।

ডিসিপি রাজবীর সিং এই চক্রটি ভাঙার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য তিন নারী পুলিশ কর্মকর্তা—সাব-ইন্সপেক্টর প্রগতি ও যামিনী এবং হেড কনস্টেবল সুষমার নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।

উদ্ধার হওয়া ৫ নবজাতককে আপাতত চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রকৃত মা-বাবার সন্ধান না পেলে কমিটি পরে তাদের আইনি প্রক্রিয়ায় দত্তক দেওয়ার ব্যবস্থা করবে।

ইরান যুদ্ধে চীনের লাভ-ক্ষতি

অনলাইন ডেস্ক
ইরান যুদ্ধে চীনের লাভ-ক্ষতি
সংগৃহীত ছবি

প্রায় চার মাসের যুদ্ধ বন্ধে ‍যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর, এখন সব পক্ষই নিজেদের জয়-পরাজয়, লাভ-ক্ষতির হিসাব কষছে। মাঠের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করলে অবশ্যই পিছিয়ে থাকবে ইরান। তবে যুদ্ধে টিকে থেকেই বড় এক জয়ের দেখা পেয়ে গেছে দেশটি। শুরুতে ইরানের সরকার পরিবর্তন ও তাদের হাতে থাকা ইউরেনিয়াম নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলেও দৃশ্যমান তেমন কোনো অর্জন ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় আসতে বাধ্য হয়েছে। ইরানের সরকার বদল তো হয়ইনি, বরং যুদ্ধ তাদের আরো ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী করেছে। এই ফাঁকে ইরান সরকার যুক্তরাষ্ট্রের এক ধরনের স্বীকৃতিও আদায় করে নিয়েছে। ইরানের সবচেয়ে বড় লাভ হলো, দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা কোটি কোটি ডলার এখন তাদের হাতে আসবে, যা তাদের বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে। নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ায় তেল বিক্রি করেও অনেক বেশি লাভবান হবে ইরান।

এই যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে আছে ইসরায়েল। মূলত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুই ফুঁসলিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এই অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধে টেনে এনেছিলেন। কিন্তু এখন তাকে ছাড়াই সমঝোতায় পৌছে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধের শুরুতে মূল ভূমিকায় থাকলেও শেষের ঘটনায় নেতানিয়াহুর কোনো ভূমিকাই নেই। বরং ট্রাম্প একাধিকবার নেতানিয়াহুর আচরণে প্রকাশ্যে উষ্মা প্রকাশ করেছেন। অপাঙক্তেয় নেতানিয়াহু এখন সমঝোতা স্মারক ভণ্ডুল করতে উঠেপড়ে লেগেছেন। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরও লেবাননে হামলা চালিয়ে তিনি শান্তি প্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করতে চাইছেন।

যুদ্ধে সরাসরি জড়িত না হয়েও চীন লাভের গুড়ে অনেকটাই ভাগ বসাতে পেরেছে। ভারসাম্যপূর্ণ ও কৌশলী কূটনীতি দিয়ে বিশ্বের কাছে নিজেদের দায়িত্বশীল শক্তি হিসেবে পরিচিত করাতে পেরেছে চীন। ইরান যুদ্ধে দারুণ উজ্জ্বল হয়েছে চীনের ভাবমূর্তি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধে চীন বরাবরই নিজেদের যৌক্তিক অবস্থান ধরে রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের নিন্দা যেমন করেছে, আবার শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে ভূমিকাও রেখেছে। ইরান থেকে তেল কেনা বন্ধ না করেও চীন খোদ ট্রাম্পের কাছ থেকে প্রশংসা পেয়েছে।

বুধবার ফ্রান্সে জি৭ শীর্ষ সম্মেলনের এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্টের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমি চীন ও প্রেসিডেন্ট শি-কে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তিনি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ছিলেন, একদম নিরপেক্ষ এবং আমি এটার প্রশংসা করি।’

ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ অমান্য করতে চীনা নেতা তার দেশের নৌ-শক্তি ব্যবহার করেননি উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা সেটি করেনি। প্রেসিডেন্ট শি আমাকে সাহায্য করেছেন। তিনি সাহায্য করার চেষ্টা করেছিলেন এবং আমার মনে হয় এটি সমাধানে সম্ভবত তিনি সাহায্য করেছেন।’

এখানেই বেইজিংয়ের কৌশলী কূটনীতির জয় হয়েছে। নিজেদের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখেই তারা বিশ্ব শক্তির ওপর নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং এই সংঘাতের মূল মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের নেতারা বেইজিং সফর করেছেন। এইসব সফরে বিশ্ব শক্তি হিসেবে চীন নিজেদের আবার ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে পেরেছে। পুরো প্রক্রিয়ায় থেকেও কোনো পক্ষ নেয়নি চীন। শান্তি আলোচনার শুরুতে ইরান যে কোনো চুক্তিতে চীনকে গ্যারান্টার হিসেবে রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু কৌশলে চীন তা এড়িয়ে গিয়ে নিজেদের ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতিকেই সামনে এনেছে বারবার। 

যুদ্ধ শুরুর প্রতিক্রিয়ায় হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সংব দেখা দেয়। অন্যান্য দেশের তুলনায় চীন এ সংকটও মোকাবেলা করেছে দারুণ দক্ষতায়। জ্বালানি তেলের কৌশলগত বিশাল মজুদ এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহারের কারণে জ্বালানি তেলের সংকটের অভিঘাত খুব একটা লাগেনি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির গায়ে। 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সক্রিয় ভূমিকা পালনে প্রস্তুত রয়েছে বেইজিং। এই চুক্তির পেছনে বেইজিংয়ের কোনো ভূমিকা ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে লিন জিয়ান নির্দিষ্ট কোনো ভূমিকার কথা নিশ্চিত করেননি। তবে যুদ্ধ বন্ধে চীনের অক্লান্ত প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করছেন। গত এপ্রিলে চীনের শীর্ষ নেতা শি জিনপিংয়ের পেশ করা চার দফা শান্তি প্রস্তাবের বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন তিনি।

বুধবার চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচলের বিষয়টি সঠিকভাবে সামলানোর আহ্বান জানান। ওয়াং বলেন, ‘শান্তির আলো দেখা দিয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপের মূল চাবিকাঠি হলো সব পক্ষের নিজেদের প্রতিশ্রুতিগুলো সত্যিকার অর্থে বাস্তবায়ন করা এবং সব দিক থেকে আসা হস্তক্ষেপ দূর করা।’

চীনের এসব ভূমিকা বিশ্বে বার্তা দিয়েছে—অন্যরা যখন যুদ্ধ ছড়াচ্ছে, তখন চীন একটি দায়িত্বশীল বৈশ্বিক শক্তি এবং প্রভাবশালী মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। এই যুদ্ধ প্রতিরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের সীমাবদ্ধতাকে সামনে এনেছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো অন্ধের মতো যুক্তরাষ্ট্র-নির্ভরতা নিয়ে এখন নতুন করে ভাবছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে চীন বিশ্বের পরাশক্তি হয়ে উঠবে কিনা, এমন আলোচনাও সামনে আসছে। কিন্তু চীনের কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকেরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন, বেইজিং কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের ধাঁচের কোনো পরাশক্তি হতে চায় না।

বেইজিংয়ের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি’র ফেলো সান চেংহাও বলেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র এখনো সবচেয়ে শক্তিশালী বহিরাগত পক্ষ হিসেবে রয়ে গেছে। যা পরিবর্তিত হয়েছে তা হলো, সেখানে তাদের আধিপত্য বজায় রাখতে এখন অনেক বেশি রাজনৈতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক এবং সম্মানহানির মূল্য দিতে হচ্ছে।’

চীন বরাবরই সব দেশের সার্বভৌমত্ব, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, রাজনৈতিক সমাধান এবং উন্নয়নভিত্তিক নিরাপত্তার ওপর জোর দেয়। এবারের যুদ্ধে তাদের সেই দর্শনই আবার সামনে এসেছে এবং প্রশংসিত হয়েছে।

লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, হরমুজ বন্ধ করল ইরান

অনলাইন ডেস্ক
লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, হরমুজ বন্ধ করল ইরান
রয়টার্স ছবি

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স ঘোষণা দিয়েছে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে ইরানি সামরিক কর্তৃপক্ষ জানায়, লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির লঙ্ঘন এবং সেই কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ করা হলো। এটি শত্রুপক্ষের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের বিরুদ্ধে প্রথম পদক্ষেপ।’

এ ছাড়া আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে শত্রুকে তার বাধ্যবাধকতা পালনে বাধ্য করতে আরো পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

ইরানের দাবি, লেবাননে ইসরায়েলের হামলা তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্প্রতি হওয়া সমঝোতার চেতনার পরিপন্থী। তেহরান মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্রের মদদে বা নীরব সমর্থনে ইসরায়েল এই হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

মজুরি থেকে কর : জুলাইয়ে বদলাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

শিপন আহমদ, (সিডনি) অস্ট্রেলিয়া
মজুরি থেকে কর : জুলাইয়ে বদলাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

নতুন অর্থবছরের শুরুতে ১ জুলাই থেকে অস্ট্রেলিয়াজুড়ে কার্যকর হচ্ছে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। মজুরি বৃদ্ধি, পিতা-মাতার বেতনসহ ছুটি সম্প্রসারণ, প্রতারণামূলক খুদে বার্তা নিয়ন্ত্রণ, ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য কর-সুবিধা, খাদ্যপণ্যের উৎস শনাক্তকরণ এবং ভোক্তা সুরক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম চালু হচ্ছে। এসব পরিবর্তনের বেশির ভাগই ফেডারেল সরকার, ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর ঘোষণার ধারাবাহিকতায় কার্যকর হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সরকারি ঘোষণা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসছে কর্মক্ষেত্রে। গত ২ জুন ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশন বার্ষিক মজুরি পর্যালোচনার রায় ঘোষণা করে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ঘণ্টাপ্রতি ২৬ ডলার ৪৪ সেন্টে উন্নীত হচ্ছে। এর ফলে পূর্ণকালীন একজন কর্মীর সাপ্তাহিক আয় কর-পূর্ব ১ হাজার ৪ ডলার ৯০ সেন্টে পৌঁছাবে। একই সঙ্গে পুরস্কারভিত্তিক মজুরি কাঠামোর আওতাভুক্ত লাখো কর্মীর ন্যূনতম মজুরিও বাড়বে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা কর্মীদের জন্য এটি স্বস্তির খবর হলেও কিছু ক্ষুদ্র ব্যবসা বাড়তি শ্রম ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

পরিবারকেন্দ্রিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আসছে। সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত পিতা-মাতার বেতনসহ ছুটির সুবিধা ১২০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১৩০ দিনে উন্নীত করা হচ্ছে। অর্থাৎ নতুন বাবা-মায়েরা সর্বোচ্চ ২৬ সপ্তাহ পর্যন্ত এই সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে সঙ্গীর জন্য সংরক্ষিত ছুটির পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ১ জুলাই বা এর পর জন্ম নেওয়া কিংবা দত্তক নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। সরকারের ভাষ্য, এটি পরিবারকে সন্তান জন্মের পর অধিক সময় একসঙ্গে থাকার সুযোগ করে দেবে এবং কর্মজীবী অভিভাবকদের আর্থিক চাপ কমাতে সহায়তা করবে।

মোবাইল ফোনে প্রতারণামূলক খুদে বার্তার বিস্তার ঠেকাতে চালু হচ্ছে প্রেরক পরিচয় নিবন্ধন ব্যবস্থা। এর আওতায় নিবন্ধিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো অনুমোদিত নাম ব্যবহার করে গ্রাহকদের কাছে বার্তা পাঠাতে পারবে। নিবন্ধনবিহীন প্রেরকদের পাঠানো বার্তা ‘অযাচাইকৃত’ হিসেবে প্রদর্শিত হবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকারি সংস্থা, ডাকসেবা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে প্রতারণার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় এ ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মোবাইল ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা আরো জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ব্যবসা খাতেও কয়েকটি পরিবর্তন কার্যকর হচ্ছে। ব্যবসা নিবন্ধন, নবায়ন এবং কোম্পানির বার্ষিক পর্যালোচনাসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক ফি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে নতুন কম্পানি নিবন্ধন এবং ব্যবসা পরিচালনার কিছু খরচ বাড়বে। তবে অন্যদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোর জন্য তাৎক্ষণিক সম্পদ ব্যয় করছাড় সুবিধা অব্যাহত রাখা হয়েছে। নির্ধারিত সীমার মধ্যে যোগ্য সম্পদের খরচ তাৎক্ষণিকভাবে কর ছাড় হিসেবে দাবি করা যাবে, যা নতুন বিনিয়োগে উৎসাহ জোগাতে পারে।

কর ব্যবস্থায়ও পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে। ফেডারেল সরকারের ঘোষিত আয়কর সংস্কার কর্মসূচির আওতায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের করদাতাদের জন্য ধাপে ধাপে করহার কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে আগামী বছরগুলোতে বহু কর্মজীবী মানুষ অতিরিক্ত কর সাশ্রয়ের সুযোগ পেতে পারেন। পাশাপাশি কর্মসংক্রান্ত কিছু ব্যয়ের ক্ষেত্রে সহজ করছাড় সুবিধা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

খাদ্য নিরাপত্তা ও ভোক্তা অধিকার সুরক্ষার অংশ হিসেবে রেস্তোরাঁ, ক্যাফে, খাবার বিক্রয়কেন্দ্র ও বহনযোগ্য খাদ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সামুদ্রিক খাদ্যের উৎস স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। খাদ্যটি অস্ট্রেলিয়ান, আমদানিকৃত নাকি মিশ্র উৎসের সেই তথ্য গ্রাহকদের জানানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে ক্রেতারা আরো সচেতনভাবে খাদ্য নির্বাচন করতে পারবেন। এ ছাড়া ভোক্তা সুরক্ষা জোরদারে জ্বালানি খাতেও কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের জন্য সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ সংক্রান্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করা হচ্ছে, যাতে আর্থিক সংকটে থাকা পরিবারগুলো অতিরিক্ত সহায়তা পেতে পারে।

নতুন অর্থবছরের এসব পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় সুফল পাবেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মী, নতুন বাবা-মা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং সাধারণ ভোক্তারা। মজুরি বৃদ্ধির ফলে কর্মীদের আয় বাড়বে, পিতা-মাতার বেতনসহ ছুটি সম্প্রসারণ পরিবারকে বাড়তি সহায়তা দেবে এবং প্রতারণামূলক বার্তা নিয়ন্ত্রণে মোবাইল ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা আরো জোরদার হবে। ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলো কর-সুবিধার মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগে উৎসাহ পেলেও ব্যবসা নিবন্ধন ও পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে কিছু প্রতিষ্ঠানের খরচ বাড়তে পারে। তবে সার্বিকভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে কর্মী, পরিবার ও ভোক্তাদের আর্থিক সুরক্ষা জোরদার করাই নতুন অর্থবছরের এসব পরিবর্তনের প্রধান লক্ষ্য বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

মাথাচাড়া দিচ্ছে ভুটান! ভারতের কৃষকদের পানি দেওয়া বন্ধ করল থিম্পু | কালের কণ্ঠ