• ই-পেপার

অহম সম্প্রদায় নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য, ‘বাংলাপক্ষ’-র প্রতিষ্ঠাতাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ

কোয়ান্টাম কম্পিউটার নির্মাণে গতি বাড়ানোর নির্দেশ ট্রাম্পের

অনলাইন ডেস্ক
কোয়ান্টাম কম্পিউটার নির্মাণে গতি বাড়ানোর নির্দেশ ট্রাম্পের
রয়টার্স ছবি

বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য শক্তিশালী কোয়ান্টাম কম্পিউটার নির্মাণে জোর দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাইবার হুমকি মোকাবিলায় সরকারি ব্যবস্থাকে আরও সুরক্ষিত করার লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগ ঘোষণা করেছেন তিনি।

এ লক্ষ্যে তিনি স্থানীয় সময় সোমবার দুটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন বলে জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স

হোয়াইট হাউসের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নীতি কার্যালয়ের (ওএসটিপি) পরিচালক মাইকেল ক্রাটসিওস জানান, যুক্তরাষ্ট্র ২০২৮ সালের মধ্যেই একটি অত্যাধুনিক কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরির লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে বলে তারা আশাবাদী।

তবে এই পদক্ষেপ চীনের সঙ্গে চলমান কোয়ান্টাম প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধরে রাখার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

কোয়ান্টাম কম্পিউটার ও নিরাপত্তা ঝুঁকি

কোয়ান্টাম কম্পিউটার এমন একটি প্রযুক্তি, যা কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের নীতির মাধ্যমে তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করে। এটি জটিল সমস্যার সমাধান শক্তিশালী সুপারকম্পিউটারের চেয়েও অনেক দ্রুত করতে সক্ষম। তবে এই প্রযুক্তি প্রচলিত এনক্রিপশন (ডেটা বা তথ্য) ভেঙে ফেলতে পারে, ফলে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এ কারণে ট্রাম্পের একটি নির্বাহী আদেশে ২০৩০ বা ২০৩১ সালের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কম্পিউটার ব্যবস্থাকে ‘পোস্ট-কোয়ান্টাম ক্রিপ্টোগ্রাফি’ ব্যবস্থায় স্থানান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতের কোয়ান্টামভিত্তিক সাইবার হামলা প্রতিহত করা যায়।

আগাম সতর্কতা

কোয়ান্টাম প্রযুক্তি ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), উপাদান বিজ্ঞান, রসায়ন এবং প্রতিরক্ষা খাতে বড় ধরনের অগ্রগতি এনে দিতে পারে।

নতুন নির্দেশনায় ২০২৮ সালের মধ্যে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগনকে কোয়ান্টাম সেন্সর মোতায়েনের পরিকল্পনাও বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। এসব সেন্সর যুদ্ধক্ষেত্রে জিপিএস ব্যবস্থা ব্যাহত হলে বিমান চলাচলে সহায়তা করতে পারবে। 

এছাড়া স্যাটেলাইটে স্থাপন করা হলে ভূগর্ভস্থ টানেল বা ক্ষেপণাস্ত্র সাইলো নির্মাণের মতো কার্যক্রমও মহাকাশ থেকে শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে কোয়ান্টাম প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইনফ্লেকশনের প্রধান নির্বাহী ম্যাথিউ কিনসেলা রয়টার্সকে বলেন, ‘কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের আগেই কোয়ান্টাম সেন্সিং প্রযুক্তি অনেক গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা এনে দিতে পারে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে এসব লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।’

গত মাসে মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ কোয়ান্টাম কম্পিউটিং খাতের নয়টি প্রতিষ্ঠানে মোট ২ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়, যার মধ্যে আইবিএমের একটি নতুন উদ্যোগও রয়েছে।

এছাড়া ট্রাম্পের আরেকটি নির্বাহী আদেশে মেধাস্বত্ব সুরক্ষা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের নিরাপত্তা জোরদারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের মতে, প্রতিদ্বন্দ্বী ও বৈরী দেশগুলোর সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ মোকাবিলায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনাগুলোর আওতায় আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে কোয়ান্টামভিত্তিক সেন্সর ও নেটওয়ার্ক ব্যবহারের পরিকল্পনাও প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে।

‘কিং অব দ্য নর্থ’ হচ্ছেন পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী?

অনলাইন ডেস্ক
‘কিং অব দ্য নর্থ’ হচ্ছেন পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী?
সংগৃহীত ছবি

ব্রিটিশ রাজনীতি যেন নতুন করে ‘গেম অব থ্রোনসের’ গল্পে রূপ নিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ও লেবার নেতা কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর তার উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এর মধ্যে ‘কিং অব দ্য নর্থ’ নামে পরিচিত লেবার পার্টির প্রভাবশালী নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এখন যুক্তরাজ্যের সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

স্টারমারের বিদায়ের ফলে এক দশকের কিছু বেশি সময়ে যুক্তরাজ্য সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে, যা দেশটির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার আরেকটি উদাহরণ।

নেতৃত্বের দৌড়ে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

সম্প্রতি মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রায় এক দশক পর পার্লামেন্টে ফিরেছেন বার্নহ্যাম। নির্বাচনের আগেই তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, সুযোগ পেলে লেবার পার্টির নেতৃত্বের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

স্টারমারের পদত্যাগের পর সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করেন, প্রধানমন্ত্রী হলে কি নতুন সাধারণ নির্বাচন ডাকবেন? জবাবে বার্নহ্যাম বলেন, ‘এখনই এত দূর এগিয়ে যাওয়া ঠিক হবে না।’

৫৬ বছর বয়সী বার্নহ্যাম লেবার পার্টির অন্যতম পরিচিত মুখ। গ্রেটার ম্যানচেস্টরের মেয়র হিসেবে দীর্ঘ সময় কাজ করার পর তার এই প্রত্যাবর্তন দলীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

শ্রমজীবী ভোটারদের লেবারে ফেরাতে পারবেন?

বার্নহ্যামের সমর্থকদের মতে, তিনি এমন একজন নেতা যিনি লেবার পার্টিকে আবারও শ্রমজীবী ও উত্তর ইংল্যান্ডের ভোটারদের সঙ্গে সংযুক্ত করতে পারবেন।

ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি বলছে, বিশেষ করে করোনা মহামারির সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সরকারের বিরুদ্ধে উত্তরাঞ্চলের স্বার্থ রক্ষায় তার অবস্থান তাকে জাতীয় পর্যায়ে জনপ্রিয় করে তোলে।

তবে সমালোচকদের প্রশ্ন, উত্তর ইংল্যান্ডে তার জনপ্রিয়তা কি পুরো যুক্তরাজ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য যথেষ্ট হবে?

কে এই অ্যান্ডি বার্নহ্যাম?

১৯৭০ সালের জানুয়ারিতে ইংল্যান্ডের মার্সিসাইডে জন্মগ্রহণ করেন অ্যান্ড্রু মারে বার্নহ্যাম। ২০০১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি লি আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের মন্ত্রিসভায় তিনি ট্রেজারির প্রধান সচিব, সংস্কৃতিমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৫ ও ২০১৭ সালে তিনি লেবার পার্টির নেতৃত্বের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও সফল হননি। পরে ২০১৭ সালে গ্রেটার ম্যানচেস্টরের প্রথম সরাসরি নির্বাচিত মেয়র হন এবং সেখানেই নিজের রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করে তোলেন।

কেন ‘কিং অব দ্য নর্থ’?

ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান বলছে, ২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারির সময় বার্নহ্যাম তৎকালীন কনজারভেটিভ সরকারের বিরুদ্ধে উত্তর ইংল্যান্ডের জন্য আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধির দাবি তোলেন। তার অভিযোগ ছিল, লন্ডন ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলকে অগ্রাধিকার দিয়ে উত্তরাঞ্চলকে অবহেলা করা হচ্ছে।

এই অবস্থানের কারণে তিনি উত্তর ইংল্যান্ডের মানুষের কাছে প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে ওঠেন। যার ফলে সমর্থকরা তাকে ‘গেম অব থ্রোনসের’ জনপ্রিয় চরিত্রদের সঙ্গে তুলনা করে ‘কিং অব দ্য নর্থ’ উপাধি দেন। যা পরে তার রাজনৈতিক পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠে।

মেয়র হিসেবে সাফল্য

গ্রেটার ম্যানচেস্টরের মেয়র হিসেবে বার্নহ্যামের অন্যতম বড় সাফল্য ছিল ‘বি নেটওয়ার্ক বা মৌমাছি নেটওয়ার্ক’ নামে সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু করা। এর মাধ্যমে বাস ও ট্রাম সেবাকে (পৌর রেল পরিবহন) একীভূত করা হয় এবং ভাড়া ব্যবস্থা সহজ করা হয়।

এছাড়া তিনি দক্ষতা, উন্নয়ন কর্মসূচি, স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্পে জোর দেন। যদিও গৃহহীনতা কমানোর কিছু লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় সমালোচনারও মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে।

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে চ্যালেঞ্জ

বার্নহ্যামের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে তার আঞ্চলিক জনপ্রিয়তাকে জাতীয় সমর্থনে রূপান্তর করা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী হতে হলে তাকে শুধু ইংল্যান্ড নয়, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের ভোটারদেরও আস্থা অর্জন করতে হবে।

তবুও স্টারমারের পদত্যাগের পর ব্রিটিশ রাজনীতিতে বার্নহ্যামের উত্থান নতুন আগ্রহ তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, ‘কিং অব দ্য নর্থ’ সত্যিই কি ব্রিটিশ রাজনীতির ‘আয়রন থ্রোন’ দখল করতে পারেন, নাকি তিনি কেবল আলোচনার কেন্দ্রেই সীমাবদ্ধ থাকবেন।

নাইজেরিয়ায় বিরল আয়োজন: যমজ দুই ভাইয়ের সঙ্গে যমজ দুই বোনের বিয়ে

অনলাইন ডেস্ক
নাইজেরিয়ায় বিরল আয়োজন: যমজ দুই ভাইয়ের সঙ্গে যমজ দুই বোনের বিয়ে
সংগৃহীত ছবি

নাইজেরিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শহর ইবাদানে সপ্তাহান্তে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক ব্যতিক্রমী বিয়ের অনুষ্ঠান। যমজ দুই ভাই তাইও ও কেহিনদে ওগুনতোয়ে বিয়ে করেছেন যমজ দুই বোন তাইও ও কেহিনদে আদেদিরানকে। বিরল এই বিয়ে দেখতে গির্জায় জড়ো হয়েছিলেন আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু এবং অসংখ্য অতিথি।

স্থানীয়দের কাছে অনুষ্ঠানটি ছিল বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। কারণ, যমজ সন্তানের সংখ্যা এই অঞ্চলে তুলনামূলক বেশি হলেও, যমজ দুই ভাইয়ের সঙ্গে যমজ দুই বোনের একসঙ্গে বিয়ে হওয়ার ঘটনা খুবই বিরল। নাইজেরিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বসবাসকারী ইয়োরুবা জনগোষ্ঠীর মধ্যে যমজ সন্তানের জন্মের হার বিশ্বের অন্যতম বেশি। ইয়োরুবা সংস্কৃতিতে যমজ সন্তানকে সৌভাগ্য ও আশীর্বাদের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। এ কারণে যমজ সন্তানদের জন্য বিশেষ নামও আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে। বড় সন্তানের নাম রাখা হয় 'তাইও'(অর্থ- যে পৃথিবীকে পরীক্ষা করে) এবং ছোট সন্তানের নাম 'কেহিনদে' (অর্থ- যে পরে এসেছে)।

বিয়ের দিন তাইও ওগুনতোয়ে জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি ও তার ভাই যমজ কাউকে বিয়ে করার স্বপ্ন দেখতেন। তিনি আরো বলেন, তারা চান ভবিষ্যতে তাদের সন্তানদের মধ্যেও যমজ সন্তান জন্ম নিক। 

এই চারজনের প্রেমের গল্প শুরু হয় প্রায় ১০ বছর আগে। তখন তারা সবাই ইবাদান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। ওগুনতোয়ে ভাইদের এক শিক্ষক তাদের জানান, তিনি এমন দুই যমজ বোনকে চেনেন, যাদের সঙ্গে তাদের পরিচিত হওয়া উচিত। এরপর দুই ভাইয়েরও আগ্রহ তৈরি হয়। তবে প্রথম দিকে বিষয়টি এত সহজ ছিল না। তাইও ওগুনতোয়ে বলেন, এর আগেও তারা অন্য যমজ বোনদের সঙ্গে পরিচিত হয়েছিলেন এবং প্রেমের সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কোনো সম্পর্কই দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। অন্যদিকে আদেদিরান বোনেরাও শুরুতে পরিচিত হতে আগ্রহ দেখাননি। এমনকি ওই শিক্ষকের ফোন কলেরও উত্তর দেননি। পরে অবশ্য চারজনের দেখা হয়। তাইও ওগুনতোয়ে স্মৃতিচারণ করে বলেন, তারা দেখা করতে গিয়েছিলেন। অনেক কথাও হয়েছিল। কিন্তু তখন আদেদিরান বোনেরা কোনো প্রেমের সম্পর্কের বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন না।

প্রথম সাক্ষাতের পর প্রেম নয়, বরং চারজনের মধ্যে একটি বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি হয়। এরপর সময়ের সঙ্গে তাদের জীবন ভিন্ন পথে এগিয়ে যায়। আদেদিরান বোনেরা স্নাতকোত্তর পড়াশোনা শেষ করে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য চলে যান। অন্যদিকে ওগুনতোয়ে ভাইরা কাজের সূত্রে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ ও কর্মজীবন কাটান। দীর্ঘ সময় যোগাযোগ না থাকলেও পরে আবার তাদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়। ধীরে ধীরে সেই বন্ধুত্ব গভীর ভালোবাসায় রূপ নেয়। পরিবারের সদস্যরাও এই সম্পর্ককে সাদরে গ্রহণ করেন। তাইও ওগুনতোয়ে বলেন, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গেও তাদের খুব দ্রুতই ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। তারা তাদের নিজেদের পরিবারের সদস্যের মতো গ্রহণ করেছে।

বিয়ের অনুষ্ঠানে দুই দম্পতি একই ধরনের পোশাক পরেছিলেন। এতে অনুষ্ঠানটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানে আরো কয়েক জোড়া যমজ উপস্থিত ছিলেন। কারণ, ওগুনতোয়ে ভাইরা স্থানীয়ভাবে যমজ সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করার জন্য পরিচিত। তারা 'ওগুনতোয়ে টুইনস' নামে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও পর্যটন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। যদিও দুই ভাই অভিন্ন যমজ নন এবং তাদের চেহারায় কিছু পার্থক্য রয়েছে। তবে তাদের স্ত্রীরা দেখতে প্রায় একই রকম। কেহিনদে ওগুনতোয়ে মজা করে বলেন, তাদের স্ত্রীরা এতটাই একই রকম দেখতে যে, তাদের পরিবারের সদস্যরাও মাঝে মাঝে বিভ্রান্ত হয়ে যান। তবে তারা কখনো ভুল করেন না। তারারা নিজ নিজ স্ত্রীকে খুব ভালোভাবেই চিনতে পা্রেন

দুই ভাই জানান, তাদের ও তাদের স্ত্রীদের ব্যক্তিত্বের মধ্যে অনেক মিল রয়েছে। তারা পরিস্থিতি অনুযায়ী কখনো শান্ত, আবার কখনো প্রাণবন্ত হয়ে ওঠেন। তাদের সম্পর্ক খুব গভীর হলেও, বিয়ের পর দুই দম্পতি আলাদা থাকবেন বলে জানান তাইও ওগুনতোয়ে। 

এখন নতুন জীবনের শুরুটা উপভোগ করছেন এই নবদম্পতিরা। দীর্ঘদিনের পরিচয়, বন্ধুত্ব এবং ভালোবাসার পথ পেরিয়ে অবশেষে চারজনের জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। বিরল এই বিয়ে শুধু তাদের পরিবারের জন্য নয়, পুরো ইবাদান শহরের মানুষের কাছেও এক স্মরণীয় ঘটনা হয়ে উঠেছে।

৬৬ বছরের পুরোনো পানি চুক্তি নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে নতুন বিরোধ

অনলাইন ডেস্ক
৬৬ বছরের পুরোনো পানি চুক্তি নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে নতুন বিরোধ
ছবি : রয়টার্স

সিন্ধু নদের পানিবণ্টন নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ বলেছেন, পানির অধিকার কেড়ে নিয়ে পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা হুমকিতে ফেলা হলে তারা ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াতেও প্রস্তুত। তবে তিনি যোগ করেন, এখনই যুদ্ধ করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

দুই দেশের মধ্যে ৬৬ বছরের পুরোনো একটি পানিবণ্টন চুক্তি রয়েছে, যা সিন্ধু পানি চুক্তি নামে পরিচিত। ভারত এখন এই চুক্তিটি বাতিল করতে চাইছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পাকিস্তান সীমান্ত দিয়ে সন্ত্রাসবাদ ছড়ানো বন্ধ না করা পর্যন্ত এই চুক্তি স্থগিত থাকবে। ভারতের পানিসম্পদ মন্ত্রী সি আর পাতিল বলেছেন, আগামী দিনগুলোতে পাকিস্তানে যেন এক ফোঁটাও পানি না যেতে পারে, ভারত সেই ব্যবস্থা করছে।

পাকিস্তানের জন্য সিন্ধু নদের পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির ৯০ শতাংশ ফসলি জমির সেচ এবং সবকটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র এই পানির ওপর নির্ভরশীল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত যদি পুরোপুরি পানি বন্ধ নাও করে, শুধু বাঁধের পানি ছাড়ার সময় ও নিয়ম পরিবর্তন করে, তাতে পাকিস্তানের বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। চাষের মৌসুমে পানি আটকে রাখলে খরা হবে, আবার হুট করে পানি ছেড়ে দিলে পাকিস্তানে বন্যা দেখা দেবে।

ইতোমধ্যেই চেনাব নদীর পানির হঠাৎ হ্রাস-বৃদ্ধি নিয়ে পাকিস্তান বেশ কয়েকবার ভারতের কাছে প্রতিবাদ জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধানের সুযোগ দিন দিন কমে আসছে।

অহম সম্প্রদায় নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য, ‘বাংলাপক্ষ’-র প্রতিষ্ঠাতাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ | কালের কণ্ঠ