• ই-পেপার

নতুন অ্যাসাল্ট রাইফেলের মডেল প্রকাশ করল জাপান

পাকিস্তানের কাশ্মীরে ক্ষোভের আগুন, অচল পাহাড়ে ২৪ প্রাণহানি

অনলাইন ডেস্ক
পাকিস্তানের কাশ্মীরে ক্ষোভের আগুন, অচল পাহাড়ে ২৪ প্রাণহানি
ধর্মঘটের সময় একটি রাস্তার জনশূন্য দৃশ্য। ছবি : সংগৃহীত

আবারও বিক্ষোভে উত্তাল হলো পাকিস্তানের কাশ্মীর। কয়েক দিন ধরে সেখানে এমন এক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, যেখানে রাস্তা বন্ধ, দোকান বন্ধ, ইন্টারনেট বন্ধ—শুধু মানুষের দুশ্চিন্তাটা খোলা। সেটি বন্ধ করার কোনো সরকারি নির্দেশ এখনো জারি হয়নি!

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে টানা বিক্ষোভ ও সংঘর্ষে অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে সাধারণ মানুষ যেমন আছে, তেমনি আছেন পুলিশ সদস্যও। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অঞ্চলটিতে এমন প্রাণঘাতী অস্থিরতা আর দেখা যায়নি।

ঘটনার সূত্রপাত আইনসভা নির্বাচন ঘিরে। আগামী ২৭ জুলাই ৪৫ আসনের আঞ্চলিক আইনসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। এর আগে ভারতশাসিত কাশ্মীর থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে পাকিস্তানে থাকা শরণার্থীদের জন্য ১২টি আসন সংরক্ষণের বিরোধিতা করে আন্দোলনে নামে জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি বা জেএএসি। সংগঠনটি ৯ জুন ধর্মঘটের ডাক দেয়। এর পরই পরিস্থিতি ক্রমে উত্তপ্ত হতে থাকে।

সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ৬ থেকে ১৪ জুনের মধ্যে অন্তত ২০ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। আঞ্চলিক পুলিশপ্রধান লিয়াকত আলী মালিক জানিয়েছেন, সংঘাতে চার পুলিশ সদস্য নিহত এবং ৯৭ জন আহত হয়েছে। আটক করা হয়েছে ৫১৫ জনকে।

রাজধানী মুজাফফরাবাদ থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে রাওয়ালাকোটের উপকণ্ঠে এখনো হাজারো জেএএসি সমর্থক অবস্থান করছেন। কর্তৃপক্ষ প্রধান সড়কগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। ইন্টারনেট সেবা বন্ধ। অনেক এলাকায় গণমাধ্যমের প্রবেশও সীমিত। ফলে কাশ্মীর যেন নিজের ভেতরেই আটকে পড়েছে—বাইরের সঙ্গে কথা বলার মুখ নেই, আর ভেতরে মানুষের ক্ষোভ থামার নাম নেই।

অচলাবস্থার সবচেয়ে বেশি বোঝা পড়েছে সাধারণ মানুষের ঘাড়ে। বড় রাজনীতিকরা বড় বড় কথা বলেন, কিন্তু দিনমজুরের সংসার চলে ছোট ছোট মজুরিতে। মুজাফফরাবাদের আপার আড্ডা বাণিজ্যিক এলাকায় শ্রমিকরা কাজের আশায় বসে থাকছেন। কাজ নেই, আয় নেই। কিছু ওষুধের দোকান ও নিত্যপণ্যের দোকান সীমিত সময়ের জন্য খুললেও বেশিরভাগ দোকানপাট বন্ধ। ব্যাংকিং সেবা ব্যাহত হচ্ছে। এটিএম অচল। পেট্রল পাম্পও বন্ধ রাখা হয়েছে সরকারি নির্দেশে।

স্থানীয় ট্যাক্সিচালক আসিফ নাজে বলেছেন, যাদের ঘরে সঞ্চয় আছে তারা হয়তো কিছুদিন টিকে থাকতে পারবেন। কিন্তু যারা দিন আনে দিন খায়, তাদের জন্য এই অচলাবস্থা মানে ঘরে চুলা না জ্বলা।

কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তান বহুদিন ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের সমালোচনা করে এসেছে। কিন্তু এবার নিজ শাসিত কাশ্মীরেই বিক্ষোভ, মৃত্যু, ধরপাকড় ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার অভিযোগে চাপে পড়েছে ইসলামাবাদ। 

সূত্র : রয়টার্স

ইসরায়েলি হামলা

লেবাননে নিহত ৪ হাজার ছাড়িয়েছে

অনলাইন ডেস্ক
লেবাননে নিহত ৪ হাজার ছাড়িয়েছে
সংগৃহীত ছবি

সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মধ্যেও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের নাবাতিয়েহ, বেকা উপত্যকা এবং সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে হামলার মাত্রা বেড়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র গতকাল শুক্রবারেই নিহত হয়েছেন ৮৪ জন। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। আর আহত হয়েছেন ১২ হাজারের বেশি মানুষ।

লেবাননের কর্তৃপক্ষ বলছে, হামলায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ক্রমেই বাড়ছে। অন্যদিকে ইসরায়েল দাবি করছে, তারা হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো ও অবস্থান লক্ষ্য করে অভিযান চালাচ্ছে।

সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৪ হাজার ৫৭ জন নিহত এবং ১২ হাজার ১২১ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে মন্ত্রণালয় জানায়, শুক্রবারের হামলায় নিহতের সংখ্যা আগের হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি। সংশোধিত হিসাব অনুযায়ী শুক্রবার একদিনেই ৮৩ জন নিহত এবং ১৪১ জন আহত হয়েছেন।

মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, নিহত ও আহতদের অধিকাংশই দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দা। এ ছাড়া দেশটির পূর্বাঞ্চলেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

এ অবস্থায় লেবাননে ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। দেশটির কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স ঘোষণা দিয়েছে।

এক বিবৃতিতে ইরানি সামরিক কর্তৃপক্ষ জানায়, লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির লঙ্ঘন এবং সেই কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ করা হলো। এটি শত্রুপক্ষের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের বিরুদ্ধে প্রথম পদক্ষেপ।’

এদিকে চার হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু এবং বারো হাজারের বেশি আহত হওয়ার ঘটনায় দেশটিতে মানবিক সংকট আরো গভীর হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হাসপাতাল ও জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর ওপরও চাপ বাড়ছে। 

দিল্লিতে শিশু কেনাবেচার হাট!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
দিল্লিতে শিশু কেনাবেচার হাট!
ছবি : এনডিটিভি

পৃথিবীতে অনেক রকম বাজার আছে। কিন্তু শিশু কেনাবেচার হাটের কথা কল্পনা করতে পারেন! দিল্লিতে এমনই এক অন্ধকার বাজারের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। ধাপে ধাপে অনুসন্ধান করতে গিয়ে পুলিশ জেনেছে, দিল্লির একটি হাসপাতালকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে জমজমাট এই বাজার। দরিদ্র পরিবারের কাছ থেকে অল্প টাকায় তাদের নবজাতক সন্তান কিনে বা চুরি করে এনে চড়া দামে বিক্রি করা হতো নিঃসন্তান কোনো দম্পতির কাছে। পুলিশ এই চক্রের বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে। 

ব্যাপারটা এমন, রাজস্থানে জন্ম নেওয়া কোনো একটি শিশুকে কিনে বা চুরি করে এনে দিল্লির এক হাসপাতালে এক ডাক্তারের মধ্যস্থতায় বিক্রি করে দেওয়া হলো হরিয়ানার কোনো দম্পতির কাছে। সেই শিশু বড় হয়ে কখনো জানতেই পারবে না, তার আসল মা-বাবা কে। এই বাজারে ছেলেশিশুর দাম বেশি, ৬ থেকে ৮ লাখ রুপি। কন্যাশিশুর দাম একটু কম পড়বে, ৩ থেকে ৪ লাখ রুপিতে আপনি পেয়ে যাবেন ৩ থেকে ৪ দিন বয়সী কোনো কন্যাশিশু।

দিল্লির ব্যস্ত এলাকা পাহাড়গঞ্জের এক বাসিন্দা প্রথমে পুলিশকে তার সন্দেহের কথা জানান। তিনি পুলিশকে জানান, এলাকায় নিয়মিত বিরতিতে একটি নারীকে দেখা যেত, যার কোলে প্রতিবারই একটি নতুন নবজাতক থাকত, যা সন্দেহজনক। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। এলাকার সিসিটিভির ফুটেজ চেক করার পাশাপাশি নিজস্ব সোর্সকেও কাজে লাগানো হয়। পুলিশ নিশ্চিত হয়, জ্যোতি ওরফে কমলেশ নামের এই নারী শিশু পাচারের সঙ্গে জড়িত। এর পরই তাকে হাতেনাতে ধরতে ফাঁদ পাতে দিল্লি পুলিশ।

পুলিশের একজন নারী সদস্য শিশু কেনার গ্রাহক সেজে কমলেশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা দেখা করেন এবং শিশু বিক্রির চুক্তি হয়। অগ্রিম হিসেবে ২০ হাজার রুপি দিতেও রাজি হন ছদ্মবেশী নারী পুলিশ। ৫ জুন ছদ্মবেশী পুলিশের কাছে একটি নবজাতক হস্তান্তর করার সময় কমলেশকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।

তারপর বেরিয়ে আসে এক চাঞ্চল্যকর আন্তঃরাজ্যীয় শিশু পাচার চক্রের গল্প, যা বলিউড সিনেমাকেও হার মানায়। যার পরতে পরতে লুকিয়ে আছে দারিদ্র্য, লোভ, আর নির্মমতার নানামাত্রিক উপাখ্যান। দরিদ্র পিতা-মাতা থেকে দিল্লির দালাল, সেখান থেকে হাসপাতাল, সেখান থেকে নিঃসন্তান কোনো দম্পতির ঘর- জন্মের সাথে সাথে কিছু অপরাধী মিলে নির্ধারণ করে একটি শিশুর ভাগ্য!

কমলেশকে টানা জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ তার দুই সহযোগী—শালু ও ললিতের সন্ধান পায়। পরে প্রতিভা ও বিপিন নামে আরো দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যারা মূলত শিশু সংগ্রহ এবং বিক্রির চুক্তি করার দায়িত্বে ছিল। প্রতিভা ও বিপিন যখন বাজারে শিশু সরবরাহকারী মূল ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন, তখন তাদের ধরা হয়। তাদের কাছ থেকে পুলিশ প্রায় ৩ লাখ রুপিও উদ্ধার করে। দুই সপ্তাহের টানা জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ এক মাসের কম বয়সী এমন ৫টি নবজাতককে উদ্ধার করে।

এর পরই পুলিশ আরো নিবিড় অনুসন্ধানে নামে। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ একটি হাসপাতালের সন্ধান পায়। পশ্চিম দিল্লির রোহিণীর বেগমপুরের হীরা মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল, নামে হাসপাতাল হলেও এটি আসলে কোনো চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র নয়, এটিই মূলত শিশু বেচাকেনার বাজার। এই হাসপাতার মালিক ডাক্তার বিবেকীই হলেন এই চক্রের মূল হোতা। পাচারকারীরা নবজাতকদের সংগ্রহ করে এই হাসপাতালে নিয়ে আসত। বিক্রি হওয়ার আগ পর্যন্ত শিশুগুলোকে এই হাসপাতালেই রাখা হতো। ডাক্তার বিবেকী শিশুদের ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করতে সাহায্য করতেন। শিশুদের জন্ম সনদ, জন্ম নেয়ার কাগজপত্র, হাসপাতালের বিল এমনভাবে তৈরি করা হতো, যাতে মনে হয় শিশুটি এই হাসপাতালেই জন্ম নিয়েছে। 

পুলিশের তদন্তে দেখা গেছে, একটি কন্যাসন্তান প্রায় এক লাখ রুপিতে কেনা হতো এবং ৩ থেকে ৪ লাখ রুপিতে বিক্রি হতো। আর ছেলেশিশু কেনা হতো প্রায় দুই লাখ রুপিতে, বিক্রি হতো ৬ থেকে ৮ লাখ রুপিতে। পৃথিবীর আর কোনো বাজারে এমন লাভজনক ব্যবসা নেই!

দিল্লি সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের ডিসিপি রোহিত রাজবীর সিং পুরো চক্রের গল্প সাংবাদিকদের কাছে বর্নণা করেন। তিনি জানান, শিশু কেনাবেচার সমস্ত চুক্তি ডাক্তার বিবেকীর হাসপাতালেই হতো। তিনি পাচারকারী এবং শিশু কিনতে চাওয়া দম্পতিদের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতেন।

হেফাজতে থাকা আসামিদের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ গুজরাটের সবরকান্থা থেকে সাবাভাই গামার ওরফে কালিয়াকে গ্রেপ্তার করে। মূলত উদয়পুরের বাসিন্দা গামার রাজস্থানের পালি এবং সবরকান্থার দরিদ্র দম্পতিদের কাছ থেকে শিশু কিনত। 

উদ্ধার হওয়া শিশুদের প্রকৃত মা-বাবার সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ। তারা স্বেচ্ছায় সন্তান বিক্রি করেছে, নাকি তাদের বাধ্য করা হয়েছে, অথবা শিশুগুলোকে চুরি করা হয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ডিসিপি রাজবীর সিং বলেন, মা-বাবা যদি স্বেচ্ছায় পাচারকারীদের কাছে শিশু বিক্রি করে থাকে, তবে তাদেরও এই মামলায় আসামি করা হবে। যারা এ চক্রের কাছ থেকে শিশু কিনেছেন, তাদেরও আসামি করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

তদন্তে জানা গেছে, গামার এবং তার দল গত এক বছরে অন্তত ৩০টি নবজাতককে বিক্রি করেছে। পুলিশ হরিয়ানার পানিপথ থেকে সানি অরোরা এবং রিতু অরোরা নামের এক দম্পতিকে শনাক্ত ও আটক করেছে, যারা এ চক্রের কাছ থেকে শিশু কিনেছেন। এ ছাড়া মধ্য প্রদেশের গোয়ালিয়র থেকে এই চক্রের কাছ থেকে শিশু কেনা অন্য এক দম্পতিকেও আটক করা হয়েছে।

ডিসিপি রোহিত রাজবীর সিং জানান, এ চক্রের লোভের জালে পড়ে প্রতারিত হয়েছেন এক দম্পতি। তারা একটি পুত্রসন্তান কিনতে চেয়েছিলেন। কিন্তু চক্রটির কাছে তখন একটি কনাশিশুও ছিল, যাকে দ্রুত বিক্রি করে দেয়া দরকার। চক্রটি ছেলেশিশু কিনতে আগ্রহী দম্পতিকে জানায়, তাদের কাছে ছেলেশিশুর জমজ একটি কন্যাশিশুও রয়েছে। সে দম্পতি ৯ লাখ রুপির প্যাকেজে ‘যমজ’ সন্তান কেনেন। বাস্তবে তারা যমজ ছিল না। তাদের সংগ্রহ করা হয়েছিল দুই এলাকা থেকে।

ডিসিপি রাজবীর সিং এই চক্রটি ভাঙার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য তিন নারী পুলিশ কর্মকর্তা—সাব-ইন্সপেক্টর প্রগতি ও যামিনী এবং হেড কনস্টেবল সুষমার নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।

উদ্ধার হওয়া ৫ নবজাতককে আপাতত চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রকৃত মা-বাবার সন্ধান না পেলে কমিটি পরে তাদের আইনি প্রক্রিয়ায় দত্তক দেওয়ার ব্যবস্থা করবে।

ইরান যুদ্ধে চীনের লাভ-ক্ষতি

অনলাইন ডেস্ক
ইরান যুদ্ধে চীনের লাভ-ক্ষতি
সংগৃহীত ছবি

প্রায় চার মাসের যুদ্ধ বন্ধে ‍যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর, এখন সব পক্ষই নিজেদের জয়-পরাজয়, লাভ-ক্ষতির হিসাব কষছে। মাঠের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করলে অবশ্যই পিছিয়ে থাকবে ইরান। তবে যুদ্ধে টিকে থেকেই বড় এক জয়ের দেখা পেয়ে গেছে দেশটি। শুরুতে ইরানের সরকার পরিবর্তন ও তাদের হাতে থাকা ইউরেনিয়াম নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলেও দৃশ্যমান তেমন কোনো অর্জন ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় আসতে বাধ্য হয়েছে। ইরানের সরকার বদল তো হয়ইনি, বরং যুদ্ধ তাদের আরো ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী করেছে। এই ফাঁকে ইরান সরকার যুক্তরাষ্ট্রের এক ধরনের স্বীকৃতিও আদায় করে নিয়েছে। ইরানের সবচেয়ে বড় লাভ হলো, দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা কোটি কোটি ডলার এখন তাদের হাতে আসবে, যা তাদের বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে। নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ায় তেল বিক্রি করেও অনেক বেশি লাভবান হবে ইরান।

এই যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে আছে ইসরায়েল। মূলত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুই ফুঁসলিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এই অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধে টেনে এনেছিলেন। কিন্তু এখন তাকে ছাড়াই সমঝোতায় পৌছে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধের শুরুতে মূল ভূমিকায় থাকলেও শেষের ঘটনায় নেতানিয়াহুর কোনো ভূমিকাই নেই। বরং ট্রাম্প একাধিকবার নেতানিয়াহুর আচরণে প্রকাশ্যে উষ্মা প্রকাশ করেছেন। অপাঙক্তেয় নেতানিয়াহু এখন সমঝোতা স্মারক ভণ্ডুল করতে উঠেপড়ে লেগেছেন। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরও লেবাননে হামলা চালিয়ে তিনি শান্তি প্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করতে চাইছেন।

যুদ্ধে সরাসরি জড়িত না হয়েও চীন লাভের গুড়ে অনেকটাই ভাগ বসাতে পেরেছে। ভারসাম্যপূর্ণ ও কৌশলী কূটনীতি দিয়ে বিশ্বের কাছে নিজেদের দায়িত্বশীল শক্তি হিসেবে পরিচিত করাতে পেরেছে চীন। ইরান যুদ্ধে দারুণ উজ্জ্বল হয়েছে চীনের ভাবমূর্তি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধে চীন বরাবরই নিজেদের যৌক্তিক অবস্থান ধরে রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের নিন্দা যেমন করেছে, আবার শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে ভূমিকাও রেখেছে। ইরান থেকে তেল কেনা বন্ধ না করেও চীন খোদ ট্রাম্পের কাছ থেকে প্রশংসা পেয়েছে।

বুধবার ফ্রান্সে জি৭ শীর্ষ সম্মেলনের এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্টের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমি চীন ও প্রেসিডেন্ট শি-কে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তিনি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ছিলেন, একদম নিরপেক্ষ এবং আমি এটার প্রশংসা করি।’

ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ অমান্য করতে চীনা নেতা তার দেশের নৌ-শক্তি ব্যবহার করেননি উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা সেটি করেনি। প্রেসিডেন্ট শি আমাকে সাহায্য করেছেন। তিনি সাহায্য করার চেষ্টা করেছিলেন এবং আমার মনে হয় এটি সমাধানে সম্ভবত তিনি সাহায্য করেছেন।’

এখানেই বেইজিংয়ের কৌশলী কূটনীতির জয় হয়েছে। নিজেদের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখেই তারা বিশ্ব শক্তির ওপর নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং এই সংঘাতের মূল মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের নেতারা বেইজিং সফর করেছেন। এইসব সফরে বিশ্ব শক্তি হিসেবে চীন নিজেদের আবার ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে পেরেছে। পুরো প্রক্রিয়ায় থেকেও কোনো পক্ষ নেয়নি চীন। শান্তি আলোচনার শুরুতে ইরান যে কোনো চুক্তিতে চীনকে গ্যারান্টার হিসেবে রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু কৌশলে চীন তা এড়িয়ে গিয়ে নিজেদের ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতিকেই সামনে এনেছে বারবার। 

যুদ্ধ শুরুর প্রতিক্রিয়ায় হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সংব দেখা দেয়। অন্যান্য দেশের তুলনায় চীন এ সংকটও মোকাবেলা করেছে দারুণ দক্ষতায়। জ্বালানি তেলের কৌশলগত বিশাল মজুদ এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহারের কারণে জ্বালানি তেলের সংকটের অভিঘাত খুব একটা লাগেনি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির গায়ে। 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সক্রিয় ভূমিকা পালনে প্রস্তুত রয়েছে বেইজিং। এই চুক্তির পেছনে বেইজিংয়ের কোনো ভূমিকা ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে লিন জিয়ান নির্দিষ্ট কোনো ভূমিকার কথা নিশ্চিত করেননি। তবে যুদ্ধ বন্ধে চীনের অক্লান্ত প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করছেন। গত এপ্রিলে চীনের শীর্ষ নেতা শি জিনপিংয়ের পেশ করা চার দফা শান্তি প্রস্তাবের বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন তিনি।

বুধবার চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচলের বিষয়টি সঠিকভাবে সামলানোর আহ্বান জানান। ওয়াং বলেন, ‘শান্তির আলো দেখা দিয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপের মূল চাবিকাঠি হলো সব পক্ষের নিজেদের প্রতিশ্রুতিগুলো সত্যিকার অর্থে বাস্তবায়ন করা এবং সব দিক থেকে আসা হস্তক্ষেপ দূর করা।’

চীনের এসব ভূমিকা বিশ্বে বার্তা দিয়েছে—অন্যরা যখন যুদ্ধ ছড়াচ্ছে, তখন চীন একটি দায়িত্বশীল বৈশ্বিক শক্তি এবং প্রভাবশালী মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। এই যুদ্ধ প্রতিরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের সীমাবদ্ধতাকে সামনে এনেছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো অন্ধের মতো যুক্তরাষ্ট্র-নির্ভরতা নিয়ে এখন নতুন করে ভাবছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে চীন বিশ্বের পরাশক্তি হয়ে উঠবে কিনা, এমন আলোচনাও সামনে আসছে। কিন্তু চীনের কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকেরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন, বেইজিং কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের ধাঁচের কোনো পরাশক্তি হতে চায় না।

বেইজিংয়ের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি’র ফেলো সান চেংহাও বলেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র এখনো সবচেয়ে শক্তিশালী বহিরাগত পক্ষ হিসেবে রয়ে গেছে। যা পরিবর্তিত হয়েছে তা হলো, সেখানে তাদের আধিপত্য বজায় রাখতে এখন অনেক বেশি রাজনৈতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক এবং সম্মানহানির মূল্য দিতে হচ্ছে।’

চীন বরাবরই সব দেশের সার্বভৌমত্ব, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, রাজনৈতিক সমাধান এবং উন্নয়নভিত্তিক নিরাপত্তার ওপর জোর দেয়। এবারের যুদ্ধে তাদের সেই দর্শনই আবার সামনে এসেছে এবং প্রশংসিত হয়েছে।

নতুন অ্যাসাল্ট রাইফেলের মডেল প্রকাশ করল জাপান | কালের কণ্ঠ