• ই-পেপার

প্রকাশ্যে এসেই সার কারখানায়

উত্তর কোরীয় নেতা কি পরমাণু বোমা তৈরির ইঙ্গিত দিলেন?

খামেনির শেষবিদায়ে থাকছেন যেসব দেশের নেতারা

অনলাইন ডেস্ক
খামেনির শেষবিদায়ে থাকছেন যেসব দেশের নেতারা
ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির দাফন অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। তাকে শেষ বিদায় জানাতে বড় আকারের শোকযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশ প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পাঠাচ্ছে।

তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সমর্থন দেওয়া ইউরোপের দেশগুলোকে এ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রথম দিনেই নিজের বাসভবনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ৮৬ বছর বয়সে নিহত হন খামেনি। 

দাফন অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রাহমন, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান এবং জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট মিখাইল কাভেলাশভিলি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বলে জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট সেভদেত ইলমাজ, ভারতের প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গারিটা, বিহারের গভর্নর সৈয়দ আতা হাসনাইন, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ ও কাশ্মীরি নেতা মেহবুবা মুফতিও প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে থাকবেন।

চীনের জাতীয় গণকংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হে ওয়েই এবং রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভও অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকী ইতোমধ্যে তেহরানে পৌঁছেছেন। উপপ্রধানমন্ত্রী আব্দুল গনি বারাদারেরও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়া থাকবেন ১১ দলীয় জোটের প্রতিনিধিদল।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির দাফন অনুষ্টান উপলক্ষে ছয় দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার ও রবিবার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় খামেনি ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের কফিন জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে।

সোমবার ও মঙ্গলবার শেষযাত্রা ইরানের ধর্মীয় নগরী কোমের দিকে যাবে। বুধবার ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় শোকযাত্রা ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে। শহর দুটি বিশ্বের কোটি কোটি শিয়া মুসলমানের কাছে অত্যন্ত পবিত্র। 

পরবর্তীতে মরদেহ আবার ইরানে ফিরিয়ে আনা হবে এবং দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে অবস্থিত ইমাম রেজার পবিত্র মাজারে চূড়ান্ত দাফন কার্য সম্পন্ন হবে। খামেনির জন্মশহর ইরানের মাশহাদ।

এদিকে ২৮ ফেব্রুয়ারির যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় নিহত খামেনির পরিবারের আরো কয়েকজন সদস্যকেও তার সঙ্গে দাফন করা হবে। তাদের মধ্যে রয়েছেন তার মেয়ে, পুত্রবধূ, জামাতা এবং তিন বছর বয়সী নাতনি।

পর্যবেক্ষকদের মতে, ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির দাফন অনুষ্ঠান আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জনসমাগমে পরিণত হতে পারে। এর আকার ও অংশগ্রহণ ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির শেষকৃত্যকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। সে সময় প্রায় ১ কোটি মানুষ শোকযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন।

নিরাপত্তাজনিত কারণে খামেনির ছেলে ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি শেষকৃত্যে অংশ নেবেন না বলে বৃহস্পতিবার তার ভারতের প্রতিনিধি জানিয়েছেন। ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হত্যার হুমকির পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যের প্রস্তুতির মধ্যে ইরানের এক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে নতুন হামলার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন।

খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের কমান্ডার আলি আবদোল্লাহি এক বিবৃতিতে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হামলা বা আগ্রাসন চালানো হলে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী কঠোর জবাব দেবে। তিনি বিশেষভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ভুল পদক্ষেপ না নেওয়ার আহ্বান জানান।

খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু, শোকে একাত্ম ইরান

অনলাইন ডেস্ক
খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু, শোকে একাত্ম ইরান
রয়টার্স ছবি

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান আজ গভীর শোকে মুহ্যমান। প্রায় চার দশক ধরে ইসলামী বিপ্লবের নেতৃত্বদানকারী দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে দেশটির জনগণ এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়েছেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম প্রেস টিভি বলছে, শুক্রবার তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় খামেনির মরদেহ নিয়ে আসা হয়। এর মধ্য দিয়ে শুরু হওয়ার শোকানুষ্ঠান আগামী ৬ দিন ধরে তেহরান, কোম, ইরাকের নাজাফ এবং ইরানের মাশহাদে বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচির মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে। এতে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেবেন।

খামেনিকে শ্রদ্ধা জানাতে আসা বিদেশি অতিথিদের মধ্যে আছেন—ইন্দোনেশিয়া ও আফগানিস্তানের ইসলামী আলেম এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। ইরানে স্বীকৃত বিভিন্ন ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এ ছাড়া খামেনির দাফনসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতায় প্রায় ১০০টি দেশের প্রতিনিধিদল, বিভিন্ন খ্যাতিমান ব্যক্তি ও নাগরিক সমাজ এবং বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন বলে জানান ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।

তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল আসছে। প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রীসহ অন্তত ৮ জন সরকারপ্রধান এবং ১২টি দেশের পার্লামেন্টের স্পিকার আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেবেন। এ ছাড়া আরো অনেক দেশ তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অন্যান্য মন্ত্রী অথবা বিশেষ দূতের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল পাঠাবে।

পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সরকারি প্রতিনিধিদল, বিশিষ্ট ব্যক্তি ও পার্লামেন্টের সদস্যরা শেষবিদায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। তবে ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানানো ইউরোপের দেশগুলোকে এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলেও জানান বাঘাই। 

বাঘাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও এই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।

১

এদিকে সরকারিভাবে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের এই আয়োজনের আগে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি ব্যক্তিগত বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সাম্প্রতিক যুদ্ধে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য এবং সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের কর্মীদের স্বজনেরা সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রয়াত নেতাকে শেষবিদায় জানান।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সব শ্রেণি-পেশা ও মতের ইরানিদের শেষবিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘বীরত্বপূর্ণ ইরান যখন ইসলাম ও বিপ্লবের একনিষ্ঠ সেবককে শেষবিদায় জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন আমি জাতিগত পরিচয়, রাজনৈতিক মত, আদর্শ বা ধর্ম-নির্বিশেষে দেশের সব মানুষকে স্বতঃস্ফূর্ত, মর্যাদাপূর্ণ এবং ইতিহাসে স্মরণীয় সংখ্যায় এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। এর মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য ও ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থার উচ্চ আদর্শের প্রতি আনুগত্যের এক স্থায়ী চিত্র তুলে ধরা সম্ভব হবে।’

দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ বলছে, ইরানি কর্তৃপক্ষের ধারণা, খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে ১ কোটি ৫০ লাখ থেকে ২ কোটি মানুষ অংশ নেবেন। তাদের ভাষায়, এটি আধুনিক ইতিহাসে জাতীয় ঐক্য ও জনসমর্থনের অন্যতম বৃহত্তম সমাবেশে পরিণত হতে পারে।

খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠান ঘিরে দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন কর্মসূচির সর্বশেষ তথ্য পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ৮৬ বছর বয়সী খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন। ওই হামলার মধ্য দিয়েই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া যুদ্ধের সূচনা হয়।

ন্যাটো জোটে যুদ্ধের উত্তাপ, যেভাবে বাড়ল অনিশ্চয়তা

অনলাইন ডেস্ক
ন্যাটো জোটে যুদ্ধের উত্তাপ, যেভাবে বাড়ল অনিশ্চয়তা
সংগৃহীত ছবি

তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো নেতারা শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হচ্ছেন আগামী সপ্তাহে। তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ এবং ওয়াশিংটনের সামরিক জোটটির প্রতি প্রতিশ্রুতি কমানোর পদক্ষেপ সম্মেলনকে ঘিরে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

ন্যাটোর কর্মকর্তাদের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধকে ইউরোপের অনেক দেশ সমর্থন করেনি। একই সঙ্গে এই যুদ্ধ ইউরোপজুড়ে ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায়ও ন্যাটোর অধিকাংশ সদস্য দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে তাদের আকাশসীমা এবং সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে।

জোটে টানাপোড়েন

এই যুদ্ধের কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এবং বিদায়ি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের মতো ইউরোপীয় নেতাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কেও টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। ফলে আঙ্কারা সম্মেলনে সেই উত্তেজনা আবারও সামনে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে ন্যাটোর এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক বলেন, ‘আমি আশাবাদী, কারণ নেতারা জানেন এখানে কী ঝুঁকি রয়েছে।’

তিনি রয়টার্সকে বলেন, যদি এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে আমাদের কাছে আছেন সর্বশেষ ‘বিবাহ-পরামর্শদাতা’ মার্ক রুটে, যিনি পরিস্থিতি শান্ত করতে পারবেন।

যুদ্ধের সক্ষমতায় জোর

নেদারল্যান্ডসের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটে বর্তমানে ন্যাটোর মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেছেন, আগামী সপ্তাহের ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হবে অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা ব্যয়কে যুদ্ধ-প্রস্তুত সক্ষমতায় রূপান্তর করা এবং জোটের প্রতিরক্ষা শিল্পকে উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারণ করা।

বার্লিনে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আগামী সপ্তাহের সম্মেলনে অতিরিক্ত ব্যয়কে যুদ্ধ-প্রস্তুত সামরিক সক্ষমতায় পরিণত করা এবং আমাদের প্রতিরক্ষা শিল্পকে উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। কারণ ন্যাটো একটি আন্তঃআটলান্টিক জোট এবং ভবিষ্যতেও তাই থাকবে। তবে এটিকে আরো ভারসাম্যপূর্ণ করতে হবে।

রুটে আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো এবং কানাডা ইউরোপের প্রচলিত প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে আরো বড় দায়িত্ব গ্রহণ করছে।

বাড়তি প্রতিরক্ষা ব্যয়

এর আগে গত মাসে রুটে জানিয়েছিলেন, ২০২৫ সালে ন্যাটোর ইউরোপীয় সদস্য দেশগুলো এবং কানাডা প্রতিরক্ষা খাতে আগের বছরের তুলনায় ৯০ বিলিয়ন ডলার বেশি ব্যয় করেছে। এর ফলে তাদের মোট প্রতিরক্ষা ব্যয় ৫৭০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি হয়েছে। 

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, গত বছর নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে জোটের নেতারা ২০৩৫ সালের মধ্যে সদস্য দেশগুলোর মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ৫ শতাংশ মূল প্রতিরক্ষা খাতে (অস্ত্র ও সেনা সক্ষমতা) ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেন। এর আগে এই লক্ষ্য ছিল জিডিপির ২ শতাংশ।

সম্মেলনের অনিশ্চয়তা

তবে ইউরোপীয় কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক যুদ্ধ আগামী সপ্তাহের ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনকে ছাপিয়ে যেতে পারে। বর্তমানে সংঘাতটি একটি নাজুক যুদ্ধবিরতির মধ্যে থাকলেও পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ইউরোপীয় দেশগুলো যথেষ্ট সহায়তা করেনি বলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করতে পারেন বলেও তাদের উদ্বেগ রয়েছে।

ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ন্যাটোর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা অঙ্গীকার (কোনো সদস্য দেশ হামলার শিকার হলে তাকে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি) পালনের বাধ্যবাধকতা নাও থাকতে পারে।

তবে ন্যাটোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউরোপে যুদ্ধটি ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয় হওয়া এবং অনেক ইউরোপীয় নেতা এর সমর্থন না করলেও, জোটের অধিকাংশ সদস্য দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আকাশসীমা ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে নিজেদের অঙ্গীকার রক্ষা করেছে।

জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে গায়ে আগুন, আন্দোলনকর্মীর মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে গায়ে আগুন, আন্দোলনকর্মীর মৃত্যু
ছবি : রয়টার্স

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কাছে গুরুতর দগ্ধ হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। নির্বাসিত তিব্বতিদের কর্মী ও একটি গণমাধ্যম তাকে তিব্বতি কর্মী লোবগা রাংজেন হিসেবে শনাক্ত করেছে।

তাদের দাবি, তিনি তিব্বতের স্বাধীনতার দাবিতে নিজের গায়ে আগুন দিয়েছিলেন। নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জরুরি কল পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা ওই ব্যক্তিকে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে তাকে বেলভিউ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

পুলিশ নিহত ব্যক্তির নাম বা ঘটনার সম্ভাব্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। নির্বাসিত তিব্বতিদের গণমাধ্যম ‘ভয়েস অব তিব্বত’ জানিয়েছে, তিব্বতি কর্মী লোবগা রাংজেন তিব্বতের স্বাধীনতা ও ঐক্যের দাবিতে সরাসরি বক্তব্য দেওয়ার পর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে আত্মাহুতি দেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এএম নিউয়র্কের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাংজেন একজন উবার চালক ছিলেন। তিনি একটি তিব্বতি পতাকা নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। রাংজেনের পরিচিত ও সহকর্মী উবার চালক লোবসাং পালজর বলেন, তিব্বতিদের ওপর চীনা সরকারের আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধে রাংজেন ক্ষুব্ধ ছিলেন। 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন চীনের নতুন জাতিগত ঐক্য আইন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। চলতি সপ্তাহে কার্যকর হওয়া এই আইন বেইজিংকে দেশের সীমানার বাইরেও কিছু ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়ার আইনি ভিত্তি দেয় বলে সমালোচকরা দাবি করছেন।

আইনটির লক্ষ্য চীনের ৫৫টি সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয় গড়ে তোলা। এসব গোষ্ঠীর মধ্যে তিব্বতি ও উইঘুররাও রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত অনেক তিব্বতি এই আইনের বিরোধিতা করেছেন। অতীতেও তিব্বতি জনগণ তিব্বত ও আশপাশের তিব্বতি অধ্যুষিত এলাকায় চীনের নীতির প্রতিবাদে আত্মাহুতির মতো চরম পদক্ষেপ নিয়েছে।

চীন ১৯৫০ সালে তিব্বতের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। বেইজিং এ ঘটনাকে শান্তিপূর্ণ মুক্তি হিসেবে বর্ণনা করলেও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও নির্বাসিত তিব্বতিরা দীর্ঘদিন ধরে তিব্বতে চীনের নীতির সমালোচনা করে আসছে।

তবে চীন এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে। চীনে জাতিগত সংখ্যালঘুদের বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে বিবেচিত হয়। তিব্বতি ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যক্রমের আশঙ্কায় কঠোর নজরদারি রাখা হয়। 

২০১২ সালে শি চিনপিং ক্ষমতায় আসার পর থেকে তিব্বতে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ আরো জোরদার হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন ফর তিব্বতের সভাপতি তেনচো গিয়াতসো লোবগা রাংজেনকে তিব্বতের একজন অক্লান্ত সমর্থক বলে উল্লেখ করেছেন এবং তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ১৫০টির বেশি তিব্বতি আত্মাহুতির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১০টি ঘটনা নির্বাসনে থাকা তিব্বতিদের দ্বারা সংঘটিত হয়েছে।

উত্তর কোরীয় নেতা কি পরমাণু বোমা তৈরির ইঙ্গিত দিলেন? | কালের কণ্ঠ