চলমান রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনায় বিশ্বকাপে ইরান ফুটবল দলকে কঠোর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলো মার্কিন প্রশাসন। পরিস্থিতি পাল্টে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি সমঝোতায় পৌঁচেছে। এতে উভয় দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনাও প্রশমিত হয়েছে। তাই বিশ্বকাপে ইরান ফুটবল দলের ওপর আরোপিত কঠোর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ইঙ্গিত দিয়েছে আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র।
টকস্পোর্টসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোয়াইট হাউসের বিশ্বকাপ টাস্ক ফোর্সের প্রধান অ্যান্ডু জুলিয়ানি জানিয়েছেন, বিশ্বকাপে ইরান ফুটবল দলের জন্য আরোপিত কঠোর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা শিথিলে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত মার্কিন প্রশাসন।
এমন এক সময়ে তারা ভ্রমনে কড়াকড়ি আরোপ কমানোর উঙ্গিত দিলো, যখন ইরান ফুটবল ফেডারেশন ফিফার কাছে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এর আগে আগামী রবিবার লস অ্যাঞ্জেলেসে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচের দুইদিন আগে ইরান যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চেয়েছিল, কিন্তু সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে।
এতে ইরানের একজন মুখপাত্র এএফপিকে জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত সময়ে নিয়ে বিশ্বকাপে দলের প্রস্তুতিসূচি জমা দিয়েছে ইরান। তবে আয়োজকদের আরোপিত কঠোর বিধি-নিষেধ বাধার সম্মুখীন হয়েছে টিম মেল্লিরা।
এ বিষয়ে দ্য টেলিগ্রাফকে অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি জানিয়েছেন,পুরো পরিস্থিতিটি অত্যন্ত পরিবর্তনশীল। এ বিষয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। আমরা অবশ্যই মাঠে প্রতিযোগিতামূলক ও সুষ্ঠু খেলা নিশ্চিত করতে চাই। আর সে কারণেই দলের প্রত্যেক কোচ ভিসা পেয়েছেন।
তবে টুর্নামেন্ট এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে ইরান দলের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সময়সীমা কিছুটা বাড়ানোর পথ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে নকআউট পর্বের সমীকরণ পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে বলে যোগ করেন তিনি।
নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে ২-২ গোলে ড্র শেষে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিমান ধরতে বলা হয় ইরানকে। একে একটি ‘বিপর্যয়’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ইরান অধিনায়ক মেহেদি তারেমি এবং কোচ আমির ঘালেনোই।
গ্রুপ পর্ব ও রাউন্ড অব ৩২-এর ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে আগামী ৩ জুলাই ডালাসে অথবা ৬ জুলাই সিয়াটলে যুক্তরাষ্ট্র বনাম ইরান মুখোমুখি হওয়ার একটি শক্তিশালী সম্ভাবনা রয়েছে।
এই ধরনের হাই-প্রোফাইল ম্যাচের লজিস্টিকস ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে জুলিয়ানি বলেন, ‘সবকিছুই পরিবর্তনশীল। তাই এর ওপর নজর রাখুন।’




