• ই-পেপার

উইকিলিকসের জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ গোপনে দুই সন্তানের বাবা!

যৌথ সামরিক মহড়ার ঘোষণা দিলো চীন ও রাশিয়া

অনলাইন ডেস্ক
যৌথ সামরিক মহড়ার ঘোষণা দিলো চীন ও রাশিয়া
সংগৃহীত ছবি

আগামী সপ্তাহে চীনের উপকূলীয় শহর চিংদাওয়ের জলসীমা ও আকাশসীমায় যৌথ মহড়া শুরু করতে যাচ্ছে চীন ও রাশিয়ার নৌবাহিনী। রবিবার (৫ জুলাই) চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর রয়টার্স

এক বিবৃতিতে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘মহড়া শেষ হওয়ার পর উভয় পক্ষের কয়েকটি যৌথ দল সামুদ্রিক টহল পরিচালনা করতে প্রশান্ত মহাসাগরের সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর দিকে অগ্রসর হবে। যৌথভাবে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এই মহড়ার লক্ষ্য।’

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আরআইএ জানিয়েছে, এই মহড়ায় অংশ নিতে রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের একটি ক্রুজার, একটি কর্ভেট, একটি ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন এবং একটি উদ্ধারকারী জাহাজ ইতোমধ্যে ছিংদাও উপকূলে পৌঁছেছে।

আগামী ৬ থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত এই যৌথ সামরিক মহড়া অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে তারা।

হরমুজে মিত্রদের বিশেষ সুবিধা দেবে ইরান

অনলাইন ডেস্ক
হরমুজে মিত্রদের বিশেষ সুবিধা দেবে ইরান
রয়টার্স ছবি

পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর নতুন করে ফি আরোপ করতে যাচ্ছে ইরান। তবে যুদ্ধকালীন যেসব দেশ ইরানের পাশে ছিল, সেই সব বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোকে বিশেষ সুবিধা দেয়া হবে বলে জানিয়েছে তেহরান।

কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরা বলছে, বেইজিংয়ে ওয়ার্ল্ড পিস ফোরামে চীনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আবদুর রেজা রহমানি ফাজলি এ তথ্য জানিয়েছেন।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে হওয়া প্রাথমিক চুক্তিতে উল্লেখ আছে, প্রথম ৬০ দিন বাণিজ্যিক জাহাজগুলো কোনো ফি ছাড়াই এ প্রণালি পার হতে পারবে। তবে ওই নির্দিষ্ট সময়ের পর কী নিয়ম কার্যকর হবে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে।

এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র এ ফি চালুর বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করলেও ইরান নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে বলেও জানান আবদুর রেজা রহমানি। তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির একটি অংশ আমাদের জলসীমার মধ্যে পড়ে। তাই আমরা অবশ্যই সেখানে সার্ভিস ফি ধার্য করব।’

তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘এটি কোনও টোল বা জোরপূর্বক কর নয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা, নৌযানগুলোর চলাচল তদারকি করা এবং বিপুলসংখ্যক জাহাজের কারণে পরিবেশের ওপর যে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে, তা মোকাবিলা করাই আমাদের লক্ষ্য।’

এর মধ্যেও বিপদের বন্ধুদের আশ্বস্ত করে রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ‘কঠিন সময়ে যেসব দেশ আমাদের বন্ধু হিসেবে পাশে দাঁড়িয়েছিল, নতুন এ ফি আদায়ের ক্ষেত্রে আমরা অবশ্যই তাদের জন্য বিশেষ ছাড়ের বিষয়টি বিবেচনা করব।’

জ্বালানিতে ফিরছে স্বস্তি, বাড়ছে উৎপাদন

অনলাইন ডেস্ক
জ্বালানিতে ফিরছে স্বস্তি, বাড়ছে উৎপাদন
রয়টার্স ছবি

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজার। তবে সাম্প্রতিক তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে হওয়া সমঝোতায় স্বস্তি ফিরছে তেলের বাজারে। এ অবস্থায় বিপর্যস্ত পরিস্থিতির মধ্য থেকে তেল উৎপাদনের কোটা বা সীমা পুনরায় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্বের প্রধান তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর শক্তিশালী জোট ওপেক প্লাস।

এই লক্ষ্যে রবিবার সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, কুয়েত, কাজাখস্তান, আলজেরিয়া ও ওমানের মতো প্রধান ওপেকের সদস্য দেশগুলোর জোটের মন্ত্রীরা ভার্চুয়ালি বৈঠকে মিলিত হন। পরে এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা দৈনিক ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদনে সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যা চলতি বছরের আগস্ট মাসে কার্যকর করা হবে।

উৎপাদন পুনরুদ্ধার

যদিও রবিবারের এই বৈঠকের আগেই তেল উৎপাদনকারী এই জোট দৈনিক ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল কোটা বাড়ানোর ব্যাপারে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে বলে দুটি সূত্র জানিয়েছে।

যদিও এর আগে জুন ও জুলাই মাসে একই পরিমাণ কোটা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল। রাশিয়াসহ ওপেক ও এর মিত্র উৎপাদকদের নিয়ে গঠিত ওপেক প্লাসের সাতটি মূল সদস্য দেশ এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত সময়ে দৈনিক প্রায় ৮ লাখ ব্যারেল উৎপাদন কোটা বাড়িয়েছে। 

তবে এই বৃদ্ধির বেশিরভাগটাই কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল। কারণ, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধের কারণে সৌদি আরব, কুয়েত ও ইরাকের মতো ওপেক প্লাসের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দেশগুলোর ট্যাংকার চলাচলের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

যুদ্ধের প্রভাব

ওপেকের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে ওপেক প্লাসের দৈনিক উৎপাদন ছিল ৪ কোটি ২৭ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল। মে মাসে তা কমে ৩ কোটি ৩১ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেলে নেমে আসে। 

সংযুক্ত আরব আমিরাত ও অন্যান্য ওপেক প্লাস দেশকে বেশি তেল রপ্তানিতে সহায়তা করার মার্কিন প্রচেষ্টার ফলে জুন মাস থেকে উৎপাদন কিছুটা পুনরুদ্ধার হতে শুরু করেছে। তবে এখনো তা যুদ্ধপূর্ব পর্যায়ের নিচে রয়েছে।

ওপেকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিক থেকে মে মাস পর্যন্ত কোটা বাড়াতে যাওয়া ৭টি দেশের মধ্যে সৌদি আরব, ইরাক ও কুয়েতের সম্মিলিত উৎপাদন দৈনিক প্রায় ৬০ লাখ ব্যারেল কমে গিয়েছিল। 

স্বস্তি ও সরবরাহ

এদিকে গত ১৭ জুন তেহরান ও ওয়াশিংটন একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে। এর আওতায় তারা চুক্তির পরবর্তী আলোচনা চলাকালীন হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের পথে সৃষ্ট বাধা দূর করার প্রতিশ্রুতি দেয়।

সুইস ব্যাংক ইউবিএস-এর পণ্যবাজার বিশ্লেষক জিওভান্নি স্টাউনোভো এএফপিকে বলেন, আপাতত উৎপাদন সম্ভবত ওপেকের লক্ষ্যমাত্রার নিচেই রয়েছে।

সরবরাহে বিঘ্ন অব্যাহত থাকলেও তেলের দাম যুদ্ধপূর্ব পর্যায়ে ফিরে এসেছে। চীনের আমদানি কমে যাওয়া, মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের উৎপাদকদের রপ্তানি বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সমন্বয়ে রেকর্ড কৌশলগত মজুদ ছাড় দেওয়ার কারণে দামে চাপ পড়েছে। 

যুদ্ধ বন্ধে সই হওয়া সমঝোতা স্মারক ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেছে যে সরবরাহ শেষ পর্যন্ত স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসবে।

ব্লুমবার্গ এজেন্সির উদ্ধৃতি দিয়ে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ হয়তো ইতিমধ্যেই দৈনিক এক কোটি (১০ মিলিয়ন) ব্যারেল ছাড়িয়ে গেছে।

তবে স্যাক্সো ব্যাংকের বিশ্লেষক ওলে হ্যানসেন বলেন, বর্তমানে যে তেল এই প্রণালি দিয়ে যাচ্ছে, তা এতদিন ট্যাঙ্কার বা সংরক্ষণাগারে জমা ছিল। যদি জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে থাকে, তবে জুলাই মাসে পরিস্থিতির উন্নতি দেখা যাবে এবং সম্ভবত আগস্ট মাসেই উৎপাদন বৃদ্ধির গতি আরও ত্বরান্বিত হবে। তারপরও বন্ধ হয়ে যাওয়া উৎপাদন পুনরায় চালু করতে সময় লাগবে।

রিস্টাড এনার্জির বিশ্লেষক হোর্হে লিওন বলেছেন, আগামী বছরের জন্য সবাই উদ্বৃত্ত পরিস্থিতির আশঙ্কা করছে। এরই মধ্যে মে মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেরিয়ে যাওয়ার ফলে ওপেক প্লাস কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে।

এখন একদিকে যখন সদস্য দেশগুলো উৎপাদন বাড়ানোর জন্য চাপ দেবে, তখন জোটটিকে নিম্নমুখী দাম সামাল দেওয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে বলেও জানান তিনি।

জুনের শেষের দিকে ইরাকের তেল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই জোটের কাছে তাদের উৎপাদন কোটা বাড়ানোর অনুরোধ করেছে, যাতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের সময় যে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল তা পুষিয়ে নেওয়া যায়।

তবে হ্যানসেন বলেছেন, উচ্চতর কোটার বিষয়টি তাৎক্ষণিক কোনো প্রয়োজনীয়তা নয়, কারণ উৎপাদনের পরিমাণ এখনও সংঘাত-পূর্ববর্তী পর্যায়ের চেয়ে অনেক নিচে রয়েছে। ইরাকের অনুরোধটি হয়তো ২০২৭ সালের সক্ষমতা পর্যালোচনার অংশ হতে পারে, যেখানে উৎপাদনের ভিত্তি-মাত্রা বা ‘বেসলাইন’ খতিয়ে দেখা হবে।

নতুন চ্যালেঞ্জ

উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের পাশাপাশি ওপেক প্লাস কিছু নতুন চ্যালেঞ্জেরও মুখোমুখি হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত জোট ছেড়ে দেয়ায় এবং ইরাক উচ্চ কোটার দাবি জানানোয় জটিলতা বেড়েছে।

সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, কুয়েত, আলজেরিয়া, কাজাখস্তান ও ওমান—এই সাত দেশ ২০২৩ সালে সম্মত হওয়া দৈনিক ১৬ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল সরবরাহ হ্রাসের ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের অংশ হিসেবে উৎপাদন বাড়াচ্ছে। ওই সময় জোটে সংযুক্ত আরব আমিরাতও ছিল।

কিন্তু উৎপাদন এই সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত থেকে নিজেদের সক্ষমতার সঙ্গে উৎপাদনকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে চাওয়ায় গত এপ্রিলের শেষে জোট ছেড়ে দেয় সংযুক্ত আরব আমিরাত।

রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, ১ মে থেকে আমিরাতের বিদায় বিবেচনায় নিলে আগস্ট থেকে বাকি সাত দেশের হাতে বাজারে ফিরিয়ে আনার মতো আরও দৈনিক প্রায় ৩ লাখ ৭৯ হাজার ব্যারেল তেল রয়েছে। বর্তমান গতিতে উৎপাদন বাড়ানো অব্যাহত রাখলে সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ পুরো সরবরাহ হ্রাস পুরোপুরি প্রত্যাহার হয়ে যাবে।

৯ ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দিল ইসরায়েল

অনলাইন ডেস্ক
৯ ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দিল ইসরায়েল
রয়টার্স ছবি

গাজা উপত্যকা থেকে আটক ৯ জন ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির সহায়তায় তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানায় সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরা

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুক্তিপ্রাপ্তদের সরাসরি মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ শহরের আল-আকসা মার্টার্স হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সেখানে চিকিৎসকরা তাদের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করছেন।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সময় এই হাসপাতালটি বহু মুক্তিপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনি বন্দিকে গ্রহণ করেছে। তাদের অনেকেরই শারীরিক নির্যাতনের কারণে চিকিৎসার প্রয়োজন হয়েছে।

ইসরায়েলের হেফাজতে থাকা ফিলিস্তিনিদের মধ্যে হাজারো ব্যক্তি ২০০২ সালের ‘আনলফুল কমব্যাট্যান্টস বা বেআইনি যোদ্ধা’ আইন অনুযায়ী আটক রয়েছেন।

এই আইনের আওতায় কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অপরাধের প্রমাণ না থাকলেও, তাকে হামাসের মতো ইসরায়েলের দৃষ্টিতে ‘অবৈধ’ ঘোষিত কোনো সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহ করে আটক রাখা যায়।

উইকিলিকসের জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ গোপনে দুই সন্তানের বাবা! | কালের কণ্ঠ