• ই-পেপার

এ সপ্তাহে বিশ্বের তিনটি আলোচিত ঘটনা,যা জানা জরুরী

আরাঘচির সঙ্গে বৈঠকে বসছেন পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
আরাঘচির সঙ্গে বৈঠকে বসছেন পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি রয়টার্স

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি তেহরান সফরকালে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইএসএনএ’র বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা

প্রতিবেদনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, ইসলামাবাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আগে থেকেই ঘোষিত এই সফরটি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান আলোচনা প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।

বাঘাইয়ের মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান সংলাপ এগিয়ে নিতে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে এবং নাকভির সফরও সেই উদ্যোগের ধারাবাহিকতা।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে, যার পরবর্তী ধাপে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা চলছে। এই প্রেক্ষাপটে তেহরানে পাকিস্তানি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরকে আঞ্চলিক কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে বৈঠকে কোন কোন বিষয় প্রাধান্য পাবে বা আলোচনার বিস্তারিত এজেন্ডা কী হবে, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

এল সালভাদর

প্রশান্ত মহাসাগরে ৬ টনেরও বেশি কোকেন জব্দ

অনলাইন ডেস্ক
প্রশান্ত মহাসাগরে ৬ টনেরও বেশি কোকেন জব্দ
ছবি : সংগৃহীত

এল সালভাদরের কর্তৃপক্ষ প্রশান্ত মহাসাগরে পাচার হওয়া ৬ টনেরও বেশি কোকেন জব্দ করেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির রাষ্ট্রপতি নায়েব বুকেলে। বৃহস্পতিবার এল সালভাদরের নৌবাহিনী দুটি পৃথক জাহাজ থেকে এই মাদক উদ্ধার করে। 

প্রতিটি জাহাজে প্রায় সমপরিমাণ কোকেন ছিল এবং সেখানে তিনজন করে নাবিক ছিলেন। বুকেলে জানান, জব্দ করা কোকেনের মোট মূল্য প্রায় ১৬৭ মিলিয়ন ডলার এবং এটিকে তিনি ‘জাতীয় পর্যায়ের নতুন রেকর্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এ ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, মাদক পাচারের বিরুদ্ধে অভিযান এমন সব জায়গায় চালানো হচ্ছে, যেখানে আগে এটি প্রায় দণ্ডমুক্তভাবে চলত। তিনি আরো জানান, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত এল সালভাদর ১৩ টনেরও বেশি কোকেন জব্দ করেছে, যার আনুমানিক মূল্য ৩৩২ মিলিয়ন ডলার।

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার অভিযোগ, জাতিসংঘ বৈঠকে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়

অনলাইন ডেস্ক
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার অভিযোগ, জাতিসংঘ বৈঠকে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়

সংঘাতকালে যৌন সহিংসতা নির্মূলের আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের এক ফোরামে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বৈঠকের আগে জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন জাতিসংঘ মহাসচিবের সংঘাতকালীন যৌন সহিংসতা বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি প্রমিলা প্যাটেনের পদত্যাগ দাবি করেন।

সম্প্রতি প্যাটেন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন, যেখানে সংঘাত-সংশ্লিষ্ট যৌন সহিংসতার অভিযোগে প্রথমবারের মতো ইসরায়েলকে জাতিসংঘের কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। এরপর আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শুনানিতে ড্যানন ও প্যাটেন মুখোমুখি হলে উভয়ের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয় এবং বৈঠকের পরিবেশ তীব্র হয়ে ওঠে।

ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘ইসরায়েলকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর মহাসচিবের প্রবণতার কাছে আপনি নতি স্বীকার করেছেন।’

এ বক্তব্যের পরই জাতিসংঘ মহাসচিবের শিশু ও সশস্ত্র সংঘাতবিষয়ক প্রতিনিধি ভ্যানেসা ফ্রেজিয়ার আপত্তি তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, ড্যানন ব্যক্তিগত আক্রমণ করছেন।

ফ্রেজিয়ার তার দপ্তরের প্রতিবেদনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, প্রতিবেদনের তথ্য যাচাই করা প্রমাণের ভিত্তিতেই প্রস্তুত করা হয়েছে। জবাবে ড্যানন কড়া ভাষায় জাতিসংঘ কর্মকর্তাকে চুপ থাকতে বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা একটি সদস্যরাষ্ট্র। আর আপনি জাতিসংঘের কর্মচারী। এখন আপনি চুপ থাকবেন। আপনি চুপ থাকবেন..।’ ড্যানন বলেন, ‘আপনি কেন এই অবস্থান নিয়েছেন তা আমরা জানি। আমরা আপনাকে এই লজ্জাজনক প্রচারণার অংশ হতে দেব না। আমি আমার কথা শেষ করব।’

তিনি কথা চালিয়ে যাওয়ার সময় জাতিসংঘের প্রতিনিধি ভ্যানেসা ফ্রেজিয়ার তাকে বাধা দেন এবং আপত্তি জানান। এরপর সভার আয়োজকরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান। তবুও তিনি বলতে থাকেন, ‘আপনি যদি শুনতে না চান, তাহলে বাইরে চলে যান।’

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এই সপ্তাহের প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠীগুলোকেও শিশুদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ ঘটানোর কারণে কালো তালিকায় যুক্ত করা হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিলিস্তিনি শিশুদের বিরুদ্ধে এসব ঘটনা অত্যন্ত ভয়াবহভাবে বেড়েছে। 

গত মাসে প্রমিলা প্যাটেনের প্রতিবেদন প্রকাশের পর ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন প্রতিবেদনটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তীব্র সমালোচনা করেন।

তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘এটি একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত! বাস্তবতা ও সত্য থেকে বিচ্ছিন্ন।’ 

ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানায়, তারা জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার দ্বিতীয় ও শেষ মেয়াদ এই বছর শেষ হবে।

প্যাটেন ও ফ্রেজিয়ারের প্রতিবেদন দুটিতেই ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। গত আগস্টে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সংঘাতকালীন যৌন সহিংসতা নিয়ে তার বার্ষিক প্রতিবেদনে জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেস ইসরায়েল ও রাশিয়াকে সতর্ক করেন।

 

বদলে যাচ্ছে উড়ন্ত হোয়াইট হাউস

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
বদলে যাচ্ছে উড়ন্ত হোয়াইট হাউস

মার্কিন প্রেসিডেন্টের সবচেয়ে পরিচিত প্রতীকের একটি হলো এয়ারফোর্স ওয়ান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আকাশপথে যেখানেই যান এয়ারফোর্স ওয়ান তাকে বহন করে। এয়ারফোর্স ওয়ান নিছক একটি বিমান নয়, একে বলা হয়, উড়ন্ত হোয়াইট হাউস। এতে অত্যন্ত সুরক্ষিত ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে, যার মাধ্যমে আকাশপথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিশ্বের যে প্রান্তেই থাকুন না কেন, বিমানে বসেই তিনি দেশ শাসন করতে পারবেন, আসলে বলা ভালো বিশ্ব চালাতে পারবেন। এয়ারফোর্স ওয়ানে রয়েছে উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা আকাশে শত্রুর যেকোনো আক্রমণ ঠেকাতে সক্ষম। রাষ্ট্রপতি, কর্মী, ক্রু ছাড়াও এয়ারফোর্স ওয়ানে একশরও বেশি অতিথি ভ্রমণ করতে পারেন। এয়ারফোর্স ওয়ানে একটি সার্জিক্যাল রুমসহ জরুরি চিকিৎসার জন্য সকল আধুনিক মেডিক্যাল সরঞ্জাম ও ওষুধ মজুদ থাকে। আকাশে উড়তে উড়তেই রিফুয়েলিংয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে এই এয়ারক্র্যাফটে।

বর্তমানে বোয়িং ৭৪৭-২০০ সিরিজের দুটি বিমান এয়ারফোর্স ওয়ান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ১৯৯০ সাল থেকেই বিমান দুটি মার্কি প্রেসিডেন্টদের বহন করে আসছে। তবে পুরোনো বিমান দুটি বদলে বোয়িং এয়ারফোর্স ওয়ানে যুক্ত করতে আরো দুটি অত্যাধুনিক বিমান বানাচ্ছে। নতুন বিমান দুটি বহরে যুক্ত হতে অন্তত আরো দুই বছর সময় লাগবে। কিন্তু তর সইছে না ডোনাল্ড ট্রাম্পের। পুরোনো বিমান আর ভালো লাগছে না তার। নতুন বোয়িংয়ের জন্য অপেক্ষা করতে করতে হয়তো ফুরিয়ে যাবে ট্রাম্পের মেয়াদ। তাই মধ্যবর্তী সময়ের জন্য একটি আধুনিক বোয়িং ৭৪৭-৮ এয়াক্র্যাফটকে এয়ারফোর্স ওয়ান হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে।

শুক্রবার ম্যারিল্যান্ডের বেজ অ্যান্ড্রুজে নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান উদ্বোধন করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিমানটি ঘুরে দেখার পর লাল গালিচা বিছানো সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসার সময় বিমানবাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘সবকিছুর ডিজাইন দারুণ করা হয়েছে। আমি বলব, এটি আমার রুচিমতো হয়েছে।’

নতুন বিমানটিকে সবচেয়ে বিলাসবহুল হিসেবে অভিহিত করে ট্রাম্প বলেন, ‘বিমানটিকে এমন এক বিলাসবহুল উড়ন্ত হোয়াইট হাউসে রূপান্তরিত করা হয়েছে, যা আগে কেউ কখনো দেখেনি।’

গত বছর কাতার রাজপরিবারের পক্ষ থেকে ৪০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এ বিলাসবহুল জাম্বো জেটটি যুক্তরাষ্ট্রকে উপহার দেওয়া হয়েছিল। ভিন্ন একটি দেশের কাছ থেকে ৪০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের উপহার নেওয়ার নৈতিক, আইনি এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্নগুলোকে উপেক্ষা করেই এটিকে এয়ারফোর্স ওয়ানে বদলে দেওয়ার কাজ শুরু করে মার্কিন বিমানবাহিনী।

নতুন এয়ারফোর্স ওয়ানে আগের সব সুবিধা তো থাকছেই, তাতে যুক্ত হচ্ছে আরো আভিজাত্য, আধুনিকতা আর বিলাসিতা। বিমানটিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা, বিশেষ যোগাযোগ প্রযুক্তি, লজিস্টিক সহায়তা এবং আধুনিক প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় বড় ধরনের উন্নয়ন আনা হয়েছে। বিমানবাহিনীর দাবি, এই বিমানে সম্ভাব্য সব ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি দূর করা হয়েছে।

নতুন এয়ারফোর্স ওয়ানে লেজের অংশে থাকা আমেরিকান পতাকা আগের চেয়ে কিছুটা ঢিলেঢালা। ট্রাম্প ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘আমরা এর মধ্যে একটা ঢেউয়ের ছোঁয়া দিয়েছি। আমরা সবসময় সোজা নুডলসের মতো নকশা ব্যবহার করে এসেছি, যা আমি কখনই খুব একটা পছন্দ করিনি।’ এটা ঠিক এয়ারফোর্স ওয়ান সাজানোর ক্ষেত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রুচিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

বহরে নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান যুক্ত হলে পুরোনো বিমান দুটিকে প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে জাদুঘরে পাঠানো হবে। ১৯৯০ সাল থেকে আগের বিমান দুটি দুই জর্জ বুশ, বিল ক্লিনটন, বারাক ওবামা এবং জো বাইডেনকে নিয়ে বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মাইল উড়েছে।

এয়ারেফোর্স ওয়ানে যুক্ত হওয়ার আগে শিগগিরই নতুন বিমানটি ‘কমিশনিং ফ্লাইট’ শুরু করবে। কমিশনিং ফ্লাইটকে আসলে বিমানটি পরিবর্তনের চূড়ান্ত পরীক্ষা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ট্রাম্প আশা করছেন আগামী ৪ জুলাই, অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম জন্মদিনের আগেই নতুন বিমানটিতে চড়ে মাউন্ট রাশমোরে যেতে পারবেন তিনি। স্বাধীনতা দিবসের দিন তিনি নতুন উড়ন্ত হোয়াইট হাউস নিয়ে আসল হোয়াইট হাউসের ওপর দিয়ে উড়ে যেতে চান।

এ সপ্তাহে বিশ্বের তিনটি আলোচিত ঘটনা,যা জানা জরুরী | কালের কণ্ঠ