kalerkantho

বুধবার । ২২ জানুয়ারি ২০২০। ৮ মাঘ ১৪২৬। ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

বিক্ষোভের আগুন কলকাতার স্টেশনে, প্রাণে বাঁচতে শৌচাগারে রেলকর্মীরা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৯:১১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিক্ষোভের আগুন কলকাতার স্টেশনে, প্রাণে বাঁচতে শৌচাগারে রেলকর্মীরা

ভারতের কলকাতা শহরে এবার অশান্তি ছড়িয়েছে। দেশটির নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে নেমে বিক্ষোভকারীরা ট্রেন লাইনে টায়ার ফেলে আগুন জ্বালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে শিয়ালদহ-বজবজ শাখার আক্রা স্টেশনে। 

পুলিশ তাতে বাধা দিলে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ করে পাথর মারতে থাকে। এতে জখম হয়েছেন রেল পুলিশের অন্তত দু’জন কর্মী। একইভাবে আজ সকাল থেকে অশান্তি চলছে মালদহ-নিউ জলপাইগুড়ি বিভাগের ভালুকা রোড স্টেশনে। সেখানেও স্টেশনে ভাঙচুর এবং আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ফলে উত্তরবঙ্গগামী অধিকাংশ ট্রেন বাতিল করেছে পূর্ব রেল।

আজ বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ প্রায় পাঁচশ বিক্ষোভকারী জমায়েত হন আক্রা স্টেশন সংলগ্ন লেভেল ক্রসিংয়ের কাছে। প্রথমে অবরোধ শান্তিপূর্ণ থাকলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কেউ কেউ রেল লাইনে টায়ার জ্বালিয়ে দেন। 

ওই সময় শিয়ালদহ থেকে বজবজগামী একটি ট্রেন লেভেল ক্রসিংয়ের কাছে এসে অবরোধে দাঁড়িয়ে পড়লে বিক্ষোভকারীরা ট্রেনের চালককে নেমে আসার নির্দেশ দেয়। ট্রেনের চালক নামতে রাজি না হলে তাকে জোর করে নামানো হয়। তারপর শুরু হয় ট্রেনে ব্যাপক ভাঙচুর। চালকের কেবিন, যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করার পর প্রতিটি কামরায় বিক্ষোভকারীরা ভাঙচুর চালায়। রেলের দাবি, ট্রেনের সিট থেকে শুরু করে সমস্ত জিনিস কামরা থেকে উপড়ে লাইনে ফেলে দেওয়া হয়।

ওই সময় উপস্থিত রেলকর্মীদের একজন বলেন, ট্রেনে ভাঙচুরের পরেই বিক্ষোভকারীদের একটি বিশাল দল সোজা স্টেশন চত্বরে উঠে আসে। প্ল্যাটফর্মে থাকা অটোমেটিক টিকিট ভেন্ডিং মেশিন উপড়ে ফেলে দেওয়া হয় ট্রেন লাইনে। বিক্ষোভকারীরা ঢুকে যান স্টেশন মাস্টারের অফিসে। সেখান থেকে আসবাবপত্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন জিনিসপত্র বের করে লাইনে ফেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।

আই বি চৌধুরি নামে আক্রা স্টেশনের এক কমার্শিয়াল ক্লার্ক বলেন, আমরা ওই অবস্থা দেখে বুকিং কাউন্টারের কলাপসিবল গেট বন্ধ করে দিই। কিন্তু তাতেও আটকানো যায়নি বিক্ষোভকারীদের। তারা কংক্রিটের বিদ্যুতের খুঁটি দিয়ে দরজা ভেঙে ঢুকে পড়েন। ভেতরে আসবাবপত্র, কম্পিউটার সব ভেঙে আগুন ধরিয়ে দেন। আমরা প্রাণভয়ে শৌচাগারে আশ্রয় নিই।

লুকিয়ে প্রাণ বাঁচানো রেলকর্মীদের একজন বলেন, বিক্ষোভকারীরা আমাদের শৌচাগারে দেখতে পেয়ে বেরিয়ে আসতে বলেন। তারপরই আগুন লাগিয়ে দেন বুকিং কাউন্টার এবং কন্ট্রোল প্যানেলে। অন্যদিকে রাস্তায় চলা বিক্ষোভের জেরে দমকলও আটকে পড়ে। পুড়ে ছাই হয়ে যায় স্টেশনে থাকা নথি থেকে যন্ত্রপাতি। বিকেলের দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বড় পুলিশ বাহিনী। ঘটনাস্থলে পৌঁছান মেটিয়াব্রুজের তৃণমূল বিধায়ক আব্দুল খালেক। তিনি বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে আমি এসেছি যাতে অশান্তি রোখা যায়। যারা ওই হিংসাত্মক ঘটনা ঘটিয়েছেন তারা কেউই স্থানীয় নন। তাঁরা বহিরাগত।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা