মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে আন্তর্জাতিক পর্যটন বেড়েছে। এ সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ৩০ কোটি ৭০ লাখ মানুষ ভ্রমণ করেছেন। যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৬০ লাখ বেশি। প্রবৃদ্ধির হার ২ শতাংশ।
জাতিসংঘের পর্যটন সংস্থা ইউএন ট্যুরিজমের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের চাহিদা ভালো ছিল। এ দুই মাসে প্রবৃদ্ধি ছিল ২ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে মার্চে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে প্রবৃদ্ধি কমে মাত্র ০ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে আসে।
ইউএন ট্যুরিজমের আশঙ্কা, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে ২০২৬ সালের জন্য সংস্থাটির আগের ৩ থেকে ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ১ থেকে ২ শতাংশ কমে যেতে পারে। কারণ যুদ্ধের প্রভাবে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, বিমান জ্বালানির দাম বাড়ছে এবং ভ্রমণ ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।
ইউএন ট্যুরিজমের মহাসচিব শেখা আল নুয়াইস বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত শুধু ওই অঞ্চলেই নয়, বিশ্বের পর্যটন খাতেও প্রভাব ফেলছে। পরিবহন ও আবাসনের খরচ বেড়েছে। এতে ভ্রমণকারী, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও পর্যটন গন্তব্য—সবাই চাপের মুখে পড়েছে। তবে এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও আন্তর্জাতিক পর্যটন খাত স্থিতিশীলতা দেখিয়েছে।
অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে ইউরোপে সবচেয়ে ভালো প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় পর্যটন অঞ্চলটিতে প্রথম প্রান্তিকে ১৩ কোটির বেশি আন্তর্জাতিক পর্যটক ভ্রমণ করেছেন। যা আগের বছরের তুলনায় ৪ শতাংশ বেশি।
আফ্রিকাতেও পর্যটক বেড়েছে ৪ শতাংশ। উত্তর আফ্রিকা ও সাব-সাহারান আফ্রিকা—উভয় অঞ্চলেই ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পর্যটক বেড়েছে ৩ শতাংশ। ওশেনিয়ায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯ শতাংশ এবং উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় ৫ শতাংশ। তবে এ অঞ্চলে পর্যটক সংখ্যা এখনো মহামারির আগের সময়ের তুলনায় ১১ শতাংশ কম।
আমেরিকা অঞ্চলে আন্তর্জাতিক পর্যটক বেড়েছে ২ শতাংশ। মধ্য আমেরিকায় প্রবৃদ্ধি ছিল ১৮ শতাংশ। তবে দক্ষিণ আমেরিকায় পর্যটক ১ শতাংশ কমেছে।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক পর্যটক আগমন ১৪ শতাংশ কমেছে।
ইউএন ট্যুরিজমের জরিপে অংশ নেওয়া ৬৪ শতাংশ পর্যটন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত তাদের গন্তব্যে ভ্রমণের চাহিদার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর মধ্যে ৪৩ শতাংশ মাঝারি এবং ২১ শতাংশ উচ্চমাত্রার প্রভাবের কথা জানিয়েছেন। তবে ৩৬ শতাংশ বিশেষজ্ঞের মতে, এ সংঘাতের প্রভাব খুব কম বা নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসন খরচ এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক চাপ—এগুলোই ২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক পর্যটনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
ইউএন ট্যুরিজমের সর্বশেষ কনফিডেন্স ইনডেক্স অনুযায়ী, মে থেকে আগস্ট সময়ের জন্য পর্যটন খাতে সতর্ক আশাবাদ রয়েছে। ০ থেকে ২০০ স্কেলে এ সময়ের জন্য সূচক দাঁড়িয়েছে ১০৫, যা জানুয়ারি-এপ্রিল সময়ের ১১৭ থেকে কম। এতে বোঝা যায়, ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিবাচক প্রত্যাশা থাকলেও অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।




