• ই-পেপার

১৮৪ দেশ ভ্রমণ করে বিশ্বরেকর্ড নাজমুন নাহারের

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাবেও বেড়েছে আন্তর্জাতিক পর্যটন, তবে শঙ্কা রয়ে গেছে

অনলাইন ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাবেও বেড়েছে আন্তর্জাতিক পর্যটন, তবে শঙ্কা রয়ে গেছে
ছবি : ইউএন ট্যুরিজম

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে আন্তর্জাতিক পর্যটন বেড়েছে। এ সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ৩০ কোটি ৭০ লাখ মানুষ ভ্রমণ করেছেন। যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৬০ লাখ বেশি। প্রবৃদ্ধির হার ২ শতাংশ।

জাতিসংঘের পর্যটন সংস্থা ইউএন ট্যুরিজমের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের চাহিদা ভালো ছিল। এ দুই মাসে প্রবৃদ্ধি ছিল ২ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে মার্চে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে প্রবৃদ্ধি কমে মাত্র ০ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে আসে।

ইউএন ট্যুরিজমের আশঙ্কা, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে ২০২৬ সালের জন্য সংস্থাটির আগের ৩ থেকে ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ১ থেকে ২ শতাংশ কমে যেতে পারে। কারণ যুদ্ধের প্রভাবে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, বিমান জ্বালানির দাম বাড়ছে এবং ভ্রমণ ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।

ইউএন ট্যুরিজমের মহাসচিব শেখা আল নুয়াইস বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত শুধু ওই অঞ্চলেই নয়, বিশ্বের পর্যটন খাতেও প্রভাব ফেলছে। পরিবহন ও আবাসনের খরচ বেড়েছে। এতে ভ্রমণকারী, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও পর্যটন গন্তব্য—সবাই চাপের মুখে পড়েছে। তবে এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও আন্তর্জাতিক পর্যটন খাত স্থিতিশীলতা দেখিয়েছে।

অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে ইউরোপে সবচেয়ে ভালো প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় পর্যটন অঞ্চলটিতে প্রথম প্রান্তিকে ১৩ কোটির বেশি আন্তর্জাতিক পর্যটক ভ্রমণ করেছেন। যা আগের বছরের তুলনায় ৪ শতাংশ বেশি।

আফ্রিকাতেও পর্যটক বেড়েছে ৪ শতাংশ। উত্তর আফ্রিকা ও সাব-সাহারান আফ্রিকা—উভয় অঞ্চলেই ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পর্যটক বেড়েছে ৩ শতাংশ। ওশেনিয়ায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯ শতাংশ এবং উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় ৫ শতাংশ। তবে এ অঞ্চলে পর্যটক সংখ্যা এখনো মহামারির আগের সময়ের তুলনায় ১১ শতাংশ কম।

আমেরিকা অঞ্চলে আন্তর্জাতিক পর্যটক বেড়েছে ২ শতাংশ। মধ্য আমেরিকায় প্রবৃদ্ধি ছিল ১৮ শতাংশ। তবে দক্ষিণ আমেরিকায় পর্যটক ১ শতাংশ কমেছে।

অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক পর্যটক আগমন ১৪ শতাংশ কমেছে।

ইউএন ট্যুরিজমের জরিপে অংশ নেওয়া ৬৪ শতাংশ পর্যটন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত তাদের গন্তব্যে ভ্রমণের চাহিদার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর মধ্যে ৪৩ শতাংশ মাঝারি এবং ২১ শতাংশ উচ্চমাত্রার প্রভাবের কথা জানিয়েছেন। তবে ৩৬ শতাংশ বিশেষজ্ঞের মতে, এ সংঘাতের প্রভাব খুব কম বা নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসন খরচ এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক চাপ—এগুলোই ২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক পর্যটনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

ইউএন ট্যুরিজমের সর্বশেষ কনফিডেন্স ইনডেক্স অনুযায়ী, মে থেকে আগস্ট সময়ের জন্য পর্যটন খাতে সতর্ক আশাবাদ রয়েছে। ০ থেকে ২০০ স্কেলে এ সময়ের জন্য সূচক দাঁড়িয়েছে ১০৫, যা জানুয়ারি-এপ্রিল সময়ের ১১৭ থেকে কম। এতে বোঝা যায়, ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিবাচক প্রত্যাশা থাকলেও অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।

গ্রীষ্মে উড়োজাহাজের টিকিটের দাম বেড়েছে ৩১ শতাংশ পর্যন্ত

অনলাইন ডেস্ক
গ্রীষ্মে উড়োজাহাজের টিকিটের দাম বেড়েছে ৩১ শতাংশ পর্যন্ত
প্রতীকী ছবি

গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণে এ বছর উড়োজাহাজের টিকিটের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে বাজেট ভ্রমণকারীরা বেশি চাপে পড়েছেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভ্রমণবিষয়ক প্রতিষ্ঠান কায়াক এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের গড় ভাড়া সর্বোচ্চ ৩১ শতাংশ বেড়েছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের গড় ভাড়া বেড়েছে ২২ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, টিকিটের দাম বাড়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে মূল্যস্ফীতি এবং বিমান জ্বালানির দাম বৃদ্ধি অন্যতম।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এতে বিমান পরিচালনার ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিমান সংস্থাগুলোর মোট পরিচালন ব্যয়ের প্রায় এক-চতুর্থাংশই জ্বালানি খাতে ব্যয় হয়।

উচ্চ ভাড়ার কারণে অনেক পর্যটক ভ্রমণ বাতিল করছেন না। বরং অনেকে শেষ মুহূর্তে টিকিট বুকিং করছেন। কেউ কেউ ট্রেনে ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে অনেক মানুষ জ্বালানির দাম বাড়লেও সড়কপথে ভ্রমণ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে খরচ কমাতে অনেকে আগের তুলনায় কাছাকাছি গন্তব্য বেছে নিচ্ছেন।

‘সেভেন স্টার প্লাস’ নিরাপত্তা স্বীকৃতি পেল মালয়েশিয়া এয়ারলাইনস

অনলাইন ডেস্ক
‘সেভেন স্টার প্লাস’ নিরাপত্তা স্বীকৃতি পেল মালয়েশিয়া এয়ারলাইনস
সংগৃহীত ছবি

বিমান নিরাপত্তা মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান এয়ারলাইনরেটিংসের মর্যাদাপূর্ণ ‘সেভেন স্টার প্লাস’ নিরাপত্তা স্বীকৃতি অর্জন করেছে মালয়েশিয়া এয়ারলাইনস। এর ফলে বিশ্বের নিরাপদ ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত শীর্ষ এয়ারলাইনসগুলোর কাতারে জায়গা করে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এয়ারলাইনরেটিংস জানিয়েছে, মালয়েশিয়া এয়ারলাইনস এখন এতিহাদ এয়ারওয়েজ, ক্যাথে প্যাসিফিক ও এয়ার নিউজিল্যান্ডের মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এয়ারলাইনসের সঙ্গে একই তালিকায় রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যারন পিটারসেন বলেন, মূল্যায়নের সময় মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের কেবিন ক্রুরা নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব দেখিয়েছেন। বিশেষ করে সিটবেল্ট সাইন জ্বলে থাকলে যাত্রীদের আসনে বসে থাকার বিষয়টি তারা সতর্কতার সঙ্গে নিশ্চিত করেছেন। জরুরি নির্গমন পথ সম্পর্কে যাত্রীদের দেওয়া নির্দেশনাও ছিল প্রশংসনীয়।

তিনি আরো বলেন, গত ১০ বছরে ক্রু ব্যবস্থাপনা, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং ক্লান্তি ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া এয়ারলাইনস উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে।

মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের মূল প্রতিষ্ঠান মালয়েশিয়া এভিয়েশন গ্রুপের (এমএজি) কর্মকর্তা ব্রায়ান ফুং বলেন, এই স্বীকৃতি তাদের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা সংস্কৃতি ও পেশাদার পরিচালনার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই তারা কাজ করে যাচ্ছে।

এয়ারলাইনরেটিংসের মতে, ‘সেভেন স্টার প্লাস’ কোনো কেনা পুরস্কার নয়। এ স্বীকৃতি পেতে হলে একটি এয়ারলাইনসকে প্রথমে সর্বোচ্চ ‘সেভেন স্টার’ নিরাপত্তা রেটিং অর্জন করতে হয়। এরপর ছয়টি পৃথক ফ্লাইটে গোপন ও স্বাধীন নিরীক্ষার মাধ্যমে কেবিন ক্রুদের নিরাপত্তা মান যাচাই করা হয়। কঠোর মানদণ্ড পূরণ করলেই কেবল এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪০ শতাংশ যাত্রী বিমান ভ্রমণে কিছুটা ভয় বা উদ্বেগ অনুভব করেন। ‘সেভেন স্টার প্লাস’ স্বীকৃতি যাত্রীদের সেই আস্থা বাড়াতে সহায়তা করে। কারণ এটি শুধু উড়োজাহাজের কারিগরি নিরাপত্তা নয়, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেবিন ক্রুর বাস্তব কার্যক্রমও মূল্যায়ন করে।

যাত্রীদের জন্য নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য বিমানসেবা সম্পর্কে তথ্য তুলে দেওয়াই এয়ারলাইনরেটিংসের প্রধান লক্ষ্য।

২৭ জুলাই থেকে আবার চালু হচ্ছে ঢাকা-নারিতা সরাসরি ফ্লাইট

অনলাইন ডেস্ক
২৭ জুলাই থেকে আবার চালু হচ্ছে ঢাকা-নারিতা সরাসরি ফ্লাইট
প্রতীকী ছবি

প্রায় এক বছর বন্ধ থাকার পর আগামী ২৭ জুলাই থেকে আবার চালু হচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ঢাকা-নারিতা-ঢাকা সরাসরি ফ্লাইট। জাপানের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিরীক্ষা (সেফটি অডিট) শেষ হওয়ার পর এ রুটে ফ্লাইট চালু করার সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

সোমবার তথ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও জনসম্পৃক্ত সম্পর্ক দ্রুত বাড়ছে। তাই সরকার এ রুট পুনরায় চালুকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস প্রথমে ৩০ জুন থেকে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করেছিল। তবে জাপান সিভিল এভিয়েশন ব্যুরো (জেসিএবি) বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে প্রায় ৪৫ দিন সময় চাওয়ায় ফ্লাইট চালু পিছিয়ে ২৭ জুলাই নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাণিজ্যিক সুবিধা, উড়োজাহাজের সংকট এবং বিদ্যমান সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের কারণে ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ঢাকা-নারিতা রুটের ফ্লাইট বন্ধ ছিল।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক আরো জোরদার করতে বিমানকে রুটটি পুনরায় চালুর নির্দেশ দেয়।

প্রাথমিকভাবে বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ দিয়ে সপ্তাহে একটি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। প্রতিযোগিতামূলক ভাড়ায় আগামী ২০ জুন থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হবে। বিমানের ওয়েবসাইট এবং অনুমোদিত বিক্রয়কেন্দ্র থেকে টিকিট কেনা যাবে।

তিনি আরো বলেন, যাত্রী চাহিদা ও বাণিজ্যিক সফলতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো হবে। আন্তর্জাতিক রুটগুলো লাভজনক হতে কিছুটা সময় লাগে। তবে সঠিক পরিকল্পনা, কার্যকর বিপণন এবং যাত্রী বৃদ্ধি পেলে এ রুট লাভজনক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, জাপানের নিরাপত্তা নিরীক্ষাজনিত প্রক্রিয়ার কারণেই ফ্লাইট চালুতে বিলম্ব হয়েছে। তবে সঠিক পরিকল্পনা ও নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রুটটি লাভজনক ও টেকসই হবে বলে তিনি আশাবাদী।

তিনি জানান, বর্তমানে জাপানে ৪০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও কর্মী বসবাস করছেন। ভবিষ্যতে এ সংখ্যা আরো বাড়বে, যা এ রুটের জন্য শক্তিশালী যাত্রীভিত্তি তৈরি করবে।

উল্লেখ্য, ১৭ বছর বন্ধ থাকার পর ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকা-নারিতা রুটে ফ্লাইট পুনরায় চালু করেছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এটি বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে একমাত্র সরাসরি বিমান যোগাযোগ এবং দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন ও ব্যাবসায়িক যাতায়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।