• ই-পেপার

ব্রাজিলের কাছে ক্ষমা চেয়ে আর্জেন্টিনাকে সেরা বললেন জাপান কোচ

বিসিবির ফান্ড স্থগিত করার আবেদন করেও সত্য অস্বীকার আমিনুলের

ক্রীড়া প্রতিবেদক
বিসিবির ফান্ড স্থগিত করার আবেদন করেও সত্য অস্বীকার আমিনুলের
বিসিবির সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। ছবি : কালের কণ্ঠ

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের বিভিন্ন পেইজ আজ সকাল থেকেই তাঁর ভিডিও বার্তায় সয়লাব। যেখানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম তাঁর বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমে আসা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ‘আমি এমন কোনো চিঠিই দেইনি (যে চিঠিতে আইসিসিকে বিসিবির ফান্ড স্থগিত করার অনুরোধ করা হয়েছে)। কেন তা দেব? আমরা সবাই বাংলাদেশ ক্রিকেটকে ভালোবাসি। তাছাড়া আইসিসি আমার কথা কেন শুনবে? আইসিসিতে আমার আগের সেই যোগাযোগও এখন নেই।’ 

ভিডিও বার্তায় কোনো চিঠি আইসিসিকে দেননি বলে দাবি করলেও সত্যিটা হলো আমিনুল তাঁর বোর্ডকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত বিসিবির ফান্ড স্থগিত রাখার আবেদন জানিয়েছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারকে সতর্কবার্তা পাঠানোর অনুরোধও জানিয়েছেন বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে। তাঁর স্বাক্ষরিত সেই চিঠি এসেছে কালের কন্ঠের হাতেও। যেখানে তাঁর মূল দাবি দুটো তুলে ধরা হলো :

*পুনঃপ্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আইসিসি তহবিল স্থগিতকরণ:
বিসিবিকে বর্তমানে প্রদেয় বা পরিশোধযোগ্য আইসিসির সকল তহবিল এসক্রোতে (শর্তসাপেক্ষে আটকে রাখা) রাখা হবে বা স্থগিত করা হবে বলে নির্দেশনা দেওয়া, যতক্ষণ না: (ক) নির্বাচিত বোর্ডের পুনঃস্থাপন অথবা আইসিসি ডিআরসি কর্তৃক একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়; এবং (গ) বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ আদালতের মামলার নিষ্পত্তি হয়। ০৭ জুন ২০২৬-এর নির্বাচনের ভিত্তিতে বিসিবির কর্তৃত্ব দাবি করে এমন কোনো ব্যক্তিকে আইসিসির কোনো তহবিল প্রদান করা যাবে না।

22

*বাংলাদেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা জারি:
একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করে বাংলাদেশ সরকার, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে জানানো যে: (ক) একটি অবৈধভাবে গঠিত অ্যাডহক কমিটি দ্বারা রাজনৈতিকভাবে কারসাজি করা ভোটার তালিকার মাধ্যমে পরিচালিত ২০২৬ সালের ৭ম মাসের নির্বাচনটি আইসিসি সংবিধানের ২.৪(গ) এবং ২.৪(ঘ) ধারার আরও একটি গুরুতর লঙ্ঘন; (খ) আইসিসি ২০২৬ সালের ৭ই জুন তারিখে নির্বাচিত কোনো বোর্ডকে বিসিবির বৈধ পরিচালনা কর্তৃপক্ষ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না; (গ) আইসিসি নির্বাচিত বোর্ডকে অবিলম্বে পুনর্বহাল করার দাবি জানাচ্ছে, এবং (ঘ) আইসিসি কর্তৃক নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নির্বাচিত বোর্ডকে পুনর্বহাল করতে ব্যর্থ হলে, আইসিসির ২.১০(ক) ধারার অধীনে প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করা হবে, যার মধ্যে রয়েছে বিসিবির পূর্ণ সদস্যপদ স্থগিতকরণ, আইসিসির তহবিল জব্দকরণ এবং আইসিসি ইভেন্টগুলো থেকে বাংলাদেশ দলকে বাদ দেওয়া।

শচীনের রেকর্ড ভাঙার অপেক্ষা বাড়ল সূর্যবংশীর

ক্রীড়া ডেস্ক
শচীনের রেকর্ড ভাঙার অপেক্ষা বাড়ল সূর্যবংশীর
ভারতের জার্সিতে অভিষেকের অপেক্ষা বাড়ল সূর্যবংশীর। ছবি : ক্রিকইনফো

এমনিতে শক্তি-সামর্থ্যে পিছিয়ে থাকা আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের টি-২০ ম্যাচ নিয়ে মানুষের আগ্রহ একটু কম। তার ওপর ফুটবল বিশ্বকাপের কারণে সামগ্রিকভাবে ক্রিকেটই একটু আড়ালে পড়ে গেছে। তবু অনেকেই ভারত-আয়ারল্যান্ড ম্যাচের দিকে নজর রাখছিলেন রেকর্ডের সাক্ষী হবেন বলে। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে একাদশে থাকলে বৈভব সূর্যবংশী হতেন ভারতের সবচেয়ে কমবয়সী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। ১৯৮৯ সালে ১৬ বছর ২০৫ দিনে পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষেকের পর থেকে রেকর্ডটি শচীন টেন্ডুলকারের দখলে। বৈভবের এখন বয়স ১৫ বছর ৯১ দিন।

অনেকদিন ধরে ভারতের ক্রিকেটের আলো কেড়ে নিয়েছেন বৈভব। বয়সভিত্তিক ক্রিকেট, ঘরোয়া ক্রিকেট, আইপিএল, সর্বশেষ ভারত এ দলের হয়ে শ্রীলঙ্কা সফরে ব্যাট হাতে অবিশ্বাস্য সব ইনিংস খেলেছেন বৈভব, প্রতিনিয়ত ভাঙছেন একের পর এক রেকর্ড। তার অতিমানবীয় পারফারম্যান্স নির্বাচকদের বাধ্য করে ১৫ বছরের বৈভবকে দলে ডাকতে। ভারতের আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরের জন্য বৈভবের দলে ডাক পাওয়ার পর থেকে সবার অপেক্ষা ছিল রেকর্ড দেখার।

আজ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ভারত খেলতে নেমেছে বৈভবকে ছাড়াই। ম্যাচের আগের দিন বৃহস্পতিবার দীর্ঘক্ষণ অনুশীলন করতে দেখা যায় তাকে। সেখানে তিনি গৌতম গম্ভীর এবং ভারতের অন্যান্য সিনিয়র কোচিং স্টাফদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। আজকের ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছেন ভারতের নতুন টি-২০ অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার। টসের পর সবার কৌতুহল ছিল বৈভব দলে আছেন কিনা? জবাবে আইয়ার বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত না। ও দুর্দান্ত একজন খেলোয়াড়, তবে আমাদের দলে এমন কিছু অসাধারণ খেলোয়াড় আছেন, যারা আমাদের জন্য ভালো পারফর্ম করেছেন, তাই আমরা তাদের ওপরই ভরসা রাখছি। সময় এলে ও (বৈভব) অবশ্যই সুযোগ পাবে।’ 

সূর্যবংশী একজন ওপেনার। আর ভারতেীয় টি-২০ দলের টপ অর্ডারে আছেন অভিষেক শর্মা, সঞ্জু স্যামসন, ইশান কিষাণের মত তুখোর ফর্মে থাকা ব্যাটসম্যানরা। বৈভব সূর্যবংশীকে জায়গা দিতে এদের কাউকে বাদ দেওয়া অনেক বড় সিদ্ধান্তের ব্যাপার। ভারতের ব্যাটিং কোচ সিতাংশু কোটাক বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমি নিশ্চিত ও (বৈভব) তার প্রাপ্য সম্মান এবং সুযোগ পাবে। তাই মনে করি না যে কেবল কাউকে সুযোগ দেওয়ার জন্য, যে ইতিমধ্যে রান করছে তাকে দল থেকে বাদ দেওয়া উচিত।’

কোটাক আরো বলেন, ‘এমনটি করাও ঠিক হবে না। আমি মনে করি কাউকে সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা এবং অন্য কোনো খেলোয়াড়ের প্রতি অবিচার করার মধ্যে খুব সূক্ষ্ম একটি ফারাক রয়েছে। আমাদের একটি জিনিস মনে রাখতে হবে—যারা ইতিমধ্যে পারফর্ম করছে, তাদের কখনোই উপেক্ষা করা উচিত নয়। যারা ইতিমধ্যে রান করছে এবং দলের জন্য ম্যাচ জেতাচ্ছে, তাদের মূল্যায়ন করা উচিত।’

ভারতের টিম ম্যানেজমেন্টের কথায় মনে হচ্ছে বৈভবকে রেকর্ড গড়তে আরো অপেক্ষা করতে হবে। আয়ারল্যান্ডে দুটি টি-২০ ম্যাচ খেলে ইংল্যান্ড যাবে ভারত। সেখানে ৫টি টি-২০ ও ৩টি একদিনের ম্যাচ খেলবে তারা। সফরের কোনো একটি ম্যাচে মাঠে নামলেই শচিনের ৩৬ বছরের পুরোনো রেকর্ডটির হাতবদল হবে।

মিসর-ইরান ম্যাচ ঘিরে বিতর্ক

ক্রীড়া ডেস্ক
মিসর-ইরান ম্যাচ ঘিরে বিতর্ক

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে মিসর ও ইরানের ম্যাচকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শুক্রবার সিয়াটলে অনুষ্ঠিত হতে চলা এই ম্যাচে দর্শকদের রংধনু রঙের পতাকা নিয়ে স্টেডিয়ামে ঢোকার অনুমতি দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা (ফিফা)।

তবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, কারণ যে দুই দেশ মাঠে নামছে। সেখানে সমকামিতা আইনত অপরাধ। অন্যদিকে ম্যাচের সময়ই সিয়াটলে চলছে ‘প্রাইড’ উদযাপন। ফলে স্থানীয় উৎসব এবং দুই দেশের সামাজিক অবস্থানের মধ্যে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

গত বছরের ডিসেম্বরে বিশ্বকাপের ড্রয়ের সময় এই দুই দেশ একই গ্রুপে পড়ার পরই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানায় মিসর ও ইরান।

মিসরের ফুটবল সংস্থা জানায়, এই ধরনের অনুষ্ঠান তাদের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। উল্লেখ্য, মিসর ও ইরান— দুই দেশেই সমকামী মানুষদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন রয়েছে।

রংধনু পতাকা নিয়ে স্টেডিয়ামে ঢোকার অনুমতি

ফিফা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ এমন একটি প্রতিযোগিতা যেখানে সব ধরনের মানুষকে স্বাগত জানানো হবে। যৌন পরিচয় বা লিঙ্গ পরিচয় যাই হোক না কেন, সব সমর্থকই ম্যাচ দেখতে এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন।

সংস্থার পক্ষ থেকে আরো বলা হয়েছে, মানবাধিকার, বৈচিত্র্য বা যৌন ও লিঙ্গ পরিচয়ের সমর্থনে ব্যবহৃত রংধনু পতাকাসহ অন্যান্য পতাকা স্টেডিয়ামের ভেতরে প্রদর্শনের অনুমতি থাকবে। তবে সেগুলো অবশ্যই বিশ্বকাপের স্টেডিয়াম আচরণবিধি মেনে ব্যবহার করতে হবে।

ফিফা জানিয়েছে, পতাকা বা ব্যানারের আকার নিয়ে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। পাশাপাশি এমন কোনো সামগ্রী স্টেডিয়ামে আনা যাবে না, যা রাজনৈতিক বার্তা বহন করে বা আচরণবিধির পরিপন্থী বলে মনে করা হয়।

‘প্রাইড ম্যাচ’ নয় জানাল ফিফা

এই ম্যাচকে ঘিরে অনেক জায়গায় ‘প্রাইড ম্যাচ’ বলছেন, তবে ফিফা স্পষ্ট করেছে, এর সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। সংস্থার দাবি, সিয়াটলে যে প্রাইড উদযাপন হচ্ছে, তা স্থানীয় বিশ্বকাপ আয়োজক কমিটির উদ্যোগে হচ্ছে, ফিফার নয়।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, ‘আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, বিশ্বকাপে কোনো ‘প্রাইড ম্যাচ’ নেই। সিয়াটলে একটি বিশ্বকাপের ম্যাচ হবে। একই দিনে শহরের বিভিন্ন জায়গায় অন্য সংস্থার আয়োজিত কিছু অনুষ্ঠানও চলবে। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ম্যাচের কোনো সম্পর্ক নেই।’ 

এই মন্তব্যের মাধ্যমে ফিফা বোঝাতে চেয়েছে, বিশ্বকাপের ম্যাচ এবং স্থানীয় উৎসবকে এক করে দেখা ঠিক হবে না।

নিজেদের অবস্থানে অনড় সিয়াটলের আয়োজকরা

তবে স্থানীয় আয়োজকেরা এই উদযাপন বন্ধ করার কোনো প্রশ্নই দেখছেন না। তাদের মতে, এটি বহু দশকের ঐতিহ্য এবং বিশ্বকাপের জন্য তা বদলানো হবে না। সিয়াটলের স্থানীয় বিশ্বকাপ আয়োজক কমিটির সদস্য হেডা ম্যাকলেনডন বলেন, ‘এই প্রাইড উদযাপন ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে একই সপ্তাহান্তে হয়ে আসছে। এ বছরও হবে, আবার বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরও ভবিষ্যতে চলতে থাকবে।’ তিনি আরো জানান, এই অনুষ্ঠানকে তারা গ্রহণযোগ্যতা, বৈচিত্র্য এবং সবার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে দেখেন।

উল্লেখ্য, বিশ্বকাপে এই ধরনের বিতর্ক নতুন নয়। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপেও ‘ওয়ান লাভ’ বাহুবন্ধনী পরে মাঠে নামার পরিকল্পনা ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সে সময় ফিফা জানিয়েছিল, নিয়ম ভাঙলে ফুটবলারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ফলে বিশ্বকাপের মঞ্চে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা নতুন কিছু নয়। তবে মিসর ও ইরানের ম্যাচকে ঘিরে এবার সেই বিতর্ক আবারও নতুন করে সামনে চলে এসেছে।

জার্মানিকে হারিয়ে নকআউটে সুযোগ পাওয়ায় ইকুয়েডরে সরকারি ছুটি ঘোষণা

ক্রীড়া ডেস্ক
জার্মানিকে হারিয়ে নকআউটে সুযোগ পাওয়ায় ইকুয়েডরে সরকারি ছুটি ঘোষণা
জার্মানির বিপক্ষে জয়ের পর জাতীয় পতাকা হাতে ইকুয়েডরের ফুটবলাররা। ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের নকআউটে খেলার অভিজ্ঞতা এর আগেও আছে ইকুয়েডরের। তবে সেটা দীর্ঘ ২০ বছর আগে। ২০০৬ বিশ্বকাপে প্রথম এবং শেষবারই খেলে তারা। সেবার বিশ্বকাপ হয়েছিল জার্মানি।

সেই জার্মানিকে হারিয়েই নকআউটে খেলার দীর্ঘ অপেক্ষা ফুরিয়েছে ইকুয়েডর। নিউইয়র্ক/নিউ জার্সিতে জয়টি এসেছে দুর্দান্ত এক কামব্যাকের গল্পে। প্রত্যাবর্তনের গল্প না লিখলে বিশ্বকাপের নকআউটে খেলার স্বপ্নও তাদের ভেস্তে যেতে পারত। শেষ পর্যন্ত তা হতে দেননি ইকুয়েডরের ফুটবলাররা।

জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে দেশের জন্য স্মরণীয় এক মুহূর্ত এনে দিয়েছে ইকুয়েডর। আনন্দময় এক সময় উপহার দেওয়ায় দেশে এক দিনের বিশেষ সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছেন ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট দানিয়েল নোবোয়া।

 

সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন বার্তায় দানিয়েল লিখেছেন, ‘সব সমালোচনা, অপমান এবং কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পরেও অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য খেলোয়াড় এবং কোচকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনারা পুরো দেশের জন্য বিশাল এক আনন্দের জোয়ার বয়ে এনেছেন। এই খুশিতে আগামীকাল (শুক্রবার) দেশে ছুটি! দীর্ঘজীবী হোক ইকুয়েডর।’

জার্মানির বিপক্ষে প্রথম জয়ের শুরুটা ধাক্কায় হয়েছিল ইকুয়েডরের। কেননা দ্বিতীয় মিনিটে লিরয় সানের গোলে এগিয়ে যায় জার্মানি। তবে সমতায় ফিরতে ৭ মিনিট সময় নেয় ইকুয়েডর। ৯ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক শটে দলকে সমতায় ফেরান নিলসন অ্যাঙ্গুলো। আর বিরতির পর ৭৮ মিনিটে কর্নার থেকে গোল করে ইকুয়েডরকে আনন্দে ভাসান গঞ্জালো প্লাতা। 

২-১ গোলের জয়টি কোনো বিশ্বকাপ জয়ী দলের বিপক্ষে প্রথম ইকুয়েডরের। এ জয়ে ‘ই’ গ্রুপের ৩ নম্বর দল হিসেবে নকআউটে সুযোগ পেয়েছে তারা। বিপরীতে ম্যাচ হারলেও গ্রুপসেরা হয়ে শেষ ৩২-এ সুযোগ পেয়েছে জার্মানি। তাদের ৬ পয়েন্ট। সমান ৬ পাওয়া আইভরি কোস্ট রানার্সআপ হয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবার নকআউটে সুযোগ পেয়েছে।