• ই-পেপার

ভিনি-কুনহার জাদুতে বিরতিতে ব্রাজিল

জুলে রিমের যুগে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব থেকেই বাদ পড়েছিল আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্ক
জুলে রিমের যুগে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব থেকেই বাদ পড়েছিল আর্জেন্টিনা
সংগৃহীত ছবি

বর্তমান বিশ্ব ফুটবলে আর্জেন্টিনা মানেই সাফল্য, ঐতিহ্য আর শিরোপার গল্প। তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটি প্রায় প্রতিটি বিশ্বকাপেই নিজেদের অন্যতম দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তবে ইতিহাসের পাতায় এমন একটি অধ্যায়ও আছে, যখন বাছাই পর্বের বাধা টপকাতেই ব্যর্থ হয়েছিল আলবিসেলেস্তেরা।

ঘটনাটি ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের। বিশ্বকাপের প্রতিষ্ঠাতা ট্রফি ‘জুলে রিমে’ যুগের সেই আসরে মাঠের লড়াইয়ে হেরে মূল পর্বে জায়গা করে নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটিই একমাত্র ঘটনা, যখন বাছাই পর্ব খেলেও টুর্নামেন্টে উঠতে ব্যর্থ হয়েছিল দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল পরাশক্তি।

সেবার দক্ষিণ আমেরিকার বাছাই পর্ব ছিল তুলনামূলক ছোট। কয়েকটি ম্যাচের ফলই নির্ধারণ করে দিত ভাগ্য। ১৯৬৯ সালে বলিভিয়ার কাছে ৩-১ এবং পেরুর কাছে ১-০ গোলে হারের কারণে কঠিন অবস্থায় পড়ে যায় আর্জেন্টিনা।

ফলে শেষ ম্যাচে পেরুর বিপক্ষে জয়ের বিকল্প ছিল না। বুয়েনস অ্যাইরেসের লা বোম্বনেরেরা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনা দুইবার এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলে ড্র করে। এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপে পিছিয়ে পড়ে তারা, আর বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে পেরু।

সেই ব্যর্থতার কারণে ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপ টেলিভিশনের পর্দায় দেখতে হয়েছিল আর্জেন্টাইন সমর্থকদের। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটিই একমাত্র আসর, যেখানে বাছাই পর্বে ব্যর্থ হয়ে মূল পর্বে উঠতে পারেনি দলটি।

অবশ্য আর্জেন্টিনা আরো দুটি বিশ্বকাপে অনুপস্থিত ছিল। ১৯৩৮ সালে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে আয়োজক নির্বাচন নিয়ে অসন্তোষের কারণে তারা অংশ নেয়নি। আর ১৯৫০ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপের বাছাই পর্বেই নাম লেখায়নি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে।

তবে মাঠের পারফরম্যান্সের বিচারে বিশ্বকাপে না ওঠার ‘কলঙ্ক’ ১৯৭০ সালেই। এর পর থেকে আর কখনো বাছাই পর্বে থেমে যেতে হয়নি আর্জেন্টিনাকে।

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবেন নেইমার

ক্রীড়া ডেস্ক
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবেন নেইমার
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে কক্ষপথে ফিরেছে ব্রাজিল। তবে মাঠের জয়ের চেয়েও সেলেসাও সমর্থকদের জন্য বড় সুখবর হয়ে এসেছে নেইমারের ফেরার গুঞ্জন। আগামী বুধবার স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচেই মাঠে নামতে পারেন ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা ফরওয়ার্ড। ম্যাচ শেষে খোদ ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তিই দিয়েছেন এমন সুসংবাদ।

হাইতির বিপক্ষে ম্যাচ জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে নেইমারের চোট নিয়ে আনচেলত্তি বলেন, ‘নেইমার আগামীকাল এককভাবে অনুশীলন করবে। আর সোমবার দলের বাকিদের সঙ্গে পুরোদমে অনুশীলনে যোগ দেবে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে তাকে পাওয়ার ব্যাপারে আমি আশাবাদী।’

কাফ ইনজুরির কারণে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে আছেন নেইমার। গত ১৭ মে সান্তোসের হয়ে ব্রাজিলের ঘরোয়া লিগে শেষবার মাঠে নেমেছিলেন তিনি। এরপর থেকেই চলছে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া।

২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বেও ইনজুরি বেশ ভুগিয়েছে তাকে। তবে যখনই মাঠে নেমেছেন, রেখেছেন সামর্থ্যের ছাপ। এই সময়ে মাত্র ৪ ম্যাচে করেছেন ২ গোল, পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরো ৩টি।

নতুন নিয়মে প্রথম লাল কার্ড দেখল বিশ্ব

ক্রীড়া ডেস্ক
নতুন নিয়মে প্রথম লাল কার্ড দেখল বিশ্ব
ছবি : রয়টার্স

ম্যাচের প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে তুর্কি খেলোয়াড় মের্ত মুলদুরকে মুখ ঢেকে কিছু একটা বলছিলেন প্যারাগুয়ের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার মিগুয়েল আলমিরন। এতেই বাধে বিপত্তি। অভিযোগ ওঠে, মুলদুরকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন তিনি।

ফিফার নতুন নিয়ম অনুযায়ী রেফারি ভিএআরে এই দৃশ্য দেখে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি।

ফলে দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটা সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হবে প্যারাগুয়েকে। এক গোলের লিড ধরে রাখতে এখন তাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ, আর সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে ম্যাচে ফেরার সুযোগ পেয়েছে তুরস্ক।  

দ্রুততম গোলের পর লাল কার্ড, নাটকীয় প্রথমার্ধে এগিয়ে প্যারাগুয়ে

ক্রীড়া ডেস্ক
দ্রুততম গোলের পর লাল কার্ড, নাটকীয় প্রথমার্ধে এগিয়ে প্যারাগুয়ে
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ ‘ডি’-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দুর্দান্ত সূচনা করেছে প্যারাগুয়ে। সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া স্টেডিয়ামে তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচের মাত্র ৬৫ সেকেন্ডেই গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মাতিয়াস গালারজা।

ম্যাচের শুরুতেই তুরস্কের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নিচু শটে বল জালে জড়ান গালারজা। তার এই গোলটি চলতি বিশ্বকাপের দ্রুততম গোল হওয়ার পাশাপাশি ১৯৯৮ সালের পর বিশ্বকাপে কোনো দক্ষিণ আমেরিকান দলের সবচেয়ে দ্রুত গোল হিসেবেও রেকর্ড গড়ে।

প্রথম গোল হজমের পর তুরস্ক বলের দখলে আধিপত্য দেখায়। ম্যাচের ৪৩ মিনিট পর্যন্ত তাদের বল দখলের হার ছিল প্রায় ৮০ শতাংশ। তবে সেই আধিপত্যকে গোলের সুযোগে রূপ দিতে পারেনি তারা। আর্দা গুলার, হাকান চালহানওগ্লু ও কেনান ইলদিজরা একাধিক আক্রমণ গড়লেও প্যারাগুয়ের সুসংগঠিত রক্ষণভাগ বারবার বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

৩৫তম মিনিটে সমতায় ফেরার সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছেছিল তুরস্ক। হাকান চালহানওগ্লুর ফ্রি-কিক থেকে মের্ত মুলদুরের হেড ক্রসবারে লেগে পোস্ট ছুঁয়ে ফিরে আসে। ভাগ্য সহায় না হওয়ায় গোলের দেখা পায়নি ইউরোপের দলটি।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ম্যাচে নাটকীয় মোড় আসে। ভিএআর পর্যালোচনার মাধ্যমে প্যারাগুয়ের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার মিগেল আলমিরনকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। মের্ত মুলদুরকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে তাকে মাঠ ছাড়তে হয়।

ফলে দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটা সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হবে প্যারাগুয়েকে। এক গোলের লিড ধরে রাখতে এখন তাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ, আর সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে ম্যাচে ফেরার সুযোগ পেয়েছে তুরস্ক।

প্রথমার্ধ শেষে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে গেছে প্যারাগুয়ে। ফলে দ্বিতীয়ার্ধে ১০ জন নিয়ে লিড ধরে রাখার কঠিন পরীক্ষায় নামতে হবে দক্ষিণ আমেরিকার দলটিকে।